
কথা জমে
হাতুড়ির গাঢ় শব্দ রাত্রি ভাঙে ক্ষত্রিয় নিষ্ঠায়
ভারী বুট পরে নদী হাঁটে জলপাই আওয়াজে
পাড় ভাঙে রাক্ষসী ক্ষুরধার জল
পড়ে থাকি বিছানায়
তছ্নছ বিশ্রাম তখন
কৃষ্ণ গহ্বর থেকে ভেসে আসে শূন্যতার তান
আঁচলের খিল খুলে ঝিরঝির ঝর্ণা বুকপাখি
আদিগন্ত ডানা মেলে উড়ে যায় নিঃসীমতায়
কথারা ক্লান্ত হলে কথা জমে
যেভাবে জল সরে দাঁড়ায় দুধের উঠোন থেকে
অশরীরী রাত্তির দিনের ভিতর দিবস বাজায়
ভারী বুট পরে নদী হাঁটে জলপাই জলে

এবারের শীতে
এবারের শীতে
তোমাকে নিয়ে যাব জংলী সবুজের ভিড়ে
মেদহীন ঝর্ণাতলায়
যেখানে অনবরত পাথর ভেসে যায়
পতনের মূর্ত শিল্পকলা
যাবতীয় পুরোনোকে পিছনে রেখে
জঙ্গল রঙের পোশাকে
ছিমছাম ভেসে যাবে সরলবর্গীয় সমীপে
যদি কোনো পিছুটান
পশ্চিম আঁচলে বাঁধে স্মৃতির কয়েন
যদি দুচোখের নৈঋত কোণ
আচম্বিতে চিকিচিকি জোছনার গান
রাত্রিকাতর শাল পাইনের বন
নির্ণায়ক নগ্নতায়
খুলে দিও পোশাকের মুদ্রণ প্রমাদ
আদিম কেন্দ্রানুগ টান
ভিতর ঘর খানখান
শেফালির উদ্ধত গন্ধ
কোজাগরী চাঁদের নয়ান
হেসে হেসে ভেসে যাব স্থির চিত্রকলা
মনে রেখো আমাদেরও কণ্ঠে ছিল সময়ের গান
হৃদয় গহীনে ছিল অনেক কলতান
