ধারবাহিক অনুবাদ গল্প সংকলন (৮ম পর্ব)

অঙ্গারেওয়ালি রসিদ জাহান
অনুবাদঃ

চোর
রাত দশটা। আমি আমার ক্লিনিকে একা বসে আছি। একটা মেডিক্যাল জার্নাল পড়ছি। এমন সময় হঠাৎ একজন পুরুষ এক শিশুকে কোলে নিয়ে প্রবেশ করলেন। দরজা খুলে রাখার জন্য আমি আমার নার্সের প্রতি ক্রুদ্ধ হলাম। আমার রোগি দেখার সময় অনেক আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে। তাই আমি রূঢ়ভাবে বললানঃ “রোগি দেখার সময় পেরিয়ে গেছে। হয় কাল আসুন নয়তো অন্য কোন ডাক্তারকে দেখান।”
লোকটি খর্বাকার, কিন্তু ছিপছিপে হলেও পেশীবহুল দেহ। তাঁর হাতে থাকা শিশুটি দ্রুত ছোট ছোট নিঃশ্বাস নিচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে নিউমোনিয়া হয়েছে। তার মাথা এক দিলে হেলে পড়েছে এবং শিশুটি প্রায় মরণাপন্ন। লোকটি উদ্ধত ভাবে বললেন, “মেমসাহেব, আপনার ফি নিন, আর কী আপনার চাই?
ফিসের কথা বলাতে আমার স্বর নরম হল কিন্তু তাঁর উদ্ধত ভাব আমাকে পীড়া দিল। “কোন ডাক্তারই ফিস ছাড়া রোগি দেখেন না। আমি এই সময়ে রোগি দেখি না। আপনার জানা উচিত এটা ডাক্তারদের বিশ্রাম নেবার সময়। তাছাড়া, আপনার সন্তান খুবই দুর্বল…”
“সেই কারণেই আমি ওকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি। আমার ভ্রাতৃবধূর সন্তান এর থেকেও বেশি অসুস্থ ছিল। আপনি তাকে ঠিক করে দিয়েছেন,” তাঁর স্বর এখন মিষ্ট এবং সে অনুনয় করছে বলে মনে হচ্ছে।
আমি ক্রুদ্ধভাবে বললাম, “আপনি যদি ছেলের চিকিৎসা চান তাহলে তাকে আরও আগে আনা উচিত ছিল।”
“ছেলেটিকে আনার মত কেউ ছিল না। আর আমি আগে আসতে পারতাম না।”
লোকটির কপালের পাশে এক গভীর ক্ষতচিহ্ন আছে। এমন অভদ্র লোক নিশ্চয় কোন মারামারিতে জড়িয়ে ছিল।
শিশুটি ঘ্যানঘ্যান করতে শুরু করল। এই আওয়াজ শুনে আমার মনে করুণার ভাব এল। হাঁতে স্টেথোস্কোপ নিয়ে আমি দাঁড়ালাম। শিশুটিকে পরীক্ষা করে বললাম, “আমি এখনই শিশুকে ইঞ্জেকশন দিচ্ছি। আগামী চারদিন শিশুকে এই ইঞ্জেকশন প্রতি চার ঘন্টা অন্তর দিতে হবে। তার ব্যবস্থা করুন।” আমার চোখে লোকটির দারিদ্র ধরা পড়ল এবং বললাম, “ফিস দেবার দরকার নেই। আমি খালি ইঞ্জেকশনের দাম নেব। বাকি ওষুধ আপনি বাজার থেকে কিনে নেবেন।”
আর একবার তিনি উদ্ধতভাবে কথা বললেন, “সাহেব, আমি আপনার কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসা চাই না”, এই কথা বলে তিনি তাঁর কুর্তার ভিতরে হাত ঢোকালেন এবং একটি জরাজীর্ণ বাণ্ডিল বের করলেন।
হঠাৎ টেলিফোন বেজে উঠল। রিসিভার তোলবার সময় আমার দৃষ্টি লোকটির উপর পড়ল। তিনি তখন বাণ্ডিল খুলছেন। আমার বিস্ময়ের অন্ত রইল না যখন আমি দেখলাম লোকটি একগোছা নোট বের করলেন। তার মধ্যে প্রায় পাঁচশ’ টাকা রয়েছে। একটা দশ টাকার নোট টেবিলের উপর রেখে তিনি বললেন, “ঠিক আছে? না আপনি আরও চান?”
আমি টেলিফোনে কথা বললাম, “হ্যাঁ, হ্যা,” এবং লোকটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনার নাম কী?”
“কাম্মান”, বলার সময় তাঁকে কিছুটা অনিশ্চিত দেখাল।
“কাম্মান!” নামটি খুবই পরিচিত। হ্যাঁ, আমার মনে আছে যখন দারোগা আমার বাড়িতে ডাকাতির ব্যাপারে খোঁজ নিতে এসেছিলেন তখন তিনি “কাম্মান” নামটি উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি এও উল্লেখ করেছিলেন তার কপালের পাশে ক্ষতচিহ্ন আছে। আমি নিবিড় ভাবে লোকটিকে দেখলাম। তিনি অনাগ্রহীভাবে অন্যদিকে তাকিয়েছিলেন। আমি যখন ইঞ্জেকশন প্রস্তুত করছি, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনি কী করেন?”
উত্তর দিতে উদ্যত হলে আমি বললাম, “আপনি টাঙ্গা চালাতেন, তাই না?”
বিস্মিত ভাবে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আমি কী করে জানলেন? আপনি আমাকে কখন দেখলেন? আমি আগে আপনার বাড়িতে আসিনি।“
সিরিঞ্জে ওষুধ ভরতে ভরতে আমি বললাম, “কাম্মান! আপনি ভুলে যাচ্ছেন। ঠিক দুমাস আগে, মাঝরাতে আপনি এখানে এসেছিলেন এবং বাড়ির সব লোপাট করেছিলেন। আপনি কেন চুরি করেন?”
তিনি সোজাভাবে আমার চোখের দিকে তাকালেন এবং সমস্বরে বললেন, “মেমসাহেব, আমাদের উভয়েরই নিজেদের একটা পেশা আছে।”
বিস্মিত হবার পালা এবার আমার।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কিন্তু, আমাকে বলুন, কে আপনাকে আমার নাম জানিয়েছে?”
“দারোগাসাহেব বলেছিলেন…, যখন তিনি তদন্ত করতে এসেছিলেন। ওঁরা নিজেদের মধ্যে আপনার ডাকাবুকো স্বভাবের কথা আলোচনা করছিলেন। আমি তাই শুনেছিলাম। ওরা আপনার বাড়ি তল্লাশি করতে যাননি?”
তিনি নিজে পুলিশদের নিয়ে পছন্দসই গালমন্দ করছিলেন, “এসব মা…পুলিশ! ওরা আগে ওদের ভাগ নেবেন। তার পরে উচ্ছিষ্টটা আমরা পাব। দিদি, তাঁরা অকারণে আমাদের বদনাম করে। তাঁরা চোরদের চুরি করতে বলেন। আর বাড়িওয়ালাদের বলেন, আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে! আমি সেই দারোগাকে বুঝে নেব…। জানেন, মেমসাহেব, বছরে বহুবার পুলিশ আমার বাড়ি তল্লাশি করতে আসে। আর সেই একই পুলিশ আমাকে আগে থেকে সতর্ক করে দেয়। অবাক হবেন না, আমি ওদের প্রত্যেককে মাসোহারা দিই। গত পাঁচ বছরে নিয়মিত ভাবে একটা ওয়ারেন্ট আমার নামে বেরিয়েছে। কিন্তু ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমি একবারও গ্রেপ্তার হইনি”, তিনি বড়াই করে বললেন।
ইঞ্জেকশন দেবার জন্য আমি ছেলেটির পা ধরলাম। কিন্তু লোকটি বিড়বিড় করতেই থাকল। “তারা নিজেরাই এসে জানাবে কখন তল্লাশি করতে আসবে, মেমসাহেব। পুলিশ যদি আমাদের সঙ্গে না থাকত, আমরা কোন মহল্লায় একদিনও টিকতে পারতাম না। তাহলে আমরা কেন বদনামের ভাগী হব?”
“ছেলেকে পা নাড়াতে দেবেন না।”
“বজ্জাতরা অর্ধেকের বেশি খেয়ে নেয়; আমাদের ভাগ্যে কী আর থাকে? পুরো কঠিন কাজটা আমাদের হাত দিয়েই তো হয়। আমরা যদি ধরা পড়ি, আমাদেরই তো জেলের খাটুনি খাটতে হবে। ওরা মা…রা বাড়িতে বসে কিছু না করে মেওয়া খাবে।” তাঁর মুখ লাল হয়ে উঠল এবং মনে হল তিনি যেন ছেলেটির ঘ্যানঘ্যানানি শুনতে পাচ্ছেন না। আমি ছেলেটিকে শোয়ালাম এবং তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। আমি অনুভব করতে পারলাম যে লোকটি আমার কাছে তাঁর পেটের কথা বলে দিতে শুরু করেছে। আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলাম। কোন এক চোরের সঙ্গে এটা আমার প্রথম মোলাকাত, তাও আবার এমন একজন যে আমার বাড়িতেই ডাকাতি করেছে! আমি তাঁকে বললাম, “কাম্মান, আপনি কেন চুরি করেন? যাদের ঘরে চুরি করেন তাদের জন্য অনুকম্পা জাগে না? আপনি আমার বাড়ি থেকে প্রতিটি জিনিস চুরি করেছিলেন। পরার মত এক সেট পোষাকও আমার ছিল না। এক সেট চশমা বিক্রি করে আপনি কত পাবেন? অদ্ভূত! আপনি আমার চশমাও চুরি করেছিলেন।”
“কিছুই জলে যায় না।”
আমি বিস্মিত হয়ে তাঁর দিকে তাকালাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, “ আমার মৃত মায়ের স্মৃতি হিসেবে এক দোপাট্টা রেখেছিলাম। তারই বা কী হল? আপনি সেটাও বাদ দেননি!”
আমি ভাবলাম, আমার তাঁকে গ্রেপ্তার করানো উচিত।
“কোনটা।”
“সেটা ছিল সাদা জালের এবং তাতে এমব্রয়ডারির কাজ ছিল। কেন, আপনি কী সেটা মনে রেখেছেন? ঈশ্বর জানেন তার পর থেকে আপনি কতবার চুরি করেছেন? আপনার পক্ষে কিছু মনে রাখা কঠিন।”
তাঁর সঙ্গে কথা বলে আমি তাকে আটকে রাখতে চেষ্টা করছিলাম। “আচ্ছা, আপনি কী করে চুরি করা শুরু করলেন?” আমি ভাবছিলাম…আমি কি ঘণ্টা বাজিয়ে চাকরকে ডাকব?
“প্রত্যেকে যে ভাবে শুরু করে…আমি গুরুর কাছে থেকে শিখেছি।”
“গুরু? আপনারও গুরু আছে?”
“কেন নয়? আপনি কী ভাবে ডাক্তারি শিখলেন?”
“আমি চিকিৎসাবিদ্যা শিখতে কলেজে গেছি?” আমি কি ঘন্টা বাজাবো?
“আমাদেরও কলেজ আছে” তিনি হাসলেন, “আমার কলেজ হল জেলখানা। এক ঝগড়ার পরে আমি ছয় মাসের জন্য জেল খেটেছিলাম। সেই জেলেই আমি গুরুকে পেয়েছিলাম…”
শিশুটি চিৎকার করতে শুরু করল। ঠিক তখনই দরজা খুলল এবং সামরিক পোষাক পরে আমার ছোট ভাই এল। সে তরুণ, কাম্মানের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী। এছাড়া, তার কোমর থেকে ঝুলছে রিভলভার। কাম্মান তাকে দেখে এক মুহূর্তের জন্য হতবাক হলেন। তখন তিনি প্রেসক্রিপশন তুলে নিয়ে দরজার দিকে চলে যেতে শুরু করলেন। আমি ওকে গ্রেপ্তার করাব? করাব কি? আমি দ্রুত ভাবলাম। আমি ঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম না। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

“দিদি, কী হয়েছে? তোমাকে কেন উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে?”
“তুমি জানো ও কে? সেই আমার বাড়িতে ডাকাতি করেছিল।”
“তুমি কীভাবে জানলে?”
“আমি ওর সঙ্গে কথা বলেছি।”
“তুমি ওর সঙ্গে কথা বললে আর ওকে ছেড়ে দিলে? এই কথা বলে আমার ভাই দরজার দিকে লাফিয়ে গেল এবং বাইরের দিকে তাকাল। রাস্তা শুনশান। সে কয়েক পা দৌড়ে গেল এবং রাস্তার বাঁকের মুখে গিয়ে দাঁড়াল। সেখানেও, কাউকে চোখে পড়ল না।
আমার ভাই ফিরে এল এবং ক্রুদ্ধ স্বরে আমার সঙ্গে কথা বলল, “দিদি, তুমি বাস্তবিকই বোকা! তুমি চোরের সঙ্গে দেখা করে তাকে ছেড়ে দিলে! তুমি কেন গোর্খা চাকর রেখেছ? তুমি কেন তাকে ডাকলে না?” ক্রুদ্ধ ভাবে রিভলভারের ওপর হাত বোলাতে বোলাতে সে বলল, “আমি সেই বজ্জাতকে এভাবে ছাড়তাম না।”
আমার ভাই এক পাকা শিকারি। সেই মুহূর্তে, শিকার হাতছাড়া হয়ে গেলে এক শিকারীর মুখে যে হতাশা দেখা যায় তাই দেখা আচ্ছে।
“কেউ কি এভাবে এক চোরকে ছেড়ে দেবার কথা শুনেছে?”
আমি শান্ত রইলাম।
“তুমি খুব আবেগপ্রবণ। তুমি নিশ্চয়ই শিশুকে দেখে গলে গেছ। লোকটির দুঃসাহসের কথা ভাব! সে কুড়ি টাকা ফেলে গেছে, এও নিঃসন্দেহে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ।”
“তার কাছে চার থেকে পাঁচশ’ টাকা ছিল।”
“জান দিদি, তুমি আমার থেকে বয়সে বড় হলেও একেবারে বোকা।”
অচিরে আমার পরিচিতজনেরা জানতে পারল আমার বাড়িতে ডাকাতি করেছিল যে লোক সে তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আমার বাড়িতে এসেছিল এবং যাকে আমি গ্রেপ্তার করাতে পারতাম, কিন্তু আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। সবাই আমাকে নিয়ে মজা করছিল। কেউ আমার দ্বিধার কথা ভাবার চেষ্টা করল না। আজ পর্যন্ত, আমি নিশ্চিত হতে পারিনি যে আমি ভুল করেছিলাম কি না।”
আমার এক বন্ধু পুলিশ অফিসার ছিল। যখন সে এই ঘটনার কথা শুনল, সে বলল, “তুমি জানো, তুমি এক আইনি অপরাধ করেছ। লোকটির নামে শমন জারি ছিল; এমন এক মানুষকে গ্রেপ্তার না করানো এক অপরাধ।”
আমি ভাবলাম যেসব চোরদের নামে শমন জারি হয়নি বা কখনও হবে না তাদের কী হবে। অনেক রকমের চুরি আছে। ছিঁচকে চুরি, পকেটমারি, ডাকাতি, জোচ্চুরি, কালোবাজারি, শোষণ, অন্যের শ্রমে অর্জিত অর্থে নিজের ঘর পূর্ণ করা, অন্যের জমি বা দেশ দখল করা। বিস্ময় লাগে এইগুলিকে কেন চৌর্যবৃত্তির মধ্যে আনা হয়নি?
অন্যরা কী বলল তাতে আমি কিছু ভাবি না। কিন্তু আমার চারদিকের প্রত্যেকে যখন আমাকে নিয়ে মজা করে, আমি বিবেকের দংশন অনুভব করি। সেই চোরকে গ্রেপ্তার না করিয়ে সত্যিই কি আমি অপরাধ করেছি? আমি এক আইনমান্যকারী নাগরিক। আমার কিছু সামাজিক বাধ্যবাধকতা আছে। সেই চোরকে গ্রেপ্তার না করিয়ে আমি কি নাগরিক কর্তব্যের হানি করেছি?
আমি আমার চারদিকে দেখি। আমি দেখেছি যে কিছু সবচেয়ে বড় চোরেরা ভাল পোষাক পরে সাধুর মত ঘুরে বেড়ায়। তারা বিশাল অট্টালিকায় বাস করে। তারা প্লেনে চড়ে এবং হয় বিশাল পরিমাণ জমি বেদখল করেছে নয়তো সেরকম কিছু করার কথা ভাবছে। আর নিজেদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে তারা বেচারা কাম্মানের থেকেও এক ধাপ এগিয়ে যায়, যে কাম্মান শুধু পুলিশকে ঘুষ দিয়েছে। সমস্ত পুলিশ এবং সামরিক বাহিনির নাম তাদের বেতনের খাতায় আছে। কাম্মান উদ্ধত ভাবে আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, কারণ তিনি চার বা পাঁচশ’ টাকার ভিত্তিতে নিজেকে সমান ভাবছিলেন, যখন অন্যরা…তারা শুধু উদ্ধত নয়, তারা আমাদের অনেক উপরে গদিতে বসে আছে আর আমাদের শাসন করছে।

[পরম্পরা ওয়েবজিন, সেপ্টেম্বর ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

🌹🌹 খুব ভালো একটা পোস্ট। দারুণ লাগলো গল্পটা।একটা ভালো message আছে। লেখক/অনুবাদক কে অনেক ধন্যবাদ আর শ্রদ্ধা জানাই।🙏🙏