
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ: বাস্তবের জাদুকর
বাস্তব তার এক জাদুকরকে হারাল। জাদুকর চলে গেলেন বাস্তবের মাটি থেকে। জাদুকরের নাম, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। তাঁর জীবনের একটা জাদুকরী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লেখাটা শুরু করি। মার্কেজ সাহেবকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয় ১৯৮২ সালে, ’৬৭ সালে লেখা উপন্যাস ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিটুড’ উপন্যাসের জন্য। আর ১৯৮২ সালে মেক্সিকো উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর তার ন্যাটো সহযোগীরা নৌমহড়া দেয়। এই নৌমহড়ার নাম রাখা হয়, সেফ পাস – ৮২। এই নৌমহড়ায় যে রাষ্ট্রগুলি ছিল সেগুলি হল কানাডা, নেদারল্যাণ্ডস, বেলজিয়াম, গ্রেট ব্রিটেন, পশ্চিম জার্মানি। এই নৌমহড়াটি ছিল সাম্প্রতিককালের বৃহত্তম নৌমহড়া। এতে ছিল ৩০ টি যুদ্ধ জাহাজ, ৮০ টি বিমান এবং ১০,০০০ সৈন্য। এই নৌমহড়ার উদ্দেশ্য ছিল, নিকারাগুয়ার বামপন্থী সরকারকে সন্ত্রস্ত করে তোলা। এল সালভাদোরে সামরিক একনায়কতন্ত্রীদের ফ্যাসিস্ট অত্যাচারের বিরুদ্ধে সেখানকার মুক্তিবাহিনি যে জীবন মরণ সংগ্রাম করে চলে সেই সংগ্রাম বানচাল করা। যেদিন নিকারাগুয়ার স্বৈরতন্ত্রী সমোজা সরকার উৎখাত হয়েছে সেদিন থেকেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিকারাগুয়াতে সানডিনিস্তা সরকারের প্রতি বৈরী মনোভাব গ্রহণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল নিকারাগুয়া সরকার কিউবা ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত ছিল। নিকারাগুয়ার তৎকালীন সরকার জাতীয় স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সামাজিক উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণও করেছিল। এ জিনিস সহ্য করতে পারেনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। তাই ঐ আগ্রাসী নীতি। এছাড়া কোস্টারিকায় তারা সৈন্য সমাবেশ ঘটায়। ক্ষমতাচ্যুত সমোজা অনুগতদের হন্ডুরাসে তালিম দেওয়া হয়। হন্ডুরাসে মার্কিন উপদেষ্টার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছিল। এরপর নিকারাগুয়া ও সালভাদোরের নিকটবর্তী ফোনেস্কা উপসাগরীয় এলাকায় আধুনিক অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত হয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনও করা হয়। যাইহোক ওপরের দু’টি ঘটনা চরম বৈপরীত্যের গরমিল নয় কি? একদিকে নোবেল পাচ্ছেন মার্কেজ আর অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন দানা বাঁধছে লাতিন আমেরিকায়! সাধারণ সাহিত্যপ্রেমী বলতেই পারেন সাহিত্যের নোবেলের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ের সম্পর্ক খুঁজতে যাওয়া স্রেফ বাতুলতা ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু এটাই যে বাস্তবের জাদুবিদ্যা। এই বিদ্যা রপ্ত না হলে আগ্রাসনের জাদুকরী খেলা দেখানো যাবে কি করে? মার্কেজ সাহেবের আত্মজীবনীটাও তাই – ‘লিভিং টু টেল দ্য টেল’।

আর এই স্মৃতিচারণার গল্পে তাই বেশিরভাগই মার্কেজের লেখার উদ্ধৃতিই নেব। প্রথমেই দেখি নিজের বই ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিটুড’ নিয়ে উনি কী বলছেন – “ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিটুড-এর অনিদ্রা রোগের সূত্রপাতটাই হয়েছিল এই কারণে যে, ইডিপাস থেকে শুরু করে সকল সময়েই আমি মহামারী নিয়ে কৌতূহলী ছিলাম। মধ্যযুগের মহামারী নিয়ে আমি বিস্তর পড়াশুনো করেছি। আমার প্রিয় গ্রন্থাবলীর অন্যতম হল – ড্যানিয়েল ডিফোর দ্য জার্নাল অফ দ্য প্লেগ ইয়ার। … মহামারী সবসময়ই আমার কাছে একটা পৌনঃপুনিক বিষয় হয়েছে নানাভাবে। ‘দ্য ইভিল আওয়ার’ গ্রন্থে পুস্তিকাগুলিই মহামারী। বহু বছর ধরে আমার চিন্তায় ছিল যে কলম্বিয়ায় যে রাজনৈতিক হিংস্রতা তার অন্তর্গঠন মহামারীর অনুরূপ। ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস’-এর আগে ‘ডে আফটার স্যাটারডে’ নামক গল্পে সব পাখিগুলোকেই মেরে ফেলতে আমি এক মহামারীকে ব্যবহার করেছিলাম। ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস’-এ আমি অনিদ্রা মহামারীকে এক সাহিত্য কৌশল বলেই ব্যবহার করেছিলাম, কারণ এটা ছুতোরের কর্ম ছাড়া আর কিছুই নয়।”
লাতিন আমেরিকা (ব্রাজিল বাদে) এবং ক্যারিবিয়ান উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী কয়েক কোটি মানুষের মাতৃভাষা ঔপনিবেশিক আমল থেকেই স্প্যানিশ। প্রতিটি দেশেই সেখানকার আদি বাসিন্দা, ইউরোপ থেকে আসা অভিবাসী, আফ্রিকা থেকে জোর করে নিয়ে আসা ক্রীতদাস এবং বিভিন্ন সময়ে আসা মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ। প্রায় চারশো বছর একইসঙ্গে বসবাসের ফলে গড়ে ওঠে এক অন্যতর মূল্যবোধের সমাজ। এখানকার রাষ্ট্র পরিচালন পদ্ধতি ও অর্থনীতির একটা বৈশিষ্ট্য আছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে অনবরত দ্বন্দ্ব লড়াই, গৃহযুদ্ধ, অবিরাম সামরিক অভ্যুত্থান, স্বৈরতন্ত্র, গুপ্তহত্যা, ক্ষুধা, অপহরণ, নিষিদ্ধ মাদক উৎপাদন ও চোরাচালানসহ যাবতীয় উত্থান পতনের মধ্যেও সে দেশগুলির অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে হাতে গোণা কয়েকটি বহুজাতিক সংস্থা। সেই বাস্তবকে স্বীকার করে সৃজনশীল সাহিত্যে গল্পের মধ্যে গল্প জুড়তে অসাধারণ দক্ষতা ছিল মার্কেজ-এর। পাবলো নেরুদার মতে, ডন কিহোতের স্রষ্টা সার্ভান্তেসের পর লাতিন আমেরিকার সাহিত্য জগতে সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রতিভা মার্কেজ। নিজে অনুপ্রাণিত হয়েছেন কাফকার ‘মেটামরফসিস’-এর দ্বারা। কখনও বা ড্যানিয়েল ডিফোর দ্বারা। তবে মজার কথা হল – খোদ আমেরিকান উইলিয়াম ফক্নারের অপ্রাকৃত বিষয়কে বাস্তবসম্মত করার পদ্ধতিও তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। তাই নিজের নোবেল প্রাপ্তির বক্তৃতায় ফক্নারকে উদ্ধৃত করে বলেছিলেন – ‘আমি মানুষের অন্তিমকে গ্রহণ করব না।’ আসলে বাস্তবকে দেখতে দেখতে তার জাদুকরী রূপটাকেই ধরতে চেয়েছিলেন সকলের প্রিয় গাবো। তাই সাম্রাজ্যবাদ, স্বৈরতন্ত্র যেখানেই থাবা বসিয়েছে, ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অবলীলায়। রাজধানী বোগোতায় তাঁর মেসবাড়ির কাছেই থাকতেন কলম্বিয়ার উদারপন্থী রাজনৈতিক নেতা হোর্হে এলিয়েসের গাইতান। ১৯৪৮ সালে তাঁকে বিরোধী দলের লোকেরা খুন করে। এই রাজনৈতিক হত্যাকে ঘিরে গড়ে ওঠে বোগোতাসো নামের একটি গণ আন্দোলন। সেই সময় কিউবার তরুণ ছাত্র ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়, অর্থাৎ আন্দোলনের মধ্যে দুই প্রতিভাবানের আলাপ। আর ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে প্যাডিলা অ্যাফেয়ার-এ (Paddila Affair) কিউবার কবি হেবের্তো প্যাডিলা আর সহযোগীর জেলে বন্দি করা নিয়ে গর্জে ওঠেন মার্কেজ। একইসঙ্গে বৈপ্লবিক কাজকর্মের জন্য মুক্তি আন্দোলনে যোগ দিয়ে তাঁদের কারাবাস থেকে মুক্ত করার কাজে এগিয়ে ছিলেন মার্কেজ। এই সময়ই কাস্ত্রোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রপাত। কলম্বিয়া থেকে মেক্সিকো যাত্রার অন্যতম কারণ হিসেবেও এই ঘটনাকে চিহ্নিত করা হয়।

১৯৫৯ সালে কিউবার বিপ্লব হয়ে যাওয়ার পর ফিদেল কাস্ত্রোর আমন্ত্রণে হাভানা যান মার্কেস। এই সময়েই কিউবা আর কাস্ত্রোর সঙ্গে নিবিড় বন্ধুত্বের সৃষ্টি। এরপর বোগোতায় ফিরে এসে কিউবার বিপ্লবের উৎস থেকে জন্মানো প্রেন্সালাতিনার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করে দিলেন মার্কেজ।
এই বন্ধুত্বের একটা মজার উদাহরণও আছে। ১৯৮২ সালে নোবেল প্রাপ্তির পর ’৮৩ সালে জোট নিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির সম্মেলনে দিল্লিও এসেছিলেন মার্কেজ। ফিদেল কাস্ত্রোর বন্ধু ও সঙ্গী হিসেবে। কাস্ত্রোর রাজনৈতিক কাজকর্মের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে তিনি হঠাৎ বেরিয়ে পড়েন জনগণের সাহচর্যের আশায়। সরকারি অতিথিশালায় হৈ হৈ ফেলে তাঁকে উদ্ধার করা হয় দিল্লির অখ্যাত রাস্তা থেকে। আসলে প্রকৃত লেখকের অনুসন্ধিৎসা আর মানুষের বিচিত্র পরিমণ্ডল তাঁকে আকৃষ্ট করেছে, তাই উপন্যাস বা গল্পকে সরাসরি প্রতিবাদী স্লোগান না করে ঐতিহ্যশালী রূপকের মোড়কে মুড়ে দিয়েছেন দক্ষ শিল্পীর মতন। নিজের উপন্যাস সম্পর্কে নিজেই তাই বলেছেন, “প্রতিটি উপন্যাসেই চরিত্র হল একটি কোলাজ – কোলাজ সেইসব বিভিন্ন চরিত্রের যা, কেউ দেখেছে শুনেছে বা পড়েছে। বিগত ও বর্তমান শতাব্দীর প্রারম্ভের লাতিন আমেরিকার সকল স্বৈরাচারীর সম্পর্কিত বিষয়গুলি সবকিছুই আমি পড়ি। স্বৈরশাসনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিস্তর মানুষের সঙ্গেও আমি আলাপ করেছি। … সেই কারণেই ভেবেছিলাম যে, আমি যদি ‘দ্য অটাম অব দ্য প্যাট্রিয়ার্ক ইন স্পেন’ বইটা লিখি, তাহলেই একটি প্রতিষ্ঠিত স্বৈরতন্ত্রে বসবাসের পরিমণ্ডলটি বোঝাতে পারা যাবে। কিন্তু আমি দেখলাম যে, ক্যারিবিয়ান স্বৈরতন্ত্রের থেকে স্পেনে ফ্রাঙ্কোর সময়ের পরিমণ্ডল আলাদা … গ্রন্থখানি এক বছরের মত আটকে রইল … আমরা কলম্বিয়ার ব্যারালকুইলায় এভাবেই ফিরে এলাম।” অর্থাৎ, একজন লেখকের স্বৈরতন্ত্র বুঝতে, একটি সমাজের সান্নিধ্যে থাকতে এক বছর লেখা বন্ধ রেখে সিস্টেমটাকে বুঝতে চাইছেন লেখক, এরচেয়ে চরম বাস্তবতা আর কী হতে পারে। নিজের ৮৭ বছরের (১৯২৭-২০১৪) জীবনে সাংবাদিকতাকে পেশা করেছেন মানুষকে দেখবেন বলে। স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের ক্ষমতার মোহকে কখনই ছেড়ে কথা বলেন নি মার্কেজ। নিজেই লিখেছেন – “একজন যতই শক্তিধর হয়ে ওঠেন, কে তার সঙ্গে আছেন আর কে নেই এটা জানা তাঁর পক্ষে তত কঠিন হয়ে ওঠে। যখন কেউ ক্ষমতার শীর্ষে যান তখন বাস্তবের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটিকেই বলে নিকৃষ্টতম নির্জনতা। একজন খুব ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্ব, একজন স্বৈরাচারী বিবিধ স্বার্থ এবং মানুষের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে থাকেন। এদের অন্তিম লক্ষ্য হল বাস্তবতা থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করা। এই বিচ্ছিন্নকরণের সবকিছুই ঐকতানের মত বাজে। … বাস্তবতাকে স্থাপন করতে গিয়ে বাস্তবতার সঙ্গেই তিনি ছিন্ন সম্পর্ক হতে পারেন। একেই বলে গজদন্তমিনারবাসী হওয়া। এর খুব ভাল প্রতিরোধ সাংবাদিকতায়। সেই কারণে সবসময়ই আমি সাংবাদিকতায় তম্বিষ্ট থেকেছি।”
নব্বইয়ের দশকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পরও লেখার কাজ থামে নি। থামল ২০১৪ সালের মার্চ মাসে। বসন্তে যাঁর জন্ম আর মৃত্যুও বসন্তের শেষ লগ্নে। এও তো জাদু বাস্তবতাকারীর জাদুকরী জীবনের সংলাপ ছাড়া আর কি? আজীবন বিশ্বাস ছিল বামপন্থার প্রতি। মজার কথা কি জানেন, ’৮২ সালের নোবেল পাওয়া এই সাহিত্যিকের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট গরবাচভের দেখা হয় ১৯৮৭ সালে। ১৯৮৯ সালে বেরোয় – ‘গোলকধাঁধায় রাষ্ট্রপতি’ উপন্যাসটি। আর তারপরেই রাশিয়ার পতন। কি জানি এও তো বোধহয় বাস্তবের জাদু!

মার্কেজের জীবনের আরেকটি ঘটনার কথা বলি। ১৯৪৫ সালে যখন স্বৈরশাসক একনায়ক গুস্তাভো রোহাস্ পিনাইয়া সমন জারি করে ‘এল এসপেক্তাদোর’ বন্ধ করে দেন তখন কাগজটির সংবাদদাতা হিসেবে ইউরোপ যান মার্কেজ। কারণ এই কাগজেই বেরিয়েছিল তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘বিপন্ন জাহাজের নাবিক’। উপন্যাসের এত কদর ছিল যে, দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল কাগজের বিক্রি। সেই সম্মান ও স্বৈরতন্ত্রের প্রতিবাদ করে কাগজ ছাড়েন নি মার্কেজ। এও তাঁর অনমনীয় মনোভাবের প্রকাশ।
গত কয়েক দশক ধরেই সারা পৃথিবীতে সবথেকে বেশি প্রভাব সৃষ্টিকারী লেখকদের তালিকায় তিনি অবশ্যই অগ্রগণ্য ছিলেন। ছিলেন তার কারণ, একটি গল্পের আদি অকৃত্রিম পরিমণ্ডলকে তিনি ছেড়ে যাননি কখনও। আর তাই ভৌগোলিক সীমানার বহু দূরে থেকেও ভাবনার মিলন চেয়েছি আমরা। কারণ মার্কেজের সাহিত্যে বারে বারে উঠে এসেছে আগ্রাসন-সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। এই সমস্ত কিছুর গভীর গূঢ়তম সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেছেন লাতিন আমেরিকার সাহিত্যিকরা। ঠিক যেভাবে আমাদের দেশের বিপ্লবী কবি সাহিত্যিকরা চেষ্টা করেছেন ভারতের আর্থ-সামাজিক অবস্থানকে বুঝতে। দু দলের দেখার মিল হয়তো নেই। কিন্তু, মিল রয়েছে মূল দ্বন্দ্বগুলোতে, সমস্যার মূল ঝোঁকগুলোতে, আর তাই লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের কাছে আফ্রিকার সাহিত্যের কাছে আমাদের ফিরে ফিরে যেতে হয়। আর সেই চেনা পথের জাদুকর হিসেবে আমাদের বিপ্লবী অভিবাদন জানাতে সাধারণের অসাধারণ হাসিতে অভ্যর্থনা জানাতে বসে থাকেন গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। আমরা নতমস্তকে অভিবাদন জানাই এই মহান সাহিত্যকার এবং অতি উন্নত মানবিকবোধে উদ্বুদ্ধ এক দায়বদ্ধ শিল্পীকে।

ভাল লাগল।
অসাধারণ লেখা…….