
ঈশ্বরই ধ্রুবক (২)
বেশি নয়, এই ধরুন হাজার ছয় বছর আগেকার কথা…
সেটাও ছিল এরকমই এক অক্টোবর মাস, সপ্তাহের প্রথম দিন – সোমবার। সবদিকে শুধু জল, জল আর জল, তার সাথে নিকষ অন্ধকার…নিরন্তর এই একঘেয়েমি কাটাতে আলোর প্রয়োজন সর্বাগ্রে। কিন্তু কে দেবে আলো? কে ঘোচাবে এই অমানিশা? কেন, ঈশ্বর ঘোচাবেন; ঈশ্বর ফোটাবেন আলো! অতএব আলো জন্মালো। তারপর? তারপর নামলো সন্ধ্যে…সন্ধ্যে ফুরিয়ে ভোর। সেই ভোরাই বেলায় চরাচর ভাসানো জলে হাবুডুবু খেতে আর কার ভালো লাগে, তাই তার পরদিন, মানে মঙ্গলবার, ঈশ্বর পৃথিবীর ‘পরে বানালেন ওই নীলাকাশ। আবার সন্ধ্যে নামল…পরদিন বুধবার, আকাশে যখন আলোর বন্যা এবং আকাশতলে জলের, তখন ঈশ্বরের বাগান তৈরি হল – সব জল একদিকে সরে গিয়ে তৈরি করল সাগর, আর অন্যদিকে জেগে উঠল ডাঙা। কিন্তু নেড়া স্থলরাশি কি আর ভালো লাগে! অতএব চলো বৃক্ষরোপন করা যাক, সুজলা ধরণী সুফলা হয়ে উঠুক; এসব কাজ শেষ হতে হতেই সন্ধ্যে নেমে এল। পরদিন বিষ্যুতবার। রোজকার এই সকাল আর সন্ধ্যের ব্যবস্থাকে আরও একটু সুচারু করার উদ্দেশ্যে ঈশ্বর স্থির করলেন দিন এবং রাত্রি আলাদা করা আশু প্রয়োজন। আকাশ তো বানানোই ছিল, সেখানেই জুড়ে দেওয়া হল দিবাকরকে। তাকে নির্দেশ দেওয়া হল – প্রত্যহ প্রত্যুষে পূর্বদিকে উদয় হতে, দিনের আকাশে আলোর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত । রাতের আকাশ আবার ঘুটঘুটে অন্ধকার, তাই ঈশ্বর সৃষ্টি করলেন – নিশাকর। কিন্তু কাজল কালো আকাশের এক কোণে একা সেই চাঁদকে ঠিক মানানসই লাগলো না, তাই ঘন কালো আকাশের আঁচল জুড়ে ঈশ্বর ছড়িয়ে দিলেন মুঠো মুঠো আলোর চুমকি, সৃষ্টি হল নক্ষত্ররাজি। এল পঞ্চম দিন, শুক্রবার। ঈশ্বরের মনে হল জলে, নভোতলে ঘুরে বেড়াবে এমন কিছু সৃষ্টি করা দরকার। তিনি তৈরি করলে জলচর এবং নভোচর প্রানীকুল। তারা যখন জলে, আকাশে স্বাধীনভাবে ঘুরে ফিরে বেড়াতে শুরু করল, নিজেরই সৃষ্টি সুখে আত্মহারা হয়ে গেলেন খোদ ঈশ্বর। তিনি তাদের আশীর্বাদ দিলেন, তোমরা আরো ফুলে ফেঁপে ওঠো, সমস্ত জল আর আকাশ ভরিয়ে দাও তোমরা। ততক্ষনে আবার সন্ধ্যে নেমে এসেছে। রাতের বেলায় ঈশ্বর নিদ্রা যাবার সময় স্থির করলেন, আগামীকাল প্রাণ রচনা করবেন স্থলভূমিতে। সেইমত, পরদিন যথাসময়ে সূর্য নিজ দায়িত্ব পালন করতেই ঈশ্বর লেগে পড়লেন সমস্ত স্থলচর প্রাণী তৈরির কাজে, একে একে সৃষ্টি হল বাঘ, সিংহ, গরু, ঘোড়া, ভেড়া… আহা কী অপরূপ সব সৃষ্টি, কিন্তু তবুও ঈশ্বরের মন কেমন যেন খুঁতখুঁত করতে থাকল, খালি মনে হতে লাগলো -কোথাও যেন কিছুর খামতি আছে! নাহ, সেই শনিবারের বারবেলায় শেষমেশ ঈশ্বর সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলেন, ওনার নিজের প্রতিরূপ বানাতে হবে। তিনি তাই রচনা করলেন তাঁর শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি – মানুষ; একটি পুরুষ, একটি নারী, আদম আর ঈভ। ব্যস, এরপর সেই দুটি মানুষরূপী প্রাণীকে পৃথিবীর বাকি সমস্ত জীবকুলের মাথায় বসিয়ে ঈশ্বর পরম শান্তিতে নিদ্রায় গেলেন। পরেরদিন অর্থাৎ রোববার, নিজের শেষ ছয় দিন ব্যাপি কর্মযজ্ঞ দেখে ঈশ্বর যারপরনাই খুশি হলেন। পরিতৃপ্তির ঢেকুর তুলে এবং নিজের সৃষ্টিদেরকে আশীর্বাদ করে উনি আপাতত বিশ্রামে যাবেন বলে মনস্থির করলেন। অতঃপর আর কী, ঈশ্বরসৃষ্ট মনুষ্যকুলও স্থির করল, সারা সপ্তাহব্যাপী খাটাখাটনির পর প্রত্যেক রোববার হবে তাদের বিশ্রামের দিন – সাবাথ!

আপনি বলবেন মামদোবাজি নাকি, মাত্র ছ’দিনে পৃথিবী, মায় মানুষ অব্দি তৈরি হয়ে গেল! কিন্তু বিশ্বাস করুন, বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলছি না – পৃথিবীর সৃষ্টির এই গল্প দীর্ঘকাল ধরে মানুষদের শুনিয়ে এসেছে চার্চগুলো। ঈশ্বর নাকি মাত্র ছ’হাজার বছর আগে, সামান্য ছ’দিনেই এই পৃথিবী, চাঁদ-তারা-সূর্য, আকাশ-বাতাস-জঙ্গল, ইঁদুর-বাদুড়-পেঁচা-মাগুর মাছ থেকে শুরু করে মনুষ্যকুল পর্যন্ত সমস্ত কিছু তৈরি করেছেন! স্বাভাবিকভাবেই আপনারা এই তত্ত্বকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেবেন। কিন্তু আমার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র কোনো ধর্মতত্ত্ব বা ঈশ্বর কল্পনার ছিদ্রান্বেষণ করা নয়। বরং নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিজ্ঞানকেও কাঠগড়ায় তোলা। তাই যিনি বা যাঁরা এই গল্পের কাহিনীকার, তাঁকে বা তাঁদের খুব বেশি দোষ আমি দিইনা। আধুনিক বিজ্ঞান বলতে আমরা যা বুঝি, তা তখনো কালের গর্ভে। ফলে তাঁরা সেই সময়ের নিরিখে দাঁড়িয়ে নিজস্ব বোধবুদ্ধি দিয়ে পৃথিবী সৃষ্টির একটা ব্যাখ্যা, খাড়া করার চেষ্টা করেছিলেন মাত্র। এবং খুব স্বাভাবিক ভাবেই, পৃথিবী সৃষ্টির কারণ হিসাবে ওনারা ঈশ্বরকেই ঠাওরে ছিলেন। এর কারণ দুটো – এক, ঈশ্বরকে সর্বশক্তিমান হিসাবে দেখানো এবং দুই, মানুষকে প্রশ্নাতীতভাবে সেই ঈশ্বর অনুগামী করে তুলে ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে সুনিশ্চিত করা।
ছোটবেলায় যখন প্রথম প্রথম আকাশ দেখতে শিখেছি, তখন আর সবাইকার মত কালপুরুষ আর তার পোষা কুকুর লুব্ধককে দেখে সব থেকে রোমাঞ্চিত হতাম। পরে আস্তে আস্তে চিনতে শিখলাম সপ্তর্ষিমন্ডল, লঘু সপ্তর্ষিমন্ডল, ক্যাসিওপিয়া…সপ্তর্ষিমন্ডল দেখলেই যেন মনে হত প্রশ্নচিহ্ন। ভাবতে অবাক লাগে, কীভাবে এই সপ্তর্ষিমন্ডল দেখে পশ্চিমি দেশগুলোর ভাল্লুকের কথা মনে হয়েছিল! হতে পারে, আমাদের ছোটবেলা থেকেই যেমন প্রশ্নচিহ্নের যাঁতাকলে পড়তে হয়, পশ্চিমি দেশগুলোতে সেইকালে প্রশ্নচিহ্নের সেই চলন শুরু হয়নি! এও হতে পারে, ভাল্লুক সেকালের মানুষদের উত্তম মধুর সন্ধান দিত কিম্বা তাদের পশুপালনে সাহায্য করত। তা যাকগে, যে কথা বলছিলাম – সপ্তর্ষিমন্ডলের সে দেশগুলোয় ভালোনাম ‘উরসা মেজর’, আর ফেলুদার ভাষায় বদনাম – ‘গ্রেট বিয়ার’। আর লঘু সপ্তর্ষিমন্ডলের ভালোনাম ‘উরসা মাইনর’ আর ডাকনাম – ‘লিটিল বিয়ার’। আর এই লিটিল বিয়ারের লেজের ডগাতে বসে আছেন – ‘পোলারিস’ ওরফে ‘পোল স্টার’ ওরফে ‘নর্থ স্টার’; আমাদের ভাষায় যার ডাকনাম – ‘ধ্রুবতারা’, যাকে দিয়ে এই লেখার নান্দীমুখ!
তা এই লিটিল বিয়ার, তার লেজের ডগায় স্থিত পোলারিস – এদেরকে কীভাবে নাবিকদের চেনানো যায় যাতে তারা সমুদ্রে সহজে দিকনির্ণয় করতে পারে – এসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে মাইলেটাসের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন থালেস। মাইলেটাস অধুনা ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন গ্রীক বন্দর শহর, আজকের তুর্কিতে অবস্থিত। আর যে সময়ের কথা বলছি, সেটা ধরুন খ্রীষ্টজন্মের ৬০০ বছর আগেকার কথা। তা থালেস সাহেব আকাশের দিকে তাকিয়ে এমন মশগুল হয়ে হাঁটছিলেন – যে চলার পথে পাতকুয়ো তার চোখে পড়ল না! ব্যস আর কী, পাতকূপে পতিত থালেস সাহেবকে দেখে খিলখিল করে হেসে উঠল এক দাসী – ‘সাহেব আকাশ দেখতে এমন পাগল যে পায়ের তলায় কী পড়ছে, সেদিকে খেয়ালই নেই’!
এই থালেস সাহেব ছিলেন, যাকে বলে ‘ফাদার অফ ফিলোসফি’। সেই সময়কার ফিলোসফি, যাকে গোদা বাংলায় আমরা ‘দর্শনশাস্ত্র’ বলে জানি, ঠিক আজকের মত ছিলনা – ‘সফি’ অর্থাৎ জ্ঞান এবং ‘ফিলো’ মানে ভালোবাসা; অতএব ‘ফিলোসফার’ কথার অর্থ দাঁড়ায় জ্ঞানপ্রেমিক। থালেস সাহেব ছিলেন সত্যিকারের একজন জ্ঞানপ্রেমিক, জ্ঞানপিপাসু – একবার তিনি মিশরের ফ্যারাও আমেসিসকে পিরামিডের উচ্চতা মেপে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। দিনের যে সময়ে ওনার উচ্চতা ওনার নিজের ছায়ার দৈর্ঘ্যের সমান হয়, সে সময়ে উনি পিরামিডের ছায়ার দৈর্ঘ্য মাপেন – ব্যস, তাতেই কেল্লাফতে! আরেকবার উনি ভবিষ্যৎবাণী করেন সূর্যগ্রহণের। ‘সূর্যদেবের বন্দী’ গল্পে ইনকাদের হাতে বন্দী টিনটিনের কথা মনে আছে? কেমন সূর্যগ্রহণের ফিকিরে নিজেকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করতে পেরেছিল! ঠিক অমনটাই ঘটেছিল থালেস সাহেবের পূর্বাভাস করা সূর্যগ্রহণের দিন – গ্রীক ঐতিহাসিক হেরেডোটাসের লেখা থেকে জানা যায় – লাইডিয়ান এবং মেডেসদের মধ্যে ছ’বছর ধরে চলা যুদ্ধ হঠাৎই সেই সকালে থেমে যায়, যখন তারা অবাক বিস্ময়ে দেখে – দিনের বেলা রাতের আঁধার ঘনিয়ে এসেছে! আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করি, তখন দেখি – সেই দিনটি ছিল – ২৮শে মে, ৫৮৫ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ। থালেস সাহেবের এই আশ্চর্য পূর্বাভাসকে আইজাক আসিমভ অ্যাখ্যা দেন – ‘দ্য বার্থ অফ সায়েন্স’ বলে!
আপনি ভাবছেন, কোথাও কিছু নেই, হচ্ছিল পৃথিবী সৃষ্টির গল্প, খামোকা সেখানে থালেস সাহবেকে নিয়ে কেন পড়লাম! তার একটি বিশেষ কারণ আছে। থালেস সাহেব ছিলেন গ্রীক সপ্ত ঋষিদের মধ্যে সর্বপ্রথম; তথাকথিত গ্রীক বিজ্ঞানের প্রথম পুরোধা বলা চলে তাঁকে। তা এই থালেস সাহেব মনে করতেন – পৃথিবী আসলে একটি ডিস্কের মত এবং সে মহাসাগরের জলের উপর ভাসমান। যখন ভাসমান প্রস্তরতুল্য স্থলরাশিগুলি একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখনই ভূমিকম্প হয়। আপনি যদি সারগ্রাহী হন, তাহলে নিশ্চয়ই মানবেন, ভূমিকম্পের বিষয়ে তাঁর এই তত্ত্ব একেবারে সারবত্তাহীন, একথা বলা যায় না। বস্তুত যাকে উনি জল বলেছিলেন, আজকের দিনে আমরা তাকে ম্যান্টল বলি আর প্রস্তরতুল্য স্থলরাশির জায়গায় যদি টেকটনিক প্লেট বসিয়ে দেন, তাহলে দেখবেন, দিব্যি তাঁর দেওয়া তত্ত্ব আজকের ভূতাত্ত্বিক মতবাদগুলির সঙ্গে একেবারে খাপে খাপ! থালেস সাহেবের পর্যবেক্ষণ এবং কল্পনাশক্তির আরো প্রমাণ আমরা পাই – সে যুগে তো আর আজকের মত এত সিজারিয়ান বেবির ছড়াছড়ি ছিল না। নর্ম্যাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে মায়ের গর্ভাশয়ের জল ভেঙে যাওয়া যে আসন্ন প্রসবের ইঙ্গিত, তা নিশ্চয়ই তাঁর অজানা ছিল না। তিনি আরো দেখেন বীজের অঙ্কুরোদগমই হোক, কিংবা অন্য যে কোনো জীবই হোক, ‘জলই জীবন’। এইসব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি তাঁর কল্পনাকে মিশিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন – জলই সৃষ্টির আদি শর্ত, জল থেকেই সবকিছুর উৎপত্তি!
দেখুন, আমি আগের পর্বেই বলেছি – নাস্তিক কিংবা আস্তিক, কোনো দলেই আমি আপাতত নাম লেখাইনি। আমার কাজ নিরপেক্ষভাবে ধর্মই হোক কিংবা বিজ্ঞান, নিজস্ব বোধবুদ্ধি দিয়ে তার বিশ্লেষণ করা। এই লেখার সূত্রপাত যে চিন্তার স্তর থেকে, সেখানে আমার কাছে অন্তত পরিষ্কার, বিজ্ঞান যেখানে হিসেব মেলাতে পারেনি, সেখানেই যুক্তিতর্কের সঙ্গে সঙ্গে পূর্বশর্ত, ধ্রুবক ইত্যাদি নানান অজুহাত আরোপ করেছে। পরম সত্য তার কাছে এখনো অধরা মাধুরী। বিজ্ঞানের এই যাত্রাপথ একদিনের নয়, যবে থেকে মানুষ সভ্যতার রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেছে, সেই তবে থেকে বিজ্ঞান নানান আদলে তার সফরসঙ্গী। দিন বদলেছে, যুগ বদলেছে, বদলে বদলে গেছে মানুষের চিন্তার অভিমুখ, বিজ্ঞানের দেওয়া ব্যাখ্যা, তার প্রয়োগ। আজ যাকে বিজ্ঞান ঠিক বলেছে, কাল তাকেই বিজ্ঞান ডাহা ভুল হিসাবে চিহ্নিত করেছে। তাই জন্যই বিজ্ঞান একাধারে সমকালীন এবং আধুনিকও বটে।
যে গল্প দিয়ে এই পর্ব শুরু করেছিলাম সেখানে যদি আবার ফিরে তাকাই, তাহলে দেখব – সৃষ্টির সূচনালগ্নে, সোমবার ঈশ্বর ঘোর তিমিরঘন জলীয় দশা থেকে মুক্তির জন্য সর্বপ্রথম আলোকমঞ্জীর রচনা করছেন; ঠিক যেন থালেস সাহেবের চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন! তাই একথা অস্বীকার করার জায়গা নেই – এই সৃষ্টিতত্ত্বের প্রাথমিক পর্যায়টি ছিল সেই সময়ের নিরিখে বিজ্ঞানসম্মত, সমকালীন এবং আধুনিক। তার পরবর্তী দিনগুলো নিয়েও কিছুটা আলোচনা তোলা থাক আগামী পর্বের জন্য। কিন্তু আস্তিকতা বা প্রতিষ্ঠিত ধর্মগুলির ক্ষেত্রে সমস্যাটা দাঁড়ায় – সময়ের কোনো এক মাইলফলকে দাঁড়িয়ে তারা হয়তো বা বিজ্ঞানের মত সমকালীন বা আধুনিক হবার চেষ্টা করলেও, যত সময় গড়ায়, তাদের অপরিবর্তনশীল চিন্তাধারাগুলি জড়াগ্রস্ত হতে থাকে। কারণ কে না জানে, সমকালীনতা এবং আধুনিকতার মধ্যে ফারাক বলতে পরিবর্তনশীলতাকেই বোঝায়!
দেখা হবে আগামী পর্বে…আপাতত সকলকে শারদ শুভেচ্ছাসহ বড়দের প্রণাম, ছোটদের প্রতি প্রীতি-ভালোবাসা এবং সমবয়সীদের সঙ্গে কোলাকুলি…

