নেপালের চায়ের দোকানে সাতসকালে নেতাই এসে হাজির। হাতে একটা পলিথিনের প্যাকেট।
আমাকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, এডার মদ্দি কী আচে বলোদিনি মাস্টের?
তাকিয়ে দেখি, একখানা প্যাড়া এর একখানা জিভে গজা।
আমি বললাম, তুই প্যাড়া-গজা চিনিস নে?
সে রেগে বলল, চেনবো না ক্যানো? সে তো আমি দেকেই চিনিচি। কিন্তু সমিস্যে অন্য জাগায়।
আমি অবাক হয়ে বললাম, এতে আবার কী সমস্যা?
পাগল চোখ গোলগোল করে বলল,আসলে হয়্যিচে কী, রেশন ডিলার বললে, এডা না কি দিঘার জগন্নাথ ধামের পেসাদ। সরকারের থে ফাউ বিলুচ্চে।
দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের মতো একটা নকল বিল্ডিং হয়েছে শুনেছি। কী সব ধামটাম নাম দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে উড়িষ্যার সরকার মামলাও করেছে। ওকে শান্ত করার জন্যে সেসব বৃত্তান্ত ছেড়ে বললাম, হ্যাঁ, জগন্নাথ ধাম যখন, প্রসাদই হবে হয়তো।


এবার সে রীতিমতো ক্ষেপে গেল। বলল, এই বুদ্দি নে তুমি ছাত্তর পড়াও? সরকার নিজিই বলচে, ওডা মন্দির না, কী সব ক্যাচাল ছেন্টার। কোনও পান্ডা নেইকো, পুরুত নেইকো, সরকারি বাবুরাই অফিসকাছারি ছেড়ে মিষ্টি বানানোর মালমশলা যুগাড় কত্তি বেইরে পড়েচে। তালি ওডা পেসাদ হয় কীরম করে?
এবার আমারই লজ্জিত হওয়ার পালা। সত্যিই তো, সরকারই বলছে ওটা মন্দির না, জগন্নাথ-কালচার সেন্টার। মানে আদতে একটা সরকারি অফিস। তা এতকাল শুনে আসছি সরকারি অফিসে বাঁশের তৈরি কাগজ ঢুকলে জনগণের জন্যে বাঁশ হয়ে বেরোয়, প্রসাদ বেরোনোর তো কথা না।
কিন্তু কথায় বলে, পাগলকে সাঁকো নাড়া দিতে নেই। তাই কথা ঘোরাবার জন্যে বললাম, মুফতে পাচ্ছিস যখন, চুপচাপ খেয়ে নে। অত ভাবাভাবির দরকারটা কী?
আমার কথা শুনে পাগল আরও রেগে গেল। তুর্কি নাচন নাচতে নাচতে বলল, এডা তুমি কী বললে মাস্টের! ক্যাচাল ছেন্টারডারে জগন্নাথ ধাম নাম দে একন না হয় পেসাদের নামে প্যাড়া-গজা দেচ্চে। এরপর ঝেদি মক্কার মসজিদির মতো এট্টা নকল মসজিদ বেনিয়ে কুরবানির বড়ো গোস্ত পাঠায়, তকন কনে যাবা?

আমি ফ্যাল ফ্যাল করে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। পাগলটা যে আসলে কে, সেটাই বুঝে উঠতে পারলাম না।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[পরম্পরা ওয়েবজিন, জুলাই ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]