
আমরা তোমরা
তোমরা বলো, আমার এলাকা!
আমরা বলি, আমাদের পাড়া, আমাদের গ্রাম, আমাদের শহর।
তোমরা বলো, আমরা উন্নয়ন করবো।
আমরা দেখি উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।
সে বড় সুখের সময় নয়।
তোমরা বলো, এ তো সামান্য ব্যাপার !
আমরা দেখি, একটা গোটা জীবন বিফলে যায়।
তোমরা বলো, এমন তো হতেই পারে!
আমরা ভাবি, এর চেয়ে বেশি আর
কি হতে পারতো !
তোমরা বলো, সাজানো নাটক।
আমরা দেখি, অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা।
তোমরা বলো, বিরোধী পক্ষ!
আমরা জানি, আত্মপক্ষ।
আমরা রাস্তা করে দিই,
তোমরা সে রাস্তা দিয়ে আস।
আমরা সিঁড়ি হয়ে যাই, তোমরা উপরে ওঠো।
আমরা ক্রমশঃ উপরের দিকে তাকিয়ে
তোমাদের দেখি।
তোমরা নীচের দিকে তাকিয়ে আমাদের দেখো।
তোমাদের সাথে আমাদের কোন দিন মেলে না।
আমরা জনগণ , আর তোমারা ……
এ সকল অলস অবাঞ্ছিত কথা।

বৃষ্টি কোলাজ
বর্ষায় বৃষ্টি আসে,
অরণ্যে তখন গাছেদের কথা হয়,
পাতায় পাতায়, টুপ টাপ ফিস ফাস।
স্নান সেরে সবুজে সবুজ
তারা গল্প করে, আদরে আদর করে
কচি কচি কিশলয়।
বায়ু বয় শন্ শন্, গাছেরা তখন
গায়ে গায়ে পড়ে, জরাজরি করে,
নৈকট্য দেখায়।
বর্ষায় বৃষ্টি পড়ে।
গ্রামে গ্রামান্তরে ছোট ছোট মেয়েরা ছেলেরা
বৃষ্টি ভিজে, পুকুরে ঝাঁপায়।
ছাতা নিয়ে মেঠোপথে টালমাটাল
ইস্কুলে যায়, কাদামাটি পথে আছার খায়,
জলে ভাসে ব্যাগ বই খাতা।
চাষীরা জমিতে জল ধরে,
কাদা মাঠে ধান রোয়,
খালে বিলে পুকুরে খাপলা জালে
মাছ ধরে জেলে।
বর্ষায় বৃষ্টি পড়ে
শহরে, অলিতে গলিতে।
একদল ছেলে সর্বাঙ্গে কাদা,
একটা কাদা মাখা বল নিয়ে দূরন্ত
ফুটবল খেলে, মাঠে।
আজকের অমল ফ্ল্যাট বাড়ির
তিন তোলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপলকে দেখে।
মা ডাকে, “সোনা-বাবা,
হোম ওয়ার্ক গুলো শেষ করে নাও,
বৃষ্টির দিনে খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ো না,
এই সবে জ্বর থাকে উঠেছো,
বৃষ্টির হাপাল লেগে যাবে, চলে এসো”।
অমল করুন কন্ঠে,
“আর একটুখানি মা, আর একটুকখানি!”
বাইরের ফ্রেমে রাস্তায় ছাতা, কাদা, জল
নাকাল অফিস যাত্রী।
বর্ষায় বৃষ্টি পড়ে।
সন্ধ্যা নামে ধোঁয়াশার মতো।
কোথাও আলোহীন অন্ধকারে
সেতারের রাগ ভেসে আসে, মেঘমল্লার।
বর্ষায় বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি পড়ে ..
অঝোর ধারায়।

