
জ্ঞানপাপী
এক
জগঝম্প বাজনার সঙ্গে বিরাট আওয়াজে প্রায় ঘর বারান্দা করিডর কাঁপিয়ে বিজাতীয় গান শুরু হয়ে গেলো।
সদানন্দবাবু সভয়ে অস্ফুটে বলে উঠলেন, ওই আবার ! আবার শুরু হলো !
তাড়াতাড়ি খাটের পাশের টেবিলে রাখা তুলোর গুলিদুটো কানের মধ্যে গুঁজে দিতে দিতে গলায় যথাসম্ভব জোর এনে তিনি স্ত্রীকে ডাকলেন, বিনি, বিনি ।
বিনতা রান্নাঘরে রাতের এঁটো বাসনপত্র গুছিয়ে রাখছিলেন।
গানের আওয়াজের প্রাবল্যে সদানন্দের ক্ষীণগলার ডাক শুনতে পেলেন না তিনি।
এখন রাত সাড়ে আটটা।
গতমাসে সত্তরোরধ স্বামীর বাইপাস-সার্জারি হয়ে যাবার ডাক্তারের নির্দেশে বিনতা দুজনের রাতের খাওয়া-দাওয়া আটটার মধ্যেই মিটিয়ে নেন।
বাসনপত্র বাস্কেটে রেখে হাত ধুয়ে শোওয়ার ঘরে এসে দেখলেন সদানন্দ খাটের ওপর সন্ত্রস্তভাবে বিস্ফারিত চোখে বসে আছেন।
দুকানের ভেতরে রাখা তুলোর গুলিদুটো বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে ।
বিনতাকে দেখে তিনি শুধু হাত তুলে বাইরের দিকে দেখালেন।
বিনতা তাড়াতাড়ি আঁচলে হাত মুছে বাইরের দিকের জানলাদুটো বন্ধ করে দিলেন।
ঘরের ভেতরের আওয়াজ কিছুটা হলেও কমলো।
বিনতা খাটের কাছে এসে গলার স্বর ওপরে তুলে বললেন, আজকে আবার একটু বেশি জোরে চালিয়েছে মনে হচ্ছে না ?
সদানন্দ সম্মতিসূচক মাথা নাড়লেন ।
তারপর বললেন, এই সবে শুরু হল ! এখন হয়তো চলবে রাত বারোটা অবধি। আর একটুক্ষণ চললে আমার বোধহয় বুক ধড়ফড় করতে শুরু করবে। এখন হয়তো সুধাময় নিজের মধ্যে নেই, আমি গেলে কি না কি বলে দেবে, আমি উত্তেজিত হয়ে পড়বো । বিনি, তুমি একবার কষ্ট করে পাঁচতলায় প্রণবেশের কাছে যাও। ওর খুব ঠাণ্ডা মাথা। ও গিয়ে সুধাময়কে বুঝিয়ে শুনিয়ে আওয়াজ বন্ধ করার বা অন্তত কমাবার জন্য রিকোয়েস্ট করে আসুক।
বিনতা মাথা নাড়লেন ।
সদানন্দ আবার বললেন, জানি বেশীদিন হয়নি একটা বড়ো ধাক্কা খেয়েছে। এখন একা মানুষ হয়ে গেছে, মন ভালো নেই। কিন্তু ঘরের মধ্যে আওয়াজ কম করে গানবাজনা শুনুক না। বৃদ্ধ, তার ওপর অসুস্থ প্রতিবেশীর শরীরের খেয়ালটা তো করবে!
বিনতা বললেন, এদিকে তো কতো কাকু কাকু করে। আমি যাচ্ছি। দীপালিরা নিশ্চয়ই এখনও খাওয়া দাওয়া শুরু করেনি।
বিনতা বাইরে যাওয়ার উদ্যোগ নিতেই সদানন্দ বললেন, তুমি লিফটে যাবে কিন্তু ।
বিনতা মাথা নেড়ে সদরের চাবিটা নিয়ে দরজা ভালো করে টেনে দিয়ে বেরিয়ে গেলেন।

দুই
এই ‘সুকৃতি’ আবাসনের দোতলায় মধ্যতিরিশের সুধাময় রায় সিনিয়র সিটিজেন সদানন্দ সমাদ্দারের নিকটতম প্রতিবেশী।
দুজনের ফ্ল্যাটের দরজা একেবারে পাশাপাশি ।
সুধাময় উচ্চশিক্ষিত, নামকরা মালটিন্যাশনাল কর্পোরেট কোম্পানিতে ভালো চাকরি করে।
নিজে খুব একটা সামাজিক মানুষ না হলেও পাশের ফ্ল্যাটের ‘কাকু’র সঙ্গে তার বিস্তর সদ্ভাব।
অতি সম্প্রতি তার দাম্পত্যজীবনে অনভিপ্রেত ডিভোর্সের ছেদ পড়ে যাওয়াতে সে চারপাশের পরিবেশ, মানুষজন সব কিছুর থেকে নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নিয়েছে ।
অফিস যাওয়া আসার ফাঁকে তাকে আবাসনে প্রায় দেখাই যাচ্ছে না ।
আরও লোকমুখে শোনা যাচ্ছে রোজ সন্ধ্যার পরে সুধাময় তার নিজের নামের সার্থকতা প্রমাণ করার জন্য একেবারে উঠেপড়ে লেগেছে !
সে যাক, নিজের বাড়িতে বসে নিজের টাকায় একা একা মদ খাওয়ার ব্যাপারে সদানন্দের একেবারেই কোন শুচিবাই নেই।
পাবলিক প্লেসে কোন অনুচিত দৃষ্টিকটু ঘটনা না ঘটালেই হলো।
তবে সুরাপানের অনুষঙ্গ হিসেবে এই যে শক্তিশালী মিউজিক সিস্টেমের প্রাত্যহিক শব্দপ্রহার, এটাই সদানন্দের দুর্বল হার্টের পক্ষে ভয়ানক হয়ে উঠছে।
পাঁচতলার প্রণবেশ ও তার স্ত্রী দীপালি আবাসনের অনেকের সঙ্গে এই নিঃসন্তান প্রৌঢ় সমাদ্দার দম্পতিরও কার্যত অভিভাবক।
দরকারে অদরকারে সদানন্দ এঁদের ওপর সর্বাধিক ভরসা করে থাকেন ।
আজও তাই তিনি বিনতাকে পাঠালেন যদি প্রণবেশ সুধাময়কে বলেকয়ে মিউজিক সিস্টেমের আওয়াজটা কম করাতে পারে।
তিন
সুধাময়ের দরজার বেলটা প্রণবেশকে বার তিনেক বাজাতে হলো।
ভাগ্য ভালো তিন নম্বর বেল লম্বা সময় ধরে বেজে ওঠার পর ভেতরের সাইক্যাডেলিক বাজনার আওয়াজটা ঝট করে একেবারে কমে গেলো ।
একটা পদশব্দ। তারপরেই দরজা খুলে গেলো। দরজার ওপাশে সুধাময়, পরনে রাতের পোশাক ।
বাইরের ঘরে সিগারেটের ধুম্রজাল আর সামনের মানুষটার দেহ থেকে মদের গন্ধ, দুইয়ে মিলে প্রণবেশের নাকে যেন একটা তীব্র ঝটকা এসে লাগলো ।
তারপর দুজনের কথোপকথন হলো এরকম।
সুধাময় ( জড়ানো গলায় ) – এ কি, প্রণবেশকাকু , আপনি ! এসময়ে ! ভেতরে আসুন না ! এনি প্রব্লেম ?
প্রণবেশ – না না, ভেতরে আসবো না । তোমাকে একটা রিকোয়েস্ট করেই চলে যাবো ।
সুধাময় ( বেশ জড়ানো গলায়)- রিকোয়েস্ট ! এনি টাইম কাকু ! ভেতরে আসুন তো আগে ! ডিনার করেছেন ? আসুন, ভেতরে আসুন না, আপনাকে আমিনিয়ার কাবাব অফার করার চান্স তো দিন !
প্রণবেশ – না না । এখন ভেতরে নয়। এই দরজাতেই ঠিক আছে। এখুনি গিয়ে ডিনার করতে হবে। আমি শুধু তোমাকে একটা রিকোয়েস্ট করতে এসেছি ।
সুধাময় – ( দরজার ফ্রেমটা ধরে সামলে নিলো নিজেকে) বলুন কাকু, বলুন না !
প্রণবেশ – ( মোলায়েম গলায় ) শোন সুধাময়, তুমি তো জানো, তোমার পাশের ফ্ল্যাটের সমাদ্দারদা, মানে সদানন্দবাবুর বাইপাস সার্জারি হয়েছে একমাস আগে। রোজ সন্ধেরাতে তোমার মিউজিক সিস্টেম এতো জোরে বাজে যে উনি ঘুমোতে পারেন না। ওঁর রিকভারির জন্য তো ঘুম দরকার। আর তুমি তো নিজের মনের আনন্দের জন্য গানবাজনা শুনছো। সে গানের আওয়াজ যদি নিজের ঘরের মধ্যেই থাকে সেটাই ভাল নয় কি ? প্রতিবেশীদের সুবিধা অসুবিধা তো আমাদের দেখা…
সুধাময় – ( প্রবলভাবে ঘাড় নেড়ে, জড়ানো গলায় ) সে কি ! আমার মিউজিকের আওয়াজে সমাদ্দারকাকুর ঘুম হচ্ছে না ! খুব অন্যায় হয়েছে আমার…খুব অন্যায় !
প্রণবেশ – তাই তো আমি তোমাকে বলতে এসেছি তুমি যদি আওয়াজ কম করে গানটা…
সুধাময় – ( হাত দিয়ে নব ঘোরানোর ভঙ্গি ) এই আমি আওয়াজ কমিয়ে দিয়েছি…এইরকমই থাকবে… সারারাত বাজলেও ! সরি প্রণবেশ কাকু…আই অ্যাম ভেরি ভেরি সরি ! এবার…এবার আপনার আর আমার ওপর রাগ নেই তো ! তাহলে দুটো কাবাব…আমিনিয়ার কাবাব…
প্রবলভাবে না না বলে প্রণবেশ তাড়াতাড়ি সেখান থেকে সরে এলেন।
সুধাময়ের দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পর তিনি আবার পা টিপে টিপে সরজার সামনে ফিরে এসে কয়েক মিনিট নিঃশব্দে অপেক্ষা করলেন।
‘নাহ, গানের আওয়াজ তো আর বাড়লো না ! যতই খেয়ে থাকুক, সুধাময় তালে ঠিক আছে ! সদানন্দদাকে আর এখন ডিস্টার্ব করার দরকার নেই…কাজের কাজটা তো হয়ে গেলো’।
প্রণবেশ নিশ্চিন্ত মনে লিফটের দিকে এগিয়ে গেলেন।
চার
কলিং বেলের আওয়াজে প্রথমে সদানন্দের ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো।
বালিশের পাশে একটা টর্চ রাখা থাকে।
অভ্যাসমতো টর্চ জ্বালিয়ে তিনি দেয়ালের ঘড়িটার ওপরে ফেললেন…’রাত একটা…এতো রাতে আবার কে বেল বাজাচ্ছে !’
দ্বিতীয়বার বেলটা বেজে উঠতেই ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসলেন বিনতা।
সদানন্দ কিছু বলার আগেই তিনি খাট থেকে নেমে আলোর সুইচটা টিপে দিলেন।
তারপর স্বামীর দিকে একবার তাকিয়ে ঘড়িটা দেখলেন।
ঘুমজড়ানো গলায় বললেন, রাত একটায় আবার কে বেল বাজাচ্ছে ! আমি দেখছি, তুমি শুয়ে পড়ো তো, ঘুমোও, ঘুমিয়ে পড়ো ।
ড্রইংরুমে একটা নাইট ল্যাম্প জ্বলে।
বিনতা গিয়ে দরজাটা খুলেই হতবাক।
অবাক চোখে দেখলেন সুধাময় দাঁড়িয়ে আছে উলটোদিকের দেওয়ালে ভর দিয়ে।
ওকে দেখে তো বিনতার মনে হলো যেন কোনওরকমে দাঁড়িয়ে আছে, এক্ষুণি পড়ে যাবে।
তিনি কিছু বলার আগেই সুধাময় জড়িয়ে জড়িয়ে বললো, আমি, আমি, কাকিমা ! মানে জানতে এলাম, কাকু এবার ঠিক ঘুমোচ্ছেন তো…অ্যাঁ ? আমি কিন্তু…আমি কিন্তু…আওয়াজ কম করে দিয়েছি। এখনও গান চলছে, কিন্তু ফ্ল্যাটের বাইরে কোনো আওয়াজ আসছে না…শুনুন…শোনবার চেষ্টা করুন…উঁহু আপনি কি-চ্ছু শুনতে পাবেন না…হ্যাঁ !
বিনতা তাড়াতাড়ি বললেন, হ্যাঁ সুধাময়, কাকু খুব ভালো ঘুমোচ্ছেন, কোন আওয়াজ নেই তো, তাই। তুমি যাও, যাও, তুমিও শুয়ে পড়ো। রাত অনেক হয়েছে। যাও ।
সুধাময় সঙ্গে সঙ্গে পেছন ফিরে টলমল করে যেতে যেতে বলতে লাগলো, আমি বলেছিলাম, এবার ঘুম হবে, আওয়াজ কম করলে ভালো ঘুম হবেই !
বিনতা একটা নিঃশ্বাস ফেলে দরজা বন্ধ করলেন।
আলো নিভিয়ে খাটে উঠছেন, সদানন্দ ঘুমজড়ানো গলায় বললেন, কে বেল বাজিয়েছিল বিনি, এতো রাতে ?
সুধাময় ! গানের আওয়াজ তো কমিয়ে দিয়েছে তাই খবর নিতে এসেছিলো তুমি ঠিকঠাক ঘুমোচ্ছ কি না। মদের ঝোঁক ! তোমার ঘুম তো ভেঙ্গে গেলো ! যাকগে, তুমি ঘুমিয়ে পড়ো ।
বিনতা গায়ের ওপর চাদরটা টেনে নিলেন, কাঁচাঘুম ভেঙ্গেছে, চোখটা জ্বালাজ্বালা করছে।

পাঁচ
বোধহয় গলা শুকিয়ে জলতেষ্টা পাওয়ার জন্যই বিনতার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
পাশে সদানন্দ অঘোরে ঘুমোচ্ছেন।
বিনতা বিছানা থেকে নেমে ড্রইংরুমে এলেন।
জল খেয়ে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করেছেন এমন সময় কলিং বেলের আওয়াজ।
দেওয়াল ঘড়িতে দেখলেন সাড়ে চারটে বাজে।
‘এই ভোর রাতে আবার কে এলো !’
বিনতা তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দেখেন সুধাময় দাঁড়িয়ে আছে, টলটলায়মান, রক্তবর্ণ চোখ।
বিনতাকে দেখেই সুধাময় জড়িয়ে জড়িয়ে বললো, কাকু এখন নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন তো কাকিমা ? আমি তো এখন মিউজিক এ-ক্কে-বা-রে বন্ধ করে দিলাম ! এবার আ-মি ঘুমোবো । তার আগে তাই কাকুর ঘুমের খবরটা নেবার জন্য আমি…
শোবার ঘরের দিকে একবার তাকিয়ে বিনতা গলা নামিয়ে প্রায় ফিসফিস করে বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ, ঘুমোচ্ছে ! কি আশ্চর্য ! সেই খবর নেওয়ার জন্য তুমি রাতভর আমাদের দরজায় বেল বাজিয়ে…তুমি কি সারারাতই ঘুমোওনি সুধাময় ? যাও, যাও, এক্ষুণি গিয়ে শুয়ে পড়ো।
সুধাময় হাতটা নেড়ে দিয়ে বলতে বলতে চলে গেলো, জানতাম, আমি জানতাম, মিউজিক বন্ধ হয়ে গেলেই ঘুম হবে, গাঢ় ঘুম !
যতক্ষণ না সুধাময় নিজের ফ্ল্যাটে ঢুকলো বিনতা ওকে দেখতে দেখতে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন।
ছয়
কলিং বেলটা বেজে উঠতে প্রণবেশ খবরের কাগজ থেকে মুখ তুলে দেয়ালঘড়ির দিকে তাকালেন।
‘সাড়ে ছটা বাজছে। এতো সকালে কে এলো ! দুধের লোকটা তো বেল বাজায় না, দরজায় ঝোলানো ব্যাগে দুধের প্যাকেট রেখে চলে যায় !’
দরজা খুলে প্রণবেশ বেশ অবাক হলেন। সুধাময় দাঁড়িয়ে।
সকালেই চান করেছে মনে হচ্ছে, পরনে পাজামা পাঞ্জাবি, ব্যাকব্রাশ চুল, গতরাতের বিস্রস্ত অবস্থার বিশেষ চিহ্ন নেই। কেবল দুচোখের কোণ বেশ রক্তাভ।
সুধাময়ের চোখেমুখে একটু কাঁচুমাচু ভাব, ভেতরে আসবো কাকু ?
নিশ্চয়ই, এসো, ভেতরে এসো, বোস। এতো সকালে এসেছো ! আর্জেন্ট কিছু ?
প্রণবেশ সুধাময়ের উলটোদিকের সোফায় বসে হাতের কাগজটা সামনের টেবিলে রাখলেন।
সোফায় বসার পর সুধাময় চুপ করে এদিক ওদিক দেখছে ।
প্রণবেশ বললেন, তুমি কি কিছু বলতে এসেছো সুধাময় ?
সুধাময় এবার কিছুটা ইতস্তত করে বললো, না কাকু, বলছিলাম কি, আপনি কাল রাতে আমার কাছে এসেছিলেন। জানেন তো, সেই সময় আমি ঠিক…সুধাময় থেমে গেলো।
প্রণবেশ ওর দিকে তাকিয়ে আছেন।
সুধাময় বিব্রত ভাবে বলে উঠলো, না কাকু, সেসময়ে আমি যদি আপনাকে কোন অসম্মানজনক কথা বলে থাকি, মানে আমার এখন তো কিছু মনে নেই, আপনার কাছে তাই আমি হাতজোড় করে ক্ষমা…
সুধাময় হাতদুটো তুলে জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গী করার আগেই প্রণবেশ ঝুঁকে পড়ে তার হাতদুটো নামিয়ে দিয়ে বললেন, না না সুধাময়, তুমি এমন কিচ্ছু বলোনি। আমি তো তোমাকে একটা রিকোয়েস্ট করতে গিয়েছিলাম। তুমি তো আমার কথা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে…
প্রণবেশের কথার মাঝেই সুধাময় হাত তুলে বললো, আমার কাছে কাল রাতে আপনি একটা রিকোয়েস্ট করতে এসেছিলেন ! কি রিকোয়েস্ট বলুন তো ? আমার তো কিছু মনে নেই !
প্রণবেশ মনে মনে বললেন, সেটাই তো হওয়া সম্ভব !
মুখে বললেন, তোমার মিউজিক সিস্টেমের প্রবল আওয়াজে সদানন্দদার বুক ধড়ফড় করছিলো, হার্টের রুগি তো, কয়েক সপ্তাহ আগেই বাইপাস হয়েছে! তাই আমি গিয়েছিলাম তোমাকে বলতে যদি তুমি আওয়াজটা কমাও। তা তুমি তো আমার কথা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে গানের আওয়াজ কমিয়ে দিয়েছিলে।
সুধাময় ভুরু কুঁচকে মনোযোগ দিয়ে প্রণবেশের কথা শুনছিলো।
কথা শেষ হতেই উজ্জ্বল চোখে বলে উঠলো, ও হো, এইবার সব মনে পড়ে গেছে ! হ্যাঁ, আমি তো তারপর সমাদ্দারকাকুর ঘুমের খবর নিতে গিয়েছিলাম। দুবার, হ্যাঁ, মনে পড়েছে, দু-বারই গিয়েছিলাম।
প্রণবেশ শুনে হতবাক, কোনরকমে বললেন, দুবার ! তুমি এর মধ্যে দুবার গিয়েছিলে ! কখন ?
ওই তো, রাতে, রাতেই গিয়েছিলাম ! একবার বোধহয় রাত একটা নাগাদ, আর একবার এই ঘণ্টা দুয়েক আগে ! আমি বেল বাজাতে কাকিমা দুবারই বললেন, কাকু বেশ ভাল ঘুমোচ্ছেন !
প্রণবেশ হতাশ চোখে ওর দিকে একমুহূর্ত তাকিয়ে থেকে একটা বড়ো নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, তুমি কি একটু চা খাবে সুধাময় ?

[পরম্পরা ওয়েবজিন, সেপ্টেম্বর ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

বেশ একটা চমক পাওয়া গেল। সুন্দর গল্প।
ভারী সুন্দর মিষ্টি গল্প ভারী সুন্দর মিষ্টি গল্প
Coffee offer korle aro appropriate hoto
Darun golpo. Awesome. 😊
A nice refreshing comic short story that makes you laugh silently and lifts up your spirit
Very good. Nice story. Congratulations to the writer.
বেশ ভালো লেগেছে
জীবনে যা ইচ্ছে করো কিন্তু আওয়াজ ছাড়া। এই হলো আসল উপদেশ এই গল্পের।
বেশ ভালো লাগলো গল্পটা। তবে মাতলামির বর্ণনা করার জন্য নিজে অন্তত একবার মাতাল হওয়ার প্রয়োজন আছে। তার অভাব দেখা গেল।
বেশ ভালো গল্প।। মজা পেলাম।
বেশ মজার
বেশ মজার,ভাল লাগল গল্পটা
চমৎকার । জীবন থেকে হাসি হারিয়ে গেছে বল্লেই হয়। ,অথচ,চারদিকে ‘ রোজ কত কি ঘটে যাহা তাহা’; গল্পকারের চোখ, মন খুব সাদাসাপ্টা করে আমাদের সামনে ধরে দিয়েছে । বেশ !
গল্প টা খুবই পাঠযোগ্য। এতো সহানুভূতিশীল প্রতিবেশী পেতে সুকৃতি তে একটা ফ্ল্যাট চাই।
দারুণ লাগলো
চমৎকার গল্প। প্রতিটি চরিত্র লজিক মেনে এগিয়েছে।সুধাময়ের এই আচরণ স্বাভাবিক। সে রুঢ় নয়। তাই একবার অনুরোধেই মেনে নেয়। কিন্তু নেশা তো চলে যায় না সঙ্গে সঙ্গে। তাই খোঁজ নিতে যায় প্রতিবেশীর। সে মাল্টি ন্যাশানাল কোম্পানীতে উঁচু পদে। ম্যানারস তো তাকে শেখাতে হবে না। সকাল হতেই সে স্বাভাবিক। ভদ্রলোকের মতো আচরণ করে।
ছোট ছোট কয়েকটি টাচ ভালো লেগেছে। ‘ঠান্ডামাথার’ মানুষ প্রনবেশের কাছে পাঠাচ্ছেন স্ত্রীকে। সুধাময় নিজের নামের প্রতি ‘সুবিচার’ করে। সুধাময় দাঁড়িয়ে আছে উল্টোদিকের দেওয়ালে ভর দিয়ে।
উপভোগ্য গল্প।
চমৎকার গল্প। প্রতিটি চরিত্র লজিক মেনে এগিয়েছে।সুধাময়ের এই আচরণ স্বাভাবিক। সে রুঢ় নয়। তাই একবার অনুরোধেই মেনে নেয়। কিন্তু নেশা তো চলে যায় না সঙ্গে সঙ্গে। তাই খোঁজ নিতে যায় প্রতিবেশীর। সে মাল্টি ন্যাশানাল কোম্পানীতে উঁচু পদে। ম্যানারস তো তাকে শেখাতে হবে না। সকাল হতেই সে স্বাভাবিক। ভদ্রলোকের মতো আচরণ করে।
ছোট ছোট কয়েকটি টাচ ভালো লেগেছে। ‘ঠান্ডামাথার’ মানুষ প্রনবেশের কাছে পাঠাচ্ছেন স্ত্রীকে। সুধাময় নিজের নামের প্রতি ‘সুবিচার’ করে। সুধাময় দাঁড়িয়ে আছে উল্টোদিকের দেওয়ালে ভর দিয়ে।
উপভোগ্য গল্প।
Wonderful short story.
খুব সুন্দর গল্প লিখেছেন ।
😀😀😀ভাল লাগল