কবিতার কাছে আমি
হাঁটুগেড়ে বসি না এখন ।
লোভে বা অঙ্গীকারে
রাগে আর অপমানে
হাতও পাতি না _ ছাঁচে গড়া মানুষের মুখ অথবা অসুখ দেখি না _
হয়তো অভিমান গভীর দহিত কোনও স্মৃতি
নিংড়ে মুচড়ে দিয়েছে
পরিপাটি শব্দের সুশীতল স্বাদ ।

ঝড়ের ইশারা কিছু ছিল
ক্লান্তিভার, আচ্ছন্ন আকাঙ্ক্ষা
ভালোবেসে পড়েছিল প্রাণে।
বুকের কোটরে কিছু প্রেম ঢেলে
নক্ষত্রেরা নেমেছিল নদীটির জলে।
নিঃশ্বাসে ছিন্নবাস ঘ্রাণ
বুননে বুননে তৈরি হওয়া
শব্দের গায়ে আজও লেগে আছে
চাপ চাপ রক্তের দাগ ।
পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা শপথের অভ্যাস
ছুঁয়ে আছে গোপন খাতাটি ।
কলমের দাম বাড়ে,
মাপা হাসি , চাপা দুঃখ
উড়ে আসে ভাবনার পাশে ।

অর্ধ সত্য – ছলনা – চাতুরি বুকে নিয়ে
পথ খোঁজে ডাইনে ও বাঁয়ে।
লক্ষ্যেস্থির ধনুর্বাণ হাতে
মেরুদণ্ড মেরামত করে ,
শুধু কবিতার কাছে আর
ঋজু হয়ে বসতে পারি না ।

এই হাত বাড়ালাম ।
অবেলায় অসুখের ক্যাপসুল গিলে ।
ঝড়ো হাওয়া বিলি কাটছে
মুচড়ে যাওয়া বুকের ফাটলে ।
সময়ের চুম্বনে চিবুকের
চিনচিনে ক্ষতগুলো শুকিয়েছে কিছু ।
ছলাৎছল শব্দে বয়ে গেছে সীমাজল ।
জীবনের ইন্দ্রিয় সক্ষম দিনগুলো
পেরিয়ে এসেছি বহুকাল
অথচ দেশভাগের যন্ত্রণার মতো
অভিমান বুকে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি ।

একদিন দূরত্ব ফুঁড়ে জেগে ওঠো,
নিজের দিকে টেনে নাও ।
অবাধ্য হৃদয়ের বিস্মৃত শব্দের
নির্জনতা দিয়ে ঢেকে রাখো
শরীরী শিলালিপি ।
একদিন ঈশান কোণে হেলান দিয়ে
বেঁচে থাকো ফুরফুরে মেজাজে ।
জমাখরচের খোলামকুচি ছুঁড়ে ফেলে
জীবনের মাধুকরী জমা করি কিছু,
এসো
ক্ষয়াটে বিরোধে ঘেরা, খরা লাগা বুকে
নক্ষত্রের আলোয়
পেতে রাখি নীলচে গালিচা ।
একসাথে ডুব দিই অক্ষরের ধ্যানে ।
তরলিত জোছনায় অন্ধকারের কথা ভুলে
আলোর ছাউনি পেতে একদিন
পাশাপাশি ঘুমোই আমরা ।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের অন্য রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, মে ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]