সেজেছি প্রেমের শুদ্ধ সাধক
দাঁড়িয়েছি এ পাড়ে ,তুমি ওপাড়ের বারান্দায়
পিছন ফিরে উড়িয়ে দিলে চপলতায়,
ললিত স্বর্ণ কাঁধের ট্যাটু,যেন ভোরের শিশির ধোঁয়া
কাঁঠাল চাঁপা, উড়ে এসেই বলছে
আমায় ভালোবাসো ।

মধুমাস, অশোক ছায়া, আসন পাতা
যে পাড়ে রয়েছি দাঁড়িয়ে ,সে পাড়ের এক দোকানি
ভাঙ্গা কলাইয়ের ডাল উড়িয়ে
বলছে আমায় নিয়ে চলো তোমার উপকূলে
কলাইয়ের ম ম গন্ধ উড়বে আশে পাশে ।

বাতাস ধুলো ,আবছা আলো, ঝাপসা দশদিক
বেরিয়ে আসছে এ কোন মুখচ্ছবি
বুকে রোমাঞ্চিত দ্বীপ,
দোকানি নয় যেন বারান্দার সেই কাঁঠাল চাঁপা
মূর্ছিত ভালোবাসায় ,অবিরত ধরছে জড়িয়ে গলা…

উনুনে কড়াই উঠছে ধোঁয়া
ডালের গন্ধে নিঃশব্দ দৃশ্যলোক
ভাবছি সবাই ঘুমোচ্ছে কেন?ওরাও ভুগছে
এই মৃতলোকে, বিশ্রী প্রেমের অসুখে, অনন্তকাল,

সভ্যতার আদিম লগ্ন প্রশ্রয়ে
জিভের উপর পোড়া মাংসের আয়ুষ্কাল…

দোকানি তোমারো তো কাঁধে ওই একই ট্যাটু
বলতো ওপারের বারান্দায় তুমিই কি ছিলে?

না , প্রেমের অসুস্থ শরীর জটিল সন্ত্রাস
আগুন ধরিয়েছিল ওরা, নগ্ন-ছাদে ,
শুদ্ধ সাধক ভয় পেও না
নরম হাত না পেলে কি, কেউ আর দগ্ধ হাতে
হাত রাখে।

ছেয়ে র‌ইল পোড়া গন্ধ নিঃশব্দে হারিয়ে গেল দোকানি
এভাবেই আমি এবং হাজার‌ও কাপুরুষ
ব্যক্তিগত গ্লানির ঘরে ক্রমশ উঠছি ঘেমে,

গিলছি ঢোক, তবুও গোলাপ হাতে চলছি দ্রুত..
শুনতে পাই খিলখিল হাস্যরসে মেতে উঠেছে
বিধানসভার কক্ষ।

চায়ের আড্ডা মাছের ফাৎনা লাল ফড়িং
চেঁচামেচি — আলবাৎ দাদু দিদুনের বিয়ে রিং
বড় মাছ বসে আছে গিলে, বলার নামটি নেই

রাগ এখন রসগোল্লা ,কেন বল্ললে আসরে
দেখলে তো এল‌ই না বান্ধবী অবশেষে
আসবে কি? লাগিয়েছে রং একটু আগে।
সবে আঁকা নতুন ছবি মেলে ধরেছে আকাশে
মাঝ রাত– কেঁদে উঠছে নির্বিবাদী পাখি
জলবেলায় নিরুদ্দেশ ফুটফুটে বান্ধবী —–

হলুদ বেড়াল কৌতুকে হাসে আলো কাঁপে ছবিতে ,
রুঢ় কথার চচ্চড়ি পাখির ছানা পেঁয়াজের ঝাঁঝে

চৈতালি পূর্নিমা গোলাপী আলো– গ্লাসে
পাবি দেখা পাবি, ডুবেছে ফাৎনা উড়ছে লাল ফড়িং
নাকছাবি ঝকমারি, ‘ মিলে না মিলে দোবারা ‘–

ছাপা মোটা হরফ , একটি পাতলা মেয়ে আঁধারে
অক্ষরের উপর অক্ষর, কাটছি দাগ বাহারে।


সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[পরম্পরা ওয়েবজিন, জুলাই ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]