পাথরের বুকে জমে না জল
তবু স্রোতের কাছে চিঠি রেখে আসি
যেখানে শব্দের শরীর নেই
শুধু স্পর্শহীন গুঞ্জন গড়ায় অনবরত

দুপুরেরা ফেটে পড়ে পাতাহীন বৃক্ষের তলায়
আমি তার নিচে বসে থাকি
গুনে দেখি পুরনো পলির হিসেব

হাতের তালুর রেখা বেঁকে যাচ্ছে অনস্তিত্বের দিকে

পথ নয়, ছায়ার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক দুর্বোধ্য ইঙ্গিত
যেখানে পায়ের শব্দ অপরিচিত শরীরে কাঁপন তোলে
ঘুম পেরিয়ে হাওয়া বাতাসের সাথে চলে
ভূত ও ভবিষ্যৎ হারিয়ে ফেলার পূর্বভাস

তুমি যে ডাকলে আমাকে
তা কি আমারই কোনো অতীত অংশ? নাকি
নিয়তিবিহীন কোনো সময়রেখার অন্ধ সিঁড়ি?

দুখিয়ার বুকে জমে না জল
শুধু স্পর্শহীন গুঞ্জন গড়ায় সময়ের দিকে অনবরত

হিংসে নয়, এখন তার নাম চুপ
যাকে নিয়ে দুপুর ভিজত এক সময়
সে আজ বাড়ি পাল্টিয়েছে —
ভেতরের…

ক্যালেন্ডারের পিঠে থামে না বয়স
ঘড়ি হাতে আমি বসে থাকি তবু

স্নানের কথা মনে পড়ে
পুরনো দুপুরের গন্ধ আর
চুলের ভেতর গুঁজে রাখা ভুলের কথা মনে পড়ে

রাত্রি আসে, বুকের ঠিক নিচে একটুখানি আলো রেখে
আলোর মুখে মুখ রাখার কথা মনে পড়ে

জ্বলতে থাকা নিঃশ্বাসে চাবুক খাই এখন নিজেরই হাতে
যাকে নিয়ে দুপুর ভিজত এক সময়
সে আজ বাড়ি পাল্টিয়েছে—
ভেতরের…

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের অন্য রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, জুন ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

5 1 ভোট
Article Rating
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
পংক্তির ভেতর মন্তব্য
সব মন্তব্য
Suraj Das
Suraj Das
1 year ago

শুভ সকাল।

দুটো কবিতাই পড়েছি। এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।
আগের ধারা থেকে আপনার কবিতার অঙ্গ-সৌষ্ঠব ও বিষয়ের বেশ পরিবর্তন লক্ষ্যনীয়।
দুটো কবিতাতেই কালচেতনার ঘনত্ব বেশ পুরু। প্রথম কবিতার শিরোনামেও সময়-চেতনা, তবে তা নিয়তিবিহীন, তবে তার সিঁড়ি অন্ধ। যে সময় ডেসটিনিশূন্য এবং অন্ধ তার ছোবল দীর্ঘ ও সবল হতে বাধ্য। সময়-চেতনার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কয়েকটি উদাহরণ : ক. শুধু স্পর্শহীন গুঞ্জন গড়ায় অনবরত;
খ. ঘুম পেরিয়ে হাওয়া বাতাসের সাথে চলে ভূত ও ভবিষয়্যৎ হারিয়ে ফেলার পূর্বাভাস;
গ. তুমি যে আমাকে ডাকলে
তা কি আমারই কোনো অতীত অংশ?
ঘ. দুখিয়ার বুকে জমে না জল / শুধু স্পর্শহীন গুঞ্জন গড়ায় সময়ের দিকে অনবরত।
দ্বিতীয় কবিতার অভ্যন্তরেও কালচেতনা। উদাহরণ কয়েকটা :
ক. যাকে নিয়ে দুপুর ভিজত এক সময়
সে আজ বাড়ি পাল্টিয়েছে
খ. …. ক্যালেন্ডারের পিঠে থামে না বয়স / ঘড়ি হাতে আমি বসে বৃথা তবু

তবে উল্লেখ্য যে,আপনার সাম্প্রতিক কবিতার কাঠামো অনেকটা পরিবর্তিত। এটা ইতিবাচক।
ভালো থাকুন।কবিতাই হোক জীবনের মৌল বিশ্বাস।
_____________
সূরজ দাশের উপরের দুটো কবিতা পাঠ করার পর লিখেছেন : বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক শোয়েব শাহরিয়ার।