ছেলেটাকে যতবার যোগ-বিয়োগ করবে,
ততবার উত্তর পাবে সাড়ে তিন,
ভাগ করলে দশমিকে ভাগফল
কিন্তু ওর কোন গুণিতক, গুণনীয়ক নেই। ওকে গুণ করলে নয়নতারার গাছে ফুল ফোটে শিশির শিশির…

ওকে পাড়ার মোড়ে দেখা যায় রোজ।
বাদামি চিকুরদাম, কটা চোখ, মালতীর রঙ
ওর জন্য যতিচিহ্ন ওলট-পালট হয়ে গেছে বারবার!
ব্যাকরণ পেরিয়ে ওর জামাকাপড়, ত্বক, রক্ত, অস্থি, মজ্জা — তেপান্তরের সেই আবছায়া মাঠ
সবকিছু কলোনির মোড়ে বুড়ো তেঁতুলের তলা,
চায়ের দোকান চেনাজানা হয়ে গেছে
চায়ের কাপের রোজকার ধোঁয়ার মতোন!

ও কখনো কথা বলেনি,
ঐ একটু ‘হুঁ-হাঁ’ কিংবা একটু চাপা হাসি ছাড়া
ঠোঁট চেপে, কটা চোখে…
ও কখনো পাতেনি শরীর ধুলোবালি মাঠের কাদায়
অথচ সবুজ ঘাস দেহক্ষেত্রফলে তার
আদিম সৌরভ কোন গচ্ছিত রেখেছে…

সে এখনও অনাঘ্রাত!
পাথর, মাটি, তৃণ, মৃগনাভি…
এখনও আস্বাদ তার ধমনীতে লুক্কায়িত!
সে বলেছে এই আমি পেতেছি মন্দির
এই তার কারুকার্য, এই তার শিউলিতলা…

শ্যাওলা সামলে এসো।
কলতলা ভীষণ পিছল।
রহস্যের গন্ধ এনো।
মাটিতে চন্দন…

তোমার অপেক্ষা নিয়ে বসে আছি চিরন্তন কাল
ক্রিয়াপদ বিশেষ্য বিশেষণ ছেড়ে
সর্বনাম হতে পার, হতে পার জলের হিল্লোল
আমার শরীর পেতে বসে থাকি আমৃত্যু সকাল!

মিলন ও বিরহ তাই ধরেছি যকৃতে
মিথ সব গড়ে ওঠে খালেতে বিলেতে
অত্যন্ত সূক্ষ্ম সে, তন্তু তার সংবেদী চরাচরে
ধীরে ছুঁয়ো। গাছ হয়ে বেঁধে রেখ অজর অমরে…

হঠাৎ দুপুর, শ্রাবণের দগ্ধ বৃষ্টিহীন
উষ্ণ ধুলোবালি, রাস্তার দুইদিকে বৃক্ষের ছালবাকলেরা
খালি একা একা রোদে। কলতলা ঝাঁঝা করে
ফাটল চাতালে। টেবিলে কয়েকটা বই: রশফুকো, আলফঁস দোদে।

আমাদের চেরিতলা নেই।
রাধাচূড়া গাছগুলি বৃষ্টিতে ভিজেছে প্রচুর…
যবিষ্ঠ শরীরে তব গোয়েন্দা হারিয়েছে খেই!
তোমাকে দেখিনি প্রিয়, দেখিনি দু’চোখ ভরে আজ
তোমাকে ভাবব বলে এড়িয়ে সমাজ
তবু
পারিনি দাঁড়াতে আর
হেরে গিয়ে বারবার
পেয়েও হারিয়ে ফেলি ফুল, কারুকাজ!

আমিই তোমার শরীরের উষ্ণতা
দারুণ শীতকালে
বুঝতে পারিনি তাই হারিয়েছি বলে
একটা, দু’টো সনেটের চতুর্দশপদী
তোমাকে লিখতে গিয়ে ভুল করি যদি
ভেবেভেবে ভুল করে ভুলে গেছি সব!

তোমার শহরে আজ বৃষ্টি নেই প্রিয়
দাদাবাদী কাব্য লিখব?
হাসালে! হাসিও!
ছেঁড়াছেঁড়া কাগজেরা টুকরো হয়ে
পড়ে আছে নীচে।
দেওয়ালে ম্যুরাল, ফ্রেস্কো
কী ভীষণ ক্লিশে! কবিতার ভাষা
নিয়ে গবেষণা করেছিল যারা
তাদের দেশেতে আজ কবিতারা
সত্যি দিশাহারা! আমারও সৃজনশক্তি
অ-বোধিত অনুরক্তি
তোমার পুষ্পপাত্রে রবে গোপনীয়…

প্রশ্ন কর যদি জীবনের লেনদেন সব শেষ
সব ক্লিন্ন, সব ক্লিষ্ট, সব লুনি নদী?
“গঙ্গাকে শুধিও তবে, অজর অমর”
এই পাবে উত্তর…

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের পূর্ব রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, অক্টোবর ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

0 0 ভোট
Article Rating
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
পংক্তির ভেতর মন্তব্য
সব মন্তব্য
Manasi Chakrabarti
Manasi Chakrabarti
10 months ago

Khub valo laglo Nirbaner kobita