
বনধূন
এদেশ টিলার পরে টিলা আঁকা জঙ্গলের রেখা
মধ্যে কটি মায়াগ্রাম শ্যামল আলোয় চিরস্থির
লাল সুতো-পথ বেঁকে চলে গেছে পদচিহ্ন এঁকে
মলানদিঘির পরে সামান্য এগোলে পাবো জল
জলের বিচিত্র স্রোতে মৃদু দোলে অজয়ের সাঁকো
ওপারে বাউল-বউ একমনে একতারা নিপুণ বাজান
দেশকাল বেজে ওঠে, সরে যায় যুদ্ধবাজ মন
দীর্ঘ শালের জঙ্গল আর একা
তিনি বনধূন
পারাপারে সুর শোনে গোটা বর্ধমান ও বীরভূম

নুড়ি
আজন্ম দেখেছি এই সব, কারখানার কালি ওড়ে
দূরে চিমনির ধোঁয়ারা, কিছুটা মেঘের পাশে চিল
মুখ নিচু ওড়ে, মনে হয় প্রাণ নেবে এভাবেই
এতটা ধারালো, বিঁধে যায় বার বার যত সরি
ছাড়ালে ছাড়াতে পারি ভেবে ছুটি, পিছনে শৈশব
ওরে যাস না, মায়ের কন্ঠ ধেয়ে আসে, হাত ধরে
হাতের বাঁধন ছেড়ে দিলে বুঝি জীবন যুদ্ধই
শুধু আদরের ধুলোবালি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে
মোরাম নুড়ির মতো তুলে নিই মায়ার আশ্বাস

