
সত্য ও রাষ্ট্র

বাজারফেরত কেটলিতে জল গরম করে চা-ব্যাগ ফেলে খবরকাগজটা খুলে সুডোকু নিয়ে – আসলে কাগজে এতো বিজ্ঞাপন – দেশের উন্নয়ন আর নেতাদের সততার – খবর তো শুধু যুদ্ধ আর ধর্ষণ – তফাৎ স্থান-কাল-পাত্রে –
শুধু অন্ধকার – অন্ধকার –
সক্কালসক্কাল ভাল্লাগে?
তাই কাগজ মানে ইং সুডোকু বাং শব্দছক – তো, আপাতত টেবিলে সুডোকু খুলে – উফ্, কী গরম – পাখাটা… আজ ঘামটা একটু বেশিই কুলকুল – উঠে পাখাটা ফুলস্পিড – অমনি কাগজ উড়ুউড়ুপাখি – মোবাইল দিয়ে ধর্ষণটা চাপা দিতেই মোবাইলস্ক্রিনের ডানকোনে ০৯-৩৮ এএম – আগেকার হিসেবে সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ – ডিজিটালযুগে নো কাঁটাফাঁটা – নো নাগাদ – অ্যাকিউরেট – অর্থাৎ ঐ নাগাদ শব্দটা ইদানিং জাস্ট্…ইয়ে – অবশ্য অ্যাকিউরেট শব্দটাও – উন্নয়ন সততা –
সব ফেক – সব ইয়ে –
সেই সত্য যা বলিব আমি –
মাস্টারমশাই আপনি যুদ্ধ-ধর্ষণ কিচ্ছু দেখেননি – ঘটে যা তা সব সত্য নয় –
সে যাই হোক, টেবিলে সুডোকু খুলে –
ব্যাস্ – দরজার পাখি ডাকলো।
খুললাম।
নিঃশব্দ গুলি – এক-দুই-তিন
পড়ে যেতে যেতে দেখলাম –
গোলাপের বোকে হাতে
সিঁড়ি দিয়ে দ্রুতপায়ে
নেমে যাচ্ছে
রাষ্ট্র
নীচে
আরো নীচে

চুমু ও সিবিআই
তোমাকে চুমু খাওয়ার তিন্মিনিটের মধ্যে দৌড়ে আসবে সিবিআই – ঝিলপাড়ের সন্ধ্যায় দুজনের দুইহাতের যৌথ মুঠি সিসিক্যামেরাচোখে দেখে পিছন থেকে টোকা মার্বে – দুই গুণ চোদ্দপুরুষের আধার-প্যান-আইটি-এনার্সি সহ সুগার্প্রেসার-ব্লাডিউরিনিসিজিব্যাব্যাব্যা যাবতীয় রিপোর্ট যাবে কমিশনে – দুজনের ঠোঁটরসের ডিয়েনেটেষ্ট হবে ল্যাবে – ব্যাস, আমি তিহার তুমি আলিপুর – দুইবাড়ির সমস্ত খাটের তলা তেতলার সিঁড়িঘর আশপাশের পুকুরটুকুর চুমুভাণ্ডারের খোঁজে তন্নতন্ন – রাষ্ট্র যদ্দিন মাথা চুল্কোবে, আমরা দুজন তিহারালিপুর নয় আ্লিপুর্তিহার – মাঝেমাঝে আইনাইনের পথে আমাদের দেখা হবে কাঠগড়ায় – কখনও ব্যাঙ্কশাল কখনও নকশাল কখনও ট্যাঙ্কশাল – লোয়ার-আপার-হাই-সুপ্রিম – আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শঙ্কায় টিম পাঠানো হবে বিভিন্ন ঝকমকে দেশের কাচশহরে চাঁদে মঙ্গলে – ইতিমধ্যে সমরকাকু রমামাসিরা সাক্ষী দেবে – ঐতো সেবার সরস্বতীপুজো, ইস্কুল্কেটে সিনেমাহলে ম্যাটিনিশো, অ্যাগ্দিন ভিক্টোরিয়ায় এম্যাছিছি – কাঠগড়া দূরত্ব থেকে দেখবো তুমি ফ্যাকাসে, তুমি আমাকে দেখবে ঝিমদুপুর
এমনি চলতে থাকবে, সময় ও তদন্ত – আমরা বড়ো হয়ে যাবো – তিহারকাকুর্মেয়ের সাথে আমার, আর আলিপুরের এনারাই ছেলের্সাথে তোমার বিয়ে হয়ে যাবে – তদন্ত চলবে – সমরকাকু রিটায়ার করে চলে যাবে ব্যাঙ্গালোর্তুতো ছেলের কাছে – রমামাসি হাঁটু চিনি আর কোলেস্টোরেলে বৃদ্ধাবাসী – চুমুহীন বাচ্চাকাচ্চা হবে আমাদের দুজনেরই – তারাও বড়ো হবে – রাষ্ট্র চুলকে যাবে টাক – আর জনগণ সারাদিন আধার-প্যান-মন্দির-মসজিদ উর্ধশ্বাস দৌড়োবে ঘুমোবে আবার জেগে উঠে দৌড়োবে
চুমু খাবে না
ঝিলপাড় একলা বসে বসে ঝিমোবে – সিবিআই পাড়ে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের চুমু গুনবে – তদন্ত চলবে
একটা আস্ত সভ্যতা শিকড়হীন চুমুহীন হয়ে যাবে আস্তে আস্তে


শ্লেষ যেন গায়ে এসে বেঁধে। আইনাইনের পথে নির্বিঘ্নে চলছে এই শিকড়হীন বাঁজা এক সময়, পল্লববরন পালের এ উচ্চারণে বড় অস্বস্তি!