আজকের মিটিং এ লোক যা এসেছিল তার যদি ফিফটি পারসেন্টও ভোট দেয় তাহলেই কেল্লা ফতে। কি বলিস রে, রবি? – চায়ের ভাঁড়টা দু আঙুলের কায়দায় কাত হওয়া ড্রামটার ভেতরে ছুঁড়ে ঢুকিয়ে দিয়ে হাতের মুঠোয় রাখা বিড়িটাকে কানের কাছে এনে দু আঙুলের চাপে মশলার তাক বুঝতে বুঝতে প্রশ্নটা ছুঁড়লেন অভিজ্ঞ পোড়খাওয়া নেতা সুজন সমাদ্দার। উদয়পুরের মানুষ আর প্রগতিশীল দলের সাথীদের কাছে যিনি একডাকে সুজোদা।

মিছিল ফেরত বুথ ভিত্তিক সমর্থকদের বাসে তুলে দিয়ে ফ্ল্যাগ ফেস্টুনের হিসাব মেলাতে মেলাতে প্রশ্নটার উত্তর না দিয়েই চশমার ফাঁক দিয়ে হাসল দলের সর্বক্ষণের কর্মী, সবার প্রাণের রবি ওরফে রবিশঙ্কর বল। পদবীতে নয় কাজেও উদয়পুরের প্রগতিশীল দলের একমাত্র ভরসা রবি।

কি রে, কিছু বলছিস না যে ?

কি বলব বলো তো? এ সব হিসেব বহুকালের, বহুদিনের আর বহুলোকের। দেখ ,যদি তোমার ‘পরম’ মিত্র আমাদের নবারুণদার দলবল এ সত্যকে মিথ্যা না করতে চায় তো!!

ওদের কটা বাস এসেছিল গুনেছিস। পল্টুরা তো বাস দেয় নি শুনলাম।

তুমি কি করে জানলে?
কেন গণতান্ত্রিক দলের পরেশকে ফোন করেছিলাম। শেষ বেলায় আমাদের আরও ছটা বাস বাড়ল যে। ওকে না বললে বাস পাব, বল না? কে বাস দেবে এ বাজারে?

পারও তোমরা সুজোদা। শত্রুর ঘরে যাও মিত্রর খোঁজ নিতে।

আরে শোন। প্রবাদেই আছে শত্রুর শত্রু পরম মিত্র। নবর বুকনি ঝাড়া তত্ত্বকথা কেউ শুনবে ভেবেছিস। পরেশকে ক্ষমতায় থাকাকালীন তত্ত্বকথা আওড়ে আর শৃঙ্খলাভঙ্গের যুক্তিতে তত্ত্ব সাজিয়ে তাড়িয়েছিল কে? -‐– আর আজও দলের যে কোন মিটিংমিছিল এ বাস বল, মাইক বল, লোক বল ,সবকিছুরই গোপন ভরসা সেই প্রাক্তন সাথী পরেশ। এরকম পাওয়ারফুল সাথীকে কেউ তাড়ায় বুর্জোয়া তত্ত্বে। অবস্থা এখন কি রকম জানিস–নিজের ঘরে নিজে আগুন দিয়ে এখন বলে কিনা দমকল আসে নি।

রবি সব ফ্ল্যাগ, ফেস্টুনগুলোকে এক ব্যাগে ভরে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে বিড়ি ধরিয়ে হাসতে হাসতে বলল – ক্ষমতায় থাকলে একটা দলে অনেক দল থাকে জানি, কিন্তু না থাকলে কটা দল থাকে জানতাম না আজ বুঝলাম- দলাদলির দলবদল কেমন হয়?

তোর মাথাটাও সেই নবর তত্ত্বকথাতেই গেল রে। শোন, একটা কথা মাথায় রাখ ,সব দল ডুবেছে তত্ত্বকথা আউড়ে তোরাও ডুববি।

পাশ দিয়ে একটা ম্যাটাডোর বেড়িয়ে গেল, ওদের মাইকে তারস্বরে বাজছে মহামণ্ত্রধ্বণি…

লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করেই বাঁচতে চাই।

শালার লড়াই —কথাটা রবি তীব্র বিরক্তিতে ছুঁড়ে আর দেঁতো কুৎসিত হাসি হাসতে হাসতে দুদাঁতের ফাঁকে একটা বিড়ি চেপে ধরে হাতে জ্বালানো দেশলাই কাঠির আগুণটা ছুঁয়ে দিতে দিতেই প্যারোডি স্লোগানটা দিল নিজের থেকেই-

লড়াই লড়াই লড়াই চাই

দলের লড়াই বাঁধতে চাই।

কথাটা কানে যেতেই ঘুরে রবির সামনে এসে দাঁড়াল সুজোদা। তারপর তীব্র ক্রোধে চাপা স্বরে ধমকে উঠল- বেশি মারিও না তত্ত্ব কথা।কোন দলের মধ্যে লড়াই নেই রে শালা।জানবি,এটাই ডেমোক্রাসি, এটাই দলীয় অসুস্থতা নিরাময়ের ওষুধ। আচ্ছা, তোদের অসুবিধাটা কোথায় একটু বলবি?

রবি স্থির চোখে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুজোর দিকে।একটু থেমে ধীরে ধীরে বলল— আসলে আমাদের মতন সাধারণ লোকেদের বুঝতে অসুবিধা হয়-দল আর নেতার টানাটানির সময় ঠিক কি করতে হবে?

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের অন্য রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, ফেব্রুয়ারি ২৫, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]