

অরুণাচল ভ্রমণ (শেষ পর্ব)
কাজীরঙা জাতীয় অর্কিড পার্ক এ ঢোকার আগে পর পর নানান ছোট ছোট দোকান, তাতে খুব সুন্দর কাঠের, বেতের, চামড়ার, জিনিস বিক্রির জন্যে সাজানো! এবং দারুন লোভনীয়! ঘর সাজাবার এত এত জিনিস দেখে আমাদের সবার কেনার দারুন ইচ্ছে! দীনেশ তো কাঠের বিরাট রিস্ট ওয়াচ এর মত ঘড়ি, দেওয়ালে টাঙ্গাবার (সেটা ভাগে ভাগে, ছোটো করে প্যাক হোলো) কিনলো। আরো সবাই কিছু কিনে ভেতরে গেলাম।
অর্কিড এর প্রদর্শন অনেক জায়গায় দেখেছি! কার্শিয়াং এ খুব ভালো লেগেছিল। কিন্তু এখানে এত বিশাল জায়গায় এত বিভিন্ন রকমের অর্কিড, ইন্ডোর প্ল্যান্ট,বাহারি পাতার গাছ এত আছে, দেখে অবাক হয়ে গেলাম! আবার বিক্রিও হচ্ছে। নেবার ইচ্ছে হলেও, নিজেকে গুটিয়ে নিলাম, কারণ ফ্লাইটে মালের ওজন নির্দিষ্ট আছে। বেশ কিছু ফোটো তুলে বাইরে এলাম।
আগেই নানান অসমীয়া নৃত্য পরিবেশন দেখেছি। আগে বিহু ড্যান্স এর ভিডিও দিয়েছি। এখন বাঁশের মাঝে নৃত্য খুব ভালো লাগলো। এক জায়গায় কত রকম ধান হতে পারে, তার ছড়া গুলো দেওয়ালে রাখা, আর তলায় নাম দেওয়া আছে!আমার জানা ছিল না, এত রকমের ধান বীজ পাওয়া যায়! প্রায় দেড়শো রকমের সাজানো। আবার ছোট ছোট কৌটো তে সেই ধানের চাল কিরকম, রাখা আছে!

তুলাইপঞ্জি দেখে আনন্দ হলো, আমার প্রিয় ডাক্তার বন্ধু চিন্ময়, বিরাট বাগান ও চাষ জমি কিনে বর্ধমানে এই তুলাইপঞ্জি ধান চাষ করে! বলছে আর ডাক্তারি করবে না! চাষবাস করবে!!
ঐখানে আসাম এর বিভিন্ন পোশাকে সেজে ছবি তোলার ব্যাবস্থা আছে! আমাদের ঊষা জি এত সুন্দর সেজে এলো, ওর বর ওকে চিনতে পারছে না! আর বিস্ময়ে ফোটো তুলেই যাচ্ছে! আমরাও অনেক সাজানো জায়গায় ছবি তুললাম! গরুর গাড়ি, কুঁড়ে ঘর,আর নানান কেয়ারি করা গাছপালা দেখে খুব ভালো লাগলো।
এবার ওই খানে নানান ফল যা চাষ হয়েছে, তার জুস খেতে চাইলে পাওয়া যাবে।(পয়সা খরচ করে)
এত বড় বড় শরবতি লেবু ছিল, সেটাই সবাই খাব বললাম! আমার তৈরি করাটা দেখতে খুব ভালো লাগে!ছাড়ানো, কাটা, মিক্সি তে মিশিয়ে আরো কিছু মশলা দিয়ে যা বানালো, মনে করে জিভে জল এলো!
সবাই মিলে খেয়ে আড্ডা দিয়ে, এবার ফেরার পালা।
লাঞ্চ করে মাল পত্র গাড়ির মাথায় বাঁধা ছাদা করে
ঠিক সময়ে বেরোলাম একেবারে গৌহাটি এয়ারপোর্ট এর দিকে!
আমার এই ভ্রমণ কাহিনী শেষ হলো। সবাইকে
ধন্যবাদ,আমার লেখা পড়ে উৎসাহ দেবার জন্যে!
আবার দেখা হবে।

