কেন এলে এই অসময়ে!

সরকারি হাসপাতালে সদ্য মৃত মায়ের গর্ভ থেকে
বেড়িয়ে এল এক অমলকান্তি শিশু।

আবহ ছিল অস্থির ও অসহিষ্ণুতা’য় ভরা।
সময়ের স্রোত যায় বয়ে-
শাস্তি পায়না নির্যাতিতার খুনিরা।
চাকরী হারা শিক্ষকরা পুলিশী নির্যাতনের শিকার।
হৃৎপিণ্ডে থামেনা “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” ধ্বনি।
রাজনীতির আবর্তে ধর্মীয় উন্মাদনার শিকার
সাধারণ মানুষ ও পর্যটক।
ধর্মের জিগির তুলে দেশে দেশে যুদ্ধ সুনিশ্চিত।
অশ্লীল-হুমকি ভাষা হয় রাজনীতির।
লাগামহীন জয়োল্লাসে প্রাণ হারায় নাবালিকা।
এই সময়ে কেন তুমি এলে,
হে অমলকান্তি শিশু!

জুম্মাবারের নামাজ থেকে ফেরার পথে
কয়েকজন বয়স্ক মানুষ
ট্রাফিক পুলিশের সাহায্যে হাসপাতালে নিয়ে আসে ফুটপাতে পড়ে থাকা প্রসব-যন্ত্রনায়
অর্ধচেতন মেয়েটিকে।
“আল্লাহ সালামত রাখে” – প্রার্থনা করে
ফিরে যায় তারা।
আর কেউ আসেনি।
বডি’টাকে মর্গে পাঠিয়ে —
নার্স যায় সুপারিনটেনডেন্টের কাছে।
রিপোর্ট দেয় শিশুটির।
হাজারো উদ্বেগ ভরা চোখে তিনি বলেন,
দেখি কী করা যায়!

এই অসময়ে কেন তুমি এলে
হে অমলকান্তি শিশু!

কি দেব তোমায়?
কে দেবে তোমায় জঞ্জাল হীন,আবর্জনা হীন,
হিংসা, ক্রোধ আর ঘৃণা হীন,
বিভেদ আর বৈষম্য হীন,
যন্ত্রনা হীন, উদ্বেগ হীন রোদ ঝলমলে
এক নির্মল পৃথিবী !

বহু দিন আগে এক অবুঝ কবি
অঙ্গীকার করেছিল,
” … তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি”
কিন্তু না, আজও তাবৎ শিশুর জন্য এই পৃথিবীকে
বাসযোগ্য করে তুলতে পারিনি আমরা।
তবু তুমি এলে,
কেন এলে,
এই অসময়ে,
হে অমলকান্তি শিশু!

রোদ উঠেছে।

আজ রুটি হবে,
মা বলেছে।

কাল রাতে
আমাদের ফুটপাতের দোকানটা
ভেঙে দিয়ে গেছে, পুলিশে।
বাবা ফেরেনি, রাতে।

কাল খিচুড়ি, ইস্কুলে।
রাতে, মা বলেছে,
কিছু একটা হয়ে যাবে, ঠিকই।
বাবা ফেরেনি, এখনো।

অন্ধকার, রাতের আকাশ।
একফালি চাঁদ। ঝিঁঝিঁ ডাকে।
একঝাঁক জোনাকি —
উড়ন্ত আলো, ফুলঝুরি।

মলাট গুলো ছিঁড়ে গেছে,
বইয়ের। খাতা শেষ।
ভাল্লাগে না, পড়া হয় না।
রোজ বকে, স্যার।

কাজ আছে,
শ্যামলের চায়ের দোকানে,
ভাত দেবে, মা বলেছে।
ভাই ইস্কুলে যাবে।

বাবা ?
কী হবে! ঠিক ফিরবে।
বাগানের কাজ আছে না!
মা বলেছে,
একদম ভয় পাবি না।

বাবা আসছে,
হাতে দুটো প্লাস্টিকের ব্যাগ।
মা হাসছে, কি এনেছো?
ঘুগনি রুটি।
কী আনন্দ! মা বাবা ভাই আমি সবার।
বাবা বলছে,
ভয় পাবি না। একদম।


সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের পূর্ব রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, ডিসেম্বর ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]