
শূন্য

১
শূন্য বড় দুঃখে আছে, বড়ই মনমরা। যেখানেই যায় সেখানেই উপহাস, ব্যাটা শূন্য তোর আবার কি কথা? তোকে তো দুরবীণ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়না। শূন্যের আবার দাম ? আরশোলা হল পাখি?
এই রকম মনখারাপের বিকেলে শূন্য গেল ময়দানে একটু খোলা হাওয়ায়। তা সেখানে কি আশ্চর্য, শূন্য দেখল, সে একা তো নয়! আরও কত শূন্য এসেছে সেখানে। হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ শূন্য। মাঠ ভরে গেছে শূন্যের ভীড়ে, উপচে পড়েছে মাঠ। আর তখনও লাইন করে দলে দলে আসছে শূন্যের দল। কেউ চলতে পারছেনা, তাকে কাঁধে তুলে নিয়েছে আরেক শূন্য, কেউ একটু জবুথবু, তার হাত ধরে এগিয়ে নিচ্ছে অন্য এক শূন্য। গাছের তলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে শূন্যের দল, সেখানে গিয়ে বসল আমাদের শূন্য। পাশের দল থেকে শূন্যরা হৈ হৈ করে উঠল, এস দাদা, একটু মুড়ি খাবানি? হাতে হাতে ঘুরছে ঘুগনি মুড়ি। ঘুগনি দিয়ে মেখে মুড়ি খেতে খেতে আমাদের শূন্যের মন খারাপ নিমেষে উধাও। এত শূন্য সঙ্গে থাকতে আবার মন খারাপ? এদিকে শূন্যের ভীড়ে মাঠের আশেপাশে চলাফেরার জায়গা নেই।
যারা শূন্য খুঁজে পেতনা তারা ভ্রু কুঁচকে তাকাচ্ছে … আর বলছে, গাধার কাণ্ড দেখো, শৃন্যের দল কাজ ফেলে, রোজ ছেড়ে পালে পালে চলে এসেছে মুড়ি ঘুগনি বেঁধে পিকনিকে। এক প্লেট ডিম্ভাত পর্যন্ত জোটেনি। এটা যে বলল, তার দোসর আবার ঠোঁট উলটে বলছে, আরে দুঃশ্লা যতই করুক, শূন্য আখির শূন্যই রহেগা ভাই !!
আর ঠিক তখনই …
ঠিক তখনই কালোকুলো এক শূন্য, শূন্যে লাফিয়ে উঠেছে। গলায় যতটুকু পারে জোর দিয়ে চিৎকার করে উঠল …
সাথী, আমারা দলে দলে, পালে পালে শূন্যের দল এখানে, এই ময়দানে এসেছি। নজর না কেড়ে আর উপায় নেই। ক্ষেত্র প্রস্তুত, এখন শুধুই দরকার একটা ওয়ান। একটা ঋজু শিরদাঁড়া, একটা এক। সেটিকে আমাদের, শূন্যদের সারিবদ্ধ কাতারের ঠিক বাম দিকে বসাতে পারলেই আমরা শূন্য থেকে সৈন্য।
শূন্য থেকেই সবকিছুর শুরু!


শূন্য থেকেই সব কিছু শুরু
আমরাও এটা মানছি গুরু!