শেষ পর্যন্ত জাহাজে যাওয়া হলোনা। ভাগ্যের দোহাই দিয়ে লাভ নেই। ভেবেছিলাম কলকাতা থেকে পোর্টব্লেয়ার যাবার সময়টা জাহাজে যাবো কারণ উন্মুক্ত সমুদ্রের উপর দিয়ে জাহাজ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অন্তত একবার হবে কিন্তু সম্ভাব্য সমুদ্রপীড়ার ভয়ে আমরা দুজনেই সেরকম পরিকল্পনা নাকচ করলাম। তার আগেই লোকমুখে শুনেছিলাম সমুদ্রপথে জাহাজে বেশ ভালোরকম রোলিং হয়। অতএব সেই নব্বইয়ের দশকে একমাত্র ভরসা সবেধন নিলমনি ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের প্রতিদিনের একটিমাত্র উড়ানে, যেটা আবার ছাড়তো কাকভোরে এবং যাত্রীদের হাজিরা দিতে হতো ভোর চারটার সময় । অগত্যা সেটাতেই যাবার জন্য তৈরি হলাম।
সেই সময় অভ্যন্তরিন উড়ানেও বেশ ভালো খাবার পরিবেশন করার রেওয়াজ ছিলো। তাছাড়া টেক্অফের কিছুক্ষণ পরেই অনেকরকম স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা। গরমজলে ভিজিয়ে নিংড়ে দেওয়া ছোটো তোয়ালের আদর, মেঘবালিকার মাপা একটু মিষ্টি হাসির সঙ্গে ট্রেতে সাজানো হরেকরকম লজেন্স মুখের সামনে মেলে ধরা ইত্যাদি। তারপর সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রাতরাশ অথবা লাঞ্চ/ডিনার।
সেইসব যুগ আর নেই। এখন অন্তত ইকোনমি ক্লাসে আদর আপ্যায়নের এসব আদিখ্যেতা ও খাবার দেবার রেওয়াজ বন্ধ। খাবার অবশ্য পাওয়া যায় তবে নগদ পয়সার বিনিময়ে। ফ্যালো কড়ি, মাখো তেল। অবশ্য একই এয়ারলাইন্সের উড়ানে ঘনঘন যাতায়াত করে যারা “frequent traveler” এর তকমা অর্জন করেছে তারা একটু বিশেষ সুবিধা পায়।
কলকাতা থেকে রওনা হয়ে আড়াইঘন্টা পরে
পৌছোলাম পোর্টব্লেয়ার। সকাল আটটা নাগাদ। সেখানে আমাদের সেইসময় আন্দামান-প্রবাসী কন্যা, জামাতা ও নাতি হাসিমুখে দাঁড়িয়ে । অন্নদাশঙ্কর রায়ের সঙ্গে লন্ডনের শুভদৃষ্টি হয়েছিলো গোধূলি লগ্নে। কিন্তু আমিতো আন্দামানে পৌঁছোলাম সকাল আটটায় যখন বোধহয় শুভদৃষ্টির কোনো লগ্ন থাকেনা। তাই কাব্যকরে কিছু লেখাও গেলোনা।
বহুকাঙ্খিত জাহাজে আসা হলোনা বটে তবে আন্দামানে থাকাকালীন কয়েকঘণ্টার জন্যে জাহাজে ভ্রমণের একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিলো বটে। সে কথায় পরে আসছি।

পুরো দেড়মাস কাটিয়েছিলাম আন্দামানে যে সৌভাগ্য অনেকের হয়না। এর একমাত্র কারণ অধিকাংশ মানুষ আন্দামানে বেড়াতে আসে কোনো এজেন্সি মারফৎ সাতদিনের প্যাকেজ ট্যুরে। দ্রষ্টব্য জায়গাগুলি ঝটিকা সফরে ঘুরে যাওয়া এবং কিছু অল্পশিক্ষিত গাইডের পাল্লায় পড়াটাই তাদের ভবিতব্য। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলতে পারি বেশিরভাগ সরকারি/বেসরকারি গাইডরা ট্যুরিষ্টদের ভুলভাল তথ্য ও ভিত্তিহীন গালগল্প শোনায়। তাই অনেকেই ফিরে যায় কিছু ভাসাভাসা ধারণা নিয়ে।

Dr.Lucas এর সঙ্গে আলাপ হয়েছিলো পোর্ট ব্লেয়ারেই। ভীষণ মজার মানুষ। প্রথম পরিচয়পর্ব মিটিয়ে নিয়ে হাসতে হাসতে বললেন, – ” মশাই, কর্মসূত্রে এখানে একা থাকি। বলতে পারেন সীতাকে অযোধ্যায় রেখে দিয়ে নিজে বনবাসে চলে এসেছি”।একদিন আমাকে চমৎকার একটি “নিকোবরি হাট” ( Nicobari hut) এর মিনিয়েচার মডেল উপহার দিয়ে সদাহাস্যময় অধ্যাপক Dr.Lucas বললেন, – নিকোবরে যদি নাও যেতে পারেন এই জিনিসটা ভালো করে দেখেলেই বুঝবেন শুধুমাত্র কাঠ আর নারকোল গাছের শুকনো পাতা দিয়ে তৈরি কি অসাধারণ আরামদায়ক ও পরিবেশ-বান্ধব বাড়িতে ওরা থাকে।” পরে অবশ্য ব্যাম্বুফ্ল্যাট(BambooFlat )আইল্যান্ডে গিয়ে হুবহু একই মডেলের রিতিমত প্রমাণ সাইজের বাসোপোযোগী নিকোবরি হাটের ভেতরে ঢোকবার পর অবাক হয়ে ভাবছিলাম বসতবাড়ির এরকম একটা বিস্ময়কর ডিজাইন তাদের মাথায় কেমনভাবে এসেছিলো। এমনকিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি তাদের কাছে থাকার কথা নয় কিন্তু অতোবড়ো একটা hemispherical বাড়ি তৈরি করার সময় তার contour এইরকম নিঁখুতভাবে কেমন করে রাখলো সেটাও আশ্চর্য। তার ভেতরে ঢুকলে অনুভব করা যায় solitude কাকে বলে। আমি চিরকালই নির্জনতা ভালোবাসি । না, বোধহয় একটু ভুল বলে ফেললাম কারণ পান্ডববর্জিত কোনো জায়গায় জনমানবহীন নির্জনতার ভক্ত আমি নয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার স্ত্রীর সহপাঠী ছিলেন পরিমল রায়। তিনি তখন আন্দামানে শিক্ষাবিভাগের একজন উচ্চপদস্থ সরকারী আমলা, চমৎকার মানুষ।পরিমল আমারও খুব বন্ধু হয়ে গিয়েছিলন। সময় পেলেই আমাদের কাছে জমিয়ে গল্প করতে আসতেন।আমি ঐজায়গার ইতিহাস সম্পর্কে পড়তে চাই শুনে ওখান থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বে ওখানকার স্টেট লাইব্রেরীতে আমাকে নিয়ে গিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, – ” ইনি আমার দাদা। ইনি যখন খুশি এখানে আসবেন ও যেকোনও বই বাড়িতে নিয়ে যাবেন, আপনারা শুধু একটা কোথাও বইএর নামটা আমার নামে লিখে রাখবেন।”
হাতের নাগালে মনের মতো অনেক বই পাওয়ার জন্য আন্দামানতো বটেই এবং সেইসঙ্গে ওখানকার সবচাইতে প্রাচীন আদিবাসী রহস্যময় জারোয়া(Jarawa )বা ওঙ্গেদের ( Onge)সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম অনেককিছু কিন্তু সামনাসামনি দেখার সুযোগ হলোনা। এই বিংশশতাব্দীর কিছু মানুষের জীবনযাপন যে সেই প্রাগৈতিহাসিক প্রস্তরযুগেই থেকে গেছে সেটা ভাবা শক্ত যদিও তাদের সংখ্যা দ্রুত গতিতে কমে আসছে। শুনেছি এখন তারা তিনচারশোর বেশি নেই।জারোয়াদের অঞ্চলে আমাদের যাবার সব বন্দোবস্ত করেছিলেন পরিমল, কিন্তু হঠাৎ প্রচন্ড খারাপ আবহাওয়ার জন্যে যেতে পারিনি। সেইকারণে আমার থেকেও বেশি মনখারাপ হয়ে গিয়েছিলো পরিমলের। আমার হাতটা ধরে বলেছিলেন – “দাদা, আর একটা সপ্তাহ থাকুন।” কিন্তু অনেককষ্টে ফেরার টিকিট কনফার্ম করা হয়েছিলো তাই আর থাকা সম্ভব ছিলোনা।
পরিমলের কথা ভাবলে মনটা ভীষন খারাপ হয়ে যায় কারণ তার কয়েকবছর পরে আন্দামানের সেই ভয়াবহ সুনামীর পর থেকে অনেক চেষ্টা করেও আমি পরিমলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতেই পারিনি। পরিমল সম্পর্কে লোকমুখে যেটা শুনেছিলাম সেটা কল্পনা করলেও শিউরে উঠি।
আন্দামানে এসে সেলুলার জেল দেখবোনা তাইকি হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তার দেয়ালে দেয়ালে লেখা আছে। সন্ধ্যায় যে Light and Sound এর অনুষ্ঠানে ছিলাম সেটাও এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। রেকর্ড করা চমৎকার ধারাবিবরণীর সঙ্গে মাঝেমাঝে বন্দীদের লোহার শিকলের আওয়াজ , বিশেষকরে নেপথ্যে যখন তারা কোরাসে গেয়ে উঠলো “সরফরোশি কি তমন্না অব্ হামারা দিলমে হ্যায়” – তখন গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিলো।

এবার ‘destination Havlock’। দিনের বেলায় ডেকে ( deck)দাঁড়িয়ে জাহাজের প্রপেলার হুইলের সামনে ভীড়করে সবাই জলের ফোয়ারার সঙ্গে ডলফিনদের নৃত্যকলা দেখতে দেখতে, ভালোমন্দ খেতে খেতে ও কেউকেউ বেপরোয়াভাবে বমি করতে করতে জাহাজ একসময় পৌঁছে গেলো হ্যাভলক্ । জাহাজ থেকে তীরে নেমেই দেখলাম সারিসারি দোকানে ডাব বিক্রি হচ্ছে।
গাছ থেকে সদ্য পাড়া একটা ডাব কাটারি দিয়ে কেটেই তার মধ্যে একটি স্ট্র গুঁজে দিয়ে একগাল হেসে একটি ছেলে বললো, – ” তেষ্টাতো পেয়েছে, এই ডাবের মিষ্টি জল খেয়ে নিন স্যার, শরীরটা ভালো লাগবে।”
চমকে উঠলাম।এতদূরে এসেও বাঙ্গালী ! পরে শুনেছিলাম হ্যাভলক আইল্যান্ড বাঙালি অধ্যুষিত। উদ্বাস্তু পুণর্বাসনের পরিকল্পনা মাফিক তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত অনেক বাঙ্গালী রিতিমত জমিজমা নিয়ে এখানেই থেকে গিয়েছিলেন। এখন যাদের দেখছি, তারা তাদেরই পরবর্তী প্রজন্মের মানুষ। ওখানে দুদিন একটা কটেজে থাকার পর পোর্টব্লেয়ারে ফেরার জাহাজ ধরলাম। প্রায় সত্তোর কিলোমিটার উত্তাল সমূদ্রপথ, ঘন্টা চারেক সময় লাগে। কিছু যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ছাড়তে বেশ খানিকটা দেরি হলো । ভালোই হয়েছিলো কারণ সেইজন্যই আমি সাক্ষী হতে পেরেছিলাম এক বিরল সৌন্দর্যের।

সৌন্দর্যের কি কোনো সংজ্ঞা আছে? আসলে আমি নিজেই সুন্দর দেখছি বলেই তো সেটা সুন্দর। “আমারই চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ / চুণী উঠলো রাঙা হয়ে/ আমি চোখ মেললুম আকাশে / জ্বলে উঠলো আলো/গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম -সুন্দর / সুন্দর হল সে।” সৌন্দর্যের উপলব্ধি নিশ্চয়ই সবার একরকম হয়না ।আপাত-সাধারণ কোনো ছবি কবির চোখে হয়তো অসাধারণ। তাই হিজলের জানালায় আলো আর বুলবুলির খেলা নির্জনতার কবিকে মুগ্ধ করে। বিনম্র উচ্চারণে তিনি বলেন “রয়েছি সবুজ মাঠে, ঘাসে/ আকাশ ছড়ায়ে আছে নীল হয়ে আকাশে আকাশে।”
হ্যাভলক থেকে ফেরার পথে জাহাজ যখন মাঝসমূদ্রে তখন বেশ রাত হয়ে গিয়েছিলো।
আমি একা একা ডেকের ওপর এসে দেখলাম একটু দূরে একটা পঞ্চাশ/ষাট ফুটের একদম খাড়া লোহার মই। সাবধানে সেইটা ধরে ওপরে উঠে দেখলাম দাঁড়াবার মতো একটা বেশ ল্যান্ডিং রয়েছে। সেখানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। চারিদিকের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, মাথার উপর পূর্ণিমার চাঁদ আর নীচে উত্তাল সাগরের ঢেউ, চাঁদের আলো যেন টুকরো টুকরো হয়ে জলের সাথে নাচছে। এই অপার্থিব দৃশ্য দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিলো চাঁদ যেন সেদিন আমার বড়ো কাছে চলে এসেছে। ভাবছিলাম প্রয়াত সেই পপসম্রাটের কথা, যিনি মনে মনে হাঁটতেন চাঁদের মাটিতে। মাইকেল জ্যাকসনের “মুনওয়াকিং” একসময় গোটা দুনিয়াই মাতিয়ে দিয়েছিলো। আলোড়িত করেছিলো সমস্ত শ্রেণীর মানুষকে। তাই দু পায়ের একটু চাপে কখনো সামনে কখনো পেছনে স্লাইড করতে করতে তার “মুনওয়াকিং” জনপ্রিয়তার শীখর ছুঁয়েছিলো। চাঁদকে নিয়ে যুগে যুগে কবিরা কল্পনার জগতে বিচরণ করেছেন। বিখ্যাত স্প্যানিশ কবি Alfredo Gutierrez এর একটি কবিতা ছিলো “La Luna”। সেই অনির্বচনীয় রাতে ঐখানে দাঁড়িয়ে তার কয়েকটি লাইন মনে পড়ে গেলো, – “You can take the moon in a spoonful/You can give it like candy to the children/If
they have not gone to sleep/And few drops of moon on the eyes of the old/Help them to die in peace.”

প্রকৃতিপ্রেম আমার নিঃশ্বাসেপ্রশ্বাসে। বিশেষকরে নির্জন প্রকৃতি। বিভিন্ন সময়ে সেই প্রকৃতিকে আমি সুন্দর দেখি। তাই কোলাহল ভালো লাগেনা একেবারেই। ভালো লাগে পূর্ণিমার চাঁদ, পড়ন্ত নির্জন বিকেলের ম্লান আলো, শালবনে সূর্যাস্ত, ভুবনডাঙ্গার ধূধূ প্রান্তর, নাগাপাহাড়ের ঝড়। অসংখ্যবার তার সৌন্দর্যসম্ভার দেখলেও একটি অভিজ্ঞতা আমার মনে আজও অম্লান হয়ে আছে সেটা হলো হাজারীবাগ জঙ্গলে একটি রাত কাটানো।
তাই এখন টাইম-মেশিনে চড়ে ফিরে যাবো কিছুটা অতীতে। ষাটের দশকের ঘটনা। আসানসোলের কাছে দিশেরগড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইঞ্জিনিয়ারস্ হোস্টেল থেকে আমরা ছয়/সাতজন কোনো একটা সপ্তাহের শুক্রবার ঠিক করলাম হাজারীবাগ জঙ্গলে সারারাত থাকবো। ব্যস, উঠলো বাই তো হাজারীবাগ যাই। বেশকিছু শুকনো খাবার সঙ্গে নিয়ে ও ব্যাগট্যাগ গুছিয়ে একটা এ্যামবাসাডারের ব্যবস্থা করেই – চল্ পানশি হাজারিবাগ।
এক পরিচিত ভদ্রলোকের সাহায্য নিয়ে জঙ্গলের দশ কিলোমিটার ভেতরে একটা ফাঁকা রেস্টহাউসে ছিলাম। সবাই গোটা রাত ছাদের ওপর জেগে কাটিয়েছিলাম। নামে রিজার্ভ ফরেস্ট হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশেষ কড়াকড়ি ছিলো বলে মনে হয়নি। তাই জঙ্গলের মাঝখানে গাড়ি নিয়ে রাতেই একটু ঘোরাঘুরির সময় হরীণের জন্য চিহ্নিত অঞ্চলে ঢোকবার মুখেই দেখলাম একটা প্রকান্ড হোর্ডিং। সেখানে বড়োবড়ো করে লেখা ছিলো – “Cast not gross look of greed on my flesh, but read the poetry in my eyes.” কোনো সিকিউরিটির লোকের দেখা পাইনি তাই বেপরোয়া হয়ে গাড়ি নিয়ে যত্রতত্র ঘুরে বেড়িয়েছিলাম। তবে লোকমুখে
যাকে বলা হতো “হাজার বাঘের দেশ” সেই হাজারীবাগ জঙ্গলে কোনো বাঘের দেখা পাইনি ,অবশ্য দেখা পেলে কী করতাম জানিনা।
রেস্টহাউসের ছাদে সারারাত থাকার অভিজ্ঞতাও কিছু কম রোমাঞ্চকর ছিলোনা। তখন বসন্তকাল আর পুর্ণীমা। চাঁদের আলোয় ভাসছে নির্জন চরাচর। একটু একটু করে রাত বাড়ছিলো। চারিদিকে ঘন সবুজ বনে ছড়িয়ে পড়েছিলো তার আলো। শুনতে পাচ্ছিলাম মাঝেমাঝে বন্যপ্রাণীর হুঙ্কার।আমি বাকরুদ্ধ হয়ে মুগ্ধ অবগাহনে নির্জনে ভাসিয়ে দিয়েছিলাম আমার মন। প্রকৃতির এই নিস্তব্ধ শান্ত রূপ দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিলো কোথায় যেন পড়েছিলাম – “If there is a place for eternal bliss,/ It is this,it is this and it is this.” রাতের আকাশে অজস্র তারা। জঙ্গলে মাঝেমাঝে কোনো বন্যপ্রাণীর চলাফেরার আওয়াজ শুনতে শুনতে রোমাঞ্চ হচ্ছে, দূরে কাছে গাছেগাছে ঠাসবুনোনি।সব মিলিয়ে এক রহস্যভরা সৌন্দর্য। “আরণ্যক” উপন্যাসে বিভূতিভূষণ লিখেছেন “এইরকম সৌন্দর্যে মানুষ পাগল হতে পারে”, আরো লিখেছেন , “দুর্বলচিত্ত মানুষের পক্ষে এই রূপ না দেখাই ভালো। সর্বনাশী রূপ সে, সকলের পক্ষে তার টাল সামলানো কঠিন।” হাজারীবাগের এই স্মৃতি নিয়ে পরবর্তীকালে আমি একটি ছোট কবিতা লিখেছিলাম যার শেষ দুটি লাইন ছিলো :

“এসো প্রেম, এসো অভিমান, হারানো বিষাদ
এসো এক হই,
নীরব মমতা নিয়ে অলৌকিক রাত্রি জেগে থাক।”

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের পূর্ব রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, জানুয়ারি ২৬, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

5 1 ভোট
Article Rating
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
পংক্তির ভেতর মন্তব্য
সব মন্তব্য
Shipra Maitra
Shipra Maitra
5 months ago

খুব ভাল লাগল।