
মেরুদন্ড সোজা রেখো
মেরুদন্ড ভেঙে দিলেও
টুকরোগুলো যেন সোজা থাকে।
মেরুদন্ড হারিয়ে যাওয়ার দুঃখ অনেক;
হামাগুড়ি দিয়ে খুঁজে খুঁজেই
জীবনের অনেকটা কাল কেটেছে।
কোনরকমে পেলাম যদি বা,
আবার না কেঁচো হয়ে যাই!
আশঙ্কায় দিন গুনি —
এই বুঝি আবার সেই কৃমিকীট জীবন, —
অন্ধকার পূতিগন্ধময় কর্দমাক্ত পথে
রোজকার যাপন।
আবার হারানোর দম নেই, ইচ্ছাও নেই।
এবার ভাঙনের একটা সম্ভাবনা
দূরাগত হুইসলের চেয়েও তীক্ষ্ণ খরধারে
হিলহিলে ভীতির সঞ্চার করে বুকে।
তার পাশাপাশি —-
প্রতিবাদ চেয়ে থাকে নিশ্চুপ, ঊর্ধমুখে; —
বলে, ” ওহে, ভেঙে যদি দেয়ও
সোজা হয়ে থেকো,
দৃষ্টি যেন থাকে নির্ভীক,
চিবুক যেন হয় উচ্চমুখী “
বুকের ভেতরে
কিসের যেন একটা আলোড়ন ওঠে …
ইচ্ছে করে লৌহকপাট ভেঙে ফেলতে …
গলার শির ফুলিয়ে সকলের ঘুম ভাঙাতে …
সে বলে, ‘ শুধু সোজা রেখো
মেরুদন্ডখানা …’

সমারোহ
পলাশ যখন ফাগুন আঁকে —
মাঠের পরে মাঠে তখন
রক্তবীজ।
মন খারাপের গোধূলিতে
বন্ধুর রথ এসে থামে।
দুঃখপুকুরে
ঢেউ উঠে ছুঁয়ে যায় অস্তিত্ব।
রাঙা ভাঙা চাঁদের স্বপ্নমায়ায়
খানখান দুঃখের জমাট পাথর।
পলাশ বনে সমারোহ আজ ।

সোজা হয়ে দাঁড়ানোর কাব্য। ভাললাগলো।