পশ্চিমবঙ্গের মৃৎশিল্পীদের জীবন আর তাঁদের শিল্পীসত্তার লড়াইটা জানার ইচ্ছে আমার দীর্ঘদিনের। কিন্তু রোজকার ব্যস্ততায় সেই ইচ্ছের সলতেটা আর জ্বালিয়ে উঠতে পারিনি। এবারের সরস্বতী পুজোয় অনেকটা জেদ করেই যেন সেই অসাধ্য সাধন করে ফেললাম। সাধারণত আমাদের কাছে সরস্বতী পুজো মানেই নতুন জামা, আর উপোস করে অঞ্জলি দেওয়ার এক চেনা ছক। কিন্তু এবার আমার অভিজ্ঞতার ছবিটা ছিল একেবারেই অন্যরকম।

শুরুটা হয়, শিক্ষিকা হিসেবে স্কুলের পুজোর দায়িত্ব আমার কাঁধে আসার পর। ভাবিনি এই দায়িত্ব আমাকে জীবনের এমন এক অভিজ্ঞতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে, যেখানে সিলেবাসের বাইরেও আসল জীবনের অনেক শিক্ষা নেওয়া বাকি ছিল। ভিন্ন ভাবনার সহকর্মী থেকে শুরু করে ছাত্রদের অদম্য প্রাণশক্তিকে এক সুতোয় গেঁথে কাজ করতে গিয়ে যেমন সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়ল, তেমনই অবদমিত সেই স্বপ্ন পূরণের নেশাটাও ফের নতুন করে মাথায় চেপে বসল।

সেই টানেই একদিন কাউকে কিছু না বলে চলে গেলাম বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ধারে, সেখানে একাধিক মৃৎশিল্পীর বাস। সেখানেই প্রতিমা তৈরি করেন প্রভাতী পাল ও গণেশ পাল। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আমি এক নতুন “ভারতবর্ষের” সঙ্গে পরিচিত হলাম, যা একেবারেই আমার অপরিচিত। মাটির মূর্তির সেই জগতে প্রবেশ করতে গিয়ে আমি প্রথমবার এক রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম। আমরা বাইরে থেকে ঠাকুরের যে শৈল্পিক রূপ দেখে মুগ্ধ হই, তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকার হাহাকার। যে অর্থের বিনিময়ে আমরা প্রতিমাকে ঘরে আনি, তার ওপরেই অন্নসংস্থানের জন্য নির্ভর করে থাকে একটি প্রান্তিক পরিবার। শৈল্পিক শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে যে কত বড় ত্যাগ থাকে, তা প্রতিমা শিল্পীর ওই এক চিলতে ছাউনির নিচে গিয়ে না দাঁড়ালে অজানাই থেকে যেত।

শিল্পীর সেই ধুলোমাখা আস্তানাটি যেন এক ভিন্ন পৃথিবী, যেখানে দেবতারা রূপ পান মানুষের হাড়ভাঙা খাটুনি আর দীর্ঘশ্বাসের ওপর ভর করে। প্রভাতী ও গণেশ পালের মতো হাজার হাজার মৃৎশিল্পীর জীবন খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যায়, এই ঐশ্বরিক সৃজনশীলতার আড়ালে মিশে আছে এক নির্মম বঞ্চনা। যে দেবতারা প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ভক্তদের পুজো পান, তাঁদের জন্ম হয় ধুলোবালি মাখা এমন এক অস্থায়ী আশ্রয়ে, যেখানে শিল্পীর ঘাম আর চোখের জল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। আসলে আমরা যাদের নিপুণ হাতে গড়া মূর্তিতে প্রাণের স্পন্দন খুঁজি, তাঁদের নিজেদের জীবনগুলোই হয়তো চরম অনিশ্চয়তার ধুলোয় ঢাকা পড়ে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গে মৃৎশিল্পের এই সৃষ্টিশীল জগত মূলত কুম্ভকার বা পাল সম্প্রদায়ের এক অনন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। বাঁকুড়ার পাঁচমুড়া থেকে শুরু করে নদীয়ার ঘূর্ণি কিংবা কলকাতার প্রখ্যাত কুমারটুলি — সর্বত্রই এই শিল্পের এক পারিবারিক ভিত্তি রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, এই সম্প্রদায়ের মধ্যে আজও প্রায় ৫১ শতাংশ থেকে ৬৪ শতাংশ যৌথ পরিবারের চল রয়েছে। এই পারিবারিক কাঠামোটি কেবল আবেগের নয়, বরং শ্রম বিভাজনেরও এক অনন্য নিদর্শন। এখানে পুরুষরা যখন মাটির তাল সামলান বা বাঁশের কাঠামো গড়েন, বাড়ির মহিলারা তখন নিপুণ হাতে গয়না তৈরি বা মূর্তির সূক্ষ্ম অলঙ্করণের কাজ করেন। এমনকি বাড়ির বাচ্চারাও রঙের প্রলেপ দেওয়ার কাজে হাত লাগিয়ে এই পারিবারিক পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

তবে এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম অভাব। মৃৎশিল্পীদের আয়ের বড় অংশ আসে মূলত দুর্গাপুজো ও সরস্বতী পুজোর সময়; কিন্তু বছরের বাকিটা সময় তাঁদের কাটাতে হয় নিদারুণ অনিশ্চয়তায়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, একজন শিল্পীর গড় মাসিক পারিবারিক আয় মাত্র ৫,৯৬৮ থেকে ৭,৩২০ টাকার মধ্যে। বর্তমান বাজারে মৃৎশিল্পে দক্ষ শ্রমিকের অভাব একটি প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন কারিগর বর্তমানে প্রতিদিন ১,৫০০ টাকা পারিশ্রমিক নেন এবং একজন সহকারীর মজুরি প্রায় ৮০০ টাকা। আয়ের তুলনায় শ্রমিকের এই বিশাল মজুরি শিল্পীদের ওপর অসহ্য চাপ তৈরি করে। ফলে বাইরের শ্রমিক বা ‘ভাড়া করা লেবার’ নিলে লাভের গুড় সব পিঁপড়েই খেয়ে যায়। এই লোকসানের ভয়েই গণেশবাবু ও প্রভাতী দেবীর মতো দম্পতিরা নিজেদের শরীরের তোয়াক্কা না করে দিনরাত এক করে কাজ করেন, যাতে বাড়তি শ্রমিকের খরচটুকু অন্তত বাঁচানো যায়। এই অতিরিক্ত শ্রম তাঁদের শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

মৃৎশিল্পীদের এই বাড়তি কাজের পেছনে লুকিয়ে আছে শারীরিক কষ্টের এক অদৃশ্য ইতিহাস। প্রভাতী দেবীর চোখের সেই “অমোঘ ক্লান্তি” কেবল ঘুমের অভাব নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের শারীরিক অবক্ষয়ের ছাপ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই ভঙ্গিতে বসে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজ করার ফলে এই শিল্পীরা মারাত্মক হাড় ও পেশির দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভোগেন। গবেষণায় তাঁদের কাজের ভঙ্গি বা পস্টার বিশ্লেষণ করে যখন “র‍্যাপিড এনটায়ার বডি অ্যাসেসমেন্ট” (যা কাজের সময় শরীরের ভঙ্গি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ বা যন্ত্রণাদায়ক তা পরিমাপের একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি) স্কোর ৪ থেকে ৭ পাওয়া যায়, তখন তা স্পষ্ট জানান দেয় যে তাঁদের শরীর বর্তমানে “উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি”-র মধ্যে রয়েছে। ঘাড়, কাঁধ আর কোমরের ওপর একটানা চাপের ফলে অনেক শিল্পী অকালেই পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে যান।

এর সাথে আছে পুষ্টির চরম অভাব। আর্থিক অনটনের কারণে তাঁদের পাতে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার জোটে না। পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১৬ শতাংশ থেকে ২২.৫৮ শতাংশ মৃৎশিল্পী চরম অপুষ্টির শিকার এবং তাঁদের বডি মাস ইনডেক্স ১৮.৫-এর নিচে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ শিল্পীর গড় ওজন যেখানে মাত্র ৫৩ কেজির আশেপাশে, সেখানে তাঁদের প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। বিশেষ করে সরস্বতী পুজোর ঠিক আগের হাড়কাঁপানো শীতের রাতগুলোতে যখন তাঁরা স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বসে কাজ করেন, তখন এই দুর্বল শরীর আর বয়সের ভার মিলে তাঁদের শ্বাসকষ্ট ও বাতের যন্ত্রণাকে আরও তীব্র করে তোলে। শিল্পীদের এই শারীরিক ক্ষয় প্রমাণ করে, দেবতার মুখে হাসি ফোটানোর লড়াইয়ে তাঁরা নিজেদের শরীরকেই তিল তিল করে উৎসর্গ করে দিচ্ছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মৃৎশিল্প মূলত এক অসংগঠিত ক্ষেত্র। এই পেশার এক করুণ কিন্তু বাস্তব ছবি ধরা পড়ে রাস্তার ধারের অস্থায়ী স্টুডিওগুলোতে। তাই প্রভাতী পালের সেই ধুলোমাখা আস্তানাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটিই এই শিল্পের সাথে জড়িত হাজারো মানুষের রুটি-রুজির আসল জায়গা। সরস্বতী পুজোর আগে ফুটপাথের ধারে এক চিলতে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে এমন অসংখ্য অস্থায়ী কারখানা গজিয়ে ওঠে। যা এই শিল্পীদের কাছে, একই সঙ্গে থাকার ঘর এবং কাজের জায়গা। যে ঘিঞ্জি ছাউনির নিচে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে শত শত প্রতিমা, সেই মাটির স্তূপ আর বাঁশের কাঠামোর মাঝেই চলে তাঁদের রান্না, খাওয়া আর ঘুম। নিজের ঘর বলতে সেখানে কিছুই নেই। এই গুমোট পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে শিল্পীরা যেমন মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তেমনি প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার কাছেও তাঁরা খুব অসহায়। অসময়ে বৃষ্টি হলে মাটির মূর্তি শুকোতে দ্বিগুণ সময় লাগে। ভিজে মূর্তিতে ফাটল ধরলে কেবল একটি শিল্পকর্ম নষ্ট হয় না, বরং শিল্পীর হাড়ভাঙা খাটুনি আর সামান্য পুঁজিও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম শিল্পীদের আরও কোণঠাসা করে দিচ্ছে। গণেশবাবুর আক্ষেপে তা স্পষ্ট — “মাটির ট্রাকের দাম এখন আকাশছোঁয়া”। প্রতিমা তৈরির প্রধান উপকরণ মাটির দাম আগে ট্রাক পিছু ১০-১২ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ২০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। বাঁশের দামও প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রতিটি ৫০-৫২ টাকা হয়েছে। কাঠের দাম প্রতি কুইন্টাল ৩,২০০ টাকা হয়েছে। এমনকি খড়ের দামও এখন অনেক চড়া। অথচ উপকরণের দাম যে হারে বেড়েছে, মূর্তির বিক্রয়মূল্য সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে দিনরাত এক করে খাটবার পর শিল্পীদের হাতে যা পড়ে থাকে, তাকে মুনাফা না বলে ‘টিকে থাকার লড়াই’ বলাই ভালো।

২০২৬ সালের ২৩শে জানুয়ারি সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে বাজারে এক অদ্ভুত ছবি ফুটে উঠেছে। একদিকে যেমন শিল্পে আধুনিকতা এসেছে, অন্যদিকে বাজারের মন্দাভাব শিল্পীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এ বছর কুমারটুলির শিল্পী দীপঙ্কর পালের তৈরি “ডল-ফেসড” বা পুতুলের মতো আদলের সরস্বতী প্রতিমা তরুণ প্রজন্মের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়েছে, যার চাহিদা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এই নতুন ট্রেন্ড প্রথাগত মূর্তির আবেদন কিছুটা কমিয়ে দিলেও বাজারের নতুন গতি বোঝাতে সাহায্য করে। তবে এর বিপরীতে আর্থিক সংকট শিল্পীদের বড় চ্যালেঞ্জে ফেলেছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় এবং ছোট ফ্ল্যাটে জায়গার অভাব থাকায় বড় মূর্তির বদলে ছোট ও মাঝারি প্রতিমার চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। ফলে মূর্তি বিক্রি বাড়লেও লাভের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। একদিকে উপকরণের আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে মূর্তির ছোট আকার—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে শিল্পীরা তাঁদের পরিশ্রমের নায্য মূল্য বা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছেন না।

মৃৎশিল্পীদের এই সংকট মেটাতে ২০২৪ সালের ৭ই মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকার “ওয়েস্টবেঙ্গল আর্টিসন্স ফিনান্সিয়াল বেনিফিট স্কিম” চালু করলেও তার সুফল সাধারণ শিল্পীদের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে না। এই প্রকল্পের অধীনে একক শিল্পীদের উন্নত সরঞ্জামের জন্য ১৫,০০০ টাকা এবং সমবায় সমিতিগুলোকে শেড তৈরির জন্য ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদানের পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং ও বিমার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে এই উদ্যোগ এক ধরণের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্দি। প্রকল্পের সুবিধা পেতে “স্টেট পোর্টাল ফর আর্টিসন্স”-এ নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক, যার জন্য ১০ বছরের স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র ও বিবিধ নথিপত্রের প্রয়োজন হয়; কিন্তু প্রভাতী বা গণেশ পালের মতো যাযাবর ও প্রান্তিক শিল্পীদের অনেকেরই এই ধরণের স্থায়ী নথিপত্র নেই। এছাড়া সরঞ্জামের জন্য বরাদ্দ ১৫,০০০ টাকা বর্তমান চড়া বাজারে অত্যন্ত অপ্রতুল, কারণ একটি উন্নত মানের বৈদ্যুতিক চাকা বা আধুনিক স্প্রে-মেশিনের দাম এখন ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকারও বেশি। ফলে একদিকে নাম লেখানোর কঠিন শর্ত আর অন্যদিকে বাস্তব বাজারদরের তুলনায় নামমাত্র বরাদ্দ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে সরকারি উদ্যোগটি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে, যা প্রান্তিক মৃৎশিল্পীদের জীবনের মান উন্নয়নে কার্যত কোনো ছাপ ফেলতে পারছে না।

প্রতিমা তৈরির এই ধুলোমাখা আস্তানাগুলো আজ আমাদের সামনে এক মস্ত বড় প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে রাজ্যে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়, সেখানে মূল কারিগররা কেন অপুষ্টি আর ধারের বোঝায় জর্জরিত হবেন? এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কেবল সাময়িক অনুদান নয়, দরকার বড় ধরনের সংস্কার। শিল্পীদের শারীরিক কষ্ট কমাতে ‘এর্গোনমিক ওয়ার্কস্টেশন’ বা আধুনিক কাজের সরঞ্জাম সরবরাহ করা এবং দালালের হাত থেকে বাঁচাতে সস্তায় কাঁচামালের জোগান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সেই সাথে তাঁদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা ও সামাজিক সুরক্ষাও খুব জরুরি। মৃৎশিল্প কেবল মাটি দিয়ে মূর্তি গড়া নয়, এটি একটি জাতির সৃজনশীল আত্মা। প্রভাতী পালেদের চোখের সেই ক্লান্তি দূর করার দায় আমাদের সবার। দেবতাদের জন্মদাত্রী এই শিল্পীদের জীবন যদি ধুলোয় মিশে থাকে, তবে আমাদের সাংস্কৃতিক গৌরবও ম্লান হতে বাধ্য। আসলে আমরা যাদের নিপুণ হাতে গড়া মূর্তিতে প্রাণের স্পন্দন খুঁজি, অথচ তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনগুলোই বড় অযত্নে আর অবহেলায় আড়ালে থেকে যায়।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের পূর্ব রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, মার্চ ২৬, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

0 0 ভোট
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
পংক্তির ভেতর মন্তব্য
সব মন্তব্য