১৮৭৬-এ ‘গজানন্দ ও যুবরাজ’, নামান্তরে ‘গজদানন্দ’, নামান্তরে ‘হনুমান চরিত’ কিংবা ‘পুলিশ অব পিগ অ্যান্ড শিপ’ অভিনয়, পুলিশি হস্তক্ষেপ—ইত্যাদি ঘটনার পরে, গ্রেট ন্যাশনালে অভিনয় চলাকালীন আচমকা পুলিশি হামলা, ‘সুরেন্দ্র-বিনোদিনী’ নাটকটি ‘অশ্লীল’—এই অভিযোগে অমৃতলাল ও উপেন্দ্রনাথের গ্রেফতার হওয়া, ইত্যাদি ঘটনার অনিবার্য ফলস্বরূপ উপেন্দ্রনাথ দাসকে ইংরেজ রোষানল এড়ানোর জন্যই হয়তো তড়িঘড়ি ভারত ছাড়তে হয়েছিল। ওই বছরেই তিনি ব্যরিস্টারি পড়তে লন্ডনে পৌঁছান। লন্ডনে তিনি শিক্ষিত ও বাগ্মী ভারতীয় হিসেবে সুনামও অর্জন করেছিলেন। অন্তত এগারো বছরের বেশি ইউরোপ-প্রবাসী হিসেবে উপেন্দ্রনাথ প্রথমে ইংল্যান্ডে পরে আয়ারল্যান্ডে বসবাস করেন। এই আয়ারল্যান্ডে থাকাকালীন ১৮৮৭-তে অসুস্থ অবস্থায় লিখেছিলেন তাঁর একমাত্র প্রহসন ‘দাদা ও আমি’। ওই বছর নভেম্বরেই পাণ্ডুলিপিটি গ্রন্থাকারে মুদ্রণের জন্য তিনি কলকাতায় পাঠান। কলকাতায় সেটি প্রকাশিত হয় তার পরের বছর—ডিসেম্বর ১৮৮৮-তে। ততদিনে উপেন্দ্রনাথ কলকাতায় ফিরেছেন। কলকাতায় ফেরার পর ফের তিনি নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। ১৮৮৮-র ডিসেম্বরে উপেন্দ্রনাথ বীণা থিয়েটার মঞ্চ লিজ নিয়ে সেখানে ‘নিউ ন্যাশনাল থিয়েটার’ খোলেন। এই ডিসেম্বরেই তিনি তাঁর নতুন প্রহসন ‘দাদা ও আমি’ অভিনয় করেন। শঙ্কর ভট্টাচার্য তাঁর ‘বাংলা রঙ্গালয়ের ইতিহাসের উপাদান (১৮৭২-১৯০০)’ গ্রন্থে নাটকটির তৃতীয় অভিনয় তারিখটি উল্লেখ করেছেন, সেটি হল ১৫ ডিসেম্বর ১৮৮৮।১ উপেন্দ্রনাথের তত্ত্বাবধানে এই থিয়েটারে ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত নাটকটির মোট ন-টি শো হয়েছিল। এই তৃতীয় শো-এ উপেন্দ্রনাথ দাস স্বয়ং বড়ো ভাই—ধীরেন্দ্রকুমার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি এই সময় ‘শরৎ-সরোজিনী’ নাটকে শরৎ চরিত্রেও অভিনয় করেন। মার্চেই তিনি বীণা থিয়েটার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। থিয়েটারের সঙ্গে সেটাই ছিল তাঁর শেষ সংযোগ।
সুকুমার সেনের মত অনুসারে এই ‘দাদা ও আমি’—“একটি ইংরেজী প্রহসন (‘ব্রাদার জিল্‌ অ্যান্ড আই’) অবলম্বনে বিলাতে বসে লেখা। দেবনারায়ণ গুপ্ত উপেন্দ্রনাথ দাসের জীবন অবলম্বনে ‘বিদ্রোহী নায়ক’ নামে একটি নাটক লিখেছিলেন।২ সেই নাটকের ভূমিকায় উপেন্দ্রনাথের জীবন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ‘দাদা ও আমি’ প্রহসনের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন ‘Brother Bill and I’ নামের একটি ইংরেজি নাটকের কথা।১৯ আমরা অনেক সন্ধান করেও ‘ব্রাদার জিল, অ্যান্ড আই’ কিংবা ‘ব্রাদার বিল অ্যান্ড আই’ নামে কোনো প্রহসনের সন্ধান পাইনি। University of Illinois-এর লাইব্রেরির ডিজিটাল আর্কাইভ থেকে একটি প্রহসনের সন্ধান পেয়েছি, সেটির নাম ‘Brother Bill and Me’। University of Illinois-এর লাইব্রেরির ডিজিটাল আর্কাইভ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রহসনটির প্রকাশসাল ১৮৯০, এটি একটি ‘One act farce’, লেখক—William E Suter, এবং এর প্রকাশক Walter H Baker and Company।৩ সুকুমার সেন সম্ভবত এই নাটকটির কথাই বলতে চেয়েছিলেন, কেন না উইলিয়াম ই সাটার ছিলেন উপেন্দ্রনাথের সমসাময়িক ব্রিটিশ নাট্যকার, তাঁর জন্ম-মৃত্যুসাল হল ১৮১১-১৮৮২। প্রহসনকার হিসেবে সমসাময়িককালে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। অনুমান করা যায়, ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে অবস্থানকালে উপেন্দ্রনাথ দাস William E Suter-এর প্রহসনের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। Walter H Baker and Company থেকে ১৮৯০-এর সংস্করণ হিসেবে প্রকাশিত হলেও প্রহসনটি সম্ভবত লেখকের জীবিতকালে আগেই কোথাও প্রকাশিত হয়েছিল। কেন না আয়ারল্যান্ডে থাকাকালীন উপেন্দ্রনাথ প্রহসনটি পড়েন এবং সেটি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ১৮৮৭-তে ‘দাদা ও আমি’ ‘নাটিকা’-টি রচনা করেন। প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত ‘বিজ্ঞাপন’-অনুসারে এই প্রহসনটি উপেন্দ্রনাথ রচনা করেন “১৩, রিভারসাইড, লারণ, আয়ারল্যাণ্ড”-এ বসে, তারিখ : ১০ নভেম্বর, ১৮৮৭”। পরের বছর ১৮৮৮-তে প্রবাস থেকে কলকাতা ফিরে বউবাজারের শ্রীনাথ দাসের গলির ১৭ নম্বর বাসভবনের ‘সময়’ ‘কার্য্যালয়’ থেকে, সন ১২৯৫-এ সেটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।৪


যাই হোক, ‘দাদা ও আমি’ একটি পরিবারে দুই ভাই-এর গল্প। বড়োভাই ধীরেন্দ্রর স্ত্রী বহুদিন আগেই মারা গেছেন। কিন্তু তিনি আর পুনর্বিবাহ করতে চান না। পুনর্বিবাহ করতে না চাওয়ার কারণ আসলে ছোটো ভাই অনন্ত। কেন না, দু-ভাইয়ের একে-অপরের প্রতি যে মধুর ও প্রীতি সম্পর্ক, বিবাহ করলে স্ত্রীলোকদের ঈর্ষা-কলহে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এই ভেবে কেউই বিবাহ করতে চায় না। শেষ পর্যন্ত বড়োদাদা ধীরেন্দ্র কৌশল করে ভাই অনন্তের বিবাহ দেয়। কিন্তু এই বিবাহের পরে ভাতৃবধূর এক সখী–তরঙ্গিনীর প্রেমে পড়ে বড়োদাদাও বিবাহ করতে সম্মত হয়। নিতান্তই কৌতুকরসে ভরা এই প্রহসনেও উপেন্দ্রনাথ নারী-পুরুষের প্রেম ও বিবাহসম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত আর একটি তথ্য বলে রাখা ভালো। ১২৮২ বঙ্গাব্দ—অর্থাৎ ১৮৭৫-এ প্রকাশিত হয় ‘শ্রীমতী সুকুমারী দত্ত দ্বারা প্রণীত ও প্রকাশিত’ ‘অপূর্ব্বসতী’। কিন্তু গ্রন্থের ভূমিকাস্বরূপ ‘অগ্রদৃষ্ট’-তে উল্লেখ থাকা “শ্রী আশুতোষ দাস (প্রণেতা) ও শ্রীমতী সুকুমারী দত্ত (প্রণেত্রী)” নাম দেখে ড. সুকুমার সেন ‘সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন—‘আশুতোষ দাস’ ছদ্মনামে নাটকটি লিখেছিলেন স্বয়ং উপেন্দ্রনাথ দাস, এটি তাঁর দ্বিতীয় নাট্যরচনা। ‘শরৎ-সরোজিনী’ নাটকের কাহিনির সঙ্গে ‘অপূর্ব্বসতী’র ‘কাহিনী ও ঘটনাক্রমের মিল’ই সুকুমার সেনের এই ‘সিদ্ধান্ত’-কে দৃঢ় করেছে। তিনি এই নাটকে গোলাপসুন্দরী ও উপেন্দ্রনাথের জীবনকথা লুকিয়ে আছে বলেই তিনি মনে করেছেন।৫ যদিও তাঁর এই ‘সিদ্ধান্ত’ পরবর্তীকালে কেউই মেনে নেননি। এমনকী ‘নাট্য আকাদেমি পত্রিকা’-র দ্বিতীয় খণ্ডে সংকলিত ‘সুকুমারী দত্ত এবং অপূর্ব্বসতী নাটক’-এর ভূমিকায় সম্পাদক হিসেবে বিজিতকুমার দত্ত (সুকুমার সেনের জামাতা) মন্তব্য করেছেন—“তবে বইটির আষ্টেপৃষ্টে সুকুমারীই যে নাটকটির রচয়িতা, তার প্রমাণ রয়েছে।”৬ সুতরাং সুকুমার সেনের ‘সিদ্ধান্ত’ কখনই ‘প্রমাণিত সত্য’ হয়ে উঠতে পারেনি। ঠিক যেমন প্রিন্স অফ ওয়ালেস-এর কলকাতায় আগমন ও উকিল জগদানন্দ মুখোপাধ্যায়ের অন্দরমহলে প্রবেশের ঘটনা নিয়ে গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে অভিনীত ‘গজানন্দ ও যুবরাজ’ যে উপেন্দ্রনাথ দাসেরই লেখা তারও কোনো পাথুরে প্রমাণ নেই। সুতরাং বিতর্কের অবকাশ সরিয়ে রেখে, প্রমাণসাপেক্ষে এ কথা বলাই যায় উপেন্দ্রনাথ দাসের নাটকের সংখ্যা—তিন। সেই তিনটি নাটক এক মলাটের মধ্যে রেখেই প্রকাশিত হল ‘জাতীয়তাবাদী নাটককার উপেন্দ্রনাথ দাসের নাটকসমগ্র’।

উপেন্দ্রনাথ দাস ও প্রসঙ্গ ‘গাধা ও তুমি’
ডিসেম্বর ১৮৮৮, উপেন্দ্রনাথ দাস যখন বীণা থিয়েটার লিজ নিয়ে তাঁর নতুন প্রহসন ‘দাদা ও আমি’ অভিনয় করছেন, তার ঠিক পরের মাসে—জানুয়ারি ১৮৮৯-এ গিরিশচন্দ্রের ম্যানেজারিতে এমারেল্ড থিয়েটারে শুরু হল অতুলকৃষ্ণ মিত্র-র নতুন প্রহসন ‘গাধা ও তুমি’। অতুলকৃষ্ণের এই প্রহসনটি সম্পর্কে সুকুমার সেন মন্তব্য করেছেন—“ ‘দাদা ও আমি’কে ব্যঙ্গ করিয়া অতুলকৃষ্ণ মিত্র ‘গাধা ও তুমি’ (১২৯৫) লিখিয়াছিলেন।”৭ সুকুমার সেনের এই মন্তব্য খুবই যুক্তিপূর্ণ ছিল। উনিশ শতকের সাধারণ রঙ্গমঞ্চগুলির সেই পর্বে দর্শক-আকর্ষণের জন্য যে সমস্ত উপায় ও কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল, তার মধ্যে একটি ছিল রঙ্গমঞ্চে ইতিপূর্বে অভিনীত কোনো নাটকের প্রতিক্রিয়ায় ব্যঙ্গবিদ্রুপমূলক নাটক অভিনয়। এমনিতেই ব্যঙ্গবিদ্রুপ নকশা ও প্রহসনের একটা বাজার ছিলই। অমৃতলাল বসু ছিলেন এই ব্যঙ্গবিদ্রুপমূলক প্রহসন রচনার ক্ষেত্রে প্রায় অদ্বিতীয় জনপ্রিয়। আর এই জাতীয় প্রহসনগুলিতে ব্যঙ্গবিদ্রুপের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল সাধারণত শিক্ষিত আধুনিক নারী, তথাকথিত ‘সমাজ-সংস্কারক’ ও ‘দেশহিতৈষী’ ভণ্ড ব্রাহ্ম, বিলাতফেরত সাহেবি-কেতার ‘অহিন্দু’সুলভ বাঙালিপুরুষ। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে রবীন্দ্রনাথ, শিশিরকুমার ঘোষ—প্রমুখরা অনেকেই ছিলেন সেই ব্যঙ্গের লক্ষ্য।
‘গাধা ও তুমি’ তেমনই একটি প্রহসন যেটি উপেন্দ্রনাথ দাসের ‘দাদা ও আমি’-র ব্যঙ্গাত্মক উত্তর। শুধু তাই নয়, অতুলকৃষ্ণ এই প্রহসনে ব্যক্তি উপেন্দ্রনাথ দাসকেই তাঁর বিদ্রুপের লক্ষ্য করে তুলেছিলেন। প্রহসনটি ‘দাদা ও আমি’-র মতোই একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের গল্প। পরিবারের কর্তা বামনদাস গুঁই একজন নামজাদা উকিল। বামন দাসের দুই পুত্র—বড়োভাই সারদাদাস গুঁই এবং ছোটোভাই বরদাদাস গুঁই। বড়োভাই সারদাদাস সদ্য বিলাত ফেরত। বিলিতি কেতায় সাহেবি উচ্চারণেই তিনি বাংলা বলেন। তিনি আবার খুব বড়ো সমাজ-সংস্কারক। দেশকে কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে স্বাধীন করে তোলার জন্যে তিনি যে সমাজ-সংস্কারের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন—তা নিজেদের দুইভাইকে দিয়েই শুরু করতে চান। এই কর্মসূচির প্রথম কাজ হল বাঙালিকে বিলিতি পোশাক পরানো ও বিলিতি কাদয়ায় কথা বলানোয় অভ্যস্ত করা। প্রথমেই তাই, ভাই বরদাকে তিনি বিলিতি পোশাক পরিয়ে সেই আদব কায়দায় অভ্যস্ত করতে চেষ্টা করেন। এবং তার পরের কর্মসূচি হল—স্ত্রী স্বাধীনতার প্রচার ও প্রসার। যেহেতু বেশ্যারাই হলেন বাঙালি স্ত্রীলোকদের মধ্যে সব থেকে স্বাধীন জেনানা, তাই বেশ্যাবিবাহ হল এই স্ত্রীস্বাধীনতা-প্রচার ও প্রসারের প্রধান কর্মসূচি। এই কর্মসূচি অনুসারে দুই ভাই একসঙ্গে বেশ্যাবিবাহ করবেন বলে স্থির করলেন। এবং সেই অনুযায়ী চোদ্দোশো টাকার বিনিময়ে বেশ্যা লাললমনি ও তার কন্যা ক্ষেমার সঙ্গে দুইভাই-এর সিভিল ম্যারেজ স্থির হল। এদিকে লালনমনি হল পিতা বামনদাসের রক্ষিতা। কাজেই বামনদাস এই বিবাহসম্বন্ধ জানতে পেরে বিবাহ ভন্ডুল করে। এ দিকে বিলেত থেকে আসা গোয়েন্দা জন-এর বক্তব্যে জানা যায় সারদাদাস বিলেতে চার বার জেলখাটা একজন দাগি আসামী। শেষ দু বছর সে জেল থেকে পলাতক। তারই সন্ধানে গোয়েন্দা জন বাংলায় এসেছে। অবশেষে নাকে খৎ দিয়ে গাধার মুখোশ পরে গাধা সেজে দুই ভাই সাজা নিল।


বিখ্যাত উকিল শ্রীনাথ দাসের অবাধ্যসন্তান সমাজ-সংস্কারক উপেন্দ্রনাথ দাস, গ্রেট-ন্যাশনাল পর্বে তাঁর বারাঙ্গনা-সহযোগ, গোলাপসুন্দরীর সঙ্গে গোষ্ঠবিহারী দত্তের বিবাহ দেওয়া, বিলেতগমন, বিলেতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে কারাবরণ—উপেন্দ্রনাথের জীবনের এইসব ঘটনাক্রমই ‘গাধা ও তুমি’ প্রহসনে কাহিনির উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি ১৮৮৯ থেকে ১৮ মার্চ ১৯৯৩ পর্যন্ত এমারেল্ড থিয়েটারে প্রহসনটির মোট ২১টি অভিনয় হয়েছে। প্রহসনটির এই অভিনয়-সাফল্যে বোঝা যায়, সমাজ-সংস্কারক হিসেবে উপেন্দ্রনাথ তাঁর সমকালে সমাজজীবনে নিন্দিতই ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে পিতার অবাধ্য হয়ে ওঠা, ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ, বেশ্যাবিবাহ, থিয়েটারে বারাঙ্গনা-সঙ্গ, বিলেতগমন ও ফিরে এসে প্রায়শ্চিত্ত না করা—ইত্যাদি ঘটনায় সমাজের কাছে খুব একটা গ্রহণীয় হননি।
তথ্যসূত্র ও টীকা
১. শঙ্কর ভট্টাচার্য, ‘বাংলা রঙ্গালয়ের ইতিহাসের উপাদান ১৮৭২-১৯০০’, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, ১৯৮২,
পৃ. ২৫০-২৫১
২. দেবনারায়ণ গুপ্ত, ‘বিদ্রোহী নায়ক’, গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যাণ্ড সন্স, জ্যৈষ্ঠ ১৩৬৫, (‘এই নাটক প্রসঙ্গে’ পৃষ্ঠা-৪)
৩. সুকুমার সেন, ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’ তৃতীয় খণ্ড, আনন্দ, সপ্তম সংস্করণ, ১৩৮৬, পৃ. ৩৩৩
৪. দেখুন : দাদা ও আমি’ প্রহসনের প্রথম সংস্করণের প্রকাশ-তথ্য ও ‘বিজ্ঞাপন’ অংশ
৫. আমাকে এই তথ্যগুলি সরবরাহ করেছেন জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগে পি-এইচ.ডি
গবেষণারত আমার গবেষক-বন্ধু নেত্রা মুখার্জি।
৫. সুকুমার সেন, ওই, পৃ. ৩৩৩-৩৩৪
৬. বিজিতকুমার দত্ত সম্পাদিত, ‘সুকুমারী দত্ত এবং অপূর্ব্বসতী নাটক’, ‘নাট্য আকাদেমি পত্রিকা’, সংখ্যা ২, পশ্চিমবঙ্গ
নাট্য আকাদেমি, জানুয়ারি ১৯৯২, পৃ. ৩১৭
৭. সুকুমার সেন, ওই, পৃ. ৩৩৩

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[পরম্পরা ওয়েবজিন, মে ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]