
সমঝদার
ললিত সমাদ্দার সিগারেটটা ঠোঁট থেকে নামিয়ে ওপর দিকে একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে বললেন, ল্যুভর ম্যুজিয়ামে ঢোকার টিকিটের দাম কতো তা জানো !
আমাদের উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করে আবার বললেন, পুরো বাইশ ইউরো ! মানে আমাদের টাকায় প্রায় বাইশশো টাকা ! সে আবার ন ঘণ্টার জন্য আনগাইডেড ট্যুর !
তারপর আমাদের মুখগুলোর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে গলার স্বরে হালকা অবজ্ঞা মিশিয়ে বললেন, অবশ্য আমাকে ওই ইল-ইনফরমড গাইড কি আর দেখাবে বোঝাবে…তিন মাসের উইক এন্ডগুলোতে ল্যুভর আমার কাছে একেবারে জলভাত হয়ে গিয়েছিলো। আর আমার বেশি সময়ের দরকারই বা কি! আমার তো কাজ ছিল প্রত্যেক বার ঘণ্টা তিনেক মোনালিসা-র সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিঞ্চিদা-র পাঁচশো বছরের পুরনো তুলির আঁচড়গুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অবজারভ করা !
কমল কোণার সোফা থেকে অস্ফুটে বলে ফেললো, ওই নামে এখানে একটা সিনেমা হয়েছিলো।
সাবধানে নীচুগলায় বললেও ললিত পিসেমশাই ঠিকই শুনতে পেলেন, ভুরুটা সামান্য ওপরে তুলে বললেন, তোমাদের টলিউডে ভিঞ্চিদার বায়োপিক…বাংলায় !
আমি বললাম, না, না, তা নয় । একজন আনকনেভনশনাল মেক-আপ আর্টিস্টের গল্প।
সে আবার প্রস্থেটিক এক্সপার্ট ! স্যাটায়ার থ্রিলার বলতে পারেন।

ওঃ তাই বলো ! আসলে কি জানো কমল, ওই ভিঞ্চিদা বলে রেফার করলে আর্টিস্ট আর সমঝদারের মধ্যে বেশ একটা বেঙ্গলি টাইপ বন্ডিং তৈরি হয়, বুঝলে না ! নইলে পাঁচশো বছর আগে বেঙ্গলিদের মধ্যেই কি এসব দাদা-দিদি চালু ছিল !
পিসেমশাইয়ের অকাট্য যুক্তি !
কমল আমার সঙ্গে চোখাচোখি করে বললো,হ্যাঁ, তাতো বটেই…ঠিক বলেছেন পিসেমশাই!
অতনু বললো, তাহলে কি দাঁড়ালো পিসাই ? তুমি কি আজ বিকেলে যাচ্ছো আমাদের সঙ্গে বিড়লা একাডেমিতে…অজয়ের এগজিবিশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ? অজয়কে অনেক বলেছি তোমার কথা। খুব খুশি হবে । ঠিক পাঁচটায় বেরোতে হবে কিন্তু। কেবল আজকের দিবানিদ্রাটা তোমাকে একটু কমাতে হবে !
অতনুর কথা শুনতে শুনতে ললিত পিসেমশাই ঊর্ধ্বমুখ হয়ে বেশ কায়দা করে একটা ধোঁয়ার রিং ছাড়লেন।
তারপর চোখটা নামিয়ে আমাদের তিনজনের উৎসুক মুখের দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে বললেন, দুহাজার বাইশে ল্যুভর-এ দেখলাম দা-ভিঞ্চি আর এই তেইশে বিড়লা একাদেমিতে দেখতে হবে অজয়…কি যেন পদবি বলেছিলি…হ্যাঁ অধিকারী…অজয় অধিকারী ! এ তো আমার বিশাল পতন রে অতনু…যাকে বলে ইন্টেলেকচুয়াল প্লামেটিং!
যাগগে যাগ…বলছিস তোর ছোটবেলার বন্ধু ! যাবো, তোদের ওই ট্যালেন্টেড অজয় অধিকারীর পেন্টিং এগজিবিশনে যাবো আমি। তবে ছবির সমালোচনা করলে দুঃখ পেওনা বাবা ! সমঝদারের ওটা একটা বিরাট দায়িত্ব!
২
আমাদের বন্ধু অতনুর বড়ো পিসেমশাই নিঃসন্তান ললিত সমাদ্দার থাকেন দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় সরকারে উঁচু পদে চাকরির কারণে প্রায়ই বিদেশে যেতে হয় ।
অতনুর খুব ছোটবেলায় তাদের বাড়িতে জামাই হয়ে এসেছিলেন।
ছেলেমেয়ে না থাকার কারণেই বোধহয় স্ত্রীর একমাত্র ভাইপোটিকে অত্যন্ত ভালবাসেন। দেশের বাইরে গেলেই অতনুর জন্য একটা ভালো গিফট এক্কেবারে বাঁধা ।
এই তো মাসকয়েক আগে মালয়েশিয়া থেকে অতনুর জন্যে নিয়ে এসেছিলেন দুশো ছাপ্পান্ন টেরাবাইটের একটা এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক !
এই পর্যন্ত সব ঠিক আছে ! আমরাও ওঁকে বেশ পছন্দ করি !
তবে যে কোন ব্যাপারে আলোচনার সময় নিজের সমঝদারিটা অতনুর এই ললিত পিসেমশাই যে অভাবিত লেভেলে নিয়ে যান তাতে আমাদের কেন, মাঝে মাঝে অতনুরও বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে আমরা ছাড়া যদি কোন সিনিয়র মানুষ সেখানে উপস্থিত থাকেন !
সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে আলোচনার সময় উনি ঠিক বুনুয়েল বা গোদার-এর কথা বলবেনই। আজ যেমন হলো আমাদের আর্টিস্ট বন্ধু অজয়ের ডেব্যু এগজিবিশনের উদ্বোধনে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে !
নিজের আঁকা ছবির কোয়ালিটির প্রতি অজয়ের থেকে আমাদের বন্ধুদের আস্থা অনেক বেশি ! অনেকদিন ধরে তাকে অনুরোধ উপরোধের পর বিড়লা একাডেমিতে তিনদিনের একটা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছি ওর গুণমুগ্ধ আমরা কয়েকজন ।
তাই সেখানে দর্শকের ভিড় জমানোর একটা দায়িত্ব থেকেই যায় আমাদের ওপর।
তা সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে গিয়ে পিসেমশাইয়ের এই ভিঞ্চিদা মিসাইল !
রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতিপ্রেম ভার্সেস হুইটম্যান, সঞ্জীব কাপুর ভালো না লরেনটিস বা কারল্যুসি, কে কালজয়ী শরৎচন্দ্র না টমাস হার্ডি, আনা পাভলোভা না সংযুক্তা পাণিগ্রাহী, ইলিয়ট-এর পাশাপাশি জীবনানন্দ, কৃশানুর সঙ্গে নেইমার, সলিল চৌধুরী না নচিকেতা ঘোষ, ললিত পিসেমশায়ের জ্ঞান প্রায় সর্বত্রগামী !
ললিত পিসেমশাই ভেতরের ঘরে উঠে যাওয়ার পর অতনু বললো, পঁচিশ বছর ধরে দিল্লিতে সরকারি চাকুরেদের সঙ্গে লাগাতার ওঠবোস করে পিসেমশাইয়ের এই রোগটা হয়েছে বুঝলি ! পল্লবগ্রাহিতা না থাকলে দিল্লির সাউথ ব্লকে টেঁকা যায় না বোধহয় ! পিসেমশায়ের ব্রাসেলস থেকে সদ্য আনা সলিড পিটসযেল চিবোতে চিবোতে আমরা নিঃশব্দে মাথা নাড়লাম ।

৩
বিড়লা একাডেমিতে আমরা চারজন অনুষ্ঠান শুরুর বেশ আগেই পৌঁছে গেলাম।
যাদবপুর থেকে লেক রোড কতক্ষণই বা লাগে !
দোতলায় প্রদর্শনীর হলঘর একেবারে ফাঁকা, শুনশান। আমরাই প্রথম ঢুকলাম।
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির এক সুবেশা তরুণী হলের দরজাটার পরেই একটা টেবিলে প্রিন্টেড ব্রোসিওরগুলো গুছিয়ে রাখছিলো।
পাশে একটা থালার ওপরে ছড়ানো গোলাপের পাপড়ির ওপর রাখা আছে লাল সিল্কের ফিতের রোল, একটা কাঁচি ।
আমাদের দেখেই মেয়েটা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মিষ্টি হেসে হাতজোড় করে বললো, নমস্কার, আসুন আসুন । শিল্পী তো এখনও এসে পৌঁছাননি। ফর্মাল ইনগরেশনের আধঘণ্টা দেরি আছে তো ।
কমল গম্ভীরভাবে বললো, আমরা অজয় অধিকারীর বন্ধু। এই প্রদর্শনীটা আমরাই স্পন্সর…
মেয়েটি কমলের কথার মাঝেই বলে উঠলো, ঠিক আছে ঠিক আছে। আপনারা ঘুরে ঘুরে দেখুন না । আমি ঠিক সময়ে বাইরে ডেকে নেবো আপনাদের ।
কমল থ্যাঙ্কস বলে টেবিল থেকে একটা ব্রোসিওর তুলে নিলো ।
আমরা হলের ভেতর ঢুকে গেলাম।
চারটে ঝকঝকে সাদা দেওয়ালে অজয়ের ছবিগুলো পরপর সুন্দর করে টাঙ্গানো আছে । প্রত্যেক ছবিতে ফ্রেমের কিছুটা ওপর থেকে ফিট করা ফোকাস লাইট থেকে জোরালো আলো এসে পড়ছে ছবির ওপর, খুঁটিয়ে দেখার সুন্দর ব্যবস্থা।
উজ্জ্বল আলোয় আমার তো বহুচেনা ছবিগুলো অচেনা, আরও সুন্দর লাগছে ।
কিন্তু কোর্ট তো এখন অতনুর ললিত পিসেমশাইয়ের দখলে !
তিনি একটা একটা করে ছবির সামনে যাচ্ছেন, এগিয়ে গিয়ে পিছিয়ে গিয়ে পাশ থেকে কিছুক্ষণ দেখছেন, তারপর মুখ থেকে ফ্রুৎ করে একটা শব্দ বের করে মাথা নাড়ছেন ! এই অভিব্যক্তির সর্বজনগ্রাহ্য সরল ব্যাখ্যা বোধহয় ‘এটা কিসসু হয়নি’ !
আমরা তিনজন ওঁর পেছন পেছনই আছি ।
আমি অতনুকে লক্ষ্য করছিলাম, পিসেমশাইয়ের এসব ব্যাপার স্যাপার দেখে তো তার মুখে ক্রমশ সন্ত্রস্ত ভাব ফুটে উঠছে।
ওর বোধহয় মনে হচ্ছে অজয় তো এখন যেকোন মুহূর্তে এসে পড়বে, পিসেমশাইয়ের যেমন ভাবগতিক, অজয়ের সামনেই না আবার কিছু উলটো পালটা বলে বসেন !
আমার মনে হল এই প্রথম হয়তো অতনুর মনে হচ্ছে ওঁকে এখানে কিছুটা জোরজার করে নিয়ে আসাটা কাঁচা কাজ হয়ে গিয়েছে !
এর মধ্যেই একটা ছবির সামনে গিয়ে পিসেমশাইয়ের ভুরুটা কুঁচকে গেলো ।
বেশ কিছুক্ষণ এগিয়ে পিছিয়ে এপাশ ওপাশ থেকে ভালো করে ছবিটা দেখে যেভাবে মাথাটা নাড়লেন…আমরা ওঁর দিকেই তাকিয়ে আছি…আমাদের তিনজনেরই মনে হোল ওই মাথা নাড়ার মধ্যে একটা পজিটিভ ভাব আছে !
-‘হুম! বাহ! বেশ !’ ললিত পিসেমশাইয়ের মুখ থেকে তিনটে শব্দ নিঃসারিত হলো !
আমরা মনে মনে বেশ উল্লসিত হলাম…যাক অজয়ের অন্তত একটা ছবির ভাগ্য ভালো!
পিসাই আবার বললেন, হবে! বুঝলি তনু, হবে! কি যেন নাম বলেছিলি তোর
বন্ধুর…অজয়…হ্যাঁ অজয় অধিকারী! ওর হবে! ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল…আমি দেখতে পাচ্ছি! যেটুকু ট্যালেন্ট ওর আছে, ও এই একটা ছবিতে একেবারে উজাড় করে দিয়েছে ! বাঃ বাঃ…বেশ…একেবারে মাস্টারপিস !
অতনু উদ্ভাসিতমুখে কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক সেই সময় পেছন থেকে অজয়ের গলা শোনা গেলো, আরে তোরা এসে পড়েছিস ! বাঃ !
আমরা সবাই ঘুরে গেলাম।
অজয় আমাদের সামনে এসে হুড়মুড় করে বলে চললো, দ্যাখ না রাস্তায় যা জ্যাম, নাকতলা থেকে এখানে আসতেই দেড় ঘণ্টার ওপর ! নইলে আমার তো সবার আগে…
অতনু ওর কথার মাঝেই বলে উঠলো, পরিচয় করিয়ে দিই, আমার কাছে অনেকবার নাম শুনেছিস, এই আমার ললিত পিসাই । এই গত বছরেই প্যারিসে ল্যুভর-এ পিসাই…

অতনুর কথার মাঝেই অজয় ঝটিতি হাত তুলে নমস্কার করে বললো, নমস্কার, নমস্কার! অনেক শুনেছি আপনার কথা। আপনি ব্যস্ত মানুষ, সময় করে যে আজ এখানে এসেছেন এজন্যে…
অতনু ওকে থামিয়ে দিয়ে বললো, শোন না, তোর এই ছবিটা পিসাই বলছে…
আমরা ছবিটার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলাম।
অতনু হাত তুলে দেখাতে অজয় ছবিটার সামনে এগিয়ে গেলো ।
পরমুহূর্তেই তার মুখ থেকে আর্তনাদের মতো বেরিয়ে এলো, এ কি ! এটা কি করে হলো, কে করলো !
বলেই অজয় গলা তুলে ডাকলো, অপালা, অপালা !
গেটের কাছে বসা মেয়েটা দৌড়ে এলো, কি হয়েছে দাদা ?
-তোমার লেবারদের ডাকো, এক্ষুনি, ঝটপট ! আর বেশি সময় নেই তো! এই ছবিটা তো ওরা উলটো করে ঝুলিয়ে দিয়েছে ! দ্যাখো কাণ্ড ! ভাগ্যিস এঁরা নজর করেছেন ! দেখেছো, আমাকে এখন সব কটা ছবি চেক করতে হবে ! আমি যাই ! মেনি থ্যাঙ্কস রে…পয়েন্ট আউট করার জন্য !
ডানহাতটা আমাদের দিকে নেড়ে দিয়ে অজয় ব্যস্তভাবে হলের অন্যদিকে চলে গেলো ।
আমরা চোখ চাওয়াচাওয়ি করছি।
পেছন থেকে পিসেমশাইয়ের ক্ষীণ আওয়াজ এলো, তনু, এখানে ওয়াশরুমটা…


ভালো লাগলো। climax টা দারুন। লিখে যাও।
🙏🙏
খুব মজাদার ছোট্ট গল্প। উপভোগ করলাম
🙏🙏
Good
🙏🙏
দ্বিতীয় গল্পটি বেশী ভালো লাগল।
বেশ।
🙏🙏
পল্যবগ্রাহী সমঝদারে পৃথিবী ভরে গেছে এটা তো সত্যি। আন্তর্জালে শিক্ষিত প্রচুর লোক এখন বোদ্ধার আসনে।
এই সমস্যাটি সুন্দর ভাবে হাসির মোড়কে সাজিয়ে পরিবেশন উপভোগ্য
👌👏🙏
হালকা ছলে লেখা সুন্দর ভালো গল্প I তারাপদ রায়
ও প্রেমেন্দ্র মিত্র ঘনাদা মনে করিয়ে দেয় I
🙏🙏
Revisiting Teni da by Narayan Gangopadhyay. Feel good reading. Let’s wait for end.
🙏🙏
চমৎকার। অতনুর পিসেমশাইয়ের মতোই বলতে হয় — “বাঃ বাঃ…বেশ…একেবারে মাস্টারপিস !”
🙏🙏
বেশ ভালো লেখা। শেষের চমকটা ভালো লাগলো।
তবে ২৫৬ TB Hard disk সম্ভবত এখনও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ওটা GB হবে। এই ‘উটের পাকস্থলী’টা পরের এডিশনে ঠিক করে নেবেন।
👌👏🙏
হালকা ছলে লেখা সুন্দর ভালো গল্প, তারাপদ রায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্র, ঘনাদা মনে করিয়ে দেয়
🙏🙏
ভাল লাগল। শেষের অংশটি অভিনব।
🙏🙏
খুব সুন্দর লিখেছেন। বুদ্ধিদীপ্ত রম্যরচনা। বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন ক্ষেত্রের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নামও জানা গেল
👌👏🙏
👌👌
Twist ta darun! Loved it👌🏻
👌👌
Excellent piece of short story
🙏🙏
চমৎকার মজার গল্প। খুব ভাল লাগল।
🙏🙏
Enjoyed the short story. Congratulations to the author.
🙏🙏
ছবি আঁকার প্রশংসা নিয়ে অনেক মজার গলপ আগেও শুনেছি,এটাও ভারী মজার,উপস্থাপনা অনেক সুন্দর।
🙏🙏
সিদ্ধার্থ বাবু, আপনার গল্পে twist in the tail থাকে।
O. Henry র কথা মনে করিয়ে দেয়।
ধন্যবাদ !🙏
Bhah Bonoful reborn
🤪🤪
👌👌