
প্রায়শ্চিত্ত
কাল যদি না-ই থাকি কি হবে ক্ষমতা,
তাই নিয়ে আমাদের এই মিথ্যে লড়াই।
প্রতিক্ষণে সিংহাসন অধিকারে এনে,
মুঠোয় পৃথিবী ভরে বৃথা আস্ফালন।
বেঁচে থাকা চিরসবুজ বন বনানী
নির্মল সুখ আর শান্তিতে বিরাজ।
তবুও অরণ্য নিধন সভ্যতার নামে,
প্রানহীন মরুভূমি তাই চরাচর জুড়ে।
পাহাড় খুঁড়ে তুলতে চেয়েছে রত্ন।
আজন্ম মনের ক্ষিদে মেটেনি কখনো,
যত সমৃদ্ধ হও সংকীর্ণতা বাড়ে তত।
নিষ্ঠুর আগ্ৰাসনে ঈশ্বরকে দাস বানাও।
এই যে অদৃশ্য যুদ্ধ নীরবে প্রতিবাদ।
হরকা বাণের ছোবলে করুন মরণ।
ভাগ্যের পরিহাসে ভগবান কাঁদে,
শ্রষ্টা এ বিশ্বকে ফেরত চেয়েছে।
নিদারুন এই সময় ফিরে এসো মানুষ।
প্রকৃতির গভীরতায় হাঁটু মুড়ে বসো,
সকল প্রাণের কাছে আজ ক্ষমা চাও,
মানবিক হয়ে শুধু প্রায়চিত্ত করো।

বিচিত্র জগতের সওদাগর
সেদিন ফিরে এলাম অব্যক্ত ভাষা নিয়ে
বুকের ভেতর সেই ব্যাথাগুলো
ক্রমশ জমাট পাথর হয়ে উঠছিল
কেউ বোঝেনি সে কথা
এমন কি তুমিও না
আমার এ যন্ত্রণার বাষ্প
জমে জমে পুঞ্জীভূত মেঘ হয়ে গেল
সবার অলক্ষে এসে কান্না ভেসে যায়
জানবার প্রাসঙ্গিকতা আজ নেই কোন
বেলাশেষে নদী তীরে প্রশ্নের ঢেউ ওঠে
জমায়েত হাজার ভিড়ে নৌকা বোঝাই
হিরন্ময় এই জীবন
ফল্গুধারার মতো বয়ে যায় সুখের সাগর
পাশাপাশি দুঃখের দুস্তর পারাবার
তড়িৎ আকর্ষণ ক্ষণস্থায়ী যাপন জুড়ে
তবুও প্রতিক্ষণে এইভাবে আঁকড়ে ধরি
খেলাঘর একদিন জানি ভেঙে যাবে
প্রস্থান যাত্রায় একাকী হাঁটি
কিন্তু কোথায় যাব গন্তব্য কোথায়
অন্ধকার পথ ছাড়া দেখিনা কিছুই
কি বিচিত্র জীবনের সওদাগর আমি
কেন এই বানিজ্যে আসা কেন এ বসতি
কেনইবা সব ফেলে চিরতরে যাওয়া
অনন্ত আক্ষেপ মেশে অজানার কাছে

