
সেথো
এক
অভিরূপ কলেজ থেকে ফিরে ঘরে ঢুকতেই মা সৌদামিনীর চব্বিশ ঘণ্টার কাজের লোক বর্ষা তার ঘরে এসে জানালো, মা দাদাবাবুংকু ডাকুছন্তি, কিছি জরুরি কথা অছি।(১)
অভিরূপের বৌ ঊর্মিলা তার দিকে পিছন ফিরে আলমারিতে কি যেন করছিলো ।
ঘুরে গিয়ে স্বামীকে বললো, হ্যাঁ, বিকেল থেকে দুবার খোঁজ করেছেন তুমি ফিরেছো কি না। যাও, নীচে গিয়ে দেখা করে এসো । ইম্পরট্যান্ট কিছু বলার আছে নিশ্চয়ই ।
অভিরূপ বললো, মা কি নিজের ঘরে ?
বর্ষা তখনও দাঁড়িয়ে ছিলো, বললো, না, ঠাকুরঘরে । সন্ধ্যে হয়ে গেছে না ! এক্ষুনি আরতি হবে ।
অভিরূপ বললো, যা গিয়ে বল, বাইরের জামাকাপড় ছেড়ে তৈরি হয়ে আসছি ।
বর্ষা ঘাড় নেড়ে চলে গেলো ।
এ বাড়িতে ঠাকুরঘরের গুরুত্ব অসীম ।
বহু দেবদেবীর মূর্তি শোভিত সেই ঠাকুরঘর যেন এক ছোটখাটো মন্দিরের মডেল !
ধর্মপ্রাণা বিধবা সৌদামিনী দিনের বেশির ভাগ সময় সেই প্রশস্ত ঠাকুরঘরে তাঁর ঠাকুরদের সঙ্গেই থাকেন।
আর রাত্রে প্রায়ই তাঁরা স্বপ্নে তাঁদের প্রিয় ভক্তকে পালা করে দেখা দেন, বিভিন্ন আদেশও দেন।
সেসব আদেশ তড়িঘড়ি পালন করার জন্য সৌদামিনী অস্থির হয়ে ওঠেন, চারপাশের মানুষজনকে, বিশেষ করে একমাত্র ছেলে অভিরূপকে অস্থির করে তোলেন ।
এই যেমন বছর খানেক হলো, প্রভু জগন্নাথ এক স্বপ্নে সৌদামিনীকে আশীর্বাদ করে আদেশ করেছেন, প্রতি একাদশীর পুণ্যকালে সে যেন জলগ্রহণের আগে জগন্নাথধামে গিয়ে প্রভুকে দর্শন করে ।
এখন কটকের বাদামবাড়ি মহল্লা থেকে পুরীর জগন্নাথ মন্দির প্রায় নব্বই কিলোমিটার পথ !
ওদিকে একাদশীর দিন তো নিয়মমতো আসে, মাসে দুবার, কখনো বা তিনবার, বেশির ভাগ সময়েই সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে ।
অভিরূপের পক্ষে তো নিয়মিত ভাবে কলেজ কামাই করে মা-কে নিয়ে আপ ডাউন একশো আশি কিলোমিটার ড্রাইভ করা একেবারেই সম্ভব নয়।
কিন্তু মা-র স্বপ্নাদেশকে মান্য না করাটাকেও সে অত্যন্ত অনুচিত কাজ বলে মনে করে।
সেজন্য সে বিশ্বাসী ভালো ড্রাইভার ঠিক করে দিয়েছে ।
মাসের মধ্যে যে রকম একাদশীর তিথি পড়ে সে সেদিন ভোরবেলায় এসে বাড়ির গাড়িতে সৌদামিনীকে পুরীতে জগন্নাথ মন্দিরে নিয়ে যায়, বিকাল শেষ হওয়ার আগেই ফিরে আসে ।
মন্দিরের বেশ কিছু পাণ্ডা এখন সৌদামিনীর পরিচিত হয়ে গেছে, চেনা কোন একজনকে ঠিক পেয়ে যান তিনি।
দর্শন, পুজো, নাটমন্দিরে প্রসাদগ্রহণ, কোন পর্বেই তাঁর বেশি সময় ব্যয় হয় না ।
অভিরূপ এখনকার সময় আর সমাজের বিচারে বেশ মাতৃভক্ত ছেলে ।
কিশোর বয়সে তার বাবা চলে যাওয়ার পর সৌদামিনী তাকে বাবার অভাব কোনদিনই বুঝতে দেননি ।
স্বামীর ইনসিওরেন্স আর জমানো টাকায় ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন।
মেধাবী অভিরূপ স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ থেকে মাস্টার্স আর ডক্টরেট করে দেশে ফিরে তার বাবার আর নিজের ‘আলমা মাতের’ র্যাভেনশ ইউনিভারসিটীতে ফিজিক্সের অধ্যাপনা করছে ।
বাড়ির সম্পূর্ণ ধার্মিক পরিবেশ আর কোয়ান্টাম থিওরির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কাজে সে অতীব পারদর্শী !
আপাতত অভিরূপ নীচের তলায় ঘণ্টার আওয়াজ শুনে বুঝতে পারলো যে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গেছে ।
তাড়াতাড়ি স্নানপর্ব সেরে ধোয়া পাজামা পাঞ্জাবি পরে সে ঠাকুরঘরে ঢুকে জোড়হাত করে দাঁড়িয়ে পড়লো ।
আরতির শেষে প্রণাম করে সৌদামিনী ঘুরে উঠতে গিয়ে দেখলেন, দরজায় ছেলে দাঁড়িয়ে।
বললেন, আয় রুপু, ভেতরে আয়, প্রসাদ নিয়ে যা ।
এই বলে নৈবেদ্যের থালা থেকে তুলে অভিরূপের প্রসারিত হাতের ওপর ছোঁয়া বাঁচিয়ে আলগোছে ছানাপোড়ার একটা বড়ো টুকরো ফেলে দিলেন ।
অভিরূপ সামান্য অনুযোগের সুরে বললো, চান করে এসেছি মা, দেখেও বুঝতে পারো না !
-ঠিক অছি, ঠিক অছি, টিকে সাবধান রহিলে ক্ষতি নাহি।(২) এখন তাড়াতাড়ি চল তো আমার ঘরে, তোর সঙ্গে আমার ভীষণ জরুরী কথা আছে ।
-আবার কোন স্বপ্নাদেশ না কি, মা ? মন দিয়ে ছানাপোড়া খেতে খেতে অভিরূপ বললো ।
-ঠাকুরদেবতা নিয়ে ঠাট্টা করতে নেই রুপু । তোমার নিজের সংসার হয়েছে এখন, সাবধানে কথা বলো ।
-আরে ঠাট্টা কোথায় মা ! ইনোসেন্ট প্রশ্ন করলাম । আমি তো কেবল জানতে চাইছি। আদেশ হলে সে আদেশ মানার ব্যবস্থা তো আমাকেই করতে হবে।
- আমি সব বুঝি রে ! হ্যাঁ, ব্যবস্থা তো তোকেই করতে হবে, একটা পাকাপাকি ব্যবস্থা ! ঘরে চল, বলছি ।
দুই
র্যাভেনশ কলেজের পাকা চাকরিটা পেয়ে যাবার পর অভিরূপের বাবা বিশ্বেশ্বর পাণিগ্রাহী ভদ্রকের পৈত্রিক বাড়ি, জমিজমা সব বিক্রি করে কটকে চলে এসেছিলেন ।
বাদামবাড়ি কটকের এক পুরনো জমজমাট এরিয়া।
প্রদেশের সব জায়গায় যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ড এখানে রয়েছে, তাই জায়গাটা একটু ঘিঞ্জিও বটে।
বিশ্বেশ্বরের ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল, সামনে পেছনে কিছুটা জায়গাসমেত একটা একটেরে পুরনো দোতলা বাড়ি তিনি বাজারদরের থেকে সস্তায় পেয়ে গেলেন ।
বাড়িটাকে নিজের মনের মতো করে সাজিয়ে নিতে আরও কিছু খরচা করলেন বিশ্বেশ্বর ।
কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ভোগ করতে পারলেন না বেশিদিন ।
কলেজ থেকে এক দিন সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে বিশ্বেশ্বর বুকে প্রবল যন্ত্রণা অনুভব করলেন ।
স্ত্রী ডাক্তার ডাকার আগেই তাঁর হৃৎস্পন্দন থেমে গেলো।
ডাক্তার এসে বললেন ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু ।
সেইদিন থেকে সৌদামিনী নিজেকে আর কিশোর পুত্র অভিরূপকে জগন্নাথপ্রভুর জিম্মায় রেখেছেন।
মনকে শক্ত করে সংসারের হাল ধরেছেন, ছেলেকে বড়ো করেছেন ।
মেধাবী ছেলে অভিরূপ বাবার কলেজে পড়েছে, স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে গেছে, ডক্টরেট করে ফিরে এসেছে । ততদিনে তার বাবার আর নিজের সেই প্রিয় র্যাভেনশ কলেজ এক ইউনিভারসিটি হয়ে গেছে ।
সেখানেই সে সসম্মানে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হয়েছে ।
সৌদামিনী ছেলের বিয়ে দিয়েছেন, পুত্রবধূ ঊর্মিলা সুন্দরী, শিক্ষিতা, বুদ্ধিমতী এবং সৌদামিনী যেমনটা চেয়েছিলেন, গৃহকর্মনিপুণাও বটে !
চতুর্বর্ণাশ্রমে ঘোর বিশ্বাসী সৌদামিনীর বেশ কিছুদিন ধরে মনে হচ্ছে সংসারের কাছ থেকে তাঁর আর কিছু পাওয়ার নেই, কিছু দেওয়ারও নেই ।
তাই এই যথার্থ বয়সে তৃতীয় বর্ণ অনুসরণ করে বাণপ্রস্থ অবলম্বনই শ্রেয় ।
মনের কথাটা এযাবৎ মনেই রেখে দিয়েছিলেন সৌদামিনী, মুখে প্রকাশ করেননি ।
করলে একমাত্র পুত্র আর সুশীলা পুত্রবধূর কাছ থেকে যে প্রবল আপত্তি আসবে, সে ব্যাপারে সৌদামিনী একেবারে নিশ্চিত ছিলেন।
কিন্তু আজ দুপুরে ভাতঘুমের মধ্যে প্রভু জগন্নাথ এসে তাঁকে সেই কথাই বলে গেছেন, ‘সৌদামিনী এবার তোর সংসার ছাড়ার সময় এসেছে। এখন থেকে তুই কাশীতে বাস করে প্রতিদিন শুদ্ধমনে বিশ্বনাথের মধ্যে আমাকে দুবেলা দর্শন কর, তোর মোক্ষলাভ অনিবার্য ।‘
আকাট বর্ষাটা চায়ের জন্য তাঁকে ডাকাডাকি করে ঘুমটা ভাঙ্গিয়ে দিলো বলে সৌদামিনী প্রভুর আদেশটা বিস্তারিত জানবার সুযোগ পেলেন না !
-রুপু, তুই আমার কাশীতে থাকার ব্যবস্থা কর । আমি এখন থেকে বরাবর ওখানেই থাকবো । দুবেলা বাবা বিশ্বনাথের চরণ দর্শন করে মনে শান্তি আসবে ।
ভর সন্ধেবেলায় মা-র এই অদ্ভুত ও অভাবিত প্রস্তাবে অভিরূপ প্রায় হতবাক হয়ে গেলো ।
এক মুহূর্ত পরে সামলে নিয়ে বললো, সে কি মা, তুমি কাশী গিয়ে কেন থাকবে ! কি ব্যাপার, হঠাৎ কি হলো ? তোমার মনে আবার কিসের অশান্তি ! ঊর্মিলা কি তোমাকে কিছু বলেছে ? আমাকে বলো মা।
-বোকার মতো কথা বলিস না ! ছাত্র পড়াস কি করে ! সেরকম বৌ আমি ঘরে আনিনি !
- তাহলে ? হঠাৎ তোমার এরকম ভাবনার কারণ কি ? সাত-দশদিন নয় একেবারে বরাবরের জন্য কাশীবাস ! যদি কাশীতে বিশ্বনাথ দর্শন করে আসতে চাও তো বলো আমাকে, তাহলে না হয় আমরা সবাই মিলে…আমি তাহলে কলেজে দিন সাতেকের ছুটির অ্যাপলাই…
- সে আমি যখন ওখানে বরাবরের জন্য থাকবো, তোমরা আসতেই পারো । আমারও ভালো লাগবে ।
মা-র কথার ভাবেভঙ্গিতে অভিরূপ একই সঙ্গে বিচলিত আর দুর্ভাবনাগ্রস্ত হয়ে পড়ছিলো।
কারণ এই আপাতশান্ত মহিলার জেদের সঙ্গে তার ছোটবেলা থেকেই বিলক্ষণ পরিচয় আছে।
তার মুখের ভাব দেখে সৌদামিনী বোধহয় ছেলের মনে কি চলছে সেটা কিছুটা আন্দাজ করলেন।
বোঝানোর স্বরে তিনি নরম গলায় বললেন, রুপু, অনেকদিন ধরেই এই বাণপ্রস্থের ব্যাপারটা আমার মনের মধ্যে ঘুরছে রে ! মুখে তোদের কিছু বলিনি। তুই তো আমার কাছে শুনেছিস, আমার মা, মানে তোর দিদিমাও, সত্তরের পরে কাশীবাসী হয়েছিলেন, ওখানেই বাবা বিশ্বনাথের চরণে দেহ রেখেছিলেন। তুই এটা নিয়ে আর ভাবিস না । আজ কিছুক্ষণ আগে প্রভু জগন্নাথ আমাকে স্বপ্নে আদেশ করেছেন কাশীবাসী হওয়ার জন্যে। তাই তো আমি মনস্থির করে এখন তোকে বলছি আমার যাবার ব্যবস্থা করতে ।
অভিরূপ একথা শুনে মরিয়া হয়ে একটা চেষ্টা করলো, হালকা হেসে বললো, ওঃ ! দিবা স্বপ্ন ! মা, তুমি দুপুরের স্বপ্ন দেখে এতো বড়ো একটা সিদ্ধান্ত নেবে ? ভোরের স্বপ্ন হলেও না হয় ভাবতে পারা যেতো।
না, না, এসব কাশীবাসী হওয়ার আইডিয়া তুমি ছেড়ে দাও ।
সৌদামিনী সামান্য বিরক্তির সঙ্গে বললেন, আঃ ! জগৎপ্রভুর স্বপ্নাদেশ নিয়ে ঠাট্টা কোরো না রুপু। আমি এসব পছন্দ করি না । আমি যে কাশীবাসী হবো এটাই একেবারে নিশ্চিত। একা তো সেখানে গিয়ে থাকবো না । তুমি আমার জন্য সেথো-র ব্যবস্থা করো ।
তিন
-সেথো !
হ্যাঁ, সেথো ! আমার মা-ও সেথো নিয়েই কাশীবাশী হয়েছিলেন। আমি দেখেছিলাম সেই সেথোকে, একটা বাইশ চব্বিশ বছরের শক্তসমর্থ ছেলে, মা-র খুব খেয়াল রাখতো শুনেছি । দশ বছরের মতো মা-কে আগলে আগলে রেখেছিলো। আমার বড়দা নিয়ম করে তাকে প্রতি মাসে মানিঅর্ডার করতেন ।
-বুঝলাম মা । তোমার সাথে সাথে থাকবে, তাই সেথো ! শব্দটা তো আগে শুনিনি। সেথো, মানে তোমার সাথে কাশীবাসী হবার জন্য একটা শক্তসমর্থ উদ্যমহীন বেকার লোকের দরকার, যে কেবল মাসোহারা পেলেই খুশী হয়ে তোমার দেখাশোনা করার জন্য বাড়িঘর সংসার ছেড়ে কাশীতে গিয়ে থাকবে ! মা, এসব হয়তো ষাট সত্তর বছর আগে চলতো ! কিন্তু এখন কাঠবেকার অ্যাম্বিশনহীন ছেলেরাও নিজের জায়গা ছেড়ে, এই তো কটক থেকে কোরাপুট যেতে রাজি হয় না। কতো দেখছি ! তাও আবার যৎকিঞ্চিৎ মাসোহারার জন্য ! কদাপি না ! সুতরাং তুমি এইসব বাণপ্রস্থ-ত্রস্থ-র আইডিয়া ছাড়ো । আমাদের সঙ্গে এখানেই থাকো, রাতে নিয়মিত নার্ভ ঠাণ্ডা রাখার ওষুধ খাও। আমাদের ইউনিভারসিটির ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে তোমার জন্য নার্ভের ওষুধ এনে দেবো, নার্ভ ঠাণ্ডা থাকলে ঘুম গাঢ় হবে । আর গাঢ় ঘুমে স্বপ্ন কম দেখবে !
লম্বা বক্তৃতা করে অভিরূপ হেসে চেয়ার থেকে উঠে পড়লো ।
সৌদামিনীও পালঙ্ক থেকে নেমে পড়ে গম্ভীর গলায় বললেন, দেখ রুপু, এটা মোর শেষ কথা, মু যেমিতি হেলে বি কাশী যিবি।(৩) এখন তুমি যদি চাও তোমার মা, ভালভাবে, সুস্থ শরীরে, নিশ্চিন্তে কাশীতে বাস করুক, তাহলে তুমি আমার জন্য সেথো খুঁজে আনবে । আমি তার জন্য অপেক্ষা করবো । তোমার বাবার রেখে যাওয়া ফিক্সড ডিপোজিটের টাকার সুদ কাশীতে দুজনের জন্য যথেষ্ট হবে, তোমাকে আলাদা করে কোন খরচার ভার বইতে হবে না।
মা-র কথার শেষ বাক্যের ব্রহ্মাস্ত্রে অধীর হয়ে অভিরূপ বলে উঠলো, মা, টাকার কোন কথাই নয়। তুমি প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো । ঠিকমতো লোক, মানে ওই সেথো, না পেলে আমি তোমাকে একা ছাড়ি কি করে মা ?
সৌদামিনী ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, নিশ্চয়ই তাঁর ঠাকুরঘরের উদ্দেশ্যে ।
অভিরূপের কথায় ঘুরে দাঁড়িয়ে গিয়ে বললেন, আমি তোমার কথা বোঝার চেষ্টা করেছি । তুমি তোমার দিক থেকে ঠিক কথা বলছো। এবার তুমি আমার কথা বোঝার চেষ্টা করো, সেথো খুঁজে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করো।
সৌদামিনী ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন ।
অভিরূপ মায়ের গমনপথের দিকে তাকিয়ে হতাশ ভাবে হাতদুটো তুললো ।
তারপর মাথাটা দুদিকে নেড়ে সে-ও বেরিয়ে গেলো ।
সেই সন্ধ্যে থেকে বাড়ির আবহাওয়া বদলে গেলো।
সৌদামিনী সারাদিন চুপচাপ থাকেন, প্রিয় পুত্রবধূর সঙ্গেও বাক্যালাপ সীমিত ।
ছেলে মায়ের মুখোমুখি হতে চাইছে না।
কারণ দু-চারজন বন্ধুবান্ধব, যাদের কাছে ও খোঁজখবর করেছিলো, তারা সকলেই একবাক্যে বলেছে আজকের দিনে এরকম কাউকে পাওয়া প্রায় অসম্ভব ।
সবটা শুনে কেউ কেউ হাসাহাসি করেছে।
কেউ কেউ আবার পরামর্শও দিয়েছে মা-কে জোরদার কাউন্সেলিং করার জন্যে !
একদিন অভিরূপ ইউনিভারসিটির টিচার্স রুমে লাঞ্চের সময় মা-র ইচ্ছের কথাটা তুলতে কেমিস্ট্রির প্রবীণ অধ্যাপক বললেন, তাঁর বৃদ্ধা পিসিমাও সেথো-র ভরসায়ই প্রায় বারো বছর ব্রজভুমি বৃন্দাবনে কাটিয়েছিলেন। ভাগ্যক্রমে তাঁর বাবা একজনকে পেয়েছিলেন, তাঁদের গ্রামের খুবই দরিদ্র ঘর থেকে ছিল সেই লোকটা ।
তবে সে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগেকার কথা ।
এখন এরকম তো কাউকে পাওয়া মুশকিল হবে, বয়স্ক অধ্যাপক মন্তব্য করেছেন।
মুশকিল যে বেশ, সেটা তো মাসখানেকের মধ্যেই অভিরূপ ভালমতন বুঝে গেলো ।
উপায়ান্তর না দেখে অভিরূপ যেসব এজেন্সি থেকে বাড়িতে কাজের জন্য আয়া-টায়া সাপ্লাই দেয়, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললো ।
তারা সোজা বলে দিলো, এরকম কন্ডিশনে কোথাওই কোন বিশ্বাসী পুরুষ মানুষ পাওয়া যাবে না ।
এদিকে বাড়িতে সৌদামিনী নিয়ম করে পক্ষকালের মধ্যে অন্তত একবার স্ট্যাটাস জিজ্ঞাসা করছেন ছেলেকে।
নেগেটিভ উত্তর পেয়ে সোজা ঠাকুরঘরে প্রস্থান করছেন ।
মা-র কথা ভেবে অভিরূপও বেশ বিমর্ষ হয়ে রয়েছে।
চার
এরই মধ্যে এক শনিবারে অভিরূপের ছোটবেলার বন্ধু নবীন, নবীন মহান্তি, প্রায় এক যুগ পরে দেখা করতে এলো বন্ধুর সঙ্গে।
মাস্টার্স করার পর কয়েক বছর একটা বিখ্যাত মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানিতে ভালো চাকরি করতে করতে র্যাভেনশ কলেজের ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট নবীনের মাথায় দেশ সেবার ভুত চাপে !
চাকরি ছেড়ে দিয়ে এই কয় বছরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সে একটা বড়োসড়ো এনজিও গড়ে তুলেছে।
উড়িষ্যার প্রবল দারিদ্র্যভরা প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে সে কাজ করছে, দেশে বিদেশে অনেক ডোনার তার।
কথায় কথায় অভিরূপ মায়ের ইচ্ছের কথাটা নবীনকে জানালো।
গত দুমাস হন্যে হয়ে খোঁজার পরও তার বিফল হওয়ার কথাটা বিমর্ষমুখে বললো বন্ধুকে ।
-অভি, তোর এই প্রবলেমে মাসির জন্য ঠিকঠাক মানুষ, মানে ওই যে কি বলছিস…সেথো, হ্যাঁ ওই সেথো খোঁজার কাজে তোকে যদি কেউ যথার্থ সাহায্য করতে পারে সে হচ্ছি আমি ।
নবীন হাসতে হাসতে নিজের বুকে দুটো টোকা দিয়ে ঘোষণা করলো ।
-তুই হাসছিস ! এর পরের স্টেপে মা হয়তো খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিতে পারে। আমার জেদি মা-কে কিচ্ছু বিশ্বাস নেই, আগে অনেকবার এরকম করেছে, নিজের দাবি আদায় করার জন্য ।
- তার দরকার হবে না রে। তুই নিশ্চিন্ত থাক । মু তোর মুস্কিল আসান করি দিবি।(৪)
-কিন্তু কি ভাবে করবি সেটা অন্তত আমাকে একটু খুলে বল ভাই।
এবার নবীনের মুখ থেকে হাসি উধাও হলো।
ক্লিষ্টস্বরে সে বলতে থাকলো, এই কটক শহরে নিরাপদ ছাদ আর নিশ্চিন্ত মাসমাইনের আশ্রয়ে থেকে তোরা কালাহান্ডির দারিদ্র কল্পনা করতে পারবি না রে । দুবেলা পেটভরে ভাত খাওয়ার নিশ্চিন্ততা পেলে, তার বদলে ওরা যে কোন কাজ দুহাতে আঁকড়ে ধরতে পারে ! আর এ তো নিশ্চিন্ত আশ্রয় ! দুবেলা পেটভরে খাওয়া আর সঙ্গে কিছু হাতখরচও ! আমি তো এদের জীবনধারা, এদের অপরিসীম দারিদ্রকে কতো কাছ থেকে কতো দিন ধরে দেখছি রে ভাই। কালকে আমি ওই জেলায় যাবো । আট-দশদিন সেখানে থাকার প্রোগ্রাম আছে আমার । আমি নিশ্চিত যে একটা শক্তসমর্থ ইয়ং ছেলে আমি নিশ্চয়ই খুঁজে পাবো, যে বাড়ি ছেড়ে কাশীতে গিয়ে মাসির দেখাশোনা করতে পারবে । তবে একটা কথা । তুই যে টাকাটা এ ব্যাপারে খরচা বলে ধরে রেখেছিস, সেটা দুভাগে পাঠাতে হবে । একভাগ তোকে ছেলেটার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে, তার পরিবারের জন্য। বাকি অংশ তুই পাঠিয়ে দিবি কাশীতে । যার সঙ্গেই কথা বলি আমি, এই ভাবেই বলবো, আর রাজি হতে চাইলে ওরা এই অ্যারেঞ্জমেন্টেই রাজি হবে । বুঝতে পারলি ? তাহলে চান্স আছে ।
অভিরূপ অধীরভাবে বললো, সেটা হয়ে যাবে, ওটা কোন ব্যাপার নয় । কিন্তু সে ছেলেটা যে ঠিকভাবে মা-র যত্ন নেবে সেটা কি করে বুঝবো রে । যদি অবহেলা করে, মা-র যত্ন না নেয়, মা যদি অসুস্থ হয়ে কিছু যদি…প্রবল আশঙ্কার জেরে অভিরূপ মনের কথাটা আর শেষ করতে পারলো না।
নবীন আবার একটা বেদনার হাসি হাসলো।
তারপর বললো, বলতে নেই, প্রভু জগন্নাথ না করুন, মাসির যদি ভালমন্দ কিছু হয়ে যায়, তাহলে তো সেই যে, কি যেন শব্দটা বললি…হ্যাঁ সেথো… সেই সেথোর মাসে মাসে রোজগারটা যে বন্ধ হয়ে যাবে রে ভাই । একবার পুরো পরিবারের ভাতের ব্যবস্থা হয়ে গেলে কালাহান্ডির মানুষ কি সেটা কি আর ছাড়তে পারে ! একেবারেই পারে না ! তুই নিশ্চিন্ত থাক অভি। যা-কেই খুঁজে পাই না কেন সে তোর মা-র খুব ভালো করে সেবাযত্ন করবে ।
তারপর যেন স্বগতোক্তির মতো অস্ফুটে বললো, দুবেলা পেটপুরে ভাতের বদলে কোনো বৃদ্ধার সেবাযত্ন ? কালাহান্ডির দরিদ্রতম মানুষগুলোর কাছে এ তো বড়ো সোজা কাজ রে !
দশদিন পরই নবীনের ফোন ।
-অভি, তোর জন্যে সুসংবাদ ! মাসির জন্য একটা লোক পাওয়া গেছে রে ! ঠিক যেমনটা আমরা চাইছিলাম ঠিক সেরকম। বাবা মা আর এক ছেলের ছোট সংসার। ফিক্সড রোজগার প্রায় নেই । বাবা হাঁপানির জন্য কোন কাজ করতে পারে না । বাইশ তেইশ বছরের ছেলেটা ধান, ভুট্টা আর রাগির ক্ষেতে দিনমজুরি করে। সামান্য রোজগার। সে-ও বছরে কয়েক মাস । আমি ওদের সঙ্গে কথা বলেছি । তোর প্রস্তাবে অনন্তের বাবা, মা, অনন্ত, সবাই রাজি আছে । এখন তুই কি ভাবছিস সেটা বল ? ওদের সঙ্গে ফাইনাল কথা বলবো ?
-এ তো খুব ভালো খবর রে ! তুই আমার একটা বড়ো চিন্তা থেকে মুক্ত করলি ভাই ! তুই যা বলছিস সব ঠিক-ই তো মনে হচ্ছে । ছেলেটার নাম বুঝি অনন্ত ?
-হ্যাঁ, অনন্ত, অনন্ত পাসি।
-পাসি ? ওহ ! পাসি মানে তো…
-হ্যাঁ…পাসি ! কেন, তাতে কি হলো ?
-না, নবীন, পাসি মানে তো দলিত ! তাই, না ?
-হ্যাঁ । দলিত-ই তো !
-নাহ রে নবীন ! হবে না ! মা দলিত ছেলেকে তার সেথো করতে কিছুতেই চাইবে না রে ! আমার ঘোর ব্রাহ্মণী মা-কে তো আমি ভালো চিনি । বাইরের জামাকাপড়ে আমি-ই ঠাকুরঘরে ঢুকতে পারি না । এ হবে না রে নবীন ! ভেরী সরি রে ! তুই প্লিজ আর একটু দেখ ভাই । সেথোর জাতের খেয়ালটা রাখিস ।
-তুই মাসিকে একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টাটা অন্তত কর। দেখলাম তো এই কদিন ! আমাদের পছন্দসই লোক পাওয়া খুব মুশকিল হচ্ছে রে !
- লাভ নেই রে ! তবে তুই বলছিস যখন, আমি সুযোগ বুঝে কথাটা পাড়বো। আমাকে দিন তিনেক সময় দে।
পাঁচ
-কি রে রুপু, সেই যে তোর বন্ধু…নবীন, বলেছিলি সে লোকের খোঁজ করছে, কিছু খবর দিয়েছে ?
অভিরূপ ভাবলো, কঠিন কথাটা মা-র কাছে পাড়ার এই সুবর্ণ সুযোগ !
সে বললো, দিয়েছে তো, একটা ভালো লোকের খবরই দিয়েছে । শক্ত সমর্থ, ইয়ং, কালাহান্ডির লোক, বাড়িঘর ছেড়ে যেতেও চায় । কিন্তু তাকে দিয়ে হবে না । মানে, তোমার জন্য সে ঠিক নয় ।
- কেন রে ! সেই ছেলেটাকে এখানে ডেকে তো পাঠা। কথা-টথা বলি…কি রকম কাজ-টাজ পারবে…
অভিরূপ কিছুটা অধীর হয়ে বললো, সে অনন্ত ছেলেটা তোমার সব কাজ পারবে মা ! কিন্তু…
-কিন্তু কি রে ? আমি তো তোর কথা কিছুই বুঝতে পারছি না…সব কাজ যখন করতে রাজি…
অভিরূপ এবার মরীয়া হয়ে বলে উঠলো, মা, অনন্ত ছেলেটা জাতে পাসি, মানে দলিত, মা । তুমি কি দলিত সেথো-র সঙ্গে যাবে মা…থাকবে এক বাড়িতে ? তার হাত ধরে ধরে কাশীর গঙ্গার ঘাটের সিঁড়ি ভাঙবে মা ?
অভিরূপের গলার স্বরে হতাশার সুর স্পষ্ট বেজে উঠলো।
সৌদামিনী ছেলের কথা শুনে এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলেন…এই শেষ বয়সরে মোতে দলিত পিলার সেবা নবাকু হব ? মোতে শোষ লাগিলে পাণি গড়াই দব ? মোতে জর হেলে সে মোতে ছুঁইব, কপাড় রে পাণি পটি দব, ঔষধ খুআইব ?…(৫)
সৌদামিনী দৃঢ় গলায় বললেন, রুপু, নবীনকে বল, আরও খোঁজ করতে, ঠিক পেয়ে যাবে।
সে রাতে বাবা বিশ্বনাথ এলেন সৌদামিনীর স্বপ্নের পথ ধরে…কি রে সৌদামিনী, তুই এখনও আমার কাছে এলি না ! তোর ছোট্ট জীবনটায় আরও কতোগুলো নিষ্ফলা দিন কেটে গেলো বল তো ?
-বাবা, কি করবো আমি ! ছেলে তো একজন সেথো ছাড়া আমাকে যেতে দেবে না ! সে তো কতো খোঁজ করছে, কিছুতেই আমার মনের মতো লোক পাচ্ছি না । ঠিক লোক পেলেই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, আপনার চরণে আশ্রয় নেবো বাবা !
বিশ্বনাথ মৃদু হাসলেন, সে কি রে, আমি তো তোর জন্যে কতো বাছাই করে একজনকে জোগাড় করে দিলাম, তাকে তোর মনে ধরলো না ?
-ওই ছেলেটা ? অনন্ত পাসি ? বাবা, সে যে…
এবার বিশ্বনাথের অপার্থিব হাসি আরও বিস্তৃত হলো, ওই অনন্তের মধ্যেই তো আমি আছি রে, অবোধ মেয়ে ! সব অনন্তের মধ্যেই তো আমার অধিষ্ঠান…আমি নিজেই তো সেই-ই অনন্ত রে !
বাদামবাড়ির আকাশে তখন এক নতুন ভোরের লালিমা ফুটে উঠছে ।
এক অচেনা সোনা-ঝরানো আলো সৌদামিনীর শোয়ার ঘরে, খাটে, বিছানায় খেলা করছে ।
অতো ভোরে মায়ের ঘরে ডাক পেয়ে অবাক অভিরূপ চোখ মুছতে মুছতে এসে হাজির ।
-রুপু, তুই তোর বন্ধু নবীনকে আজই খবর পাঠিয়ে দে । আর যত তাড়াতাড়ি হয় আমার কাশী যাওয়ার ব্যবস্থা কর। অনেক দেরি হয়ে গেছে । বাপা রে, আউ দেরি ন করি ম সাঙ্গরে মোর সেথো অনন্ত কু পঠাইবার ব্যবস্থা কর।(৬)
স্তম্ভিত হতবাক অভিরূপ তার এই অচেনা মা-র দিকে বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইলো !
(১) – মা দাদাবাবুকে ডাকছে, কি জরুরি কথা আছে
(২) – ঠিক আছে, ঠিক আছে । সাবধানের মার নেই !
(৩)-এটা আমার শেষ কথা, আমি যেমন করেই হোক, কাশী যাবো
(৪)-আমি তোর সমস্যার সমাধান করে দেবো
(৫)-এই শেষ বয়সে আমাকে শেষে দলিত ছেলের সেবা নিতে হবে…আমার তেষ্টা পেলে সে আমাকে জল গড়িয়ে খাওয়াবে…আমার জ্বর হলে আমাকে ছোঁবে, কপালে জলপটি দেবে, ওষুধ খাওয়াবে…
(৬)- আর দেরি না করে আমার সঙ্গে আমার সেথো অনন্তরও যাবার ব্যবস্থা কর বাবা।


উড়িয়া ভাষাটা খুব সুন্দর লিখেছেন। ভালো লাগলো পড়ে।
ভাল লেগেছে।
ভালো লিখেছেন সরল ইচ্ছাপূরণের গল্প।
খুব ভাল লাগল ।
অচ্ছুৎদের নিয়ে পুনরায় বর্ণিত এক সুন্দর ও হৃদয়স্পর্শী কাহিনি।
মন্দ লাগলো না পড়ে। আর বাবা বিশ্বনাথের দয়ায় গপ্পোটা শেষও করেছো ভালো।
Good. Thoughtful story.
নীতিগত অবস্থান থেকে ভালো লিখেছেন
Excellent story…the best part is that ultimately the self interest prevail.
কি সুন্দর করে কত গভীর সামাজিক বার্তা জানিয়েছেন।খুব ভাল লাগল।
An excellent nice short story. Cast system must abolish from the society.
একট ট্রেন আছৈ, নামঅ বন্দ ভারতঅ আছি, হাওড়া ছাড়ু পুরী। বাপগো, কি জরু ধাঁইকিড়ি দৌড়য়! আপনার গল্পটাও সেই গতিতেই এগিয়েছে- স্থান কাল পাত্রের ভূগোল ছেড়ে। কালাহান্ডির দারিদ্র নিয়ে নানান পরিসরে নানান লেখাযোখা হয়েছে। কর্মজীবনে একবার এই কালাহান্ডির উপকন্ঠে ভবানীপাটনা নামক এক জনপদে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিল সহকারী অভিযন্তা ও কনিষ্ঠ অভিযন্তা। সাইট ভিসিটের পর কালাহান্ডির ঠিক পরেই একটা রেস্টুরেন্টে আমাকে মধ্যাহ্ণ ভোজন করান হয়েছিল। সেই রেস্টুরেন্টের ambience, menu এবং টেস্ট এখন মনে আছে। কটক, ভদ্রক, ছানাপোড়ার সংমিশ্রণে গল্পট ভলই আছিল
খুব দারুণ লেগেছে গল্প টা পরে।খুব সুন্দর 😊
খুব ভালো লাগলো । মানুষের জাত বড় নয়। সেবাই হল সব ।
An interesting look into a relatively unfamiliar aspect of present day society
বেশ ভালো লাগলো। একদিকে ভক্তি, সংস্কার, ও ধর্মান্ধতা — অন্যদিকে উদারতর মানবতাবোধ, এবং পরিশেষে এই ডায়ালেক্টিকের সমাধানে পাওয়া হেগেলীও সমন্বয়, গল্পটিতে যেন এক বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক মাত্রা এনে দিয়েছে।
শুধু এই সর্বাঙ্গসুন্দর লেখায় একটি যেন আপাতদৃষ্টিতে ‘ছিদ্র’ আছে। ‘বানপ্রস্থ’ তৃতীয় ‘বর্ণ’ নয়, এ হলো বৈদিক চতুরাশ্রম পর্যায়ের তৃতীয় পর্যায়। অবশ্যই লেখক এই অসাবধানতাজনিত প্রমাদ সংশোধন করে নিতে পারেন।
অভিজিৎ বসু
একটি গল্পে অনেক বার্তা। অনেক research কোরে যে information দিয়েছেন আমি ওড়িশা তে থেকেও জানতাম না । গল্পটা খুব সুন্দর হয়েছে ।
ভালো লেগেছে সেথো। বিশ্বাসযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সমাজের এগিয়ে যাবার গল্প।