পাহাড় আমার ভালোবাসা। তাঁকে আঁকড়ে কটা দিন কাটিয়ে আসি অবলীলায়। রাতের নিদ্রা ভঙ্গ হয় পাহাড়ি পাখপাখালির ডাকাডাকিতে। মনোরম স্বর্গীয় সকালে হেঁটে যাই খাদের কিনারা বরাবর সর্পিল পথে। সুন্দরী উচ্ছ্বল ঝর্ণা খাদে পড়ে কিছুটা শান্ত। ভেতরে তার সমতলে যাবার তাগিদ। দাঁড়িয়ে থাকি কিছুটা সময় একটি অজানা অচেনা গাছের নিচে। সে গাছ আমার অস্থির মনকে খানিক আশ্রয় দেয়। বুঝে নিতে চায় আমার ব্যথা আমার আনন্দ। আমি আবেগকে লুকিয়ে রাখতে পারি। প্রকাশ হতে দিই না কিছুই। এরপর হাঁটতে শুরু করি ঝরনার তালে তালে। খানিক এগিয়ে দেখা হয় এক স্কুল পড়ুয়া বালকের সঙ্গে। চোখে মুখে আঁকা একরাশ স্বপ্ন। বাবার হাতটি ধরে চড়াই উতরাই পেরিয়ে চলেছে বহুদূরের স্কুল অভিমুখে।

খুশি মনে ওদেরকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে চলি। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে নাম না জানা ফুলের রঙিন সমারোহ। পাহাড় যে তাদের কত রঙে সাজিয়ে তুলেছে! অবাক বিস্ময়ে ফুলের শোভা দেখি! পরিচর্যাহীন অপরূপ ফুলের বাহারে মনে পুলক লাগে। অবাক হয়ে দেখলাম,
অবনত একটি ফুলের ভেতরে অজানা পাখি তার ঠোঁট ঢুকিয়ে মধু নিচ্ছে। অচেনা লোক দেখে ঘাবড়ে যায় না অবোধ পাখি। নিবিষ্ট মনে সে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে।
সামনের বাঁকের মুখে নদীকে ডাইনে ফেলে চড়াইয়ে গিয়েছে পথ।

আমিও ধীরে ধীরে উঠি। এখান থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফ ঢাকা শৃঙ্গ। শৃঙ্গের মধ্যে লেখা থাকে শীতলতা ও শান্তির বার্তা। ডুব দিই তার গভীরে। এক মুহূর্তে হতাশা রা বিদায় নেয়। সামনের চড়াইয়ে উঠে যাচ্ছে এক বৃদ্ধা।

পিঠে তার বোঝা। বোঝার ভারে সে নুয়ে পড়েছে খানিক। প্রণাম করি তাঁকে। বলি তুমি কি চলেছো সেই কাঞ্চনজঙ্ঘার পথে?
নির্ভরতার ধার ধারো না তুমি।তাই—চরৈবেতি চরৈবেতি তোমার ছন্দে। ওঁর অজান্তেই ওই মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে প্রণাম করি ওঁকে।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

menterprisekolkataEdit Profile

[লেখকের পূর্ব রচনা]

[ পরম্পরা ওয়েবজিন, সেপ্টেম্বর ২৬, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

0 0 ভোট
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
পংক্তির ভেতর মন্তব্য
সব মন্তব্য