জীবনের যত মান-অভিমান
ও না পাওয়ার কষ্ট-যন্ত্রণা
সব তোমার মনের গোপন কুঠুরিতে
কোথায় যেন বন্দী হয়ে থাকে।

কোনো উদাসী বাতাস এসে নাড়িয়ে দিয়ে গেলে,
তুমি হঠাৎ ভেঙে পড়ো—
তুমুল ঝড়ে ভেঙে যাওয়া
একটি শক্তপোক্ত গাছের মতো।
তোমার অগ্নি চক্ষুও তখন সিক্ত হয়ে আসে।

উজাড় করে দেওয়া
জীবনের রূপ-যৌবন -সময় ও ভালোবাসা
তোমার কাছে ঝুড়ি ঝুড়ি
প্রশ্নের ডালি নিয়ে এসে দাঁড়ায়।
তখন তোমার সব উত্তর
কোথায় যেন বিলীন হয়ে যায়।

সেই বন্দি কুঠুরিতে তোমার মন পাখি
বারবার মাথা কুটে মরে।

একবার সেই বন্দী মনের জেলখানা থেকে
নিজেকে বের করে আনো।
প্রবল ঝড়-বৃষ্টি-ঝঞ্ঝার অন্ধকার রাতে
বেরিয়ে এসে দাঁড়াও
তোমার সমস্ত সুখের কেন্দ্রবিন্দু
সেই ব্যালকনি টায়।

বৃষ্টি ধারার সঙ্গী হয়ে
তোমার বুকের ভিতর জমে থাকা
সমস্ত কষ্ট ও যন্ত্রণা গুলো কে
মাতাল ঝড়ো হাওয়ার পথে ভাসিয়ে দাও।
যেখানে মন চায় উড়ে যাক
হারিয়ে যাক চিরতরে।

তোমার বন্দি মনের মুক্তি সেই বাতাসে।

তোমার আমার প্রতিটি মানুষের জীবনেই
না পাওয়ার কষ্ট যন্ত্রণা গুলো বুকের মাঝে বড়শির মতো গেঁথে আছে।
কখনো কখনো সে আঘাত বা কষ্ট
হৃদয়ে বড্ড বেঁধে।
তাকে তোয়াক্কা করো না, এটাই তো বাস্তব।
চলার পথে রাস্তায় কাঁকর ছোট বড় পাথর সে তো থাকবেই।
সেসব কাটিয়েই তো তোমায় এগিয়ে যেতে হবে।
সেই কষ্ট যন্ত্রণার দিকে যদি বারবার
ফিরে ফিরে তাকাও,
তাহলে হোঁচট খেয়ে পড়বে
একজন অন্ধ বা চলতে না পারা মানুষের মতো।

তাই জন্য বলি কি
আর পিছন ফিরে তাকিও না।
অনেক হয়েছে ,
জীবনের অনেকটা পথ তো পেরিয়ে এলে।
এবার একটু সামনের দিকে তাকাও।
মন দিয়ে দু চোখ মেলে যদি দেখতে পারো,
তবে দেখতে পাবে এখনো অনেক
মূল্যবান সময় ও পাওয়ার আনন্দ
তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে।

কেউ হয়তো দু হাত বাড়িয়ে আছে
তোমারই জন্য তোমাকে উজাড় করে দেবে বলে।
আঁচল পেতে রাখো ঝরা শিউলি ভরে নিতে।
রাত্রি শেষে অন্ধকার অতিক্রম করে
নতুন সূর্যের আলো অপেক্ষা করে আছে শুধু তোমারই জন্য।


সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের পূর্ব রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, জুলাই ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]