
তুমি দেখছিলে
হয়তো ডেকেছিলে, আমি শুনতে পাইনি,
খাবার পরে থালা বাটি, ধুচ্ছিলাম বেসিনে …
অনেক কথা তখন ওলোটপালট জট বাঁধছিল।
সব কথা লেখা যায় না, অনুভব করতে হয় …
আমি ভাবছিলাম তোমার
পরিস্কার পরিস্কার বাতিকের কথা,
অথচ আমার মতো অপরিস্কার কে
তুমি কেমন আসন দিয়েছ…
এ যেন ঠাকুরের কাছে গিরিশের প্রাপ্তি।
অন্যমনস্কভাবে ঘাড় ঘোরাতেই দেখি , তুমি দাঁড়িয়ে ,
কালো রঙের পরিধানে দূরত্ব অনেক…
জিজ্ঞেস করলাম, ওমা ! কতক্ষণ ?
তুমি বললে, অনন্তকাল…
এতোদিন আমি
তোমার মনের উঠোন, দালান ও দেউড়ি তে,
তুমি দেখছিলে, সব কিছু ই চলমান
এই মানুষটা একা হতে হতেও বহুধা…
তোমার পরিচিত রসুই ঘরে রন্ধন অব্যাহত
পরিচ্ছন্নতা অব্যাহত…
আচ্ছা বলো তো
কেমন লাগছিল আমাকে উল্টো দিক থেকে ?
তুমিই বলবে…
জানতেও পারিনি কখন এসে দাঁড়িয়েছ ,
তুমি শুধু বললে অনন্তকাল…
আমি ভাবছিলাম আগামীকালের কথা।

না বলা কথারা
কত কিছু ত “বলা হয়ে ওঠেনি”
ভেতর ভেতর তুষের আগুন বহন করেছি,
তবু বলতে পারিনি,
কত ফাল্গুন এমনি এমনি চলে গেল…
ছোটোবেলায় বাবা বলতেন,
‘একটা কোট-প্যান্ট তৈরী করাবি
স্যুট না কী যেন বলে, ওই রকম’
টানাপোড়েনের সংসারে বলেছিলাম,
“আমার ভালো লাগে না ওসব”।
সত্যিটা কখনো বলতে পারিনি…
পারিবারিক আত্মীয়ারা যখন
প্রিয়জনের মৃত্যুর পর ভুত-প্রেত ভয় নিয়ে মশগুল,
আমি প্রতিবাদ করার পরেও তিরস্কৃত…
আমার কান্না দেখে, মা বলেছিল
“তোর খুব অপমান লেগেছে, না রে ? “
ফুৎকারে হেসে উড়িয়ে দিলাম, ধ্যাৎ…
সত্যিটা মা কে বলিনি।
বহুজনের সঙ্গে হাঁটলাম
ভাবনার ‘পরত’ গুলো খুলতে পারিনি।
না পেরেছি, অসাধু রাজনৈতিক লোকটাকে
অথবা ক্রমাগত পাল্টি খাওয়া সাহিত্যিক কে
সরাসরি বলতে, “তুমি চোর, তোমরা দুষ্টু,
আমাদের বৃত্তে, আমাদের আসরে তুমি বেমানান”…
বলতে পারিনি…
ভেতর ভেতর জ্বলে পুড়ে খাক হয়েছি।
যখন এক পশলা বৃষ্টির পর স্কুল ফেরার পথে
তুমি ছিলে সিক্ত বকুল…
শরতের দহনে উচ্চকিত হয়ে বলতে পারিনি,
আমি ভালবাসি।
না পেরেছি
আরোও বহু অঘোষিত যন্ত্রণা কে মুক্তি দিতে।
আমার মা ভালোবাসতো বাড়িতে রাস্তার ধারের
ঘরে বসে মানুষ দেখতে,
এখন আমার বাড়িতে অনেক জানলা-বারান্দা,
মা কে বলতে পারিনি, একটু বসো , রাস্তা দেখো…
মা এখন বৃত্তের বাইরে…
বলা হয়না অনেক কিছুই, পাথর চাপাই থেকে যায়
সবুজ ঘাস ক্রমশঃ সাদা,
স্যাঁতসেঁতে মাটিতে অঙ্কুরোদগম হয় না।

