মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য বন্ধের সিদ্ধান্ত বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।এ বছর জানুয়ারিতে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ৯০ দিনের জন্য সমস্ত বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন ইউএস আই ডিএ-কে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন সংস্থা, যার কাজ বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিক ও মানবিক সাহায্য দেওয়া)। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ফেডারেল ব্যয় কমানো।

ইউএসএ আই ডি-এর বিলুপ্তি

ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১লা জুলাইয়ের মধ্যে ইউএসএআইডি-কে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে, যেসব কাজ প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাকি কাজও বন্ধ হবে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইউএসএআইডি-এর ৮৬% চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের নথি অনুযায়ী, পূর্বে ইউএসএআইডি ৫,৩৪১টি বৈদেশিক সাহায্য প্রকল্পে অর্থায়ন করত, যা বর্তমানে কমে ৮৯৮টিতে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের নথি অনুযায়ী (২০২৫), বৈদেশিক সাহায্য বার্ষিক ৪০ বিলিয়ন থেকে ৮.৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এই বিপুল অর্থ হ্রাস স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বাস্থ্যখাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে এবং অপ্রত্যাশিত মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপর প্রভাব ও পোলিও নির্মূল কর্মসূচিতে ধাক্কা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর প্রধান দাতা দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই দেশ তহবিল বন্ধ করায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে হু-এর আর্থিক স্থিতিশীলতায়। ফলে মহামারী মোকাবিলা ও বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদার করার মতো হু-এর জরুরি কাজ তহবিলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে। থমকে গেছে স্বাভাবিক কার্যক্রমও। পোলিও টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম প্রধান সাহায্যকারী দেশ। ইউএসএআইডি-এর তহবিল বন্ধ হওয়ায় হু-এর পোলিও নির্মূলের কাজ বিপাকে পড়েছে। অর্থের অভাবে পোলিও টিকা ক্রয় ও বিতরণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। রোগের নজরদারিও দুর্বল হতে পারে। অনুমান করা হচ্ছে, প্রায় ১১ কোটি শিশু টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। টিকাদান ব্যাহত হলে পোলিও রোগ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ অতিরিক্ত শিশু পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হতে পারে। এর ফলে, ২০২৯ সালের মধ্যে বিশ্বকে পোলিওমুক্ত করার লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে। যদিও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থা হু-এর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসও স্বল্প সময়ের জন্য কিছু অর্থ বরাদ্দ করেছে। তবে এই মুহূর্তে পাওয়া সাহায্যই যথেষ্ট নয়। পোলিও নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি এবং নিয়মিত আর্থিক সাহায্য দরকার।

গাভি, পেপফার ও গ্লোবাল ফান্ডের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ইউএসএআইডি-এর তহবিল বন্ধে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।গাভি বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে শিশুদের জন্য সস্তায় পোলিও, হাম, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস-বি-সহ অন্যান্য মারাত্মক রোগের টিকা সরবরাহ করে এবং টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করে। যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল প্রত্যাহার বহু শিশুকে জীবন রক্ষাকারী টিকা থেকে বঞ্চিত করত, যার ফলস্বরূপ আগামী পাঁচ বছরে আনুমানিক ৭.৫ কোটি শিশু নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়তে পারত এবং প্রায় ১২ লক্ষ শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হত। তানজানিয়া ও সোমালিয়ার মতো দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সম্পন্ন দেশগুলি আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, এই তহবিল স্থগিতাদেশ তাদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল। তবে, জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন গাভির জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছে। মার্কিন কংগ্রেস গাভির কার্যকলাপের জন্য ৩০০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছে, তবে তা কেবল ২০২৫ সালের জন্যই প্রযোজ্য। দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সহায়তা এখনও অনিশ্চিত। ২০৩০ সাল পর্যন্ত গাভিকে অনুদান দেওয়ার কথা থাকলেও, ট্রাম্প প্রশাসন তা বন্ধ করার কথা আগেই জানিয়েছে।

বাইডেন প্রশাসন ২০২৬-২০৩০ সালের জন্য গাভির তহবিল বাড়িয়ে ১.৫৮ বিলিয়ন ডলার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, সেই অনুমোদন নির্ভর করছে মার্কিন কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের ওপর । যদিও মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, ২০২৫ সালে গাভির তহবিলের সংস্থান হলেও, আগামী দিনে অর্থের সংকুলান কিভাবে হবে সেই অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ (পেপফার) বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে এইচআইভি রোগীদের চিকিৎসা ও প্রতিরোধের জন্য প্রতি বছর বিপুল অর্থ সাহায্য করে। কিন্তু পেপফারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। কারণ, এর তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং নতুন করে তহবিল পাওয়া যাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে, যেসব দেশে পেপফারের সাহায্য পৌঁছায়, সেখানকার লক্ষ লক্ষ এইডস রোগী জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। মার্কিন কংগ্রেস পেপফারের জন্য কিছু অর্থ বরাদ্দ করায়, সংস্থাটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কাজ চালাচ্ছে। তবে, এর মেয়াদ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। গ্লোবাল ফান্ডও এইডস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। অর্থাৎ পেপফার ও গ্লোবাল ফান্ড একে অপরের পরিপূরক। ইউএসএআইডি গ্লোবাল ফান্ডকেও অর্থ সাহায্য করত। এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে, গ্লোবাল ফান্ডকে আগের মতো অর্থ সাহায্য করা হবে না। ফলে, গ্লোবাল ফান্ড কম টাকা পেলে, বিশ্বজুড়ে এই রোগগুলোর মোকাবিলা করা কঠিন হবে। ২০২৫ সালের ১৩ই এপ্রিল পর্যন্ত কিছু আর্থিক সহায়তা চালু থাকলেও, নতুন করে তহবিল অনুমোদিত না হওয়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পেপফার ও গ্লোবাল ফান্ডের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যাপী এইডস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইকে কঠিন করে তুলবে।

জরায়ু ক্যান্সার ও মাঙ্কিপক্স মোকাবিলায় বাধা

ইউএসএআইডি জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসা ও প্রতিরোধের জন্য যে টাকা দিত, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে জরায়ু ক্যান্সার চিকিৎসা ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। কেনিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে, কারণ এখানে জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে মার্কিন সরকার সরাসরি (ইউএসএআইডি, পেপফার, সিডিসি) ও পরোক্ষভাবে (গাভি ও গ্লোবাল ফান্ড) অর্থায়ন করে। দেশটিতে স্ক্রিনিং ও প্রাক-ক্যান্সারাস চিকিৎসার জন্য বার্ষিক ৩.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ঘাটতি দেখা দেবে। এইচপিভি টিকাদানের প্রধান সহায়তাকারী সংস্থা গাভির তহবিল বন্ধের পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। কেনিয়ার মতো দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, লাইবেরিয়া, আফগানিস্তান, সুদান, উগান্ডা ও ইথিওপিয়ার মতো ইউএসএআইডি-এর ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতে জরায়ু ক্যান্সারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। ইউএনএফপিএ-এর সহায়তাপ্রাপ্ত আফগানিস্তান, চাদ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, গাজা ও হাইতির মতো সংকট-বিধ্বস্ত দেশগুলোতেও মাতৃস্বাস্থ্য পরিষেবা ও জরায়ু ক্যান্সার স্ক্রিনিং ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই তহবিল সংকোচনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে জরায়ু ক্যান্সার বাড়বে এবং মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

শুধু তাই নয়, সাহায্য আসা বন্ধ হলে, বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর মাঙ্কিপক্সের মতো উদীয়মান সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাবে। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে, যেখানে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ বেশি, সেখানে আর্থিক সাহায্য কমলে রোগ নজরদারি ও রোগ নির্ণয়ের মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে না। এতে রোগ আরও ছড়িয়ে পড়বে, এমনকি এক দেশ থেকে অন্য দেশেও চলে যেতে পারে। সাময়িকভাবে এই সাহায্য বন্ধ করা হয়েছে। আবার হয়তো সাহায্য দেওয়া শুরু হবে, কিন্তু কবে থেকে তা নিশ্চিত নয়।

অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে বিপর্যয়

ট্রাম্প প্রশাসনের এই তহবিল স্থগিতাদেশ বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মসূচিকে দুর্বল করেছে। ফলে, লক্ষ লক্ষ মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। তহবিল বন্ধ হওয়ায় এইচআইভি, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা প্রতিরোধের মতো জীবন রক্ষাকারী বহু প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। ইয়েমেনের অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত রেডি-টু-ইউজ থেরাপিউটিক ফুড (আরইউটিএফ)-এর চুক্তি বাতিল হয়েছে, সেনেগালে ম্যালেরিয়া প্রকল্প এবং কেনিয়ার খরা-বিধ্বস্ত এলাকায় খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ (পেপফার) এবং মার্কিন-সমর্থিত ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা কর্মসূচি কার্যত নির্মূল হওয়ার পথে। ইউএসএআইডি-এর তহবিল বন্ধের কারণে জাম্বিয়া ও কেনিয়ার মতো দেশগুলোতে এইচআইভি ও যক্ষ্মার ওষুধের ঘাটতি দেখা দেবে, পাকিস্তান ও ইউক্রেনে যক্ষ্মা প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যাহত হবে। ইথিওপিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো দেশে স্বাস্থ্যকর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে কমিউনিটি স্বাস্থ্য পরিষেবা দুর্বল হয়ে পড়বে। ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়ার মতো মানবিক সংকটে জর্জরিত দেশগুলোতে স্বাস্থ্য পরিষেবার অবনতি ঘটবে। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে টিকাদান ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের মতো অপরিহার্য কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা মৃত্যুর হার অনেক বাড়িয়ে দেবে। এমনকি ভারতেও এইচআইভি, যক্ষ্মা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।

স্বাস্থ্য গবেষণায় বড় ধাক্কা

ইউএসএআইডি-এর তহবিল বন্ধ হলে স্বাস্থ্য গবেষণায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ (এনআইএইচ) বিশ্বের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র। সংস্থাটি ক্যান্সার, সংক্রামক রোগ, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং ইমিউনোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে অত্যাধুনিক গবেষণা পরিচালনা করে থাকে। এছাড়াও, মানুষের শরীরে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও নিরাময়ের উপায় এবং বংশগতি ও জিনের গঠনসহ অন্যান্য মৌলিক গবেষণাগুলিও এনআইএইচ-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। এই গবেষণাগুলির জন্য এনআইএইচ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও অনুদান প্রদান করে থাকে।ট্রাম্প সরকার যখন এনআইএইচ-এর গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থ সাময়িকভাবে বন্ধের প্রস্তাব করেছিল, তখন বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা সমস্যায় পড়েছিলেন। বর্তমানে, ইউএসএআইডি যদি তাদের আর্থিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নেয়, তবে এনআইএইচ-এর পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষত এইচআইভি, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া এবং কোভিড-১৯-এর মতো মারাত্মক সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গবেষণা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, তহবিলের অভাবে অনেক মেধাবী গবেষক তাদের কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন, যার ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে। এই পরিস্থিতিকে “মেধা পাচার” হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যেখানে সুযোগের অভাবে বিজ্ঞানীরা অন্য ক্ষেত্র বা দেশে চলে যেতে বাধ্য হবেন, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতিকে বিলম্বিত করবে।

পরিশেষে বলার, ট্রাম্প প্রশাসনের আকস্মিক তহবিল স্থগিতাদেশের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এর ফলে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহায়তাকারী অন্যান্য সংস্থা কঠিন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় অর্জিত অগ্রগতি হুমকির মুখে। দুর্বল দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার পরিণতিতে অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[পরম্পরা ওয়েবজিন, জুন ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

5 1 ভোট
Article Rating
3 Comments
Oldest
Newest Most Voted
পংক্তির ভেতর মন্তব্য
সব মন্তব্য
Dr.Amitava Gupta
Dr.Amitava Gupta
11 months ago

দেবাশীষ নিথিয়ার এই আর্টিকেলটি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। অনেক তথ্যসমৃদ্ধ এই আর্টিকেল। ওনার এইরকম লেখা আপনাদের ম্যাগাজিনে আরো পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

Dr.Amitava Gupta
Dr.Amitava Gupta
11 months ago

দেবাশীষ মিথিয়ার এই আর্টিকেলটি পরে অনেক কিছু জানতে পারলাম। অনেক তথ্যসমৃদ্ধ এই লেখা। আপনাদের ম্যাগাজিনে ওনার আরো অনেক আর্টিকেল পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

দীপক নাগ
দীপক নাগ
11 months ago

তথ্যবহুল ও সহজবোধ্য লেখা । উপকৃত হলাম । মনে হচ্ছে আমেরিকা-নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে মানুষের মুক্তি নেই । লেখককে ধন্যবাদ ।