
নৌকা পারাপারের একটি গল্প
২০১০-২০১১ সাল, আমি তখন মাঝে মাঝে কাজের শেষে ট্রেনে করে বিধাননগর থেকে টিটাগড় স্টেশনে ফিরতাম । তারপর পায়ে পায়ে ধীর গতিতে আসতাম হুগলী নদীর তীরে “অন্নপূর্ণা ঘাটে”। ওখান থেকে ফেরিতে অপর পারে “বল্লভপুরে রাধাবল্লভ ঘাট” ।
নদীর কাছেই আমাদের তিনতলা বাড়ি। তখন এত বহুতল ছিল না আমাদের এলাকায়। ছাদ থেকেই দৃশ্যমান ছিল অনেক কবিতা। বাড়ির কাছেই সামনের বিরাট অশ্বত্থ গাছ, হাওড়া ওয়াটার ওয়ার্কস-র সবুজায়ন, রাধাবল্লভের প্রাচীন ভাঙা মন্দির ( ডেনিশ প্যাগোডা) ।
ছাদে উঠলেই এপারে লাট বাগান, গান্ধী ঘাট, অন্নপূর্ণা মন্দির, আরোও কত কী!
আমি এসে বসতাম, নৌকায়। আমাদের বাড়ির ছাদ থেকে আমাকে নিখুঁত ভাবে বোঝা না গেলেও দৃশ্যপটে থাকতো নৌকা এবং কয়েকজন মানুষের অবয়ব। ওপারের ছাদ জুড়ে অনুভূতি… আমি ফিরছি…

তখন আমাদের ছাদে ফুলগাছ গুলিতে জলসিঞ্চনের সময়। মোবাইল ফোনে বলতাম গাছেদের ছেড়ে এবার আমার জন্য চা-এর জল চাপাও, আমি আসছি।
সূর্য তখন পশ্চিমে আমোদিত লাল… পারে পৌঁছে কাঠ, বাঁশের মাচার ওপর দিয়ে হেঁটে ওপরে উঠতে একটা অন্য অনুভূতি… চেনা পাড়া, চেনা মানুষ, চেনা বাতাস। আমরা তখন কেউ কাওকে দেখতে পাচ্ছি না অথচ দূরত্ব কমছে।
অবশেষে আমাদের নীড়ে… এক টুকরো হাসি, হাতমুখ ধোওয়া, চা এর কাপে চুমুক।
নৌকায় ওঠা… এপারে নামা… মাচা র ওপর দিয়ে হাঁটা… লাল সূর্য… চা এর সঙ্গে সারা পথের গল্প… সবটাই ছিল এক একটা কবিতা, নৌকার সঙ্গে তারা তখনও দোদুল্যমান।
মন জুড়ে কত গল্প, কত বুড়ি ছোঁয়া, কত উতল হাওয়া, নৌকার পারাপার, কত মেঘ, কত বকের সারি …কত গভীর ছিল সে সব আশ্রয়।

