
কর্মযোগ
যুধিষ্ঠির রাও — কেমন একটা মিশেল নাম। এক বছর হতে চললো এই অফিসে জয়েন করেছে। অফিসটা এমনিতে আড্ডার এক Cosmopolitan। এখানে কাজের ফাঁকে, টিফিনে টেবিল থেকে টেবিলে ঘুরে বেড়ায় ট্রাম্প-বাইডেন, মোহনবাগান -ইস্টবেঙ্গল, সব ‘ম’, বাংলাদেশ থেকে ইউক্রেন, উত্তম-সুচিত্রা, হালের সিনেমা , নাটক, বৃষ্টি, ভূমিকম্প, গড়ের মাঠ, সন্দেশ খালি, Justice for… সবকিছু।
যুধিষ্ঠিরের কোনো হেলদোল নেই, হাসে না, কাঁদে না, রাগে না। একটা কর্মযোগী অবয়ব… ছুটির পরেও কয়েকঘন্টা ফাইল, কম্পিউটার, ম্যানেজার দেশপান্ডে… শোনা যায় কয়েকটি রবিবার অফিসেও এসেছে অভ্যাসের তাড়নায়।
অবশেষে, ভবতোষবাবুর অনুপ্রেরণায় একদিন সকলে মিলে বিচারসভা ডাকলো।

“আচ্ছা আপনি সবসময় কাজে ডুবে থাকেন, relax করেন না কেন?”
“কিভাবে করবো?”
পল্টু বললো, “সিনেমা, রাজনীতি, খেলাধুলা, যা খুশি নিয়ে আড্ডা দেবেন।”
“আমি ত সিনেমা দেখি না। সেই ছোটোবেলায় দেখেছিলাম, মহাতীর্থ কালীঘাট।”
“দেখেননি ত কি। এবার থেকে দেখবেন। বাজার, দোকান যাবেন, রেস্টুরেন্টে খাবেন।”
যুধিষ্ঠির ভাবলেশহীন, “আমাদের বাজার করার লোক আছে। এছাড়া,আমার বাইরে খাওয়া বারণ।”
পম্পা বললো, “প্রেম করেছেন?”
শুনে সে কি লজ্জা যুধিষ্ঠিরের।
প্রদ্যোৎ বললো, “ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতলো, রোশনাই, বাজির শব্দ আনন্দ দেয়না ?”
সবাই অবাক, যুধিষ্ঠির বললো, “আচ্ছা, এর ফলে কি GDP , Per capita income বাড়লো ?”
ভবতোষ বাবু অগ্নিশর্মা “এটা কে রে? চল্ চল্, ঘাট হয়েছে, আপনি যা ভালবাসেন তাই করুন।”
শান্ত যুধিষ্ঠির , “আমি ত সেটাই করছি। ঐ যে, অফিসের কাজ।”

ভালো গল্প