এক একদিন বড়ো ইচ্ছে হয়
আমার দুঃখ বেদনা সব খুলে তোমার দু হাতে রেখে আসি, তুমি সুখ আর
আনন্দের জলে তা ধুয়ে আমার হাতে ফিরিয়ে দেবে, কিন্ত তা আর হলো কই?

আমি কিছুই শিখিনি, কিছুই মেনে নিতে পারিনা। আমার দুঃস্বপ্ন আমাকে পরিত্রান দেয়না ,
যদি সব লন্ডভন্ড করে বেরিয়ে পড়তাম লোকালয় ছেড়ে
গ্ৰাসাচ্ছাদন চাইতাম না ,বৃষ্টি ভেজা
দুপুর চাইতাম না, নির্ধারিত দিনক্ষন
চাইতাম না।

বদ্ধ জীবন থেকে হেঁটে যেতাম শান্ত সেতুপথে।‌‌ অনভ্যস্ত খালি হাত বাড়িয়ে দিতাম

দিগন্তের দিকে যেতে হলে চলে যেতাম কোনো ধারাবহ রেখা ধরে।

মমতা আর ত্যাগে তৈরী হওয়া শরীর পড়ে আছে নিভৃত রাত্রি কণায়,
অনুতাপটুকু করুণার মতো মিশে রয়েছে আমার হৃদয়তাপে, নিখাদ পরাজয় মেখে।
আর উপলব্ধিটুকুই-বা বাদ দিই কি করে, ক্ষত চিহ্নে ভরে আছে অবাধ প্রতীক্ষা,
ওই স্তব্ধ সংকীর্ণ ঘরে
পড়ে রয়েছে এক অতীত।
যেখানে ছায়া ফেলছে না, আলো জ্বলছেনা, সেখানে ফিরে যাওয়া।
ধ্যানমগ্ন শূণ্যতায় যেখানে কোনো
অস্তিত্বের বা শব্দের চলাচল নেই
শুধু নিরিবিলি দৃশ্যপট জেগে আছে।
ছোটো ছোটো মোচড়
মুহূর্তের ভুলে ভেঙে যাচ্ছে
একটা নিস্তব্ধ রাত, ছিন্ন হয়ে পড়ে
লঘুতর স্বপ্নের ভিতর,
মর্মান্তিক অশরীরী মায়া
মাথা খুঁড়ে মরে নির্ভার বাতাসে।

কিছুদিন আগে শরীর ধুয়ে ফেলেছি আনন্দ দিয়ে, ভিজে শরীরে নির্মল হাওয়ায় মাতামাতি গোধুলি আলোয়
শোক, দুঃখ উবে যায়। কদিন পর আবার শ্রাবণের অঝোর পতন।
জলা জমিতে মেঘের ঘন ছায়া
নদীর বাঁকের কাছে ভেজা গন্ধ,
আমি অপেক্ষায় থাকি,যেখানে
নির্জনতা এক সুখের বাসা তৈরি করেছে
জীবনের মূল স্রোতটি তো আনন্দের,
সেখানে কারা যেন আসে সেই আনন্দের ভাগ নিতে, দুদন্ড দাঁড়ায়্য,
ঠোঁটে করে নিয়ে যায় ভেজা আনন্দ।

আকাশ আজ সেজে উঠেছে কাজলে আর কুমকুমের রং এ,পথ চলতে চলতে খুঁজে নিয়েছে শ্রাবণের উদাসীন মেঘকে,প্রবল আকুতিতে ও বলে উঠেছে”ও মেঘ তুমি থেকোনা অভিমানে,বৃষ্টি শোনাও যেওনা নির্জনে* যেখানে দাঁড়িয়ে আছো সেখানে একসময় আমিও থাকতাম ।
তোমার শব্দ নেই,ভুলে গেছ সব,মাটির গন্ধ তোমাকে আর কাঁদায় না,এই স্থবির দৃশ্যে কিভাবে বাঁচবে তুমি?তীব্র গোপন কোন কান্নার জলে শোকের ছায়া পড়ছে,এই দুঃসময়ে হারিয়ে ফেলোনা নিজেকে,হাত রাখো ভালবাসার দরজায়।পারাপার করো নিজেকে ।

ইচ্ছে করে খুলে রেখেছি দুই চোখ,
অন্ধ গলির চার দেওয়ালের ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে পোড়া কাঠ আর দিগন্তের বেহিসেবী বৈভব।
কোলাহল হঠাৎ থেমে যায় এক মুমূর্ষ
বিকেলে। সকলকে এড়িয়ে ডুব দিই ঐ মৃত্যূ সমান গলিপথে। অন্ধকারের আয়নায় যেন ভেসে ওঠে তার সুদূর অতীত । মনে হয় কেউ যেন বসে আছে আমার পাশটিতে, নিশ্চুপে
শুনতে চাইছে আমার কথা,দেহ টলটল হৃদয়ের বিষাদগাথা । এক আধ্যাত্মিক সংকেত স্পষ্ট হচ্ছে অন্ধকারের বিকেলে,দুলে উঠছে ধ্বনি
“বলো হরি, হরি বোল”।

মেঘ ভেঙ্গে অপক্ব সকাল ঘুরে ফিরে যায়,বলে যায় মামুলি কিছু কথা। পথের পাশে কিছু না ফোঁটা ফুল ফোটে,তখন বড়ো ইচ্ছে হয়,খোলা জানালার পাশে দাঁড়াই ,ভাবতে থাকি
কেমন করে সুখ মেরামতি হবে,এই গতানুগতিক বারো মাসকে উলটে পালটে ফিরিয়ে নিয়ে যাব এক অমর্ত্য আশ্রয়ে , শ্বাসরূদ্ধ হয়ে থাকি, দু একবার মধুরতম ঘটনা কিছু যেন ঘটে।

বাতাসের দেওয়াল লিখন যেন আমার পরিচয় রেখে যায় নিরবধিকাল ।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের পূর্ব রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, এপ্রিল ২৬, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]