আজ এসি বাসে আমার ঠিক পাশেই বসেছিলেন এক বৃদ্ধা। বাসে নাগাড়ে গান বেজে যাচ্ছিল। ভারতবিখ্যাত এক সুরকারের পাগল করে দেওয়া সব গান। সুরের আবেশে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম।

হঠাৎ সেই বৃদ্ধাকে বলে বসলাম, ‘এইসব গান আর কোনওদিন হবে না, তাই না?’
ভদ্রমহিলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর মৃদুস্বরে বললেন, ‘এসব গান শুনে আপনারা পাগল হয়ে যান, তাই না?’
বললাম, ‘না হয়ে কি কোনও উপায় আছে? কী তোলপাড় করে দেওয়া সুর!’
বৃদ্ধা এবার যেন একটু ক্ষুব্ধ হলেন। কিন্তু গলাটা খাদে রেখেই বললেন, ‘আমি হই না। কখনও হইনি।’
অবাক হয়ে বললাম, ‘সে কী? আপনি গান ভালোবাসেন না?’
বৃদ্ধা বললেন, ‘বাসি। কিন্তু এঁর গান শুনি না। কারণ মানুষ হিসেবে এঁকে অশ্রদ্ধা করি। জানেন কি, ইনি তাঁর অসহায় স্ত্রী আর তিনটি বাচ্চা মেয়েকে অকুল পাথারে ভাসিয়ে বয়সে অনেক ছোট এক ছাত্রীকে বিয়ে করেছিলেন?’
আমি বললাম, ‘শুনেছি, কিন্তু দেখুন, সেটা ওঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাছাড়া শিল্পীরা তো একটু অন্যরকম…’

কথাটা শেষ করতে দিলেন না। উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘এবার নামব। আপনার সঙ্গে আর হয়তো কখনও দেখা হবে না। তাই বলছি, নয়তো বলতাম না। আমি ওঁর প্রথম পক্ষের মেজো মেয়ে। মায়ের কথা ছেড়েই দিলাম। বলতে পারেন, আমরা তিনটে বোন কী দোষ করেছিলাম?’

বৃদ্ধা তড়িঘড়ি নেমে গেলেন। আমি বাকি রাস্তা হতভম্ব হয়ে বসে রইলাম। মহিলার বাবা, ভারতবিখ্যাত সেই সুরকার তখনও তাঁর জাদুকরী সুরের মায়াজাল বিছিয়েই চলেছেন।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[পরম্পরা ওয়েবজিন, এপ্রিল ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

0 0 ভোট
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
পংক্তির ভেতর মন্তব্য
সব মন্তব্য
পল্লববরন পাল
পল্লববরন পাল
3 days ago

জোর ধাক্কা খেলাম।
খেয়ে উপকৃত হলাম।
নমস্কার জানবেন।