সারাদিন মোবাইলে মুখ গুঁজলে চলবে?” রান্না ঘর থেকেই নন্দিতার চিৎকার ভেসে এল।

“স্কুলের স্যারেরাও ক্লাসে এসে মোবাইলে মুখ গুঁজে বসে থাকেন আর আমাদের বলেন – মন দিয়ে পড় যা বললাম এতক্ষণ – চটজলদি জবাব নন্দিতার পাকা ছেলে পপাইয়ের। আর তাছাড়া উঁচু ক্লাসে সরকার থেকেই মোবাইল কেনার টাকা দিচ্ছে দাদাদিদিদের। কেন বলো তো?ঐ মোবাইলে মুখ গুঁজে থাকা ছাড়া আর কি জন্য হবে বলোতো?”

“আবার মুখে মুখে কথা। হাজার দিন বারণ করেছি না বড়দের মুখে মুখে কথা বলবি না। বলেছি যখন মোবাইল ধরবি না তো ধরবিই না। জানবি এটাই শেষ কথা। জ্যেঠুকে দেখেও কোনদিন মনে হয় না মানুষটাকে একটু ফলো করি। বাড়িতে এতবড় একজন অধ্যাপক রয়েছেন, একটু ওনার মতন হওয়ার চেষ্টা করি, দিনরাত ঐ দু আঙুল ঘষে চলেছিস মোবাইলে ,একটু অভ্যেস বদলাতে ইচ্ছে করে না ; তেমনি হয়েছে এই মুখপোড়া মাষ্টার এর দল,রাত দিন নোট বলো, লেকচার বলো খালি নাকি মোবাইলেই সেন্ড করে। গ্রুপে গ্রুপে। ব্যস আর কি ছেলে মেয়েদের পোয়া বারো। গোল্লায় যাওয়ার পথ প্রস্তুত।”

“গোল্লায় কেন যাবে মা? এটাই এখন দুনিয়া।”

“চুপ কর। আবার কথা। জ্যাঠানকে দেখিস তো কলেজ থেকে ফিরেই বই মুখে নিয়ে বসে আছেন। দেখিস কখনও তোর মতন দুআঙুল ঘষতে?”

“ভুলে যাচ্ছ মা, মোবাইলের মধ্যেও বই আছে।”

“মানে? তুই কি বলতে চাইছিস তোর ঐ স্যার ম্যাডামরা মোবাইলে বই পাঠায়।”

“দূর তা কেন হবে। মোবাইলেই বই আছে” শব্দ টার প্রথম আর শেষ লেটারের সাথে বই এর আকারটা শুধু তুলেই দেখো না।”

“খালি পাকা পাকা কূট যুক্তি দিয়ে অন্যকে বোকা বানানো চেষ্টা । খালি উকিলগিরি।”

“বাহ্‌! শিখব না যুক্তি। আমার বাবা যে শহরের নাম করা উকিল শ্রী সত্যসুন্দর বটব্যাল আর আমি তার পুত্র অরিন্দম বটব্যাল।”

“এত যে বাবার নাম নিয়ে বড় বড় ডায়লগ মারছিস, যতক্ষণ মক্কেল , কথাবার্তা নীচের ঘরে ততক্ষণই। তারপর কত রাত অবধি যে বাবা-জ্যেঠুরা নিজেদের ঘরে মুখের সামনে বই নিয়ে বসে থাকেন সেটা করতে তোর ইচ্ছে করে না।”

“করে বলেই তো আধুনিক যন্ত্রে বই ঘাঁটি। ঠিক তোমার মতন আধুনিকা হয়ে।”

“কি?”
“হ্যাঁ, ঠিক তোমার মতন। রাতের বেলা বাবা জ্যেঠাদের মুখে যখন ধরা বই আর তখন তোমার মুখে ধরা মুখবই।”

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের অন্য রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, এপ্রিল ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

0 0 ভোট
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
পংক্তির ভেতর মন্তব্য
সব মন্তব্য
Dipak Banerjee
Dipak Banerjee
2 days ago

ভালো লাগলো গল্প। ধন্যবাদ।

পল্লববরন পাল
পল্লববরন পাল
2 days ago

বেশ লাগলো।
🙏🏼❤️🙏🏼