
ঠাঁই

বাড়ছে শহর। তার আগ্রাসী মোহিনীরূপ নিয়ে সন্তর্পনে গ্রাস করছে গ্রাম বনাঞ্চল মফস্বল। সভ্যতা সৃষ্টির সময় থেকেই এই আগ্রাসন চলে আসছে। এ কী মানুষের জয়ধ্বজা নাকি ধ্বংসপথ?
এমনই একটি শহর লাগোয়া গ্রামে একের পর এক তৈরি হচ্ছে আধুনিক বিলাসবহুল আবাসন, বেশ কয়েক একর জমি পাঁচিলে ঘেরা, তাকালেই জমির আদিরূপ এখনও চোখে পড়ে। কোথাও আলপথ আছে, ইতস্ততঃ একটা দুটো পুকুর। এলোমেলো বেশকিছু তাল নারকেল সুপুরি। ফলবতী আম কাঁঠালও দেখা যায়।
[Bengali Short Story Love]

বড় রাস্তা থেকে, নির্মীয়মান একটি রাস্তা ঘুরে একটি বিশাল ভবিষ্যত আবাসনের ফটক। সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকর্ষণ করার জন্য, এই অংশটি বেশ গুছিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সুদৃশ ফটক পেরিয়ে, সবুজ ঘাসের গালচে মোড়া বাগান, সেখানে রকমারি ফুলগাছ সাজানো। একদিকে গাড়ি-রাখার জায়গা। সার সার নানাবিধ ব্র্যান্ডের গাড়ি রয়েছে। বোঝা যায়, সম্ভাব্য ক্রেতাদের ভালই সমাগম হচ্ছে।
নিজের দামি সাদা গাড়িটা পার্ক করে মৃণাল। সঙ্গে স্ত্রী মিতিল। পার্কিং-লট থেকে বেরিয়ে আসতেই ধোপদুরস্ত পোশাক পরিহিত সুশান্ত সামনে এসে দাঁড়ায়, “ওয়েলকাম টু মাই-হোম প্রজেক্ট স্যার! আপনার সঙ্গে আমারই কথা হয়েছিল। আসুন ম্যাম।”
প্রহরী সসম্ভ্রমে অভিবাদন জানিয়ে দরজা খুলে দেয়। কাচের বড় ঘেরাটোপে ঢুকতেই অভিজাত হাল্কা মিষ্টি গন্ধে মনটা স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে। সুশান্ত ওদেরকে রিসেপশানের দিকে নিয়ে যায়, “একটা ছোট ফর্মালিটি স্যার। এই ফর্মটা ফিলাপ করে দিন।”
বড় ডেস্কের ওপারে দুতিন জন সুবেশা তরুণী আগত ফ্ল্যাট-দর্শনার্থীদের সইসাবুদ করাতে ব্যস্ত। একজন পাঁচতারা হোটেলের ওয়েটারের পোশাক পরিহিত অল্পবয়সী ছেলে একটি মেরুন কাপড়ে ঢাকা থালায় কয়েকটি ছোট ছোট জলের বোতল সামনে এনে বলে, “চা কফি কী দেব, ম্যাম?”
মিতিল খানিকটা বিস্ময়ের চোখে চারিদিক দেখছিল। আধুনিকতার সমস্ত উপকরণ দিয়ে যথাযথ ভাবে সাজানো। ছাদ থেকে নেমে এসেছে বড় ঝাড়বাতি। বিশাল হলঘরে সাজানো সোফা, বাদামি রঙের চকচকে কাঠের আসবাব, দেওয়ালে দেওয়ালে মানাসই দৃষ্টিনন্দন তৈলচিত্র।
“আসুন ম্যাম, এই ঘরে বসুন।”
মিতিলের সম্বিত ফেরে। মৃণালের সই করা হয়ে গিয়েছে। ওরা দুজনে একটা ছোট ঘরে প্রবেশ করে। ঘরটা যেন একটা ছোট সিনামা হল! সামনে বিরাট বড় পর্দা, গমগম করছে শব্দ আর সঙ্গীত। আরাম করে আরও কয়েকটি দম্পতির সঙ্গে ওরাও বসল। পর্দায় সিনামার মতো ফুটে উঠছে ভবিষ্যতের আবাসনের চলমান চিত্র! বিশাল বিশাল বাড়ি! তিরিশ চল্লিশ তলা তো হবেই। ক্যামেরা ঘুরছে চারিদিকে। আধুনিক জলপরীর দল সাঁতার কাটছে সুইমিংপুলে। খেলাঘরে বিলিয়ার্ড খেলছে পুরুষরা। মিতিল মৃণালকে ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করে, “তুমি বিলিয়ার্ড খেলতে পারো?”
মৃণাল মন দিয়ে ছবি দেখছে, মৃদু হাসি দিয়ে উত্তর সারে, কথা বলে না। মিতিল আবার বলে, “আমাকেও বিকিনি পরতে হবে নাকি?”
“গাঁইয়ার মতো কথা বলো না। সুইমিংপুলে কি গামছা পরে নামবে?”
ছবিটি চলতে থাকে। কেউ ঘুড়ি ওড়াচ্ছে, ঘুড়ির সঙ্গে ক্যামেরার দৃষ্টি চলে যায় অনেক ওপরে, কোন ব্যলকনিতে পানীয়র গ্লাস হাতে নিয়ে কেউ কেউ বসে। পার্কে বাচ্চারা খেলছে। পারাম্বুলেটর ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে অল্পবয়সী মায়েরা। বৃদ্ধরা একদিকে গল্পগুজব করছে। জিম করছে তরুণ তরুণী। সুখের আস্তরণে কোথাও এতটুকু ফাঁক নেই।
স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবিটি শেষ হলে, ওরা বেরিয়ে আসে। সুশান্ত বাইরেই অপেক্ষা করছিল।
সামনে প্রায় পঞ্চাশ ফুট লম্বা একটা বিরাট টেবিলে, গোটা প্রজেক্টের একটা মডেল বানিয়ে রাখা। মিতিলের ভাল লাগে, বেশ ঝুলন সাজানো মনে হয়। পার্ক, খেলার মাঠ, সুইমিংপুল, বাগান ঘিরে দৈত্যাকার টাওয়ারগুলো দাঁড়িয়ে। তাদের আলোকিত জানালার ভিতর দিয়ে উপচে পড়া সুখ অনুভূত হয়। পাঁচতলা পার্কিং-লট, তার ওপরে বাগান বিছানো আছে। মিতিল আশ্চর্য হয়ে বলে, “অমন ছদের ওপর বাগান কেন?”
সুশান্ত বলে, “ম্যাম, এখন এমনই ট্রেন্ড। স্পেস ইউটিলাইজেশন। জায়গাটি ব্যবহার হল, আবার সবুজায়নও হল। আমরা সত্তর শতাংশ ওপেন স্পেস, প্রকৃতি এবং মানুষের সামঞ্জস্যপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী।”
মিতিল উত্তরবঙ্গের মানুষ, ওদের লোকালয় লাগোয়া বনাঞ্চলে স্বাভাবিক প্রকৃতির ছোঁয়া, এমন সাজিয়ে তোলা কৃত্রিম সবুজ দেখে কেমন ভয়ভয় করে।
[Bengali Short Story Love]

“এবার এই ঘরে আসুন” সুশান্ত হাত দেখিয়ে ইঙ্গিত করে। পরপর ছোট ছোট কাচের ঘর। সেখানে একেকটি পরিবার বসে। তাদের সামনের দেওয়ালে একটি করে টিভি ঝোলানো, সেখানে আবাসনের ম্যাপ, ফ্লোর প্ল্যান, বিশদ মূল্য ইত্যাদি বোঝানো চলছে। তেমনই একটি ঘরে ওরা বসতেই, সেই ওয়েটারের পোশাক পরা ছেলেটি ধোঁয়া ওঠা দুটি কফিমগ আর একটা প্লেটে কিছু কুকি এনে রাখল। কফির গন্ধে মিতিলের মন চনমন করে ওঠে।
সুশান্ত এবার আরেকজন মানুষকে নিয়ে আসে, লোকটি সুশান্তর ম্যানেজার। ধোপদুরস্ত পোশাক, টাই, টাইপিন, ভাল পারফিউমের ঘ্রাণে বেশ সম্ভ্রম আদায় করে।
তারপর দুজনে মিলে সমস্ত প্রজেক্টের গুণকীর্তন শুরু করে। চল্লিশ তলার বাড়ি, সঙ্গে আনুষাঙ্গিক সমস্তকিছু। মৃণাল মন দিয়ে শুনছে, কিন্তু মিতিলের বারবার মনে হচ্ছে, দাম কখন বলবে।
লোকটি বলে চলে, “সব মিলেয়ে মাত্র ওয়ান পয়েন্ট এইট সিআর থেকে শুরু। এই দিকের অন্য সব প্রজেক্টের সঙ্গে তুলনা করে দেখবেন, এই প্রিমিয়াম প্রপার্টি আমরা সবচেয়ে রিজনবল প্রাইসে দিচ্ছি।”
মিতিল মৃণালকে সিআর মানে জিজ্ঞেস করতে চায়, তখনই স্ক্রিনে ক্রোর কথাটা নজরে পড়ে শিউরে ওঠে! বলে কী? দু কোটি টাকা? এত টাকা মৃণাল কোথা থেকে জোগাড় করবে?
লোকটি আরও অনেক কিছু বলে চলেছে। মিতিলের মথায় ঢোকে না। খানিক পরে, এই ঘরের পালা শেষ হয়।
সুশান্ত ওদের নিয়ে গিয়ে দুতিনটে মডেল ফ্ল্যাট দেখায়। বৈভবে বৈচিত্র্যে সবক’টিই অনবদ্য! বসার ঘর, শোবার ঘর, রান্নাঘর, চানঘর, ব্যালকনি, স্টোররুম, গেস্টরুম আরও অনেককিছু। খাট পালঙ্ক বিছানা, টিভি, ডাইনিং টেবিল, উনোন, বাসন কোসন সব এমন করে সাজানো, যেন সংসার পাতাই রয়েছে, শুরু করলেই হয়!
[Bengali Short Story Love]

সুশান্ত বলে, “চলুন বাকি প্রজেক্ট ঘুরে দেখি।”
এবার ওরা লিফ্ট করে চারপাঁচ তলা উঠে একটা প্রশস্ত ছাদের মতো জায়গাতে পৌঁছয়। সামনে বিরাট বিরাট যন্ত্রদানবের কাজ চলছে। মাটি কেটে ইমারত তৈরি হচ্ছে। সিমেন্ট, বালি, লোহার রড সব মিলিয়ে হুলুস্থুল চলছে। সুশান্ত আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করে দেখাতে থাকে, “ওই দূরে, সুইমিংপুল হবে, এইদিকটায় পার্ক, ওদিকে একটা ন্যাচারাল ওয়াটার বডি, ওটা ল্যান্ডস্কেপিং করা হবে। আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। ওই ওপরে আরেকটা স্কাই ওয়াক আর বাগান।”
মিতিল বলে ওঠে, “ব্যবিলনের শূন্যোদ্যান!”
সুশান্ত ঘাবড়ে যায়, “শূন্য কেন হবে? অনেক গাছপালা, বসার জায়গা, দৌড়নোর ট্র্যাক।”
“সবাই এখানে দৌড়তেই আসে।”
“ম্যাম?”
মিতিল একটা স্নিগ্ধ হাসিতে কথা শেষ করে। মৃণাল কি কিছু ভাবছে? মিতিল ওর কাছে গিয়ে বলে, “কী ভাবছো? এত টাকা কী করে পাবে?”
মৃণাল বলে, “আরে! ব্যাঙ্ক মুখিয়ে আছে দেবার জন্য!”
“ব্যাঙ্ককে তো শুধতে হবে, এত ই-এম-আই কী করে দেবে? এখনই গাড়ির ই-এম-আই চলছে।”
“আরে চিন্তা করছো কেন? এটুকু না হলে চলবে? আমার জুনিয়র দেবেন্দ্র পর্যন্ত এই এলাকায় ফ্ল্যাট নিয়েছে। একটা মান সম্মানের ব্যাপার আছে।”
“ফ্ল্যাট না হলে, সম্মান থাকবে না?”
“ওভাবে কেন ভাবছো? এটা তো একটা স্ট্যাটাস সিম্বল। তুমি কি প্ল্যাটফর্মে রাত কাটানোর কথা ভাবতে পারো?”
মিতিল হেসে ফেলে, “সেবারে চেন্নাইতে যাওয়ার সময় আমাদের ট্রেন ঢুকলো রাত একটায়। সে রাতে কিন্তু আমরা প্ল্যাটফর্মেই ছিলাম।”
“কীসের সঙ্গে কী? আমি বলছিলাম যে কোন রকম মাথা গোঁজার ঠাঁই হলে কি চলে? বাড়িতে গেস্ট আসবে? বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন এলে থাকতে দেবে কোথায়? তার জন্য মিনিমাম চার কামরার ঘর প্রয়োজন।”
“সত্যিকারের বন্ধু হলে সোফাতেও শুতে পারে। না হয় আমি সোফাতে শোব, তোমরা বেডরুমে থেকো।”
“তারপর আমাদের তো ছেলেমেয়েও হবে? তাদেরও জায়গা চাই।” ছেলেমেয়ের কথায় মিতিল একটু যেন লজ্জারুণ হল, মৃণাল হাসে, মিতিলের মধ্যে কোথাও একটা রাস্টিক সরলতা আছে, সেটা ওর ভাল লাগে। এই পরিবেশে দাঁড়িয়ে, ওকে একটা চুমু খেতে ইচ্ছে করে। সেটাকে দমিয়ে একটা সিগারেট বার করে ধরায়।
সুশান্ত ছেলেটি একটু তফাতে ছিল। কিছু হয়তো কানে গেছে, বলে ওঠে, “এটা কিন্তু প্রিমিয়াম প্রপার্টি, সোসাইটিতে আপনার দাম বেড়ে যাবে। সবাই কেমন ঈর্ষার চোখে আপনাকে দেখবে।”
মিতিল বলে, “আমি একটু নিচে নেমে দেখতে পারি?”
সুশান্ত চায়, সম্ভাব্য গ্রাহকদের আগ্রহ জাগ্রত হোক, “হ্যাঁ নিশ্চয়ই, তবে ওই যে সব জায়গা কনসট্রাকশন চলছে, সেগুলো বাদ দিয়ে যাবেন। বাঁদিকটা তো পুরো ফাঁকা, সবে ফার্স্ট ফেজ-এর কাজ হচ্ছে। ওপাশটা যেতেই পারেন।” তারপর মৃণালের দিকে তাকিয়ে বলে, “আপনিও যাবেন স্যার?”
মৃণাল সিগারেট টেনে বলে, “না বাইরেটা বেশ গরম। আমি এটা শেষ করে ভেতরে এসি-তেই বসছি।”
মিতিল নিচে নেমে হাঁটতে শুরু করে, এবড়ো খেবড়ো জমিতে লাঙলের দাগ, কিছুকাল আগেও চাষ হয়েছে, বোঝা যায়। পুকুরের ওদিকে বেশ কিছু পাখি কিচিরমিচির করছে। কয়েকটা হাঁসও চরছে। একটা আমগাছে অনেক আম ঝুলে রয়েছে। তার নিচে ছায়াতে একটা ছোট্ট মতো কুঁড়েঘর। তার সামনে একজন বয়স্ক মানুষ, পরনে নিরাপত্তা রক্ষীর পোশাক, অন্যমনস্ক চোখে জলের দিকে তাকিয়ে।
মিতিল তার দিকে এগিয়ে যায়, “এই হাঁসগুলো কি এই প্রজেক্টের?”
রক্ষীটি ভ্রূ কুঁচকে তাকায়, “আপনি? এদিকে কেন?”
“আমরা ফ্ল্যাট দেখতে এসেছি। তাই একটু ঘুরে দেখছি।”
“এদিকে কিছু নাই। আপনি ভুল দিকে এসেছেন। সব কিছু ওইদিকে।” এই বলে, দূরে নির্মীয়মান অংশটির দিকে আঙুল তুলে দেখায়।
“আমার ওদিকটা দেখা হয়ে গেছে। আমার এদিকটা বেশি ভাল লাগছে বলে, এপাশে এসেছি।”
লোকটি যেন আরও একটু বিমর্ষ হয়ে যায়, “বেশি ভাল আপনার কাছে, সবার কাছে নয়।”
“মানে?”
“মানে কিছুই না। ওদিকটা মোটামুটি দাঁড়িয়ে গেলে, এদিকেও অমন দশা হবে। সব গুঁড়িয়ে যাবে। বড়বড় বিল্ডিং তৈরি হয়ে যাবে।”
“হাঁসগুলো?” মিতিল একটু দমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে।
লোকটি হাসে, সে হাসিতে কোন আলো নেই, কেমন কান্নার মতো মনে হয়, “মানুষ কি নিজেদের ছাড়া অন্য কারও কথা ভাবে? হাঁসেদের ঠাঁই নেই, পাখিদের, ফড়িংএর, পোকামাকড় কারোরই কোথাও ঠাঁই নেই। মানুষ সব কেড়ে নেবে।”
মিতিলের কথা যোগায় না। একটু চুপ করে বলে, “আপনার কাছে জল হবে?”
প্রজেক্টের বিশাল সেলস আপিসে জলের বোতল দিয়েছিল, সেগুলো ওখানেই ফেলে চলে এসেছে। লোকটি কুঁড়েঘরটির সামনে যায়। ঘরে ঢোকার মুখে একটা ছোট দরজাওয়ালা বাক্স, লোকটি সেটা দেখিয়ে বলে, “এটা হাঁসেদের” আর কুঁড়েঘরের দরজা দেখিয়ে বলে, “ওটা আপাততঃ আমার।” দুজনে কুঁড়ে ঘরটির ভেতর ঢোকে, মিতিল পিছনে। ফুলছাপ বেডকভার দিয়ে ঢাকা ছোট একটা তক্তপোষ। অন্যদিকে একটা ছোট গ্যাস ওভেন, কয়েকটা টুকিটাকি হাঁড়ি কড়াই থালা, সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা। দেওয়ালে দুর্গার ছবি দেওয়া শ্রীদুর্গা বস্ত্রালয়ের একটা বাংলা ক্যলেন্ডার ঝুলছে। এক পাশে একটা কুঁজো রাখা। একটা স্টিলের গ্লাসে একটু জল ঢেলে ধুয়ে নেয়, তারপর পুরোটা ভরে মিতিলের দিকে এগিয়ে দেয়। মিতিল বোঝে, রোদের মধ্যে এতটা হাঁটাহাঁটি করে, তার অনেক তেষ্টা পেয়েছিল। চোঁ করে এক ঢোঁকে সবটা শেষ করে। লোকটি জিজ্ঞেস করে, “আর দেবো?”
ঠোঁট মুছে মিতিল বলে, “না।” তারপর বলে, “আপনার ঘর খুব সুন্দর!”
“ঘর কোথায়? মাথা গোঁজার মতো একটু ঠাঁই।”
“তার বেশি কি কিছু লাগে? বাকিটা তো পৃথিবী সাজিয়ে রেখেছে বাইরে, যেমন হাঁসেদের, পাখিদের, ফড়িঙের।”
লোকটি একটু অবাক হয়ে মিতিলের দিকে তাকিয়ে থাকে। তখনই ওর ফোন বাজতে থাকে, মৃণাল ফোন করছে, “কোথায় গেলে? এসো। ফিরব তো?”
মিতিল বৃদ্ধের কাছ থেকে বিদায় নেয়। লোকটি মিতিলের ফিরে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে থাকে। বড়বড় নির্মাণ যন্ত্রের পিছনে সূর্য ঢলে পড়ছে। আজকের মতো পৃথিবী তার, দিনের পালা সাঙ্গ করতে চলেছে। আকাশ জুড়ে পাখিরা বাসা ফিরে চলেছে। পুকুর থেকে হাঁসগুলো উঠে আসছে। ডানা ঝাপটে শুকিয়ে নিচ্ছে পালক।

[লেখকের পরম্পরায় প্রকাশিত রচনা]
অন্যত্র প্রকাশিত কিছু গল্পঃ

আপনার লেখা গল্পগুলোর মধ্যে একটা স্বাভাবিক আকর্ষণ আছে। তাই পড়তে ভালো লাগল। তবে আপনি লেখালেখির সঙ্গেই technology তেও বেশ দড় হয়ে উঠেছেন দেখে ভাল লাগল। ভবিষ্যতের জন্য আমার অনেক শুভেচ্ছা রইল।
আপনি পড়ছেন জেনেই সুখ। ভাল থাকবেন।
পড়ে ভাল লাগল। আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে খুব মিল পেলাম।
লেখককে অনেক ধন্যবাদ।
মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
অনবদ্য ❤️❤️
অনেক ধন্যবাদ দাদা। ভাল থেকো।
ভাল লাগল।
অনেক ধন্যবাদ
খুব ভালো লেগেছে
অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।
Besh laglo porey
অনেক ধন্যবাদ। পড়ছো জেনেই সুখ।