
আতরগন্ধ
একটা বয়স ছিল যখন ছন্নছাড়া দুপুরগুলো ভালো লাগত,
বিষন্ন বিকেলে নিজস্ব ভাবনা স্তব্ধ হলে, মনে হত সবকিছু মূক ও বধির।
আরও বড় হলে বুঝলাম
ঢলঢলে চাঁদের আলো প্রান্তরে ছড়িয়ে গেলে
ভালোবাসা আর বিষাদের মধ্যে
কৌণিক দূরত্ব ক্রমশ দীর্ঘ হয়ে যায়…
আর প্রতিটি কোমল নিষাদের সাথে মিশে যায় মধ্যরাত…
আলোর সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসে রূপকথা
আতরগন্ধ লেগে যায় নদীর স্রোতে।
ভয়ঙ্কর এই আগ্রাসী রাত আমার সব কবিতা দগ্ধ করার আগে
নদীর জলে স্নান করে আতরগন্ধ মেখে নেব সমস্ত শরীরে…

নাচঘর
কঠিন সময় এসে গেছে…
রৌদ্রের তাপ ছিলো অথবা ছিলোনা
তবু ছায়ায় পুড়ে যাচ্ছে তোমার মুখ…
কোথায় আশ্রয় নেবে তুমি ?
উষ্ণায়নে সবুজ ধ্বংস হবার সময়ে
স্বার্থপর গাছগুলো লুট করছে ক্লোরোফিল।
চারিদিকে এমন দূর্বিপাকের মধ্যেই
প্রত্নসময়ের ডাকঘর থেকে চিঠি এসেছে
বেওয়ারিশ সব লাশ শনাক্ত করতে হবে, ওবি ভ্যানে বোঝাই করছে ধর্ষিতাশরীর।
কবরের পাশওয়ার্ড ভেঙেচুরে সব কান্না বেরিয়ে মিশে যাচ্ছে হাওয়ায়…
সুনামীর পরে দেখা যাচ্ছে জলের সঙ্গে
মিশে আছে লিপস্টিকের রঙ।
হে ঈশ্বর, পাহাড়ের দাদাগিরি শিখর থেকে
নেমে এসে দেখো, ধ্বংস বুকে নিয়ে
কেমন করে মানুষ চলেছে রাজপথে, মোমবাতি মিছিলে সারিসারি মানুষের মুখ…
আর কিছু ভাগ্যবান আশ্রয় নিয়েছে
পৃথিবীর অলৌকিক নাচঘরে


আদিম ভালো লাগলো।
বিশেষত প্রথমটি।
আতরগন্ধে ম ম হলাম।