অন্তবিহীন যাত্রা পথে বিভ্রান্ত পথিক শুনতে পেল ছায়া নিবিড় তপোবনের মন্ত্র – বাহিত এক বার্তা : বৃক্ষের মতো আকাশে স্তব্ধ হয়ে আছেন সেই এক অনন্ত পুরুষ ,সেই পুরুষই আবৃত করে রেখেছেন। এই ব্রহ্মাণ্ড। তিনি অন্তরতর, অনন্ত পরমাত্মা, তিনি পুত্র থেকে প্রিয়, বিত্ত থেকে প্রিয়, অন্য সকলের থেকে প্রিয় – এই বিশ্বের বহুত্ব, হিংসা – উন্মত্ততা, সর্বব্যাপী বিরোধের মধ্যে দেখা দিল ” এক ” ; সেই একের আনন্দ বিচ্ছিন্নতা দূর করে জগতকে এক অতুলনীয় সৌন্দর্যের আধার করে তুলল। সেই একের অনুভব ছাড়া সদা ঘূর্ণ্যমান জগত একটি করাল বিভীষিকা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই পরম এক – এর ধারণাই রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর ভাবনা। তিনি এই বিশ্বের বৈচিত্রের মধ্যে সুন্দর এবং অশান্ততার মধ্যে শান্তি স্বরূপ। মানুষের সংসারে এই একের স্বরূপ হ ‘ল মঙ্গল বা শুভ। এই কলহমান , বিরোধে পরিপূর্ণ, কদর্যতায় এবং স্বার্থ সংঘাতে আচ্ছন্ন সংসারকে এক সুতোয় গেঁথে রেখেছে সেই পরম একের ভাবনা ও আশ্বাস।

সেই এক কোন অতিপ্রাকৃতিক ব্যক্তি সত্তা নয়, অথচ তিনিই ধ্রুব। সেই ধ্রুবপদের আশ্রয় মানুষকে অমৃতের সঙ্গে যুক্ত করে। এই ঈশ্বরের কাছে কবির প্রার্থনা যেন সেই পরম অনন্ত কবির চিত্তকে গ্রহণ করেন ; কবি যেন সেই পরম একের প্রসন্ন দৃষ্টি লাভ করে নীরবে প্রশান্ত মনে তার কর্ম সম্পাদন করার শক্তি লাভ করেন : ” আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান / দিও তোমার জগৎ সভায় এইটুকু মোর স্থান।”
কবি বিশ্বাস করেন তার অন্তরের একটিমাত্র প্রার্থনায় : ” অসৎ হইতে আমাকে সত্যে লইয়া যাও, অন্ধকার হইতে আমাকে জ্যোতিতে লইয়া যাও, মৃত্যু হইতে আমাকে অমৃতে লইয়া যাও। হে স্বপ্রকাশ , আমার নিকট প্রকাশিত হও। রুদ্র তোমার যে প্রসন্ন মুখ ,তাহার দ্বারা আমাকে সর্বদাই রক্ষা করো।”
প্রথম জীবন থেকেই কবি পারিবারিক সূত্রে ঔপনিষদিক ব্রাহ্ম ভাবধারায় অভিষিক্ত। মাত্র ২৪ বছর বয়সে ১৮৮৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কবি হলেন আদি ব্রাহ্মসমাজের সম্পাদক। সেই সময়টা হল হিন্দু ধর্ম পুনর্জাগরণের যুগ – পুনরুজ্জীবনের সমর্থনে লিখছেন বঙ্কিমচন্দ্র, অক্ষয় চন্দ্র সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমূখ। এর প্রতিপক্ষে কলম তুলে নিয়েছিলেন কবিও। এরপরেই কবি নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে সরে আসছেন এই বিতর্ক থেকে। জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে ১৮৮৯ এ চলে যাচ্ছেন শিলাইদহে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে।
কবির ঈশ্বর পৌত্তলিক ঈশ্বর নন। সেই ঈশ্বর এক সর্বব্যাপী বৃহৎ ভাবের বহিঃপ্রকাশ। সেই ভাবনায় অন্ধভক্তির কোন স্থান নেই :” যে ভক্তি তোমারে লয়ে ধৈর্য নাহি মানে,/ মুহূর্তে বিহ্বল হয় নৃত্য গীত গানে/ ভাবোন্মাদ মত্ততায়, সেই জ্ঞান হারা /উদভ্রান্ত উচ্ছলফেন ভক্তিমদ ধারা / নাহি চাহি নাথ।/দাও ভক্তি শান্তিরস,/স্নিগ্ধ সুধা পূর্ণ করি মঙ্গল কলস /সংসার ভবন দ্বারে।/সে ভক্তি অমৃত /সমস্ত জীবনে মোর হইবে বিস্তৃত/নিগূঢ় গভীর , সর্ব কর্মে দিবে বল,/ব্যর্থ শুভ চেষ্টারেও করিবে সফল / আনন্দে কল্যাণে, সর্ব প্রেমে দিবে তৃপ্তি ,/সর্ব দুঃখে দিবে ক্ষেম , সর্বসুখে দীপ্তি দাহহীন।/সম্বরিয়া ভাব – অশ্রুনীর/ চিত্ত হবে পরিপূর্ণ অমত্ত গম্ভীর।”


বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি না চেয়ে কবি বাঁচতে চেয়েছেন মানুষের মাঝে। তিনি নিজেই বলছেন : ” আমি পৃথিবীর কবি, যেথা তার যত ওঠে ধ্বনি / আমার বাঁশির সুরে সাড়া তার জাগিবে তখনই।”জগৎ জুড়ে উদার সুরে বেজে চলা আনন্দময় গান তিনি গাইতে চান, বলে ওঠেন : “
” রয়েছ তুমি এ কথা কবে
জীবনমাঝে সহজ হবে,
আপনি কবে তোমারি নাম
ধ্বনিবে সব কাজে।”
‘পরম এক’ কে ঘিরে আবর্তিত এই মহাবিশ্বে , মহাকাশে, মহাকালের মাঝখানে ” আপন মহিমা নিলয়ে” আসীন বিশ্বনাথের উপস্থিতিতে তিনি অনুভব করেন :
” স্তব্ধ সর্বকোলাহল
শান্তিমগ্ন চরাচর –
এক তুমি, তোমা- মাঝে
আমি একা নির্ভয়ে।”
সেই পরম এক কে কেন্দ্র করেই, তাতে লগ্ন হয়ে থেকেই কবির যাপন, চিন্তা আর সৃষ্টিশীলতা। এই চিন্তার প্রকাশ গীতিমাল্য, গীতিকা আর গীতাঞ্জলির সম্ভারে।
কবি লিখছেন : ” জীবনটা যে গঠিত হইয়া উঠিতেছে তাহার সমস্ত সুখ দুঃখ তাহার সমস্ত যোগ বিয়োগের বিচ্ছিন্নতাকে কে একজন একটি অখন্ড তাৎপর্যের মধ্যে গাঁথিয়া তুলিতেছেন।আমার স্বার্থ , আমার প্রবৃত্তি, আমার জীবনকে যে অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ করিতেছে তিনি বারে বারে সে সীমা ছিন্ন করিয়া দিতেছেন – তিনি সুগভীর বেদনার দ্বারা, বিচ্ছেদের দ্বারা , বিপুলের সহিত , বিরাটের সহিত তাহাকে যুক্ত করিয়া দিতেছেন। … এই যে কবি, যিনি আমার সকল ভালমন্দ , আমার সমস্ত অনুকূল ও প্রতিকূল উপকরণ লইয়া আমার জীবনকে রচনা করিয়া চলিয়াছেন ,তাঁহাকেই আমার কাব্যে আমি ‘ জীবনদেবতা ‘ নাম দিয়াছি ।তিনি যে কেবল আমার এই ইহজীবনের সমস্ত খণ্ডতাকে ঐক্যদান করিয়া বিশ্বের সহিত তাহার সামঞ্জস্য স্থাপন করিতেছেন আমি তাহা মনে করি না।আমি জানি, অনাদিকাল হইতে বিচিত্র বিস্মৃত অবস্থার মধ্য দিয়া তিনি আমাকে আমার এই বর্তমান প্রকাশের মধ্যে উপনীত করিয়াছেন – সেই বিশ্বের মধ্য দিয়া প্রবাহিত আস্তিত্বধারার বৃহৎ স্মৃতি তাঁহাকে অবলম্বন করিয়া আমার অগোচরে আমার মধ্যে রহিয়াছে। সেইজন্য এই জগতের তরুলতা, পশুপক্ষীর সঙ্গে এমন একটা পুরাতন ঐক্য অনুভব করিতে পারি , সেইজন্য এতবড়ো রহস্যময় প্রকাণ্ড জগতকে অনাত্মীয় ও ভীষণ বলিয়া মনে হয় না।” ( আত্মপরিচয় ,প্রথম প্রবন্ধ)।

কবির এই বিশ্বের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী যোগের ভাবনার প্রতিফলন পাই তাঁর পরিণত বয়সের রচনা ‘ মানুষের ধর্ম ‘ লেখাটির ‘ মানব সত্য ‘ প্রবন্ধে। কবি এই রচনায় কল্পনা করেছেন মানুষের তিনটি জন্মভূমির – প্রথম জন্মভূমি ‘ নিখিল পৃথিবী ‘ , দ্বিতীয় জন্মভূমি ‘ নিখিল ইতিহাস ‘ যা স্মৃতি – ঘেরা কালের নীড় – যেখানে সকল মানুষের মিলন । আর মানুষের শেষ জন্মভূমি ‘ সর্বমানবচিত্তের মহাদেশ ‘।

আশমানদারীর কল্পলোক থেকে তাঁকে এই সার্বমানবচিত্তের মহাদেশে নিয়ে এলো ব্যক্তিগত শোক এবং দু ‘ দুটি বিশ্বযুদ্ধের অভিঘাত।পরিবর্তিত হতে থাকল তাঁর নিজের গড়া ঈশ্বরের অসম্পূর্ণ ধারণা।
এই অভিঘাতের প্রতিফলন দেখা গেল তাঁর জীবনের শেষ তিনটি দশকের রচনায়। এই রচনায় দেখা যাচ্ছে তিনটি সুস্পষ্ট ধারা: (১)প্রসন্ন এবং আশায় উজ্জ্বল ; (২). আশা – নিরাশার টানাপোড়েনে দোদুল্যমান ; এবং (৩). গভীর অন্ধকারে দিশাহারা এবং হতাশ।
প্রথম শ্রেণীর উদাহরণ হিসাবে দুটি গানের উল্লেখ করা যায় : প্রথমটি ” সকল পথের ঘোচে চিহ্ন / সকল বাঁধন যবে ছিন্ন”। এই গানেরই শেষে পাই : ” তোমার পরশ আসে কখন কে জানে “।দ্বিতীয় গানটি : ” সারা পথের ক্লান্তি আমার ,সারাদিনের তৃষা/ কেমন করে মেটাব যে খুঁজে না পাই দিশা”।গানের শেষে কবির আকুল প্রার্থনা : ” হাতখানি ওই বাড়িয়ে আনো,দাও গো আমার হাতে”।
দ্বিতীয় শ্রেণীর উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যায় এমন গানগুলির একটি : ” যে পথ দিয়ে যেতেছিলাম
ভুলিয়ে দিল তারে”, তার পর এই গানেই এসেছে কবির দ্বিধার প্রকাশ : ” বুঝি – বা এই বজ্ররবে নূতন পথের বার্তা কবে /কোন পুরীতে গিয়ে তবে প্রভাত হবে রাতি”।
তৃতীয় শ্রেণীর উদাহরণ হিসাবে গভীর অন্ধকারে দিশাহারা, নৈরাশ্যে ভেঙে পড়া মনের মর্মস্পর্শী প্রকাশ পাওয়া যায় কবির বেশ কয়েকটি গানে ,যেমন ” অশ্রুভরা বেদনা দিকে দিকে জাগে “।ঈশ্বর বিরহে ব্যাকুল মানবিক পৃথিবীর এই বেদনা সর্বগ্রাসী।
“এবার ফিরাও মোরে” রচনার পর থেকেই ,কবির নিজের কথায় , ” … বিরাট চিত্তের সঙ্গে মানব চিত্তের ঘাত প্রতিঘাতের কথা ক্ষণে ক্ষণে আমার কবিতার মধ্যে দেখা দিতে লাগল। দুইয়ের এই সংঘাত যে কেবল আরামের কেবল মাধুর্যের তাহা নয়। অশেষের দিক থেকে যে আহ্বান এসে পৌঁছায় সে তো বাঁশির ললিত সুরে নয়। এই আহ্বান তো শক্তিকেই আহ্বান ; কর্মক্ষেত্রেই এর ডাক ; রস সম্ভোগের কুঞ্জ কাননে নয় ।…এমনি করে ক্রমে ক্রমে জীবনের মধ্যে ধর্মকে স্পষ্ট করে স্বীকার করবার অবস্থা এসে পৌছল। যতই এটা এগিয়ে চলল ততই পূর্ব জীবনের সঙ্গে আসন্ন জীবনের একটা বিচ্ছেদ দেখা দিতে লাগল। অনন্ত আকাশে বিশ্ব প্রকৃতির যে শান্তিময় মাধুর্য আসনটা পাতা ছিল সেটাকে হঠাৎ ছিন্ন – বিচ্ছিন্ন করে বিরোধ বিক্ষুব্ধ মানবলোকে রুদ্রবেশে কি দেখা দিল। এখন থেকে দ্বন্দ্বের দুঃখ , বিপ্লবের আলোড়ন।”
মহা যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় কবি লিখলেন : ” য়ুরোপের দম্ভ ও লোভ সর্ব জাতির কল্যাণ যাত্রার পথ রুদ্ধ করে জগদ্দল পাথরের মতো সবার বুকের উপর চেপে থাকবে – এটা কখনো বিধাতার অভিপ্রায় হতে পারে না।” উৎপীড়িত মানবের প্রতি সমবেদনা কবির সৃষ্টিকে বইয়ে দিল অন্য খাতে – পাল্টে গেল তাঁর ধর্মচিন্তা, ঈশ্বর চিন্তা, জীবন বোধ এবং কাব্য রচনার ধারা। এই পরিবর্তনের চিহ্ন পাওয়া যায় কবির বলাকা এবং শেষ পর্বের অন্যান্য কাব্যে। কবি বলেছিলেন,:”সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা করে পৃথিবীটা বস্তুত যেমন , তাকে তেমনি ক ‘রেই জানবার সাহস থাকা চাই। ছাঁট দেওয়া সত্য এবং ঘর গড়া সামঞ্জস্যের প্রতি আমার কোন লোভ নেই।”
জীবনের এই পর্বে কবি উপলব্ধি করলেন যে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে মানুষের পরিত্রাণের কোন অঙ্গীকার সুপ্ত থাকে না। যাঁরা ভগবদবিশ্বাসী তাঁদের মধ্যে ব্যতিক্রমী দু এক জন এইরকম মুহূর্তে উপলব্ধি করেন যে ভগবান শুধু ভক্তের খেলাঘরেই আবদ্ধ থাকেন না ,তাঁর লীলা বৃহৎ ইতিহাসের উত্থান – পতনেও তরঙ্গিত।কবি ছিলেন সেই ব্যতিক্রমীদের মধ্যে অগ্রগণ্য।

“বীথিকা ” র ” দুর্ভাগিনী ” কবিতায় তিনি লিখলেন : ” সর্ব শূন্যতার ধারে/জীবনের পোড়ো ঘরে অবরুদ্ধ দ্বারে / দাও নাড়া ;/ভিতরে কে দিবে সাড়া।/মূর্ছাতুর আঁধারের উঠিছে নিঃশ্বাস ,/ ভাঙ্গা বিশ্বে পড়ে আছে / ভেঙে – পড়া বিপুল বিশ্বাস ।”

কিন্তু কবি জীবনের এই পর্যায়েও বিধাতার অস্তিত্ব সম্পর্কে আশাহত নন। তাঁর শেষ পর্যায়ের রচনাতেও নেই বিতৃষ্ণা , প্রত্যাখ্যান বা বিদ্রুপের সুর। এই পর্যায়ে কবি “নিখিলভারধারণ বিশ্ববিধাতা ” বা ” পরাণসখা বন্ধু ” কে প্রতিস্থাপিত করেছেন অন্য দুই দেবতা দিয়ে –
” সকল মন্দিরের বাহিরে / আমার পূজা আজ সমাপ্ত হল/দেবলোক থেকে মানব লোকে/আকাশে জ্যোতির্ময় পুরুষে /আর মনের মানুষে /আমার অন্তরতম আনন্দে
( পত্রপুট ,১৫ সংখ্যক কবিতা )

তীব্র ও জড় প্রকৃতির সর্বগ্রাসী বিভীষিকা , উগ্র জাতীয়তাবাদের আস্ফালন ,ও ফ্যাসিবাদী জিঘাংসার যুগপৎ আক্রমণে যখন সমগ্র পৃথিবী বিপন্ন তখনও কবি আশা করছেন ” তিমির বিদারী উদার অভ্যুদয় “।
“নারীঘাতী শিশুঘাতী হিংস্র বীভৎসা” র পরেও তিনি নবজাতকের জয়ধ্বনি কবিতায় লিখছেন :
” অপূর্ণ শক্তির এই বিকৃতির
সহস্র লক্ষ্মণ
দেখিয়াছি চারিদিকে সারাক্ষণ ,
চিরন্তন মানবের মহিমারে তবু
উপহাস করি নাই কভু।”
তিনি চেয়ে আছেন অনাগত কালের দিকে যখন মানুষের উত্তরণ ঘটবে দেবত্বে , জন্ম নেবেন সেই চির মানব।
উপনিষদের ভাষায় ঈশ্বর প্রতিষ্ঠিত নিজ মহিমায় – স্বে মহিম্নি। কবির ভাষায় মানুষের সত্য প্রতিষ্ঠা তার মহিমায়, তার পূর্ণতায়; ক্রমোন্নতি ও আত্মশুদ্ধির পথে মানুষ হয়ে ওঠে দেব – প্রতিম। কবি বলেছেন মানুষের দেবতার শ্রেষ্ঠতার বিচার মানুষেরই পূর্ণতার আদর্শ থেকে ( মানুষের ধর্ম)। তিনি আরো বলেছেন : ” জীব ও মানব কেবলই তার অহং আবরণ মোচন করে আপনাকে উপলব্ধি করতে চাইছে বিশ্বমানবে। বস্তুত সমগ্র পৃথিবীর অভিব্যক্তি আপন সত্যকে খুঁজছে। সেইখানে, এই বিশ্ব প্রকৃতির চরম সত্য সেই মহামানবে।”
” রবীন্দ্রনাথ নিজেও নিজের অতীত ভূমিকার থেকে বারংবার পথ কেটে অগ্রসর হয়ে যাচ্ছেন সৃষ্টির সত্য কি তাই জানবার জন্য সেই মহৎ সত্যের উদ্দেশ্যে।… ঔপনিষদিক সত্য – যা বলে বাককে জানতে চেষ্টা করবে না কিন্তু বক্তাকে জানতে চেষ্টা করবে, রূপকে নয় রূপবিৎকে , শব্দকে নয় শ্রোতাকে, কর্মকে নয় কর্তাকে, আনন্দরতি বা প্রজাতিকে জানতে চেষ্টা করবে না (কিন্তু জানতে চেষ্টা কর) তাদের বিজ্ঞাতাকে। এ সত্য গভীর … রবীন্দ্র কাব্যে এর প্রতিফলন রয়েছে।…তাঁর কাব্য পথ থেকে পথান্তরে চলেছে অপরূপ ফসল ফলিয়ে, কোন বিশিষ্ট বা মহৎ প্রাচীর তাকে বিরতি দিতে পারে না।” (রবীন্দ্রনাথ, অপ্রকাশিত জীবনানন্দ দাশ ,জন্মশতবর্ষ স্মরণ সংখ্যা, বিভাব)।
কবি তাঁর ঈশ্বরকে খুঁজে পেয়েছিলেন মানুষের মধ্যেই ,সেই ঘোষণাই তাঁর অন্তিম বিশ্বাস।

তথ্য ঋণ :
১. রবীন্দ্র রচনাবলী
২. পশ্চিমবঙ্গ,রবীন্দ্র সংখ্যা ১৪০২
৩. তদেব ,ওই , ১৪০৫ ,
৪. পথের শেষ কোথায়, আবু সায়ীদ আইয়ুব।
৫. আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ, আবু সায়ীদ আইয়ুব।
৬. রবীন্দ্র সরণি , প্রমথনাথ বিশী ,
৭. জীবনানন্দ বিশেষ শতবর্ষ সংখ্যা, বিভাব ।


সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের পূর্ব রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, আগস্ট ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]