
মানবেতর
এক
রত্তনপুরার খ্যপ পঞ্চায়েতের প্রধান সম্পন্ন চাষী শিব দাহিয়ার বাড়ির পরিবেশ এখন ভীষণ থমথমে।
দাহিয়া কোঠির প্রশস্ত উঠোনের বাতাস ভারি হয়ে আছে, কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দৃশ্যের আবহে ।
যে দৃশ্যে প্রধানের তরুণী মেয়ে পরী তার বাবার ভয়ানক মার সহ্য করতে করতে প্রায় আধমরা হয়ে বাড়ির ভেতরের উঠোনে পড়ে আছে ।
স্বামীকে আটকিয়ে মেয়েকে বাঁচাতে গিয়েছিল শিবের বউ প্রমীলা । সে-ও কয়েক ঘা খেয়ে এখন মাটীতে লুটিয়ে পড়েছে।
প্রমীলার আর্ত চিৎকার আর পরীর গোঙানির আওয়াজে আশেপাশের প্রতিবেশী কয়েকজন বাড়ির ভেতরে ঢুকে এসেছিলো ঠিকই, কিন্তু প্রধানের সে প্রচণ্ড রুদ্রমূর্তি দেখে কোন শব্দসাড়া না দিয়েই তারা ফিরে চলে গেছে ।
বাড়ির কর্তা শিব দাহিয়া এখন বাইরের ঢাকা বারান্দার ওপরে রাখা ইজিচেয়ারে বসে দম নিতে নিতে মেয়ে-বৌকে মারধোরের ক্লান্তি দূর করছে ।
এই অসহ্য ঘটনার পুরো সময়টায় দু-তিন জন চাকর আর মুনিষ শ্রেণীর লোক ভয়ে ভয়ে ভেতর বাড়ির দরজার পেছন থেকে উঁকিঝুঁকি মারছিলো ।
প্রধান কর্তার চণ্ডমূর্তির সঙ্গে তাদের বিলক্ষণ পরিচয় আছে ।
কাজের লোকেদের মধ্যে শিবের বাবার আমলের পুরনো, আর সে কারণে অপেক্ষাকৃত সাহসী একজন হচ্ছে বিরজু ।
দিনরাতের কাজের লোক প্রৌঢ় বিরজু তার নিজের কিশোর বয়েস থেকে এখানেই বড়ো হয়েছে, এই কোঠিতেই কেটে গেছে তার জীবনের পঞ্চাশটা বছর ।
বিরজু একটা রেকাবির ওপরে আধসেরী একটা কাঁসার গেলাসে জল নিয়ে গুটি গুটি এসে কর্তাবাবুর সামনে ধরলো।
শিব একবার তার দিকে তাকিয়ে এক নিঃশ্বাসে জলটা শেষ করে বিরজুর হাতে গ্লাসটা দিয়ে বললো, পবন কোথায় ?
-পবনবাবা মণ্ডি গয়ে হ্যয় । আজ তো গেঁহু কা নিলাম হোগা ।
শিব দাহিয়া বিড়বিড় করলো, ইয়ে বদতমিজ লড়কি কে লিয়ে আচ্ছা হুয়া যো ওহ ঘরমে ইস বখত মজুদ নহি হ্যয়। মেরা সংস্কারি লড়কা এহি বাত খুদ শুনতা তো ইসকো ইহা মার ডালকে খুন বহা দেতা !
তারপর চেয়ার থেকে উঠে পড়ে বৌয়ের দিকে এক পা এগিয়ে গিয়ে চাপা গলায় ভেঙিয়ে উঠলো, শুনিয়ে জি, বেটি কো হাম না কম্পিউটার পঢ়াউঙ্গি ! আউর, উস কে বাদ না উয়হ তুরি জাত কা লড়কা সে প্যার করেগি…আউর শাদি ভি করেগি ! সসুরাল মে ব্যঠকে টোকরি বনায়েগি জি ! অচ্ছা হ্যয় না জি !
মাটিতে থুতু ফেলে আবার বললো, থুঃ ! খ্যপ মে মেরা আউর মেরা খানদান কা ইজ্জৎ মিটটি মে মিলা দেগি ইয়ে বদতমিজ লেড়কি।
বড়ো বড়ো পা ফেলে শিব দাহিয়া বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেলো।
সেদিকে একবার তাকিয়ে বিরজু ধীরে ধীরে প্রমীলার কাছে এলো ।
প্রমীলা নিস্পন্দ হয়ে উঠোনে পড়ে আছে, তার চোখ বন্ধ ।
বিরজু একটু ঝুঁকে গলার স্বর নামিয়ে ডাকলো, বহুরানি, উঠে পড়ো। বড়েবাবু ভেতরে চলে গেছে ।
প্রমীলার চোখ খুলে গেলো।
তারপর ব্যথায় মুখ বিকৃত করে উঠে পড়ে চোখমুখ পাল্লুর কোণা দিয়ে মুছলো।
কাজের লোকেদের সামনে স্বামীর হাতে মারধোর খাওয়া তার একেবারেই নতুন নয় ।
শিব দাহিয়ার রাগ প্রচণ্ড, হাতও চলে বেশি।
সেই ভীষণ রাগের সময় সে ভুলে যায় সামনের বউটা তার দুই সমর্থ ছেলেমেয়ের মা, তিরিশ বছর ধরে তার সংসারটা সামলাচ্ছে।
প্রমীলা একবার মাটিতে পড়ে থাকা মেয়ের দিকে তাকালো।
পরীর গোঙানি এখন নিঃশব্দে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার রূপ নিয়েছে।
পিঠটা কান্নার দমকে ফুলে ফুলে উঠছে ।
প্রমীলা মেয়ের কাছে গিয়ে তার পাশে বসে পড়লো।
তারপর তার মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে বললো, বেটি, উঠে পড় । তুই এখন এসব কথা না বললেই ভাল করতিস। গেঁহু কা অচ্ছা রকম মিল জায়েগা তো দিমাগ ঠন্ডা রহেগা, তভি বোলনে সে…
ফোঁপানো কান্না থামিয়ে পরী ঝটিতি উঠে বসে বললো, কি হতো মা, অন্য সময়ে বললে!
বলেই যন্ত্রণায় অস্ফুট শব্দ করে উঠলো ।
তারপর আবার কান্নাভেজা স্বরে হাঁফিয়ে হাঁফিয়ে বলতে থাকলো, আমি কি জানি না দুসরা জাত মে শাদি করনে কা বাত উঠে তো খ্যপ কেয়া বিচার করতা হ্যয়…কেয়া বিধান দেতা হ্যয় ? মেরি সহেলি গীতিকা কে সাথ কেয়া হুয়া থা, আপ ভুল গয়ি ? উসকে গহরে প্যার কো ঠুকরা দিয়া থা খ্যপ নে। কেয়া বিচার থা ? না আপনা জাত কা লড়কা সে শাদি জলদি জলদি করওয়া দো ! বাবা-মা জবরদস্তি নিজের জাতের ছেলের সঙ্গে ওর বিয়ে ঠিক করলো। বেচারি গীতিকা শাদি কা এক দিন পহলে গলে মে ফাঁস লগাকে…
কথা শেষের আগেই চাপা কান্না এসে পরীর স্বর বন্ধ করে দিলো।
প্রমীলা মেয়ের মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে বললো, আচ্ছা, ঠিক আছে, ঠিক আছে । এসব কথা আর মনে করে আর কষ্ট পেতে হবে না । চল, নিজের ঘরে চল । আমি সবসময় তোর সঙ্গেই আছি, থাকবো বেটি ।
পরী উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদের সুরে বললো, আর বাবুজি তো ওহি খ্যপ কা হি প্রধান হ্যয় না ! লেকিন মা, আমিও তো গীতিকা নই । শুনে রাখো, বিয়ে আমি নকুলকেই করবো । তুমহারা সাপোর্ট মিল যায় গা তো আভারি রহুঙ্গি, ব্যস।
শরীরে একটা ঝটকা দিয়ে পরী গটগট করে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো ।
দুই
এ কাহিনীর প্রধান দুই মানুষ বিহার নালন্দার নকুল বেহরা আর হরিয়ানা হিসারের প্রান্তিক আধা-শহর রত্তনপুরার পরী দাহিয়া ।
দুজনে রোহতকের এক পলিটেকনিক কলেজ থেকে ব্যাচিলর অব কম্পিউটর অ্যাপ্লিকেশনস পাস করেছিলো ।
অনুসূচিত তুরি জাতের মধ্যে প্রহ্লাদস্বরূপ নকুল পড়াশোনায় ছিলো ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ।
স্কুলের মাস্টারমশাইদের কাছে শুনে শুনে নিজের জন্য একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার ভাবনা নিয়ে ঢুকেছিল হরিয়ানার রোহতকের কলেজে, কম্পিউটার নিয়ে পড়তে ।
গ্রাম সম্পর্কের এক চাচা ছিল তার লোকাল গার্জেন ।
ঘটনাক্রমে সেখানে সহপাঠিনী পরীর সঙ্গে ক্লাসের সাধারণ পরিচয় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দুজনেরই অজ্ঞাতে গভীর প্রেমে পালটে গেলো ।
নকুল আর পরী দুজনের জীবনে শুরু হলো এক নতুন অনাস্বাদিত অধ্যায় ।
নকুল বেহরার সেই একান্ত ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ ভাবনার অংশীদার হয়ে জুড়ে গেলো তার মনের মানুষ, রত্তনপুরার পরী দাহিয়া।
এক পূর্ণিমার সন্ধ্যেবেলা রোহতক শহরের এক বজরংবলীর মন্দিরে সারাজীবন একসঙ্গে কাটানোর অঙ্গীকার করলো দুজনে ।
সে আজ দুবছর আগের কথা ।
কলেজের শেষ বছরে ভালভাবে পাস করার পরেই ক্যাম্পাস ইনটারভিউয়ের দৌলতে নকুল একটা বহুজাতিক আইটি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে চলে গেলো চণ্ডীগড়ে ।
এদিকে দাহিয়া পরিবারের বাড়িতে সনাতনী গৃহকর্তার অন্য ভাবনা ।
শিব দাহিয়ার বিচারে মেয়ের পড়াশোনা অনেক হয়েছে, মা মেয়ের আশা পূর্ণ করা হয়েছে, ব্যস, আগে আর কিছু নেই !
এবার মেয়ের একটা ভাল বিয়ের ব্যবস্থা করাটা তার বাবার প্রাথমিক কর্তব্য ।
আজ সে বিষয়ে কথা উঠতেই পরী বাবার মুখের ওপর, জাঠ পরিবারে যা প্রায় অশ্রুত ঘটনা, বলে দিয়েছে সে এখন বিয়ে করতে চায় না ।
ছেলের জন্মের পাঁচ বছর পরে মেয়ে হয়েছিল শিব দাহিয়ার ।
ছেলের অপেক্ষায় থেকে সেই অভাবিত ঘটনায় পরী ছিল তার কাছে এক অবাঞ্ছিত সন্তান।
মনের মধ্যে ঝটকা দিয়ে জেগে ওঠা রাগ কোনরকমে চেপে রেখে শিব গম্ভীর স্বরে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলো, কেন ? বিয়ে করবে না কেন ? পড়তে চেয়েছিলে, তোমার মা-ও চেয়েছিলো, সেটা হয়েছে। এবার আর কি চাও ?
-এবার আমি চাকরি চাই, চাকরি করবো আমি । বাবুজি, আমি চণ্ডীগড়ে যেতে চাই । সেখানে গিয়ে আমি চাকরি খুঁজবো।
শিবের রাগ আর বিস্ময়ের শেষ নেই…প্রথমত বাপের কথার ওপরে মুখে মুখে উত্তর ! তার ওপরে মেয়ে চাকরি করতে চায়…তাও চণ্ডীগড়ে !
সে প্রমীলার দিকে তাকালো ।
নিজের বৌয়ের মুখচোখের ভাব দেখে হঠাৎ শিবের মনে হলো মেয়ের এসব হরকতের ব্যাপার স্যাপার মেয়ের মায়ের আগে থেকেই জানা ছিল।
এ ভাবনা মনের মধ্যে আসতেই চড়াৎ করে তার মাথায় রক্ত উঠে গেলো…আমার বাড়িতে আমার অজান্তে এতো সব…এতো সাহস হয়ে গেছে এদের !
মেয়ের দিকে দুপা এগিয়ে গিয়ে উঁচু গলায় বললো, চণ্ডীগড় কিউ ? নোকরি করনা-ই হ্যয় তো সদর জাগ্ধেরি মে করো…ইয়া যমুনানগর যাও…ঢুঁড় লো কম্পিউটার কি নোকরি ।
পরী একবার মা-র দিকে তাকালো ।
তারপর ঘাড় গুঁজে চোখ নামিয়ে বললো, নকুল চণ্ডীগড়ে চাকরি করছে । আমি তো নকুলকে বিয়ে করবো।
প্রচণ্ড রাগ আর বিপুল বিস্ময়ে শিব দাহিয়া এক মুহূর্তের জন্য প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো।
তারপর এগিয়ে গিয়ে শক্ত হাতে মেয়ের চিবুক ধরে তার মুখটা তুলে ঝটকা দিয়ে পরীর গালে একটা বিশাল চড় বসিয়ে দিয়ে গর্জে উঠলো, বদতমিজ বেশরম লড়কি ! তোর বাবার সঙ্গে কথা বলছিস তুই ! কে এই নকুল ? তোর সঙ্গে কি সম্পর্ক ? বল আমাকে…শয়তান মেয়ে ! এই যে, তুই…তুই…তুই এসব জানতিস ?
শেষ প্রশ্নটা শিব করলো প্রমীলাকে ।
সে ততক্ষণে মেয়ের কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেছে ।
মা মেয়ে দুজনের মুখেই কোন কথা নেই…শিবের রাগ আরও বেড়ে গেলো ।
চিৎকার করে উঠলো সে, বেশরম লড়কি…কাঁহা মিলে থে উসসে ? কিধর রহতা হ্যয় উয়ো বদতমিজ ?
গৃহকর্তার চিৎকার শুনে কাজের লোকেরা উঁকিঝুঁকি দিতে শুরু করেছে।
এবার পরী বাবার দিকে মুখ তুলে স্পষ্ট গলায় বলতে থাকলো, বিহার নালন্দা কা রহনেওয়ালা । নকুল বেহরা উসকা নাম…মেরা ক্লাস মে পড়তা থা। আপ কো তো কেবল উসকা জাত কা চিন্তা হ্যয়…না ? পুছা থা ম্যয়নে, বেহরা জাঠ নহি হোতা হ্যয়, তুরি হ্যয় নকুল, তুরি ! লেকিন উসসে মেরে লিয়ে কই ফরাক নহি পড়তা বাবুজি।
শুনে প্রচণ্ড রাগে চিৎকার করে উঠলো শিব দাহিয়া, শুনতি হো…কলেজ মে ভেজনে কা অসর ? শিডুল কাস্ট তুরি লড়কে সে প্যার করকে উসসে শাদি করনে কা ফয়সলা ভি কর লিয়া ! ঔর বাপ কা সামনে সর উঠাকে বোল রহি হ্যয় ! বেশরম ! বেঅদব লড়কি !
বলেই পরীর চুল ধরে এক হ্যাঁচকায় তাকে প্রমীলার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে থাপ্পড়ের পর থাপ্পড় মারতে থাকলো শিব, মুখে, ঘাড়ে, গলায়, পিঠে ।
বাবার বলিষ্ঠ হাতের প্রবল আঘাতের পর আঘাত সহ্য করতে না পেরে গোঙাতে গোঙাতে মাটিতে পড়ে গেলো পরী।
স্বামীর মারের হাত থেকে মেয়েকে বাঁচাতে গেলো প্রমীলা।
প্রচণ্ড রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য শিব দাহিয়া শক্ত হাতে একটা চড় মেরে বৌকে মাটিতে ফেলে দিল ।
তারপর তার চেয়ারের পাশে রাখা একটা ছড়ি দিয়ে মেয়ে আর মা-কে এলোপাথাড়ি মারতে লাগলো কয়েক মিনিট ধরে ।
প্রমীলার আর্ত চিৎকার, পরীর গোঙানি আর প্রতিবেশীদের উঁকিঝুঁকি কিছুই তাকে থামাতে পারলো না ।
তিন
দাহিয়া বাড়ির ছোটেবাবু পবনের বাড়ি ফিরতে ফিরতে বিকেল গড়িয়ে গেছে ।
বাইকটা উঠোনের কোণে দাঁড় করিয়ে ঢাকা বারান্দার দিকে তাকালো পবন ।
বরাবরের মতো আরামকেদারায় বাবাকে দেখতে না পেয়ে একটু আশ্চর্য হলো সে ।
সাধারণত মণ্ডিতে গমের সরকারি নিলামের দিন ছেলের মণ্ডি থেকে ফেরার পর দামের ওঠাপড়ার জানকারি পাবার জন্য ওই চেয়ারে বসে সাগ্রহে অপেক্ষা করে শিব দাহিয়া ।
…আজ বাবুজি চেয়ারে বসে নেই ! অজীব বাত…পবন বাড়ির ভেতরে ঢুকে এলো ।
চারিদিক নিস্তব্ধ, সুনসান, কেউ কোথাও নেই ।
মা বা বোনকে একতলায় কোথাও দেখতে না পেয়ে পবন সোজা দোতলার বারান্দায় গিয়ে বাবার ঘরে দিকে চলে গেলো ।
একটু চিন্তিত হয়ে আছে সে ।
গমের নিলামে দাম যেমন উঠবে ভেবেছিলো সেরকম ওঠেনি…লোকসান হবে সকলের।
বাবুজির ঘরে ঢুকে এই বাজে খবরটা দিতে দিতে পবন বাপের অন্যমনা বিচলিত মুখচোখের অবস্থা দেখে মাঝপথেই থেমে গেলো…বুঝতে পারলো নিলামে কম দাম পাওয়ার হতাশা নয়, অন্য কোন বড়ো কারণে বাবুজি এমন থমথমে হয়ে আছে ।
বাবুজি…বাবুজি, ডাক শুনে অন্যমনস্ক শিব দাহিয়া ছেলের দিকে তাকিয়ে কোন ভূমিকা না করেই গম্ভীর গলায় বললো, তোমার বোন, তুরি জাতের কোন এক ছোঁড়াকে শাদি করতে চায়। কলেজে একই ক্লাসে পড়তো । আমার মুখের ওপর বললো, শাদি আমি ওকেই করবো। তুরি জাত, তু সমঝা না ! উসকো বহত পিটা হ্যয় ম্যয়নে। বেশরম, এখন নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বসে আছে । কলেজে পড়ে তার এতো সাহস বেড়েছে আমার মুখে মুখে এই কথা বলে !
বাপের কথায় পবন ভাসা ভাসা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তার রাগ চড়ছিলো ।
শেষ বাক্যে কলেজের উল্লেখে, নিজে সে কলেজ অবধি পৌঁছোতে পারেনি, তার রাগ একেবারে সপ্তমে উঠে গেলো ।
গরগর করে পবন বলে উঠলো, আপনে একদম ঠিক কিয়া। তুরির সঙ্গে বিয়ে হওয়ার আগে ওর মরে যাওয়া ভালো। দাহিয়া খানদানের সম্মান সবার আগে বাবুজি।
শিবের চোখ জ্বলে উঠলো পবনের কথায়, একেবারে ঠিক কথা বলেছিস তুই ।
পরক্ষণেই কিছুটা চিন্তিত স্বরে বললো, হম খ্যপ কা সভা বুলাতে হ্যয়। খ্যপ কি বিধান দেবে তা তো আমার জানাই আছে । কিন্তু আমি তো খ্যপের প্রধান । আমি নিজে কি করে এই ঘটনার বিচার চাইবো, সেটাই ভাবছি ।
এটা কোন বড়ো ব্যাপার নয় বাবুজি । আপ মিটিং বুলাইয়ে। খ্যপের সামনে আমি বলবো, আমার বোনের পাপের কথা । আপ সবকে সাথ মিল কর বিচার করিয়েগা, বাবা হয়ে নয়, খ্যপের প্রধান হয়ে । ততোদিন থাক ও বাড়ির মধ্যে বন্ধ হয়ে। আটকে রাখবো ওকে আমি । দেখি কি ভাবে পরী বাড়ি থেকে বেরোয় !
পবন গটগট করে বাবুজির ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো ।
এরপর তিনদিন কেটে গেছে ।
প্রথমদিন পরী তার ঘরের দরজা খোলেনি ।
একদিনের সেই উপবাসের পর দ্বিতীয় দিন মা-র অনেক উপরোধ অনুরোধের সঙ্গে দরজা ধাক্কাধাক্কির পর পরী ঘর ছেড়ে বেরিয়েছে, নাওয়া-খাওয়াও করেছে ।
কিন্তু নিজের ঘরে প্স্বেচ্ছাবন্দী পরীর মুখ একেবারে বন্ধ ।
বাবা, মা, ভাইয়া, কাজের লোক কারুর সঙ্গে কোনো কথা নেই ।
মা বার বার কথা বলার, নানারকম ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, কোনো উত্তর পায়নি।
এমন কি ছোটবেলায় যার কোলেপিঠে বড়ো হয়েছে, সেই বিরজুচাচা সঙ্গোপনে তার ঘরে এসে কয়েকবার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিয়েছে।
বিরজুর প্রশ্নের উত্তরে পরী চোখ তুলে কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে কোন কথা না বলে খাটের ওপরে মুখ গুঁজে শুয়ে পড়েছে ।
কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর বিরজু একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে ঘর ছেড়ে চলে গেছে।
চার
আজ রবিবার সন্ধ্যায় খ্যপের সভা ।
শিব দাহিয়া খ্যপের প্রধান, তাই কোঠি থেকে বেরিয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগে ।
কিভাবে কি বলতে হবে মনে মনে ঠিকঠাক গুছিয়ে নিয়ে পবনও বেরিয়ে পড়লো।
পুরো ব্যাপারটা নিয়ে তলিয়ে ভাবতে গিয়ে এখন তার মনে আবার প্রচণ্ড রাগ ফিরে এসেছে…নিজের ইচ্ছেমত কলেজে পড়তে যাবে, সেখানে গিয়ে আবার শিডুল কাস্ট ছেলের সঙ্গে পেয়ার করবে, ছোট জাতের ছেলেকে বিয়ে করে চাকরি করবে, নাহ ! এসব যতো ভাবছি মাথায় আমার আগুন জ্বলে উঠছে…কি ভেবেছে কি পরী, দাহিয়া খানদানের ইজ্জৎ ধুলোয় মিশিয়ে দেবে ? কঠিন শাস্তি দেবো আমি ওকে, বাবুজি না দিতে পারুক, পরিবারের মান রাখতে আমি নিজেই শাস্তি দেবো…
মনের মধ্যে এই সব ভাবনা তোলাপাড়া করতে করতে পবন পৌঁছে গেলো পঞ্চায়েত বাড়ির সামনে ।
খাপরার টালি দেওয়া তিনটে একবন্দী পরপর সামনে পেছনে সারি-দেওয়া ঘর।
সামনেরটা বেশ বড়ো, মিটিং আর অফিসের জন্য।
পেছনের দুটো ঘর প্রধানের আর সচিবের অফিস । তার লাগোয়া বাথরুম, টয়লেট।
আজ সামনের মাঠে একটা বড়ো বটগাছের তলায় খ্যপ পঞ্চায়েত সভার ব্যবস্থা হয়েছে। মাটিতে বাঁশ পুঁতে তাদের মাথায় লাগানো কয়েকটা আলো জ্বলছে।
বটগাছের গোড়ার চারদিকে বাঁধানো বেদির সামনে খ্যপ প্রধানের জন্য একটা চেয়ার।
সেখানে মাধ্যমিক ফেল প্রধান শিব দাহিয়া বসে আছে।
মুখোমুখি গোটা পঞ্চাশেক চেয়ার, কয়েকটা সারিতে।
পবন পেছনের একটা সারিতে বসে পড়লো ।
স্বল্প আলোয় উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে চারিদিকের রংবেরঙের পাগড়ি, সাদা জোব্বা, মেহেন্দি-রাঙ্গানো বাবরিচুল।
একেবারে প্রথম সারিতে কয়েকজন প্রায় বৃদ্ধ, তিনটে বড়ো হুক্কা সামনে রাখা, তার নল হাতে হাতে ঘুরছে ।
তামাকের ধোঁয়া উড়ছে ওপরের দিকে ।
পবনকে আসতে দেখেই শিব একটু নড়েচড়ে বসেছিল।
এখন সামনের সারি থেকে একজন বৃদ্ধ বলে উঠলো, শিব বেটা, এবার শুরু করে দ্বাও। কিস লিয়ে ইয়ে খ্যপপঞ্চ কা মিটিন বুলায়া, উয়হ তো বাতা দো পহেলে ।
শিব উঠে দাঁড়িয়ে বললো, হ্যাঁ তাউজি, শুরু করছি । আজকের সভার একটাই মুদ্দা, বলবে আমার বেটা…
জমায়েতের পিছনের দিক থেকে বিরজুকে তার দিকে তাড়াতাড়ি আসতে দেখে প্রধান থেমে গেলো ।
বিরজু শিবের কাছে এসে তার কানে কানে কিছু বলতেই শিব দাহিয়ার মুখচোখের রং একেবারে বদলে গেলো ।
বিরজুকে নীচুস্বরে কিছু বলে হাত নেড়ে চলে যাওয়ার ইশারা করে সে গলা খাঁকারি দিয়ে জমায়েতকে বললো, আমার বেটা পবন গত তিনদিন আগে মণ্ডিতে গমের নিলামে কি হয়েছে সে ব্যাপারে তোমাদের বিস্তারিত বলবে। নিলামে যে দাম উঠেছে তাতে রত্তনপুরা গ্রামের সব গেঁহুচাষির বিস্তর ক্ষতি হবে। সেজন্য এই ব্যাপারটা খ্যপ-এর মিটিংয়ে আলোচনা করা উচিত বলে মনে হয়েছে আমার। আপনারা সকলে মিলে আলোচনা করে যেরকম সিদ্ধান্ত নেবেন পঞ্চায়েত থেকে সেরকম খত আমি সদরে লিখে দেবো । আমার বাড়ি থেকে এক্ষুনি খবর এসেছে পবনের মা পড়ে গিয়ে কাফি চোট পেয়েছে। সভা ছেড়ে এখন আমাকে ঘরে যেতে হবে । তার জন্য আমি আপনাদের কাছে তার মাফি চাইছি । পবন বেটা তুম ইধার আও ।
প্রথমেই বাবুজির মুখে আমার বেটা শোনার পরই পবন উঠে দাঁড়িয়েছিলো । বাবার পরের কথাগুলো শুনতে শুনতে ও দারুণ অবাক হয়ে গেলো…বাবুজি এখন এসব কি বলছে ! বাড়িতে মা পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছে । কিন্তু তার জন্য পরীর ব্যাপারটা খ্যপপঞ্চের সামনে পেশ করে বিচার না চাওয়ার কি আছে ! আমি তো এর কিছুই বুঝতে পারছি না…
চারদিকের চাপা গুঞ্জনের মধ্যে এইসব ভাবতে ভাবতে পবন বাবার কাছে পৌঁছে গেলো।
পবন একেবারে পাশে আসার পর শিব দাহিয়া খুব নীচুস্বরে তাকে বললো, আভি পরী কা বারে মে একদম কুছ নহি বোলনা হ্যয়, সমঝে ? মণ্ডি মে গেঁহু কা যো বহত কম রেট পে নিলাম হুয়া কেবল উসকে বারে মে খোল কে বোলো ।
পবন জিজ্ঞাসু চোখে বাপের দিকে তাকাতেই প্রায় ফিসফিস করে শিব দাহিয়া বললো, আমাকে এক্ষুনি ঘরে যেতে হবে । পরীকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না । লাগতা হ্যয় উয়হ বদতমিজ বেশরম ঘর সে ভাগ গয়ি।
পাঁচ
বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে মা-কে একটা চিঠি লিখে রেখে গিয়েছিলো পরী ।
তার প্রথম ফোনটা এলো তার মা-র মোবাইল ফোনে, ঘর ছেড়ে যাবার ঠিক চারদিন পর।
সেই ঘটনার সন্ধেবেলায় ঝটপট বাড়িতে ফিরে শিব দাহিয়ার প্রথম কাজ ছিল পরীর বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার খবরটা যেন কোনমতেই বাড়ির বাইরে না যায় সেটা নিশ্চিত করা ।
বিরজুকে নিয়ে চিন্তা নেই, তার মুখ থেকে কোনো কথা বেরোবে না ।
বাড়ির একমাত্র মেয়ের ঘর থেকে পালিয়ে যাবার ঘটনা বাইরে জানাজানি হলে দাহিয়া খানদানের সম্মান যে জাঠ সমাজে খুব নীচে চলে যাবে সে বিষয়ে তার পূর্ণ জ্ঞান আছে।
শিবের ভাগ্য ভাল যে বাড়ির ঠিকে মুনিষ আর কাজের সব লোকেদের ছুটি বিকেলের আগেই হয়ে যায়।
সে সন্ধ্যায় কোঠিতে বিরজু ছাড়া বাইরের লোক আর কেউই ছিল না।
ঘরে ছিল কেবল প্রমীলা আর পরী ।
তাই দাহিয়া খানদানের কর্তার বুঝিয়ে দেওয়ার গল্পটা হলো প্রমীলার বাপের বাড়ি আলোয়ার থেকে পরীর মামা এসে তাকে রাতেই সঙ্গে করে নিয়ে গেছে ।
এই কাহিনীটা পরের দিন দাহিয়া কোঠির অন্য ঠিকে কাজের লোক আর নিকট প্রতিবেশীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ বেগ পেতে হলো না ।
বাকি থাকলো, পরীর চিঠির কাগজটা হাতে নিয়ে রক্তবর্ণ চোখে শিব দাহিয়ার সারা সন্ধ্যে নিজের ঘরে আহত সিংহের মতো পায়চারি…’আত্মীয়দের বাড়িতে আমাকে খুঁজতে যেও না মা । তাতে তোমাদেরই মানহানি হবে । আর বাবুজির তো পরিবারের মান ছাড়া আর কোনো চিন্তা নেই । নিজের মেয়ে কি পেলে জীবনে সুখী হবে তা জানার জন্য বাবুজি কোন চেষ্টাই করলো না । নকুল খুব ভদ্র, নরম মনের মানুষ । যে কোন পরিবারের আদর্শ দামাদ হওয়ার সব গুণ ওর মধ্যে আছে । আমি ওর কাছে খুব ভালো থাকবো, তুমি নিশ্চিন্ত থেকো মা । আমার বয়স বাইশ বছর। নিজের ইচ্ছেমতো বিয়ে করার অধিকার আইন আমাকে দিয়েছে । আর দেশের আইন যে কিছু পুরনোপন্থী বুড়ো মানুষদের নিয়ে তৈরি খ্যপ পঞ্চায়েতের তৈরি-করা আইনের ওপরে সেটা তুমি হয়তো বোঝো না, আফসোস, আমার পঁচিশ বছরের ভাইয়াও সেটা মানে না । চণ্ডীগড় খুব বড়ো শহর । এখানে তোমরা আমাকে খুঁজে পাবে না । আমার ফোন বন্ধ থাকবে । আমিই যোগাযোগ করবো । তোমাদের ছেড়ে আসতে কষ্ট লেগেছে ঠিকই । কিন্তু যখনই কষ্ট হয়েছে তখনই বাবুজির সেদিনের অসহ্য পিটাই মনে করে সে কষ্ট ভোলার চেষ্টা করেছি…
শিব দাহিয়া থেকে থেকে চিঠিটা পড়ে আর তার মাথায় রক্ত চড়ে গিয়ে মনের মধ্যে আগুন জ্বলতে থাকে…বাবুজির পিটাই ! পিটাই কি দেখেছো তুমি ! ছেলের পরে মেয়ে হওয়ার সময়েই জলে ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিলাম ! মা বৌ পায়ে পড়ে গিয়েছিলো তাই তুই বেঁচেবর্তে এতোগুলো বছর কাটিয়ে দিলি বেঅদব লড়কি ! আইন দেখাচ্ছে, আইন ! আরে খ্যপকে বৈঠক মে ম্যয় যো বিচার করুঙ্গা ওহি হ্যয় রত্তনপুরা কে লিয়ে কানুন ! তোর জন্যে, আজ শুধু তোর জন্যে শিব দাহিয়াকে, রত্তনপুরের পঞ্চায়েত প্রধান শিব দাহিয়াকে, পড়োশিলোগ, সমাজ, খ্যপ, সবসে মুহ ছুপাকে ঘুমনা পড় রহা হ্যয়…
এইরকম একটা দিনে, পরী ঘর ছাড়ার চারদিনের মাথায় সন্ধ্যের মুখে প্রমীলার মোবাইলে পরীর ফোন এলো ।
মেয়ের শোকে এ-কদিন প্রমীলা প্রায় আধমরা হয়ে কাটিয়েছে ।
তার স্নান খাওয়া-দাওয়ার সময়ের ঠিক নেই।
উপায় নেই স্বামী আর ছেলের কাছে মনের দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার ।
তারা দুজনে সারাক্ষণ হয় পবনের ঘরে অথবা শিবের ঘরে দরজা বন্ধ করে কিসের পরামর্শ করে প্রমীলা তার ঠাহর পায় না ।
পরীর বিয়ের জন্য যেসব গয়না গড়িয়ে রাখা ছিল বাড়িতে, আর নিজের কাছে লুকনো বেশ কিছু টাকা প্রমীলা পরীর কাছে আগেই দিয়ে রেখেছিলো ।
এবারে ভাগ্য সহায় ছিল তার ।
ঘটনার অভিঘাতে বাপ আর ছেলে বড়োই হতচকিত হয়ে পড়েছিলো ।
খবরটা যাতে বাড়ির বাইরে না বেরোয়, সে রাতে সেদিকেই ছিলো তাদের জোর নজর।
প্রমীলাকে খুঁটিয়ে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার তারা প্রয়োজন মনে করেনি…যতই হোক, সে জাঠ পরিবারের স্ত্রী…তার স্থান হচ্ছে রান্নাঘরে আর বিছানায় ।
খ্যপের বিচারে এর বাইরে খানদানের মানসম্মান রক্ষার দায় তার ওপরে বর্তায় না ।
পাঁচ
-মা, আমি পরী বলছি ।
ফোনটা বেজে উঠতেই প্রমীলা স্ক্রীনে ভেসে ওঠা নাম না দেখেই কানে উঠিয়ে নিয়েছিলো।
এখন পরীর গলার আওয়াজ শুনে সে আনন্দে বিহ্বল হয়ে গেলো ।
ঘরের দরজার দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে উত্তেজিত নিচু গলায় ধড়ফড় করে বলতে লাগলো, কেমন আছিস বেটি ? চণ্ডীগড়েই আছিস তো ? ওয়হ নকুল তেরে সাথ ঠিক বেওহার কর রহে না ? দেখনে মে ক্যয়সা হ্যয় ওয়হ ?
ফোনে পরীর হাল্কা হাসির শব্দ ভেসে এলো, মা, আমি তো বলেছিলাম তোমাকে নকুল খুব ভালো ছেলে । তোমরা মানলে না । আমি খুব ভালো আছি । চণ্ডীগড়ের পাশেই পাঞ্চকুলা বলে একটা মহল্লা আছে । আমরা সেখানেই আছি । হ্যাঁ, নকুল লম্বা, বড়ো বড়ো চোখ, ভালো চেহারা । তুমি দেখলে ঠিক ওকে পছন্দ করতে আমি জানি !
এক মুহূর্ত থেমে পরী আবার বললো, মা, এখানে আসার পরের দিনই আমরা শাদি করে নিয়েছি । কোর্ট ম্যারেজ । নোটিশ তিন মাস আগেই দেওয়া ছিলো । নকুল বললো, এক দিন ভি হাম দোনো বিনা শাদি করকে একসাথ নহি রহেঙ্গে । ইসসে উনকা ক্যয়সা বেওহার, ক্যয়সা নিয়ত, সমঝ রহি হো না মা ?
প্রমীলার বুক থেকে একটা ভারী নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো ।
একলৌতা বেটির কত ধুমধাম করে বিহা করাবে ভেবে রেখেছিল ও।
আর কি যে হলো ভেবে যারপরনাই বিমর্ষ হয়ে পড়লো প্রমীলা ।
মা-র সাড়াশব্দ না পেয়ে পরী বললো, ক্যয়া হুয়া মা ? তুমি খুশি হওনি ? আমি তো খুব খুশি আছি মা। তুমি তো সবসময় এটাই চেয়েছিলে, আমি খুশি থাকি । চণ্ডীগড় বড়ো শহর মা, তিনটে রাজ্যের রাজধানী। এখানে অনেক সুযোগ । শিগগীরই আমি একটা ভালো চাকরিও পেয়ে যাবো ।
প্রমীলার চোখে জল এসে গিয়েছিলো ।
চোখটা মুছে ফোনে বললো, আমিও খুব খুশি রে বেটি । বচ্চি কে সুখ মে মেরা সুখ । আমি ভাবছি, এখন তোর বাবুজিকে কি করে বলবো এসব ।
-আমি চলে যাবার পর তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছিলো ? মা…মা তোমাকে বাবুজি আবার মারধোর করেনি তো ?
গলায় প্রচণ্ড উৎকণ্ঠা নিয়ে পরী ঝটিতি প্রশ্নটা করলো ।
-না, না, কিছুই করে নি । তোর বাবুজি, পবন, কেউই তেমন কিছু বলেনি আমাকে । পবন কেবল একবার বলেছিলো, ফোনটা তোর থেকে কেড়ে নিয়ে রাখা উচিত ছিলো।
-ওরা কোথায় এখন মা ? তোমার ঘরে নেই তো ?
-দুজনে দোতলায়, বাবুজির ঘরে । কয়েকদিন ধরে দুজনে প্রায়ই একসঙ্গে থাকে। এদিকে নিলামে গমের দাম একেবারে ওঠেনি, দুজনেরই মেজাজ গরম । শুনলাম খ্যপ ডেকে ঠিক করেছে সরকারকে খত লিখবে । সেই সবই আলোচনা করে বোধহয় । এখানে বিরজু ছাড়া সবাই এটাই জানে যে তোর মামা হঠাৎ এসে তোকে আলোয়ারে নিজেদের কাছে নিয়ে গেছে।
পরীর হাল্কা হাসির একটা শব্দ ভেসে এলো।
-এখন আমার বিয়ে হয়ে গেছে মা ! আমার ফোন এখন খোলাই থাকবে ! পরে আবার তোমার সঙ্গে কথা বলবো ।
পরীর ফোন কেটে গেলো ।
ছয়
স্বামীর ঘরের আধ-ভেজানো দরজাটা খুলতেই ভেতরে বাবা আর ছেলে দুজনেই তার দিকে তাকিয়ে নিজেদের কথা বন্ধ করে চুপ হয়ে গেলো ।
ওদের ভাবভঙ্গি দেখে প্রমীলার মনে হলো ওর ভেতরে আসাতে যেন ওদের কোন পরামর্শে ছেদ পড়লো।
শিব দাহিয়ার চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি, সে দৃষ্টিতে কঠোরতা আর বিরক্তি মেশানো।
ওরা কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই প্রমীলা মৃদুস্বরে বললো, পরী ফোন করেছিলো, আমার ফোনে।
কিছুটা যেন চকিত হয়ে দুজনে পরস্পরের দিকে একবার তাকালো ।
তারপর পবন চাপা হিসহিস স্বরে বলে উঠলো, জাহির হ্যয়, আপকা মোবাইলমে হি উয়হ ফোন করেগি। উসমে হিম্মত হ্যয় কেয়া যো মেরে ইয়া বাবুজি কে ফোনমে ঘণ্টি লাগায়েগি। বেশরম বদতমিজ লড়কি…ক্যয়সে পয়দা কিয়া ইসকো আপনে ইয়ে খানদানমে !
ছেলের এ কথায় স্বামীর দিকে একবার তাকিয়েই প্রমীলা চোখদুটো দেয়ালের দিকে ঘুরিয়ে আরও নিচু গলায় থেমে থেমে বললো, পরী…ওয়হ যো লড়কা…ওহি নকুল…উসসে….শাদি কর লিয়া…মন্দির মে পণ্ডিত কা সামনে নহি…কোর্ট মে ।
চেষ্টা করেও প্রমীলার গলার স্বর কেঁপে কেঁপে গেলো ।
পলকের মধ্যে ঘরের আবহাওয়া বদলে গেলো ।
চেয়ার থেকে ঝট করে উঠে পড়ে ঘরের মধ্যে উত্তেজিতভাবে পায়চারি করতে লাগলো শিব দাহিয়া ।
মুখ থেকে তার কথা স্বগতোক্তির মতো বিড়বিড় করে বেরোচ্ছে, কর লিয়া তব শাদি ! হাঁ ! কর লিয়া ! সচমুচ শাদি কর লিয়া ! মিটটি মে মিলা দিয়া খানদান কা ইজ্জৎ !
পবন মা-র বিধ্বস্ত মুখের দিকে একবার তাকিয়ে উঠে দাঁড়ালো, বাবুজি, আপনি শান্ত হোন । আমরা কি ঠিক করেছি সেটা আপনি ভুলে গেলেন !
পবন বার দুয়েক এইরকম বলাতে শিব দাঁড়িয়ে গেলো ।
নিজের উত্তেজনা সংবরণের চেষ্টায় তার গলার জোর হঠাৎ বেড়ে গেলো, হ্যাঁ, হাঁ, জরুর ! পবন কা মা, আমরা ঠিক করেছি যে ওদের বিয়েটা মেনে নেবো । তারপর…মেনে নেবার পর…আমরা ওদের এখানে ডেকে পাঠিয়ে আশীর্বাদ করবো ! তাই তো না বেটা পবন ?
পবন মা-র দিকে তাকিয়ে ঘাড় নাড়লো ।
প্রমীলা যা এই মুহূর্তে শুনলো, নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারলো না ।
গলার স্বরে উৎকণ্ঠা আর আনন্দ মিলিয়ে ও বলে উঠলো, কি…কি বলছো তোমরা ! ঠিক বলছো ? সত্যি পরী বিটিয়ার এই বিয়েটা তোমরা দুজনে মেনে নেবে ? ওদের এখানে ডেকে আশীর্বাদ করবে ?
পবন বললো, মেনে নেবে নয়, নিয়েছি মা ! এই কদিন আমি আর বাবুজি মিলে এটাই ঠিক করেছি । পরীকে ওর গলতির জন্য আমরা ওকে মাপ করে দেবো আর ওদের বিয়েটা মেনে নেবো ।
বলে পবন ওর বাবার দিকে তাকাতেই শিব বৌয়ের দিকে তাকিয়ে ঘাড় নাড়লো।
তারপর বললো, আবার যখন ফোন করবে তখন তুই ওকে বলে দে, ওই নকুলকে নিয়ে ও যেন এখানে চলে আসে ।
প্রমীলার মনের ভেতরের শান্তি আর আনন্দ ওর গলার স্বরে ফুটে বেরোল, ও ফোন করবে কি ! এখন তো ওর ফোন খোলা, ও খুলেই রেখেছে ! বললো, আভি তো কোর্ট মে শাদি হো গিয়া, ফোন খুলাই রহেগা ।
শুনে পবন আর শিব পরস্পরের দিকে তাকালো ।
তারপর পবন বললো, তব তো বহত বড়িয়া ! মা তুমি ওদের এখানে আসতে বলে পরীকে ফোন করে দাও।
প্রমীলা নিশ্চিন্ত গলায় স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললো, আপ ফোন করিয়ে না জি, পরীকো বহত আচ্ছা লগেগা ।
শিব দাহিয়া কষ্ট করে রাগ সংবরণ করে বললো, না, তু কর লে, বোলা না ম্যয় । আর ওকে বলবি, আপাতত পড়োশিদের কাছে আমাদের মান ইজ্জতের যেন সখত খ্যয়াল রাখে । রাত কে অন্ধেরামে হি জরুর রত্তনপুরা পৌঁছে, কিসিকো উন লোগোকো ঘর আনে কা পতা নহি চলনা চাহিয়ে । ইয়হ বাত একদম খ্যয়াল রাখনে কে লিয়ে বোল দে না। ভুল না যায় ।
সাত
এখন রাত প্রায় সাড়ে দশটা।
রত্তনপুরা গ্রামের জন্য তো এ হচ্ছে গভীর রাত।
মাত্র কিছুক্ষণ আগে প্রতিবেশী সকলের চোখ এড়িয়ে নিঃশব্দে বাড়িতে ঢুকেছে দাহিয়া পরিবারের একমাত্র মেয়ে সদ্য-বিবাহিত পরী, তার স্বামী নকুলকে নিয়ে।
মা-র ফোনে বাবা আর ভাইয়ার কথা শুনে পরীও প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি…কি করে তাদের চিন্তা একেবারে বদলে গেলো !
প্রমীলার পীড়াপীড়িতে ও শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে গিয়েছিলো বাড়িতে আসতে ।
ওর স্থির বিশ্বাস নকুলকে দেখে, তার ব্যবহার, তমিজ দেখে বাড়ির সকলে নিশ্চয়ই মানবে যে পরী কোন ভুল লোকের সঙ্গে জীবন কাটাতে চায়নি ।
নকুল প্রথমেই প্রমীলার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে বললো, মা-জি, পহলে তো জরুর মাফি মাঙতা হু যো মজবুরন হাম দোনো আপ লোগো কি গয়েরহাজিরি মে শাদি কর লিয়া। লেকিন পরী নে বতায়া কি বাবুজি ঔর পবন ভাইয়া দোনোই বহত গুসসে মে থে, ইসলিয়ে…
শিব, পবন দুজনে কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল ।
শিব নকুলের কথার মাঝেই বলে উঠলো, ঠিক আছে, ঠিক আছে, এসব পরে হবে। এখন দুজনে খানা খেয়ে নাও । আমাদের সকলের খাওয়া হয়ে গেছে । অনেক রাত হয়ে গেছে।
নকুল আর পরী তারপর বাবুজির পা ছুঁতে গেলে শিব বাধা দিলো না ।
বললো, আজ রাতে তোমরা নীচের কামরায় শুয়ে পড়ো, কাল সুবে বিরজু ওপরের কোনো একটা ঘরে ব্যবস্থা করে দেবে ।
বিরজু দাঁড়িয়ে ছিল, বললো, বেটি, হাম হ্যয় না, সব ঠিক কর দেঙ্গে ।
তারপর একমুখ হেসে বললো, বিহার কা দামাদ, আমারও পছন্দ হয়েছে বেটি, বজরংবলি কা আশীর্বাদ সে তুম দোনো জিতে রহো ।
ভোর রাতের দিকে বিরজুর ঘুমটা পাতলা থাকে, ভেঙ্গে যায় অল্প আওয়াজেই।
চোখটা খুলে খোলা জানলার দিকে তাকিয়ে দেখলো আকাশে আলোর ছোঁয়া নেই, নিশ্চয়ই গভীর রাত, ভাবল ও।
কোথা থেকে একটা হাল্কা ধপ ধপ আওয়াজ আসছে ।
সেই আওয়াজেই বোধহয় ওর ঘুমটা ভেঙ্গে গেছে ।
বিরজু বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লো ।
ওর মনে হলো কোঠির পেছনের বাগান থেকে যেন শব্দটা আসছে ।
ঘরের কোণে রাখা মোটা লাঠিটা হাতে নিয়ে হুড়কো খুলে ভেতরের ঢাকা বারান্দায় বেরিয়ে এলো বিরজু ।
বারান্দার শেষ কামরাটায় তো পরী বিটিয়া আর জামাইরাজা শুয়ে আছে ।
ধপ ধপ আওয়াজটা এখনো আসছে ।
বিরজু নিঃশব্দে এগিয়ে গেলো বারান্দা ধরে, হাতে লাঠি ।
…একি ! পরী বিটিয়ার কামরার দরজা তো আধা খুলা রয়েছে ! হাঁ, এই কামরাটার হুড়কোটা কমজোর আছে বটে, জোর হাওয়া এলেই খুলে যায়…হলকে সে খিচকে বন্ধ কর দু ক্যয়া…
একটু দ্বিধা নিয়ে বিরজু পাল্লা দুটো টানতে গেলো আর ইচ্ছে না থাকলেও ওর
চোখ চলে গেলো ঘরের ভেতরের খাটের দিকে ।
…হায় রাম ! দোনো তো কামরে মে নহি হ্যয়…ইতনি রাতমে কহা গিয়া…
এক অজানা আশঙ্কায় বিরজুর বুকটা হঠাৎ ভীষণ ভাবে কেঁপে উঠলো…এই রাজ্যে তার পঞ্চাশ বছর কেটে গেছে !
ধপ ধপ আওয়াজটা এখন বন্ধ হয়ে গেছে ।
বুকের মধ্যে অসহ্য এক কাঁপন নিয়ে বিরজু তাড়াতাড়ি বারান্দার শেষে গিয়ে সিঁড়ির একটা ধাপিতে নেমে মাথাটা বাড়িয়ে পেছনের বাগানের দিকে দেখলো।
চাঁদের আবছা আলোয় বাগানটা ছেয়ে আছে ।
দুজনকেই দেখতে পেলো ও, পবনের হাতে একটা কোদাল । পাশে বাবুজি।
আর পাশে ঘাসের ওপর পড়ে আছে দুটো মানুষের নিথর দেহ, দূর থেকেই বুঝতে পারলো ও।
হায় ভাগোয়ান ! অস্ফুটে বলে বারান্দার ওপর ধীরে ধীরে বসে পড়লো বিরজু।
ওর দুচোখ বেয়ে ঝর ঝর করে জল পড়তে থাকলো, এতো বছর পরে, বোধহয় নিজের বানভাসি পরিবার আর একমাত্র মেয়েটার কথা ভেবে ।
দম বন্ধ করে নিজের বিছানায় পড়ে আছে বিরজু ভোরের অপেক্ষায়।
পেছনের বাগানের কর্মব্যস্ততা কখন শেষ হয়ে গেছে ।
কলঙ্কমুক্ত দাহিয়া কোঠি, উঠোন, বাগান, চারিদিক নির্জন, নিঃশব্দ ।
আকাশে একটু আলো ফুটতেই খুব সাবধানে বেরিয়ে এলো বিরজু ।
ঢোলা আধময়লা জামার পকেটে তার আধার কার্ড ।
সাবধানে গোয়ালঘরের ভেতর থেকে সাইকেলটা বার করে আনলো বিরজু।
রত্তনপুরার পুলিশ চৌকিটা নিতান্তই ছোট।
ও যাবে সাত মাইল দূরে, সদর জাগ্ধেরির বড়ো পুলিশ থানায় ।


অপ্রিয় সত্যের অবর্ণনীয় বিবরন।
এই রকম পরিণতি হবে ভেবেছিলাম। অত্যন্ত বাস্তব চিত্র বিশ্বের তৃতীয় আর্থিক শক্তিধর হবার স্বপ্ন দেখা দেশের রাজ্যের ভেতরের অবস্থার
সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, এক টি বিকৃত
বিকৃত সমাজব্যবস্থাকে, গল্পের মাধ্যমে I
A vivid portrait of the sick mindset of our patriarchial and caste based society and we boast of “beti bachao beti padao” slogan in independent India pleading helplessness to curb this social menace. What a shame?
This is a true narrative of the social evil present even today. The end of the story is on the expected line and has been brilliantly portrayed.
আপনার লেখা খুবই ভালো বরাবরই আবার ভালো লাগে বেশ নতুন সালের একটা লেখা পড়তে পেলাম। ধন্যবাদ।
সাবলীল লেখা। ভাল লাগছে পড়তে, যদিও বিষয়বস্তুটা অনেক লেখা বা গল্পের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। শেষের ফলাফলে যদি কিছু একটা অভাবিত মোচড় আনা যায়, যেটা পাঠকের অনুমানের বাইরে, তাহলে খুবই চিত্তাকর্ষক হবে, সন্দেহ নেই।
খুবই সাবলীল লেখা। পড়তে ভালো লেগেছে, যদিও বিষয়বস্তুটা অনেক লেখা বা গল্পের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। শেষের ফলাফলে যদি কিছু একটা অভাবিত মোচড় আনা যায়, যেটা পাঠকের অনুমানের বাইরে, তাহলে খুবই চিত্তাকর্ষক হবে বলে মনে হয়।
গল্পটি একটি বিকৃত সামাজিক সংস্কারের অনিবার্য পরিণতি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।
গল্পটি সুলিখিত। জাঠ সমাজ ও খাপ পঞ্চায়েত এর ছবি নিখুঁত ভাবে আঁকা হয়েছে। চরিত্র গুলির মুখে সংলাপ নিখুঁত। গল্পটিও অতি বাস্তব। এ গল্প আমরা খবরের কাগজে হামেশাই পড়ি। গল্পের শুরুতেই এবং গল্পের নাম থেকেই পাঠক বুঝে যান গল্পের পরিণতি।
কিন্তু যা কিছু বাস্তব বা যা অহরহ ঘটে তা গল্প নয়। বরং যা ঘটতে পারে বা যা ঘটা উচিত গল্প তেমনি হওয়া উচিত। একশটা এইরকম ঘটনার পর একটা জদি বিদ্রোহ হয়, কেউ দেবদূতের মত আবির্ভূত হয়ে ঘটনার মোর ঘুরিয়ে দেয় সেটাই গল্প হবার যোগ্য।
বিরজু ভোর হতেই থানায় গেল। এক অর্থে সে মালিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। সে আগে বিদ্রোহ করে ছেলে মেয়ে দুটিকে বাঁচাতে পারত। বড় দাদার মন পরিবর্তন হতে পারতো শেষ মুহুর্তে। ছেলে মেয়ে রা এসব অনেক দেখেছে। সাবধানতা নিয়ে তারা নিজেদের কাছে ভোজালি রাখতে পারতো। নিদেন পক্ষে গোলমরিচের গুঁড়ো রাখতে পারতো।
তাহলে গল্পের একটা উত্তরণ হতো।
Sesh ta arokom hobe bojha jachhilo … akhono ai byaper gulo aache ,mene nite koshto hole o atai reality.