
অভিসার

আমি এলেম হোলির দিনে
নবীন রূপে নতুন পরিচয়ে।
একটু খুশি, একটু হাসি,
অসীম ভালোলাগায় ভরাক অনন্ত হৃদয়ে।
আসত যদি দখিন সমীর
ফাগুন হাওয়ায় মত্ত মাতন তুলে।
শিমুল পলাশ কিংশুকি লাল
বসন্তী ফাগ আকাশ নীলে দুলে।
তোমার পায়ে জলতরঙ্গ,
রামধনু তার আলতা হ’য়ে সাজে,
মেঘের আঁচল উড়িয়ে আকাশ,
কিশোরী আজ নাচছে দেউল মাঝে।
শালপিয়ালের শাখায় পাতায়
যে রঙ লাগে, কেউ দেখেছ তাকে?
তোমার সঙ্গে জমলে আলাপ,
পালের হাওয়া মাস্তুলে কি লাগে?
আমার সাথে কেউ ছিল না-
একলা আমি টানতে ছিলেম দাঁড়,
আমার খাতার পাতায় পাতায়-
তুলির আঁচড় কাটাই হত সার।
আমার আসার খবর পেয়ে,
জোছনা এল বানভাসি উচ্ছ্বাসে।
চাঁদের আলোর ভেলায় চ’ড়ে
গাইছে আকাশ উদ্দাম উল্লাসে।
তখন আমি ঘাটের পাড়ে ব’সে,
ভাসিয়ে দিতেম জোয়ার আর ভাটায়,
শুধুই আমার দিগন্তে সুর তুলে,
ঘুচিয়ে দিত যোজন অন্তরায়।
যখন তুমি আমার কাছে এলে,
সুপ্ত ছিল তোমার চরণধ্বনি!
তবুও তোমায় বুঝতে অনুভবে,
হয়নিকো ভুল শুনতে সে শিঞ্জিনী।

অনন্যা, তোমার কাছে
অনন্যা, তোমার কাছে আজও আমি ঋণী রয়ে আছি,
যেমন নদীর কাছে ঋণী রয় ঘাটের মাঝিরা,
প্রচন্ড ঝড়ের পরে বাসা ভেঙে ছিন্নভিন্ন হলে,
ঘর বাঁধে নীড়ভাঙা নিঘর পাখিরা!
জাগতিক স্বাচ্ছন্দ্যের টুকিটাকি সারা হলে
যেমন আত্মা খোঁজে অবয়বে অদৃশ্যের খোঁজ!
পড়ন্ত বিকেলে এসে ক্লান্ত দেহে উর্ণনাভ বোঝে,
অমিত্র অক্ষর ছন্দে মিল রাখা এতো কি সহজ!
শিকারীর রাখা ফাঁদে ধরা পড়ে রোজ বালিহাঁস,
নতুন উদ্যমে ফের বারবার ফিরে আসে চরে,
কীসের আকর্ষণে কিম্বা কোন অবোধ্য কারণে
নীড়ভাঙা উদ্ভ্রান্তেরা লক্ষ্য রাখে আঁধারেও ঘরে।
প্রবাহের বিপরীতে যেতে হয় উৎসের খোঁজে,
কুয়াশায় ঢাকা পথ আকাবাঁকা বিপদ সংকুল,
উৎসব সার্থক হয় পূজারীর অর্ঘ্য নিবেদনে,
মোহানায় একাকার হয়ে যায় নদীর দুকূল।
ভাবনারা ভিড় করে আবর্তনে রাত থেকে দিন,
কীভাবে মেটাব আমি অনন্যা, তোমার এতো ঋণ?

