
বই ও বুলডোজার
মা বলতো :
বই পড় । বইকে প্রণাম কর।
বইয়ের পাতায় মা-সরস্বতীর অধিষ্ঠান।
বই যত্ন করে তাকে সাজিয়ে রাখ।
বই মানুষের চিন্তা ভাবনা
পাল্টে দিতে পারে।
পেটের ক্ষুধা মেটায় খাদ্য।
আর মস্তিষ্কের ক্ষুধা মেটায় বই।
সভ্যতাকে ধ্বংস করতে
খাদ্য সংকট নয়, চাই চিন্তার সংকট।
যারা সভ্যতার অগ্রগতি ব্যাহত করতে চায়
তারা বই নিষিদ্ধ করে, বই ধ্বংস করে, বই পোড়ায়।
বুলডোজার ধ্বংস করে বেআইনী নির্মাণ,
আর বই নির্মাণ করে চিন্তা চেতনা,
বই পথ দেখায়,
বই নির্মাণ করে জীবন।
বই কোন বেআইনী নির্মাণ নয়।
বুলডোজার থেকে বই কে রক্ষা করো।
রক্ষা করো চিন্তা চেতনা,
রক্ষা করো জীবন।
বুলডোজারের সঠিক ব্যবহারও লেখা আছে বইয়ে।

জীবনের মুখ
আমি নেই
তোমাদের মধ্যে এই পুজোয়,
এই আলোর মেলায়, এই প্রতিমা দর্শনে,
নতুন পোশাকে, পুজোয়, পুষ্পাঞ্জলিতে
আমি আর নেই।
অথচ আমি ছিলাম দু-দিন আগেও
কতকিছু ভেবেছিলাম
পুজোর কোনদিন কি কি পরবো,
কোথায় কোথায় যাবো, কি কি খাবো,
না, সে সব আর কিছুই হল না।
পোষ্টমর্টেমের পর আমাকে আনা হয়েছে
শশ্মানে চত্ত্বরে।
আমার পরিবার বিভ্রান্ত।
একদিকে জ্ঞান হারাচ্ছেন মা,
অন্যদিকে শোকে নির্বাক বাবা আর
জলে ভেজা চোখ দাদার হাতে
পঁচিশ লাখ টাকার চেক।
সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি।
আমাকে এখন ঘিরে রয়েছে পুলিশ,
রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা
আর টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা।
আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাকে
তোলা হবে চুল্লিতে।
সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন :
— দায় কার ?
নেতা বললেন :
— আমরা মর্মাহত। এটা দূর্ঘটনা।
আমরা এর থেকে শিক্ষা নেবো।
এখন রাজনীতির সময় নয়।
আমরা পরিবারের পাশে আছি, থাকবো।
আমার মা মূর্ছিত।
বাবা পাথর। হাতে পঁচিশ লাখ টাকার চেক।
দাদার অশ্রু মাখা চোখে
সরকারি চাকরির হাতছানি।
শুধু আমার স্বপ্ন গুলো পদপিষ্ট হয়ে গেল,
দেখতে পেল না জীবনের মুখ।

