
নেমপ্লেট
লাবনীর দুধ সাদা বড় গাড়িটা ধীর গতিতে ঢুকছে ওদের পুরোনো পাড়ায়।
পাড়াটি আর চেনা যায় না। বান্টুদের জমজমাট বাড়িটা ভুতুড়ে পোড়ো বাড়ির মত হয়ে আছে। তার গায়ে শ্যাওলা ধরা দেওয়ালে হেতা হোতা গজিয়ে উঠেছে নানান আগাছা। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে যেন পুজো প্যান্ডেল। থিম পুজোয় আজকাল তো পুরোনো বাড়ির আদলে প্যান্ডেল হয়েই থাকে। লাবনী এখন আটান্ন। পাকা ড্রাইভার । সাহেবী কায়দায় স্টিয়ারিংয়ে হাত দিয়ে বাঁকের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল গাড়িটা। লাবনী অবশ্য সাহেব নয় মেম। স্লিম, বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা, চোখে সরু রিমের দামি চশমা, মাথায় বয়েজ কাট কাঁচা পাকা চুল।

চুল পাকবার আবার বয়স আছে নাকি! ওকে দেখে মনে হয় হার্ডলি চল্লিশ। চার মাথার মোড় থেকে ডানদিকে টার্ন নিয়ে একটা বাড়ির পরেই লাবনীর শ্বশুর বাড়ি। যে বাড়িতে লাবনী বৌ হয়ে এসেছিল মাত্র কুড়ি বছর বয়সে।
কলকাতার নামী কলেজের ছাত্রী লাবনী তখন সবেমাত্র বিএসসি পরীক্ষার পাট শেষ করেছে। গ্রামের সহজ সরল মেয়ের বিয়ে দিয়ে নির্ঝঞ্ঝাট হয়ে গেলেন নিরঞ্জন বাবু। আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগের কথা তো! মেয়ের বিয়ে দেওয়াতেই পরমানন্দ। বাবা মায়ের মোক্ষ লাভ। লেখাপড়ায় ভালো, সম্ভাবনাময় মেয়েকে তাই সঁপে দেওয়া হল পেশায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী তন্ময় দত্তের হাতে। পরীক্ষার পরেই রেজাল্ট এসেছিল। অনার্সে উচ্চ নম্বর নিয়ে পাশ দিয়েছে লাবনী। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাতে খুব একটা আনন্দিত বা উচ্ছ্বসিত হয়েছে বলে মনে হয়নি তার।
বাবা-মা মেয়ের সাফল্যের আনন্দ দমন করে চুপ করে ছিলেন। লাবনী চিন্তিত। মনে মনে ভাবে তার ভবিষ্যৎ কি? তার যে বড় সাধ মাস্টারস করবে। নিজের বাবা মা সাফ জানিয়েছেন এখন তুমি বিবাহিত। তোমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তোমার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা নেবে। আমরা নই। বিমর্ষ মনে তন্ময়ের কাছে কথাটা পেরেছিল লাবনী। জানো তো আমার খুব ইচ্ছে এমএ পড়বো। তন্ময় কাছে টেনে নিয়ে আদরে মাখামাখি করতে করতে বলেছিল বাবাকে বলো। লেখাপড়া ভালবাসেন বাবা। পরদিন সকালে হরলিক্স এর কাপ নিয়ে শ্বশুরের কাছে। খুব মিষ্টি করে নিজে রেজাল্ট হাতে বলেছিল, বাবা, এই আমার রেজাল্ট।
ভদ্রলোক বলতে যা বোঝায় কিরণময় বাবু ছিলেন ঠিক তাই।
মন দিয়ে খুঁটিয়ে তিনি দেখলেন। শোনো বৌমা, এর পরে তোমার ইচ্ছে কি? আমি এমএ তে ভর্তি হব বাবা। বাঃ! বেশ বেশ । তাই হবে।
লাবনীর গাড়িটাকে একটু এগিয়ে এসে থামাতেই হল। রাস্তা বেশ চওড়া। কিন্তু দুপাশে পরপর বিভিন্ন রকম গাড়ি পার্কিং করা। লাবনী একটি স্করপিওর পেছনে নিজের গাড়িটাকে পার্ক করে নেমে পড়ল। সেই আম গাছটার তলায় দাঁড়িয়ে নির্মীয়মান ফ্ল্যাট বাড়িটার দিকে তাকিয়ে বলল, আমি আবার এলাম। কিন্তু এই লাবনী তো সেই লাবনী নয়। তার মৃত্যু ঘটেছে অনেক আগে।
চৌত্রিশ বছর আগে সে এখান থেকে পাকাপাকিভাবে বিদায় নিয়েছিল। আবার লাবনী ডুবে গেল পুরনো দিনে। প্রতিদিনের অশান্তি একদিন চরমে উঠেছিল।
কিরণময় বাবু তার ব্রিলিয়ান্ট বৌমাকে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন মাস্টার্সের ক্লাসে। সেখান থেকেই অশান্তির শুরু। তিনি তার হোম মিনিস্টার কে না জানিয়েই এই গর্হিত কাজটা করে ফেলেছিলেন। তন্ময়ের মা মিনতিদেবী তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন। যখনই জানলেন লাবনীকে এমএ ক্লাসে এডমিশন করিয়ে আসা হয়েছে।
তন্ময়ের ক্ষমতা ছিল না সহধর্মিণীর হয়ে সওয়াল করে। সে ছিল নিতান্তই দর্শক। দশটা পাঁচটার অফিস। অফিসের পর ঘরে এসে টিভি দেখা আর ঘুম। এই ছিল তার রুটিন। সিনেমা দেখতে খুব ভালোবাসত সে। কলকাতার সিনেমা হল এলাকাতেই ছিল তার অফিস । স্বাভাবিকভাবেই কোন শনিবারই তার ফিল্ম শো বাদ যায় নি। বিবাহিত নববধূকে সময় দিতে হবে এ তার মাথায় ছিলনা। ছেলেরা তো বিয়ে করে বাবা-মায়ের জন্য। সংসার দেখবে ,মাকে সাহায্য করবে, বাড়ির সবাইকে খাবার টা, চা টা এগিয়ে দেবে, ঘর সংসারের কাজ সামলাবে এইতো তাদের রুটিন হওয়া উচিত। হ্যাঁ, আরো আছে। তারপর এসব সামলে রাতে স্বামীর মনোরঞ্জন করবে।
তন্ময় ছাত্র জীবনে কেমন ছিল, সেটা লাবনীর জানা নেই। আনন্দবাজারে পাত্রী চাই বিজ্ঞাপনের উত্তরে মা পাঠিয়েছিলেন চিঠি । তাতেই বিয়ে। তবে তন্ময়ের বর্তমান অবস্থান সে বোঝে। মানুষটি মোটেও পড়াশোনা ধার কাছ দিয়ে যাওয়া পছন্দ করেন না। একটাই প্লাস পয়েন্ট। কখনো লাবনীর লেখাপড়ায় বাঁধ সাধেনি তন্ময়। তবে সেটা তার প্রতি দয়া, নাকি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে – লাবনীর কাছে সেটা পরিষ্কার নয় । তখনকার বাজারে শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের চেষ্টা চরিত্র করলে চাকরির অভাব হত না। আর ডবল ডেকার ইঞ্জিন হলে সংসারে সমৃদ্ধি আপনা থেকেই আসবে। সম্ভবত এই বোধটুকু ছিল তার পতি পরমেশ্বরের ।
লাবনীর ইউনিভার্সিটি যাতায়াত শুরু হলো পরের মাস থেকেই। শাশুড়ির মন ভেজাতে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজকর্ম সেরে ফেলতো। তারপর তিনটি স্টিলের টিফিন কৌটোয় শ্বশুরের, বরের ও নিজের জন্য খাবার গুছিয়ে নিত। তিনটে থালায় বেড়ে নিত ভাত ডাল তরকারি। ওই দিকটাতেই তো রান্নাঘরটা ছিল। কি ভয়ে ভয়ে না থাকতো তখন লাবনী। তখন বাড়িতে ফ্রিজ ছিল না। বাজার থেকে মাছ এলেও রান্না হয়ে উঠত না। লাবনী খুব ভোরে উঠে তিন তলার ঠাকুরঘরে ন্যাতা দিয়ে আসতো। প্রথমে শ্বশুরমশাই, তারপর শাশুড়িমা চা খেয়ে চলে যেতেন আহ্নিকে। তিন তলার ঠাকুর ঘর থেকে নামার সময় দূরের পুব আকাশে লাল বলের মতো সূর্য্যিমামার সঙ্গে সাক্ষাৎ হতো। দক্ষিণের সরু রাস্তার পর ওই দোতালা বাড়ি থেকে ভেসে আসতো ভৈরবীর মুর্ছনা। খোলা গলায় গান গাইতো একটি মেয়ে। নাম তার আগমনী। ননদের বন্ধু। ক্রমে জানতে পারে লাবনী ,আগমনী তার বরের পূর্ব প্রেমিকা।
মেরুদণ্ডহীন মানুষ তো ,তাই বাড়িতে প্রেমিকার কথা জানাতে পারেনি। আগমনীরও অপেক্ষা করে বয়স বেড়ে যাচ্ছিল। তারপর প্রত্যাখ্যান। প্রেমিকের অন্যত্র বিয়ে। তাই ক্রমশঃ শারীরিক অবনতি হয় মেয়েটির। গান ছিল তার নিত্যসঙ্গী। বাবার তেমন সংগতি নেই।
আগমনী রূপেও ধার নেই। কাজেই অবিবাহিতই থেকে গেল আজীবন। আগমনীর গান ক্রমে কমে যেতে লাগলো । আগমনী বাবা-মার বেশি বয়সের সন্তান। বাবা আগেই মারা গিয়েছেন । কিছুদিনের মধ্যে মা’ও চলে গেলেন। কাকাদের সংসারে আশ্রিতার মত দিন কাটে তার। লাবনীর আগমনীদিকে দেখে খুব মায়া হতো। অনেক পরে শুনেছিল আগমনী সাডেন হার্ট আ্যটাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে।
লাবনীর একটি মেয়ে জন্মেছিল। মেয়ের গায়ের রং শ্যামলা। তাই শ্বশুরবাড়িতে তার সমাদর হয়নি। খুশি হয়নি তন্ময়ও। এমএ ক্লাসের পড়া তখনও শেষ হয়নি। তবুও জেদ লাবনীকে পড়া ছাড়তে দেয়নি।
কলেজ স্ট্রীট ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে অফ পিরিয়েডে আড্ডা হতো। তা ছিল ওর কাছে অক্সিজেন। শ্বশুর বাড়ির গুমোট পরিবেশে হাফ ধরে যেত। ছুটির দিনগুলো তাই ওর কাছে একদমই ভালো ছিল না।
বাড়ির কাজের লোক মঙ্গলাদির খুব মায়া জন্মেছিল বৌটির উপর। তাই তার ভরসাতেই বাচ্চাকে রেখে যেতে পারত ক্লাসের দিনগুলোতে। কষ্টের দিন দেরিতে শেষ হয়। কিন্তু শেষ হয়। ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করে এমএ পাস করে লাবনী। বন্ধুরা সবাই মিলে কম্পিটিটিভ পরীক্ষা দিত। লাবনীও ফর্ম ফিলাপ করত। নিজের ঘরে বসে রাত অব্দি লেখাপড়া করত। বছর দুয়েক চেষ্টার পর ইন পিএসসি পরীক্ষায় কৃত কার্য হল l জয়েন করল নতুন চাকরি তে l বাড়ির সকলের নিষেধ অমান্য করে সে চলে এলো ভুবনেশ্বর l শাশুড়ি মা জানিয়ে দিয়েছিলেন তোমার তো সংসার করার ইচ্ছে নেই । যাও তুমি ভুবনেশ্বরেই থাকো। বাপি আমাদের এখানে থাকবে। তন্ময়ের ডাক নাম বাপি।
তোমার বাবা মাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাও। মেয়েকেও নিয়ে যাও। লাবনীর মন ভেঙ্গে গিয়েছিল। যারা ওকে আমল দেন না, ও তাদের মর্যাদা দেবে কিভাবে?
কিরণময় বাবু মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন বৌমাকে। তবে নাতনীর বিয়োগ ব্যথা তিনি বেশিদিন সহ্য করতে পারেননি। মিনতি দেবী অনড় ছিলেন।
স্বামীর অনুরোধ তিনি রাখেননি। কিরণময়বাবু বলেছিলেন তুমি দিদিভাইকে ভালোবাসো না। তাই তাদেরকে তুমি চাও না। কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে তো বদলি হয়ে আসাই যায়। তোমার ব্যবহারে বৌমা কখনো এখানে ট্রান্সফার নিয়ে আসবে না।
কিরণময় বাবু বড়জোর মাস ছয়েক বেঁচে ছিলেন।
তারপর সেরিব্রাল আ্যটাকে তিনি চলে গেলেন। শ্বশুরবাড়ির শক্ত খুঁটিটাই নড়ে গেল লাবনীর।
প্রথমদিকে মা-বাবাকে কিছুদিনের জন্য নিয়ে গিয়েছিল লাবনী। মেয়ে দাদু দিদার আদরে বেড়ে উঠছিল। ছুটি ছাটাতেও তন্ময়ের খুব একটা যাওয়া হত না। তা অবশ্য মায়ের কারণেই। মিনতি দেবী বয়সের কারণে ছেলেকে ছেড়ে বিশেষ থাকতেন না। তন্ময়ের একমাত্র বোন তনুশ্রীর বিয়ে হয়েছিল আর্মি অফিসারের সঙ্গে। কাজেই সে কখনো কলকাতায় থাকেনি। মায়ের দায় দায়িত্ব একাই সামলাতে হতো তন্ময়কে। বাবার মেয়ের জন্য যে মন খারাপ হত না, তা নয়। উপায় ছিল না। কলকাতা থেকে ট্রান্সফার নিয়ে দুজনে এক জায়গায় থাকা হয়নি। লাবনীর দিক থেকেও কলকাতায় আসার কোনো তাড়া ছিল না।
লাবনী মেয়ের নাম রেখেছিল নীতা। নীতাকে মনের মত মানুষ করাই তার একমাত্র লক্ষ্য। ভুবনেশ্বর শহরে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করে দিল ছোট্ট নীতাকে। লাবনীর এমএ ক্লাসের বন্ধু শুচিস্মিতা ওর শ্বশুরবাড়ির পাশের গলির মেয়ে। সুচিস্মিতার সাহায্যে লাবনী পেয়েছিল ওর মেয়ের জন্য একজন শক্ত সামর্থ্য অভিভাবক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা মায়া দি। তিনি পরম মমতায় বুকে তুলে নিয়েছিলেন নীতাকে। মায়াদি মধ্যবয়সী। অভিভাবকের মতোই বুকে করে রেখেছিল নীতা ও লাবনীকে।

এর মাঝে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। মিতার আইসিএসসি এর আগে মিনতি দেবী গত হয়েছেন। মৃত্যুর আগে তিনি লাবনীর হাতে ধরে নিজের দোষ কবুল করেছেন। ক্ষমা চেয়েছেন তার কৃতকর্মের। ততদিনে তন্ময়ের রিটায়ারমেন্টের বিশেষ দেরী নেই। এখন সে প্রায়ই যাতায়াত করে ভুবনেশ্বর-কলকাতা।
নীতা দিল্লি এইমস থেকে এমবিবিএস পাশ করেছে। মেয়েটি কঠোর পরিশ্রমী ও বুদ্ধিমতী । এমডিতে চান্স পেয়েছে । কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ অর্থাৎ পিজি হসপিটাল এখন তার বর্তমান কর্মক্ষেত্র। লাবনীর বাবা-মাও এখন গত হয়েছেন । শেষের দিকে লাবনীর বাবা সল্টলেকে একটি বাড়ি কিনে রেখে গেছিলেন। কলকাতায় এলে, লাবনী ওই বাড়িতেই থাকে। আজও সে একাই সল্টলেক থেকে গাড়ি চালিয়ে ভবানীপুরে এসেছে।
ভবানীপুরের সত্যেন রায় পার্কের সেই বাড়িটি আর নেই। লাবনী আতিপাতি করে খুঁজেও তার কিছু মাত্র খুঁজে পায় না। মিনতি দেবীর গর্বের সেই দ্বিতল অট্টালিকা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। তার উপর গড়ে উঠেছে এক হাল ফ্যাশনের ফ্ল্যাট। তন্ময় আঠারশ স্কোয়ার ফিটের গোটা থার্ড ফ্লোর কে সংযুক্ত করে একটানা বড় ফ্ল্যাট বানিয়ে নিয়েছে। এখন সে ডিসিশন নিতে জানে।
লাবনীর কাছে গল্প করেছে। কিন্তু সে তাতে উৎসাহ দেখায়নি। যার আসল সময়টাই একা কেটেছে চরম নিঃসঙ্গতায়। সে এখন সংসারী হয়ে করবেই বা কী।
তবু লাবনী ভাবে বাপ-মেয়েতে ভালো থাকুক। আজ ওই ফ্ল্যাটে প্রথম এল লাবনী।
নীতা বাবার সাথে আলোচনা করে ফ্ল্যাটটাকে খুব সুন্দর সাজিয়েছে।
ফোর বেডরুম ফ্ল্যাট। বড় ড্রয়িং ডাইনিং তিনটি রুমে অ্যাটাচ টয়লেট। একটি কমন টয়লেট। নিচে বড় গ্যারেজ। দুটো গাড়ি অনায়াসেই সেখানে রাখা যাবে।
সত্যেন পার্কের ফ্ল্যাটটা নীতার নামেই রেজিস্ট্রি হয়েছে। কে বলে মেয়েদের নিজের বাড়ি নেই।
নীতা পেয়েছে তার নিজের ঠিকানা। তিন নম্বর সত্যেন পার্ক। ভবানীপুর। কলকাতা। নেমপ্লেটের জ্বলজ্বল করছে নাম তিনটি ।
নীতা মজুমদার
লাবনী মজুমদার
তন্ময় মজুমদার।
লাবনী অনেকক্ষণ নেমপ্লেট টার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

