
রিমঝিমের তিন বছর –26.06.25
As the days go by / as the weeks go by /
As the months go by /
The year goes around the Sun /
And Mehuli Turns 1 , 2, 3 …
ঘরের মাঝখানে একটা মোমবাতি প্রজ্জ্বলিত — তাকে কেন্দ্র করে ঘিরে বারোটি মাসের নাম লেখা শিকলির মতো কাগজ… এদের ঘিরে আমাদের রিমঝিম ( মেহুলী ) প্রদক্ষিণ রত, হাতে ধরা একটা গোলক (পৃথিবীর অবয়ব ) … বর্হিবৃত্তে প্রায় তিরিশ জন ফুলের শিশু গেয়ে চলেছে… Mehuli Turns 1 … Turns 2 … Turns 3
এই ছিল Mission Valley Motessory, Fremont, California তে নাতনী মেহুলীর Birthday walk এর চিত্র, আমরাও ছিলাম আমন্ত্রিত। একটা শিশুর জন্মদিন এত সুন্দর, আনন্দময়, শিক্ষামৃলক ও গভীর হতে পারে তা প্রথম দেখলাম।
রূপক অর্থে মেঝের ওপর মোমবাতি হলো সূর্য —গোলকটি ঘুরছে অর্থাৎ সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ঘোরে এবং একবার ঘুরে আসতে এক বছর লাগে…পৃথিবীর সঙ্গে সঙ্গে এক পাক ঘোরা Mehuli turns 1 … Teacher In charge সুন্দর স্নেহশীল কন্ঠে বলে চলছেন মেহুলীর প্রথম বছরের ইতিবৃত্ত, দেখাচ্ছেন ঐ সময়ের ছবি… এভাবেই মেহুলী Turns 2, Turns 3 … এখানেই শুনলাম ওর প্রিয় কমিক চরিত্র “ডাম্বো” র কথা, শুনলাম ওর প্রিয় দিদি ‘দিয়ার’ কথা, ছবি দেখলো সবাই … Teacher – মেহুলীর আধো আধো স্বরে কথোপকথন, বন্ধুদের হাসি…
Teacher আহ্বান করলেন বন্ধুদের… তোমরা চাইলে মেহুলীকে শুভেচ্ছা জানাও… অবাক কান্ড, কিছু বলতে বললেই আমার পা কাঁপে, অথচ সঙ্গে সঙ্গে পরপর হাত উঠলো… আমি বলবো, আমি বলবো… ওরা নিজেদের মতো আধো আধো স্বরে কখনো পুরো বাক্যে, কখনো দু এক শব্দে জানালো ওদের ইচ্ছা।
এবার আলিঙ্গন… মেহুলী যে বন্ধুর সামনে দাঁড়াচ্ছে, সে উঠে আলিঙ্গন করছে… কেউ কেউ Hi-five, কেউ কেউ Fist bump… কত মধুর সে দৃশ্য।
Teacher জানালেন, মেহুলীর বাবা-মা তোমাদের জন্য উপহার ও খাবার এনেছেন, ধন্যবাদ জানাও।
আধো আধো কন্ঠে পরিধি জুড়ে উচ্চারিত হলো, Thank you very much. আমরা শুধু মাথা নাড়লাম। ওরা তো জানেনা, ওদের জন্য বড়রা সবকিছু উজাড় করতে প্রস্তুত।
অনুভব করলাম, আপাত নিরীহ একটা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ছোটো ছোটো শিশুকে কেমনভাবে শিক্ষা, সচেতনতা, কৃতজ্ঞতাবোধ, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা,
সপ্রতিভ কথাবার্তা বলা সর্বোপরি নিয়ম শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার শেখানো যায়।

শুভদীপের গাড়িতে বাড়ি ফিরছি… গাড়ি থেকে নেমে রিমঝিম আনন্দে ফেটে পড়লো…
দরজায় বেলুন ঝুলছে…
বড় বড় করে লেখা, ” Happy Birthday Mehuli ” … ( সকালে স্কুলে যাবার পর, এসব আমাদের সাজানো
ছিল, মেহুলীর অলক্ষ্যে )
রিমঝিম উঠছে সিঁড়ি দিয়ে ধীর লয়ে, কখনো গান,
কখনো একটু আগে স্কুলের টুকরো টুকরো কথার স্বগতোক্তি… ওপরের হলে পৌঁছতেই আবার আনন্দ, বিস্ময়, উচ্ছ্বাস… সারা ঘর বেলুন, রঙীন কাগজে মোড়া, বড়ো বড়ো করে লেখা, Happy Birthday Rimjhim. সঙ্গের সোফা টেবিল জুড়ে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত উপহার
আর উপহার।
বেজে উঠলো ফোন… পর পর ফোন আসছে…
শ্রীরামপুর থেকে বড় মেয়ে সোহিনী ( ওর ‘মানি’ ), পারিবারিক বন্ধু রিমঝিমের ভালবাসার ইন্দ্রানী- সপ্তর্ষি, উত্তরপাড়া থেকে পিসুন, কানাডার ক্যালগেরি থেকে
ভাগ্নে কৌশিক- পিয়ালী- প্রীতি এবং আরোও আরোও…
কেক কাটা হলো… সুখের কথা, কখনো কিছু খেতে চায় না এ অভিযোগ নস্যাৎ করে পরম আগ্রহে সে তিন-চার চামচ কেক খেয়ে ফেললো।
এরপর তর সইছে না, gift pack খুলে দেখবে, অনেক সুদৃশ্য কার্ড, রকমারি উপহার।
‘দিয়ার’ নিজের হাতে বানানো কার্ড খোলা হলো, অসাধারণ… উপসংহারে লেখা…
মানী, মেমো , দাদুন, দিয়ার দাদা, লিফট ঠাম্মা, দাদু,
ঠাম্মা, পিসূন, মান্তু , দিয়া এবং শ্রীরামপুরে সকলের
পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ভালবাসা…
ওর মাসির মেয়ে “দিয়া” আর একক নয়, ‘দিয়া’ এখন পরিনত, দিয়া এখন সমগ্র এক পরিবার।

