
চাল

দুলে দুলে পড়া মুখস্থ করছে দ্বিতীয় শ্রেণীর সিধু।
“ধান থেকে চাল উৎপন্ন হয়, চাল আমাদের প্রধান খাদ্য।” হঠাৎই দরজায় দুজন লোককে দেখে চেঁচিয়ে মাকে ডাকলো সিধু। মায়ের সাড়া না পেয়ে অগত্যা নিজেই গেল দরজার কাছে।
দেখলো দরজায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন একজন বয়স্ক লোক ও একজন মাঝবয়সী। দুজনের কালো চশমা পরে আছেন।
ওদের মধ্যে একজন সিধুকে দেখে বললো।
-বাড়ীতে কেউ আছেন? একটু ডেকে দেবে বাবা?
দুজনকে আরও একবার দেখে নিয়ে ও দৌড়ে ঘরে চলে গেল।
-মা বাইরে দুজন এসেছেন। ওনারা চোখে দেখেন না। তুমি কিছু চাল ওদের দাও না মা! সিধুর কথা শুনে মা খুব খুশী হল। মনে মনে ভাবলো-
-ছেলেটা মানুষের মতো মানুষ তৈরী হচ্ছে।
ঠিক আছে দাঁড়া। আমি কিছু চাল নিয়ে গিয়ে ওদের দিচ্ছি।
সিধু আর ওর মা একটি বাটিতে কিছুটা চাল নিয়ে দরজার কাছে এলো। ওই দুজন মানুষ ওদের দেখে দু হাত জোর করলো।
হতবাক হয়ে সিধুর মা ওর দিকে তাকিয়ে বললো।
-এরা কারা?
-এরাই তো অন্ধ ভিক্ষুক। চোখে দেখতে পায় না। আমি পড়েছি চাল আমাদের প্রধান খাবার। তাই ওদের কিছু চাল দিতে বললাম তোমায়।
বাচ্চা ছেলেটির কথা শুনে ওই দুজনের একজন কাচুমাচু মুখে, চোখ থেকে কালো চশমা নামিয়ে বললো।
-আমরা অন্ধ নই ছেলে! এবারের ভোটে ফুল-ফল দলের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়িয়েছেন যিনি, আমরা তাদের প্রতিনিধি।
দু নম্বর বোতামে সকাল সকাল ভোটটা দিয়ে আসবেন।
বলেই হনহন করে চলে গেল ওরা।
পাশের বাড়ির জানালা থেকে মুখ বের করে একগাল হাসলো
কালো চশমা পরা অন্ধ নিমাই দাদু।
চালচুলোহীন দের চালটা জব্বর দিলি দাদুভাই।
মা বললো-
ছেলেটা মানুষের মতো মানুষ তৈরী হচ্ছে।


ভাল লাগল।