
আমার বৃষ্টি
বৃষ্টি আমার কান্নায় ভেজা আলমারি
বৃষ্টি একলা নিঘুম রাতের পায়চারি
বৃষ্টি আমার ঝমঝম নীল মৌনতা
স্পর্শে জাগায় আপৎকালীন যৌনতা
বৃষ্টি আমার সহবাস শুচি পরম স্নান
বৃষ্টিই গায় – মরণ রে তুহু শ্যাম সমান
বৃষ্টি চুমুর বহুগামিতার ফ্রি স্যাম্পেল
ন্যাড়া বেলতলা তন্নতন্ন খুঁজছে বেল
সে বেল পাকলে কাকের কি কিছু যায় আসে?
বৃষ্টি আঁকছে ঈশ্বর মুখ ক্যানভাসে
ইচ্ছে করে
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে
সকলের থেকে দূরে সরে যাই
নির্জন সমুদ্র কিম্বা
নির্জনতর সরোবরে যাই
মরে যাই
লাশে লাশে ভরে যাই
শীত পত্রের মতো
নিশব্দে ঝরে যাই
শূন্য কলসির যত ডেসিবেল বাড়ে
বক্ষ বিদীর্ণ হয় চুপ হাহাকারে
বাঁচতে পালাতে থাকি বৃক্ষ মগডালে
ওই উচ্চতার থেকে
ইচ্ছে করে পড়ে যাই
মাটিতে থেঁতলে যাক মাথা
আহাম্মকের মতো হাসুন বিধাতা –
বেঁচে মরবার চেয়ে
মরে বেঁচে উঠে চলো
যাপন শিকড়ে যাই
অসভ্যতার সাথে
মুখোমুখি লড়ে যাই
শিকড়ে ফিরতে হবে তাই
জুঁই
জুঁই ও জুইফুল
বাগান ভণ্ডুল
উঠছে শপিং মল
বাণিজ্য সম্বল
অন্যস্বর শেষ
গৌরী লঙ্কেশ
বাতাসে পোড়া বাস
গঙ্গাজলে
যাচ্ছে চলে
লক্ষ কোটি
দেশদ্রোহী
আরশোলাদের লাশ
জুঁই ও জুঁইফুল
বুঝবি কবে ভুল
রাজার সাতমহলা
ভাঙতে এবার নেমেছে আরশোলা
বিবর্তন
মাথার ভিতরে এক ধূসর শকুন বসে আছে
আমি খোলা জানলায় চোখ মেলে দেখি – গাছে গাছে
ঢাক ঢোল করতালে কঙ্কাল করোটি উৎসব
মাঝখানে অগ্নিকুণ্ডে দাউদাউ সভ্যতার শব
গাছের মাথায় এক ধূসর শকুন বসে বসে
জয়ের অপেক্ষা করে দুর্বৃত্তের শৃগাল সাহসে
সতীদাহ শেষ হলে নাভিমূল ঠোঁটে করে নিয়ে
সেই হত্যা সংবাদ প্রচার করবে আরও ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে
সভ্যতার শব পোড়ে, পোড়ে ইতিহাস তর্জমা
আমরা নীরবে শুধু ভেসে যাই নোংরা নর্দমা
আগুন জানলা দিয়ে ঢুকে পড়ে ডাইনিং রুমে
ঘরের ভিতরে ঘরে আমরাও পুড়ে মরি অচেতন ঘুমে
সতীদাহ প্রথা রদ করেছিলো সে যুগের রাম
অন্য রামের হাতে সভ্যতা আজ ধ্বংসধাম
মানুষ বিবর্তনে ক্রমাগত শয়তান শেয়াল শকুন
চিত্রগুপ্তস্যার,
ও খাতা বন্ধ করে নতুন এক খাতায় লিখুন
মাথার ভিতর থেকে শকুনের বাসা ভাঙতে হবে
নতুন মানুষ চিতাভস্ম ছেড়ে উঠে আসবে কবে?

হঠাৎ দেখা ২
রেলগাড়ি কামরায় হঠাৎ দেখা
ছুটিতে ভাগলপুরে নাতি নাতনির কাছে
যাচ্ছি একা
প্যাসেজের ওইদিকে দুই-তিনজন
মধ্যবয়সী নারী এবং তজ্জনিত
হাহা-হিহি-হোহো লঘু স্বরে শিঞ্জন
এমনি তাকাতে গিয়ে থেমে গেলো চোখ
বিস্ময়ে হতবাক – দেখি
এ তো অনামিকা সেন! সে কী!
উথলে উঠলো স্মৃতি কবেকার – তখন বালক
আচ্ছা এখন ও দত্ত না পাল?
রেলগাড়ি জানলায় হু হু হাঁকে ভরা বৈকাল
পরণে ঢাকাই শাড়ি কপালে সিঁদুর
তাকালো সে একবার – যেন সে গ্রহান্তর দূর
দেখে শুনে হচ্ছে যা মনে
সবাই বোধহয় ওরা
নেমে যাবে পরের স্টেশনে
সেই মতো তোড়জোড় নাকি?
তবে কি ও উঠে এসে
মুখোমুখি সীটে বসে
বলবে না কথা সেই –
আমাদের দিনগুলো গেছে কি একেবারেই?
কিছুই কি নেই আজ বাকি?
তর সইলো না, আমি উঠে গিয়ে দাঁড়ালাম কাছে
বললাম ওকে – শোনো, রাতের তারারা আজও আছে
দিনের আলোর সিন্দুকে
আমি ভাবলেশহীন বুকে
দাঁড়িয়ে রয়েছি দেখে উঠে এলো অনামিকা একা
আমি তো তুমুল ভ্যাবাচ্যাকা
বললো – এ সব তুমি কী বলছো? ধ্যুর!
বাঙালীর আশা নেই
এই বয়সে এসেও নিজস্ব ভাষা নেই
এখনো কপচে যাচ্ছো রবিঠাকুর?
অর্ধসত্য কথা – সব ভুলভাল
আকাশের তারাটারা সব গতকাল
যেখানে যেমন ছিলো, আজকে সেখানে কেউ নেই
আমরাও আছি কি সে বাল্যকালেই?
কারণ সবাই জানি –
পৃথিবীটা বনবন ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে
ঠিকানা বদল হয় জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে
পড়েছো তো পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে জানি তুমি
তবু কেন বাজাচ্ছো কাব্যের ভুল ঝুমঝুমি?
রবিঠাকুরের তুমি ইদানিং নিয়েছো কি ঠ্যাকা?
তুমি বহুদূরে যাবে, হয়তো হবে না আর দেখা
এবার উঠতে হবে – যাই
নিয়মানুসারে নিজ অবস্থানটা বদলাই
একটু হাতটা ছুঁয়ে ফিরে গেলো অনামিকা সেন
বাকিরা আমার দিকে গোগ্রাসে চেয়েই আছেন
পরের স্টেশনে ওরা নেমে গেলো সব
শেষ হাহাহিহি কলরব
জানলায় দিবসের শেষ সূর্যের মেলে দেখা
ট্রেনের সঙ্গে আমি
দৌড়ে যাচ্ছি তার শেষ ছোঁয়াটুকু নিয়ে
একা

