

সম্পাদকীয়
২০২৬ পশ্চিমবাংলার বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর বিজেপির হাতে রাজ্যের শাসনভার। একদিকে ঋণের বোঝা অন্যদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখার দায়। এই দুয়ের চাপ সামলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার চ্যালেঞ্জ। এবারের নির্বাচনের ফলাফল বহু মানুষকে চমকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে রাজনীতির ভিতরের মানুষ, রাজনীতির বাইরের মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী আন্দাজই করেন নি এই ফলাফলের। কেউ কেউ বিজেপির পক্ষে ছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেভাবে সোচ্চারে জানান দিতে পারেন নি। যদিও বিজেপির অনুকূলে একটা চোরা স্রোত বইছিল। মানুষ তৃণমূলের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। বিগত পনেরো বছরের যে লাগাম ছাড়া দুর্নীতি,অত্যাচার, কাটমানি, চাকরি চুরি, নারী নির্যাতন, ছোটো বড়ো, মেজো,সেজো নেতাদেরও দম্ভ ঔদ্ধত্ব সব মিলিয়ে তৃণমূলের এই ফলাফল বোধহয় অবশ্যম্ভাবী ছিলই। নির্বাচনে এই বিরাট ভরাডুবির পর পরই নেতাদের দল ছাড়ার হিড়িক, দলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়া, দলটিকে হাস্যস্পদ করে তুলেছে । আসলে তৃণমূল কোনও রাজনৈতিক দলই ছিল না। এই দলটি সমাজবিরোধীদের মঞ্চ। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। কতদিন এই দলটির অস্তিত্ব থাকে তাই এখন দেখার।
ইতিমধ্যে নতুন বিজেপি সরকারের কাজ শুরু হয়েছে। দিন পঁচিশ হয়ে যাবার পরও পূর্ণাঙ্গ
মন্ত্রীসভা হয় নি। বেশ কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েছেন। তৃণমূলের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া নেতাদের ধরপাকড় চলছে। যদিও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তেরো পাতার ফর্ম নিয়ে কোথাও কোথাও জনগণের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সরকার নিশ্চই এই বিভ্রান্তি কাটিয়ে তুলবেন। একমাসও হয় নি সরকারের বয়স। সমালোচনার করার সময় আসেনি। তবু দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবার ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন এই সরকার করবেন বেশির ভাগ মানুষ এই প্রত্যাশায় রয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফলের পর পর রেলের উচ্ছেদ কর্মসূচী র ফলে বহু মানুষের কর্মহীন হয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক ভাবে বাংলার ওপর আর একটি চাপ। রাতের অন্ধকারে হকার দের স্টল ভেঙে দিয়ে তাদের উচ্ছেদ করে দেওয়ার মধ্যে আর যাই থাকুক মানবিকতা নেই। রেলের জায়গা রেল ফিরিয়ে নেবে এটা যেমন সত্যি তেমনি যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে হকারী করছেন ভরণ পোষণ চালাচ্ছেন, তাঁদের লাইসেন্স দিয়ে অর্থনৈতিক কোনও ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে কি সুষ্ঠ সমাধানে পোঁছে যাওয়া যেত না?
গৌতম দাশ

সূচিপত্র

বিশেষ রচনা
- শেষে দিল রা (পর্ব পনেরো) – ডা. গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
- বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল: মানুষের স্বপ্ন কি বাস্তবায়িত হবে? – দেবাশিস মিথিয়া

কবিতা
- নন্দিতা সিনহা
- আবার বাংলাদেশ সফর (পর্ব – ১)- কানাইলাল জানা

গল্প
- টিফিন পিরিয়ড, মাইনাস ফর্টি, চাদমামা- কৌশিক সেন
- হাউসবোট – কল্যাণ মুখোপাধ্যায়
- সেথো – সিদ্ধার্থ সান্যাল
- কলকাতার শূন্য – অয়ন মুখোপাধ্যায়

ধারাবাহিক উপন্যাস


ব্যক্তিগত গদ্য
- আমার আটপৌরে দিন যাপন –৫ – রিমঝিমের তিন বছর –26.06.25 – প্রবণ পালন চট্টোপাধ্যায়
- নুড়ি পাথরের সঙ্গে চলতে চলতে (১৯) – রামকিশোর ভট্টাচার্য

ধারাবাহিক রচনা

প্রকাশনার খবর

শরদিন্দু সাহার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমে অপ্রেমে
প্রচ্ছদ
ডা. গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
সম্পাদকঃ গৌতম দাশ
