বাড়ি থেকে বেরিয়েই বাঁদিকে প্রথম মোড়ে
শৈশবের সাথে রোজ দেখা হয়
অন্যমনস্ক রোদে একটু দাঁড়াই,
যেমন এপার ফুঁড়ে ছুঁচ মাথা তুলে
কাপড়ের অন্যপারে ডুব দিয়ে
রঙিন সুতোয় বোনে সেতু
দুজনের চোখে চোখে তেমনি সেতুর পথে
পারাপার করে কথা পুরনো কবিতা আর গান
বন্দে ভারত বেগে – মুহূর্তরা মাথা কুটে মরে

তারপর হাত ধরাধরি ক’রে হাঁটি হাঁটি পা পা
ডানদিকে ঘুরে সোজা আজন্ম পরিচিত পথে
চেনা মুখ ‘ভালো আছো?’ ‘ভালো থেকো’ সেরে

পল্লবকাননে পৌঁছে
ঝিলপাড়ে মুখোমুখি বেঞ্চে বসে অনেকক্ষণ
ইকড়িমিকড়ি খেলে দুজন শৈশব

সংগ্রহ করতে বইমেলায় আসুন

কেউ কেউ মুখের ওপর
বন্ধ করে সদর দরজা
আবার দরজা খুলে কেউ
মিষ্টি হেসে ভিতরে বসায়,
আর
‘আসছি’ বলে চলে যায়
অদৃশ্য অনন্ত অন্ধকারে

মিষ্টি হাসির সাথে আমি
বসে থাকি, লুডো খেলি
একা

দেয়ালে জার্মান ঘড়ি
নির্লিপ্ত পেণ্ডুলাম দোলে

অপেক্ষা ও অপেক্ষার মগ্ন সহবাসে
জন্ম হয় শিশুঅপেক্ষার
মাতৃদুগ্ধ হামাগুড়ি কখগঘ সেরে
কৈশোর যৌবন পার হয়ে
বড়ো হয়, এমবিএ, বিবাহ সন্তানাদি
বংশ বিস্তার ক’রে ক’রে
ক্রমে ক্রমে

বৃদ্ধ হয় আমার শৈশব

তখনো বসার ঘরে
মিষ্টিহাসির কোনো বয়স বাড়েনা
একসাথে বসে লুডো খেলি

আর
ঘন ঘন ঘাড় তুলে
ভিতরের দরজায়
আমার দৃষ্টি মৃদু টোকা দেয়
অন্ধকার বলে ওঠে –
‘আসছি’

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের অন্য রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, ফেব্রুয়ারি ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]