শব্দ হয়ে আসার ছিল যার,
কল্প উঠোন পেরিয়ে বাটের বটে
হরিৎ ছুঁয়ে বাঁশির ওষ্ঠাঘাত,
সমর্পণ? না মৃত্যু অকপটে?
শেষ এসেছ সে বার তুষারঝড়ে,
অগ্নিহোত্রী হয়ে দহন রাতে
আমি তখন বৌদ্ধ ভিক্ষুণী,
পথের দেখা-ভিক্ষাপাত্র হাতে
বৃক্ষছায়ায় আসন দিলাম পেতে
ভিক্ষালব্ধ অন্নে পায়েস রাঁধি.
কৃচ্ছসাধন, অনেক হল প্রভু!
জ্ঞান, সে তো নয় নিয়ম অনুরাগী.
কৃপা যখন আপনি আসে দ্বারে
তখন ঘোচে আলোকদর্শী ঘর
অন্বেষণের বোধিবৃক্ষতলে
শ্রমণ, ছিঁড়ুক মায়ার পিঞ্জর…

ধর্মাবতার, বিশ্বাস করুন,
আমি কবিতা লিখতে জানিনা, লিখিনি কখনো।

মধ্যপ্রাচ্যের পিচকালো আকাশে
টুপটাপ তারা খসে যাওয়া দেখে
আমার কখনো কোনো মধ্যরাত্রের
যুদ্ধাতঙ্ক বা কাব্যবিলাস জাগে না।
শব্দমৈথুনের মায়াবী আলোয় নিজের
বুকের মধ্যে শব্দের মিসাইল বা
কথার বোমাবর্ষণ বোধ হয়না।

কারন, আমি ঘুমাই।
থৈহারা খেটে খাওয়া মানুষের ঘুম।
প্রসাধনী দুঃখটুঃখ প্রেমটেম
কোনোকালে আমার আত্মীয় ছিলো না।
আমার একমাত্র বৈমাত্রেয় ভাইয়ের নাম খিদে।
মানে,
আমার কোনো প্রভঞ্জন অপারগতা ছিলো না
যে আমার দৈনন্দিন কাজকর্মে হাত লাগাবে।

আমি কেবল রান্না করতে পারি
বিষঝাল তরকারি
পাশবিক আনন্দে পশুমাংস রান্না ক’রে
নুনে ঝালে রেওয়াজি ক’রে তোলাই
আমার কাজ।
তারপর যে কতোবার হাত ধুই
একলা মধ্যরাতে উঠে স্নান করি
ঠাকুরঘরে গিয়ে জড়িয়ে ধরি
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া
আমার মায়ের জপের মালা –
এ সব খবর কেউ রাখে না

শুধু সবাই কবিতা লিখতে বলে
ঘুমপাড়ানি গানের মতো
গোল-গোল কাব্য-কাব্য লেখা

কিন্তু বিশ্বাস করুন ধর্মাবতার
আমি জানিনা কবিতা লিখতে
সত্যিই লিখতে পারিনা
দৈত্যপুরী কিম্বা দুঃখবিতানের কাব্য।
আমি কেবল গদ্যই লিখেছি
লিখে চলেছি রোজদিন
নিষ্ফল শুকনো জমির মতো
নিঃশব্দ ধ্বংসযুদ্ধের মতো
শুধুই সংখ্যাতত্ত্বের সংশ্লেষ।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[পরম্পরা ওয়েবজিন, এপ্রিল ২৬, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]