ট্রেন লেট করে লাটাগুড়ির রিসর্টটাতে যখন পৌঁছলাম, তখন সন্ধ্যা। নামেই রিসর্ট, বহুদিন সংস্কার হয় নি। মালিকানা হাত বদল হয়েছে কিছুদিন আগে, নতুন মালিকের ইচ্ছে রিসর্টটা আবার চালু করার। কিন্তু যে অবস্থায় রয়েছে, পরিপূর্ণ সংস্কার এবং সাথে আরও কিছু ঘর, আর সঙ্গে পরিষেবার ব্যবস্থা না করে চালু করা যাবে না। আমাকে এই নতুন মালিকের অফিসের তরফ থেকে এখানে পাঠানো হয়েছে। আমার কাজ হল এর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে দেখে রিপোর্ট পেশ করা।
লাটাগুড়ির মূল রাস্তা থেকে গোরুমারা ফরেস্টের দিকে একটা কাঁচা রাস্তা চলে গেছে, যেটা কিছুদূর গিয়ে ডান দিকে ঘুরে ফরেস্টের গা ঘেঁষে ঘেঁষে এগিয়ে গেছে গ্রামের দিকে। এই রাস্তার ওপরেই রিসর্টটা। গাড়ির হর্ণ শুনে কেয়ারটেকার এসে গেট খুলে দিল। গেটের পাশে একটা ল্যাম্পপোষ্ট, তাতে টিমটিম করছে একটা হলদেটে আলো। আলোর চারপাশে যে বৃত্তটা, সেটা ওই গেটের সামনেটাও পুরো আলোকিত করতে পারেনি, তার ওপরে উল্টোদিকেই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল বিশাল গাছগুলো মিলে যে জমাট অন্ধকার, সেই অন্ধকার যেন ওই ল্যাম্পের বাকি আলোটাকে শুষে নিয়ে এক অদ্ভূত আলো-আঁধারি সৃষ্টি করেছে। ইঁটের পাঁচিল বলতে কিছু নেই, সীমানা জুড়ে কাঁটা তারের বেড়ার অবস্থাও সঙ্গীন। গেট থেকে ফুট চল্লিশেক ভেতরে একটাই বাড়ি। বাড়িটা দোতলা, কাঠের, নীচে একটা বড় ঘর, আর ওপরে দুটো। দোতলার বারান্দাতে একটা আলো জ্বলছে।
গাড়ী আমাকে নামিয়ে দিয়েই বেরিয়ে গেল। গাড়ির ড্রাইভার ছেলেটি একটু অদ্ভূত। মাল বাজার থেকে লাটাগুড়ি অব্দি নিয়ে এল, প্রায় মুখ বন্ধ করে। যাই জিজ্ঞেস করি হুঁ বা হাঁ ছাড়া কথা নেই। বোধহয় ন’ঘন্টা ট্রেন লেট থাকার দরুণ অন্য কোন ভাড়া নিতে পারেনি তাই চটে ছিল। আমি আলাপ জমানোর বৃথাই চেষ্টা করলাম। শুধু ফরেস্ট রোডে ঢুকতে ঢুকতে একবার বলল,
ম্যাডাম, রাতে না এসে দিনে এলেই ভালো করতেন।
এ আর বলার কি আছে! এ তো জানা কথাই। ন’ঘন্টা ট্রেনে আটকে থাকতে আমারই যেন কত ভাল লাগলো। সন্ধ্যায় ফেরার ট্রেন ছিল, ফেরা তো হলই না, এই নির্জন জায়গায় আটকে পড়লাম, উল্টে আগামী কালের টিকিট কিভাবে পাব এখন তার চিন্তা মাথায়।
ট্রেন লেট হবে কি হবে না সেটা তো আর আমার হাতে নেই ভাই।
ব্যস আর উত্তর নেই, মুখে আবার কুলুপ। যাই হোক, আমার রাতের আস্তানা হল ওই দোতলার একটা ঘরে। সামনে দিয়ে দোতলার বারান্দা অব্দি উঠে গেছে কাঠের একটা সিঁড়ি। উঠতে গিয়ে চার নম্বর সিঁড়িটাতে পা রাখা মাত্র সেটা ক্যাঁচ করে আর্তনাদ করে একটা পাশে খুলে পড়ল। চমকে উঠে রেলিং ধরলাম। রেলিঙের অবস্থাও তথৈবচ। কোনমতে সিঁড়ি ভেঙ্গে বারান্দায় উঠলাম। রিসর্টের গেটের উল্টো দিকেই গরুমারা অভয়ারণ্য। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে চোখে পড়ল, দু’পাশে বেশ দূরে আরও দুটো রিসর্টের আলো দেখা যাচ্ছে। শীতকাল, কুলকুলে ঠান্ডা, চারদিক ঘিরে মৃদু কুয়াশা। বাইরে বেশিক্ষণ দাঁড়ানো গেল না, ঠান্ডায়। রাতে ঘরেই ডিনার দিয়ে গেল বাংলোর একমেবাদ্বিতীয়ম কেয়ারটেকার গগনবাবু।
ম্যাডাম, রাতে কিন্তু বাইরে বেরোবেন না, জঙ্গলের পাশে, নানা রকম আওয়াজ শুনতে পাবেন, ভয় পেলে আমাকে ডাকবেন, ফোন করেও ডাকতে পারেন, বা চেঁচিয়ে ডাকলেও আমি শুনতে পাব। আমার ঘুম খুব পাতলা। ওই নীচের ঘরটাতে থাকব আমি। কিন্তু বাইরে বার হবেন না একদম।
কেন? হাতি আসে?
হাতি তো আসেই, মাঝে মাঝে লেপার্ডও আসে।
হাতি এলে একটু ডেকে দেবেন?
আমার আহ্লাদে ন্যাকা প্রশ্নটাকে পাত্তা না দিয়ে গগনবাবু গম্ভীর মুখে চলে গেলেন। জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার মানুষ যারা হাতির উপদ্রব সহ্য করে তাদের কাছে শহুরে মানুষদের এই বায়না অসহ্য ঠেকবেই। বুঝলাম, যে হাতি দেখতে হলে, আমাকেই সতর্ক থাকতে হবে, গগনবাবু মোটেই ডাকবেন না।
বেশ ঠান্ডা, হি-হি করতে করতে কম্বলের নীচে সেঁধিয়ে গেলাম। গগনবাবুর এদিক ওদিক হাঁটাচলার শব্দ শুনতে পেলাম। আমার ঘরের সামনে দিয়ে যাবার সময় আরও একবার বাইরে না বেরনোর কথা মনে করিয়ে দিলেন।
একে ঠান্ডা, তায় শরীর বেদম ক্লান্ত। ঘুমিয়েই পড়েছিলাম। হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল, কেন ভাঙল কে জানে, অচেনা জায়গা বলেই হয়তো বা। কিন্তু আর ঘুম এল না। শুয়ে শুয়ে কানে আসে অচেনা সব শব্দ। শহরের নির্ঘুম রাত আর জঙ্গল লাগোয়া এই নির্জন রিসর্টের রাতের মধ্যে অনেক তফাৎ। ওখানে একা থাকলেও নিজেকে একা মনে হয় না চারদিকের বাড়ি ঘর জানান দেয় মানুষের অস্তিত্ব। আর এখানে বিরাজ করছে গভীর নৈঃশব্দ। সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে যায় নিশাচর পাখির আচমকা ডাকে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে সময় দেখি, মোটে রাত একটা। চোখ বুজে, কান পেতে শুনি টিনের চালে টুপ টাপ শিশিরের শব্দ। হঠাৎ যেন দূর থেকে কাদের হৈচৈ শোনা যায়, সঙ্গে গুলির আওয়াজ। অচেনা জায়গা, আশেপাশে কোন বসতি নেই, এমনকি গগণবাবু ছাড়া দ্বিতীয় কোন মানুষও নেই। অস্বস্তি হতে থাকে। বিছানায় শুয়েই এপাশ ওপাশ করি, হঠাৎ যেন দেয়ালের কোনা থেকে উঠে এল আওয়াজটা, একটা খট-খট-খট-খট আওয়াজ। কে যেন জোরে জোরে পেরেক ঠুকছে মেঝেতে। লাফ দিয়ে উঠে বসলাম বিছানায়। বিছানার পাশে কোন বেড-সুইচ নেই। লাইট জ্বালাতে হলে খাট থেকে নেমে সুইচবোর্ড অব্দি যেতে হবে। আওয়াজটা যেমন আচমকা শুরু হয়েছিল, তেমনি হঠাৎই থেমে গেল। সাহস করে পা রাখলাম মেঝেতে, পা টিপে টিপে সুইচবোর্ডের কাছে পৌঁছান মাত্র আবার সেই খট-খট আওয়াজ, এবার যেন আরও জোরে, খট-খট-খট-খট-খট্টট্টা-খট্টটা। দেয়াল হাতড়াই, সুইচবোর্ড পাই না। আশ্চর্য! গগনবাবু কি শুনতে পাচ্ছে না এত শব্দ! মোবাইলটাতো আবার খাটেই বালিশের পাশে রয়ে গেছে, খাটের দিকে ঘুরতেই আবছায়াতে মনে হল বিছানার পায়ের কাছে চেয়ারটাতে কে যেন ঝুঁকে বসে আছে। হাত-পা অবশ হয়ে আসে। খট-খট শব্দটার যেন তীব্রতা আরও বাড়ে। মনে পড়ে গেল, মা একা আসতে বারণ করেছিল, শুনিনি। মা’র কথা মনে পড়ায় চেতনা ফেরে খানিক, পাশেই দরজার ছিটকিনিতে হাত রাখি। ঝট করে দরজা খুলেই এক লাফে বাইরে, বারান্দায়। বারান্দার আলোটাও জ্বলছে না, ওদিকে শব্দটা যেন তাড়া করে আসছে, দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে নীচে নামব বলে ভাঙা সিঁড়িতে পা রাখি।

দাঁড়ান।
থমকে যাই। পেছনে গগনবাবুর চাপা গলা, ধমকের সুরে। প্রায় ঝটকা মেরে আমাকে টেনে সিঁড়ি থেকে বারান্দায় টেনে নিয়ে এলেন।
কি করছিলেন? আপনাকে না বার বার বারণ করা হল, ঘর থেকে বেরোবেন না, সামনে দেখুন তাকিয়ে।
হাতির তীব্র বৃংহনে থরথর করে কেঁপে উঠলাম। রিসর্টের গেটের কাছের টিমটিমে আলোতে দেখলাম রিসর্টের সামনের কাঁচা রাস্তায় জঙ্গলের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক হাতি,
গত দুদিন ধরেই এই দলছুট হাতিটা ঘুরে বেড়াচ্ছে। একা হাতি সাঙ্ঘাতিক!
কানের পাশে গগনবাবুর ফিসফিস শুনতে পেলাম। মুহূর্তে দেখলাম হাতিটার কান নড়ে উঠল। ধীরে ধীরে রিসর্টের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। দেখলাম হাতিটা দাঁতাল। ওই রিসর্টের গেটের যা ছিরি, ওই দৈত্যাকার হাতি যদি একটা ঠেলা দেয় তো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে। মনে পড়ে গেল কোন একটা ফরেস্ট বাংলোতে হাতিরা একবার হানা দিয়েছিল, দোতলা বাংলোর কাঠের খুঁটিও ভেঙে ফেলেছিল। এইসব ভাবতে ভাবতেই দেখি হাতিটা যেন এবার সরাসরি দোতলার বারান্দার দিকেই তাকিয়ে আছে। কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি, মনে হচ্ছে যদি ঘরের দেয়ালটার মধ্যে মিশে যেতে পারতাম। তবু রক্ষা যে বারান্দার আলোটা জ্বলছে না।
এদিকের আওয়াজটা কখন থেমে গেছে খেয়াল করিনি। আবার শুরু হল, খট-খট-খট্টট্টা-খট্টটা। আরো জোরে। হাতিটা ওই বিকট আওয়াজেই বোধহয় বিরক্ত হয়ে কাঁচা রাস্তা ধরে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে গেল। এতক্ষণে গগনবাবুর গলা থেকে একটু হাসির আওয়াজ বেরল। আমার ভয়ার্ত মুখ দেখেই বোধহয় বললেন,
ওটা তক্ষকের ডাক, একতলার ঘুলঘুলিতে বাসা। তক্ষকের ডাক কোনদিন শোনেননি? ভাগ্যিস ওর ডাকে ঘুমটা ভেঙেছিল, নইলে যে কি সাঙ্ঘাতিক বিপদ ঘটত……।
লজ্জায় মেঝেতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিল। চুপচাপ ঘরে ঢুকে আলো জ্বাললাম।
চেয়ারের ওপর থেকে আমার “ঝুঁকে-বসা” রাকস্যাকটাকে নামিয়ে একটা বই নিয়ে বসলাম। ওই খটখটানন্দ আজ আর ঘুমোতে দেবে বলে মনে হয় না।
ম্যাডাম, চা
দরজার বাইরে গগনবাবুর গলা পেয়ে উঠে পড়ি। বই পড়তে পড়তে কখন চোখ লেগে গিয়েছিল, আর কখন যে বিছানাতে এসে শুয়েছি খেয়াল নেই। দিনের আলোয় গগনবাবুর দিকে তাকাতেই লজ্জা করছিল নিজের বোকামির জন্য।
আপনার কোন অসুবিধে হয়নি তো? ঘুম হয়েছিল? বুঝলাম যে বাকি রাতটার কথা জানতে চাইছে। একটু হাসি,
কাল আপনি না থাকলে যে কি বিপদে পড়তাম
আমার কথায় গগনবাবুর অবাক দৃষ্টি দেখে বলি,
আসলে তক্ষকের ডাক আগে শুনিনিতো কখনো
ও, একটা ছোট্ট উত্তর আসে শুধু।
আপনি কি কাল, আমি ভয় পেতে পারি ভেবে ওপরে এসেছিলেন তখন?
গগন কেমন আমতা আমতা করে প্রশ্নটা এড়িয়ে গেল। যাই হোক আমি আর মাথা না ঘামিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করতে। আশেপাশে একটু পায়ে হেঁটে ঘোরার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু গতকাল রাতের হাতির কথা মনে পড়ায় আর বেশি সাহস দেখাই না। যদিও দিনের আলোয় রাতের ওই আলোছায়ায় সৃষ্ট ম্যাজিক বা ভয়ের লেশমাত্র মালুম হয় না।তবু, সাবধানের মার নেই। বাংলোর বাইরেই ঘুরে বেড়ানো ময়ূরের দল দেখেই তৃপ্ত থাকি।
বিকেল বিকেল বেরিয়েও পড়ি, গাড়ির চালক গতকালের সেই ছেলেটি। আজ ছেলেটির মুড ভালো। গল্প জুড়ি। গতকাল রাতে যে দাঁতাল হাতি রিসর্টের বাইরে এসেছিল সে গল্প করি ওকে।
হ্যাঁ গতকাল হাতি বাইরাইছিল। লাটাগুড়ি বাজারের দিক গেছিল তারপর পটকা ফাটানোয় ফরেস্ট রোড ধইরা চইলা যায়। তবে আপনের ওই রিসর্টে তো এর আগেও হাতি ঢুকসে। আপনে শোনেন নাই কিছু?গগন বলে নাই?
কি শুনব?
আগে তো গগনের দাদাই ওই রিসর্টের কেয়ারটেকার ছিল, রিসর্টে হাতি ঢুইকা সব তছনছ করতেছিল, তখন গগনের দাদা ট্যুরিষ্ট গো বাঁচাইতে গিয়া নিজে পইড়া যায় হাতির সামনে।
তারপর?
হের পর আর কি? একানে হাতির সামনে পড়লে কেউ বাঁচে না। তবে এর পর থিকাই ওই রিসর্টটা বন্ধ হইয়া যায়। লোকে বলে গগনের দাদারে নাকি মাঝে মাঝেই দেখা যায় ওইখানে। আমি নিজে অবশ্য ওইসব গল্পে বিশ্বাসও করি না। আর এই গুজবের জন্যই রিসর্টটা বন্ধ হইয়া যায়।
খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ওই জন্যেই গগন বার বার আমাকে বাইরে বেরোতে না করেছিল।
মনটা খারাপ হয়ে যায়, সেই সঙ্গে মনে হয় গতকাল গগনবাবু সময়মত আমাকে না আটকালে কি হতে পারত। গা শিরশির করে।
ট্রেনে উঠতেই ফোন আসে, কলকাতা অফিস থেকে,
ম্যাডাম, ট্রেনে উঠেছেন? ঠিক আছেন তো? আপনার কাছে একটা আপোলজি চাইছি, গতকাল রাতে আপনার অসুবিধের জন্য।
অবাক হই। গতকালের কথা তো গগন আর ড্রাইভার ছাড়া কেউ জানে না, কলকাতায় কে খবর দিল?
আসলে, গগনের ছেলেটার কদিন ধরে জ্বর। গতকাল রাতে বাড়াবাড়ি হওয়ায় ও বাধ্য হয়েছিল আপনাকে রিসর্টে একা রেখে বাড়ি চলে যেতে। তারপর ফেরার সময় খবর পায় হাতি বেরিয়েছে, সেই জন্য ভোরের আগে রিসর্টে ফিরতে পারেনি। আসলে ওদের পরিবারে এই হাতির জন্য বছর কয়েক আগে একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল….. ম্যাডাম.. শুনতে পাচ্ছেন?
ট্রেনের তীব্র হুইসল আর দুর্বল নেটওয়ার্কে বাকি কথা আর শোনা যায় না ।।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের পূর্ব রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, অক্টোবর ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]