
ভালোবাসা শেষ, টমেটো শুরু
তোমার ওপর রাগ করার মতো বিলাস আমার নেই।
ঘড়ির কাঁটা খেয়ে ফেলছে প্রতিদিনের ভাত-ডাল।
তুমি কবে কী বললে, কোন কথায়
বুক ফেটে গিয়েছিল—
সেই খতিয়ান রাখার কেরানি গিরি করি নাকি?
তোমাকে ঘৃণা করার অবসর ও নেই।
বাস ধরতে দেরি হয়,
বাজারে টমেটোর দাম বাড়ে—
এই সব সামলাতে গিয়ে
তোমাকে না-দেখার অভিনয় শিখব—
এতটুকুই বা ফুরসত আছে কি?
বরং দেখা হয়ে গেলে
ভদ্রভাবে দাঁড়িয়ে বলব—
‘কী খবর? তোমার বাড়িঘর ঠিক আছে তো?’
তারপর আবার হুড়মুড় করে
নিজের ভাঙা ঘড়ির কাঁটার পেছনে ছুটব।
রাগ, অভিমান, ঘৃণা—এসব অভিজাত শখ।
যে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভাবে—
কাল সকালে বাঁচব তো?
তার কাছে ভালোবাসাও, ঘৃণাও
ঠিক চায়ের দোকানের উধাও হওয়া বিস্কুটের মতো—
থাকে না।

গ্রীষ্মের শহুরে দিনলিপি
যে রোদ হেঁটে আসে দুপুরে
তার কাছে আমি অনুরোধ করি
একটু ছায়া দাও,
একটু কুলার, ফ্রিজ, ইনভার্টারের বিশ্রাম দাও।
তার পাওনা অফিসফেরত ক্লান্তি,
মেট্রো স্টেশনের সিঁড়ি,
বিকেলের ট্রাফিকের হর্ন,
মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া।
রাস্তার মোড়ে চা-ওয়ালা ঘামে ভিজে যায়,
শহরের বিলবোর্ডে টিনের গরম বাজে,
গ্যাসচুলোর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলার ঘাম
একেকটা ছন্দ হয়ে ঝরে পড়ে।
খরা: মিটিং বলে, বোনাস বলে,
ভোটের অঙ্গীকার বলে—
জল নেই, বিদ্যুৎ নেই,
তবু ক্যালেন্ডারের পাতায় গ্রীষ্মের ছাপ আঁকতেই থাকে।
তবু তার
ঘামের ভেতরেও গান আছে,
উঠোনে শুকোতে দেওয়া জামায়
সুরের মতো বাতাস ঢোকে।


খুব সুন্দর 🌻