সম্প্রতি একাধিক দাবি-দাওয়া নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে জেন জি ও জেন আলফা প্রজন্মের তরুণদের এক অভূতপূর্ব ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে শামিল হতে দেখা গেছে; যার রেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও। দেশের তরুণ সমাজ যখন তাদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হয়ে ওঠে, তখন দিল্লি সহ একাধিক রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কঠিন অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ নানা পদক্ষেপ নেয়, যা আন্দোলনকারীদের বেশ সমস্যায় ফেলে। তা সত্ত্বেও নবীন প্রজন্ম তাদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনকে এক ইতিবাচক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে সরকারও তরুণদের যুক্তি ও দাবিগুলো সহানুভূতি নিয়ে বিবেচনা করেছে। এই আন্দোলনের কয়েকদিন পরই মুম্বাইয়ের এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের একটি মন্তব্য দেশজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের তরুণদের সেই উত্থানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন—জেন-জি (Gen Z: ১৯৯৭–২০১২) এবং জেন-আলফা (Gen Alpha: ২০১৩–২০২৪) কেবল তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনই নয়, বরং তারা তাদের আগের প্রজন্ম অর্থাৎ জেন- এক্স (Gen X: ১৯৬৫–১৯৮০) বা মিলেনিয়ালসদের (Millennials: ১৯৮১–১৯৯৬) চেয়ে অনেক বেশি সৎ, সোজাসাপটা এবং ভরসাযোগ্য। তবে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আলোচনা শুধু তাদের প্রশংসায় আটকে রাখলে চলবে না। পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা করা উচিত। আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায় সৎ ও নির্ভরযোগ্য হলেও তারা কোন জায়গায় তাদের থেকে পিছিয়ে, তাও খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ, ইতিহাসের প্রতিটি বড় পরিবর্তনের মূলে থাকে বিভিন্ন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গির বদল। সাধারণত প্রবীণ ও নবীন প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধের তফাৎ থাকে, এমনকি মানসিক দূরত্বও চোখে পড়ে, যাকে সহজ ভাষায় ‘Generation Gap’ (প্রজন্মগত ব্যবধান) বলা হয়। তবে এটাও ঠিক যে, আগের প্রজন্মের কাছ থেকে পরের প্রজন্মের শেখারও অনেক কিছু থাকে।

নতুন প্রজন্মের শক্তি

জেন-জি এবং জেন আলফা হলো মানব ইতিহাসের প্রথম ‘ডিজিটাল নেটিভ’ প্রজন্ম, অর্থাৎ তারা এমন এক বিশ্বে বড় হয়েছে বা হচ্ছে যেখানে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া দৈনন্দিন জীবনের অংশ। আগের প্রজন্মগুলো যেখানে তথ্য বা খবরের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সংবাদমাধ্যম বা প্রচারের ওপর নির্ভর করত—যার মধ্যে কাটছাঁটের সুযোগ থাকত—বর্তমান প্রজন্ম সেখানে সরাসরি ঘটনার ভিডিও, নথি ও বিশ্বজুড়ে মানুষের মতামত দেখতে পায়। ছোটবেলা থেকেই তথ্যের এই সহজলভ্যতা তাদের মধ্যে ভুল বা বানিয়ে বলা বক্তব্য সহজে ধরে ফেলার ক্ষমতা তৈরি করেছে। তারা যেকোনো ভণ্ডামি মুহূর্তের মধ্যে চিনে ফেলতে পারে। এই অবাধ তথ্যের পরিবেশ তাদের চিন্তাভাবনায় এক ধরণের স্বতঃস্ফূর্ত সততা ও স্পষ্টতা এনে দিয়েছে।

এর পাশাপাশি মিলেনিয়ালদের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের জীবনকে একদম নিখুঁত ও সুন্দরভাবে তুলে ধরার যে একটা কৃত্রিম চেষ্টা ছিল, জেন-জি এবং আলফা তা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ভুল, বাস্তব জীবনের লড়াই, সাধারণ রূপ এবং সীমাবদ্ধতাগুলোকেও কোনো দ্বিধা ছাড়াই তুলে ধরে। কৃত্রিমতা ছেড়ে নিজেদের আসল রূপ (Authenticity over Perfection) প্রকাশ করার এই মানসিকতাই তাদের ব্যক্তিত্বকে অন্য যেকোনো প্রজন্মের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

একইভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের স্বীকৃতি এবং অনুভূতির স্পষ্টতার ক্ষেত্রেও তারা এক বড় পরিবর্তন এনেছে। আগের দিনের সমাজব্যবস্থায় মানুষের ভয়, মানসিক কষ্ট, বিষাদ বা দুর্বলতাকে লুকিয়ে রাখাটাই নিয়ম ছিল। অনেক সময় একে ‘সহনশীলতা’ বলে ব্যাখ্যা করা হলেও, এতে ব্যক্তিগত স্তরে এক ধরণের অস্বচ্ছতা থেকে যেত। জে- জি ও আলফা সেই কৃত্রিম খোলস ভেঙে বের হয়ে এসেছে। তারা নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্য বা অনুভূতির কথা নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা, যা প্রমাণ করে যে নিজের দুর্বলতাকে স্বীকার করা কোনো ভীরুতা নয়, বরং সততারই একটি বড় লক্ষণ।

সামাজিক প্রথার ক্ষেত্রেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বেশ স্পষ্ট। আগের প্রজন্মগুলোর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংস্থা বা প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের অন্ধ আনুগত্য দেখা যেত। পুরোনো নেতারা কেবল পদবী বা অতীত কাজের জন্য যে সম্মান পেতেন, নতুন প্রজন্ম তা অনায়াসে মেনে নেয় না। তারা প্রথাকে অন্ধভাবে না মেনে কাজের ভিত্তিতে বিচার করে এবং প্রশ্ন তোলে। দিল্লির আন্দোলন থেকে শুরু করে কাজের জায়গার নিয়মকানুন—সব জায়গাতেই তারা সোচ্চার। তাদের এই প্রশ্ন তোলার মানসিকতাকে অনেকেই প্রথমে বিশৃঙ্খলা বলে ভুল করলেও, আসলে এটি একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি তৈরি করে।

এই স্পষ্ট কথা বলার অভ্যাস কেবল সামাজিক জীবনেই নয়, তাদের কাজের জায়গায়ও স্পষ্ট। অফিসে তারা তোষামোদ বা অপ্রয়োজনীয় চাপের সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না। জেন জি কর্মক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলে, নিজের অধিকার নিয়ে সরাসরি কথা বলে এবং ‘কাজের নামে জীবন শেষ করার’ প্রবণতাকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের সঙ্গে যেকোনো পেশাগত লেনদেন বা চুক্তি করা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও সহজ হয়ে ওঠে।

সর্বোপরি, তাদের এই সততা কেবল নিজের স্বার্থে আটকে নেই, বরং পুরো পৃথিবীর পরিবেশ ও নীতিবোধের সাথে যুক্ত। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য, মানবাধিকার এবং প্রাণী সুরক্ষার মতো বিষয়ে তারা ভীষণ সংবেদনশীল। পরিবেশের ক্ষতি করে বা শ্রমিকদের ঠকায়—এমন ব্র্যান্ড বা সংস্থাকে বয়কট করতেও তারা পিছপা হয় না।

অর্থনীতি ও রাজনীতি

প্রথাগত কাজ ও রাজনীতির পুরোনো নিয়মকেও এই নতুন প্রজন্ম পাল্টে দিচ্ছে। আগের প্রজন্মগুলোর প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি স্থায়ী চাকরি ও দীর্ঘকালীন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। কিন্তু জেন-জি এবং আলফা প্রথাগত চাকরির স্থবিরতাকে পেরিয়ে গিগ ইকোনমি (Gig Economy), ফ্রিল্যান্সিং, স্বাধীন ব্যবসা এবং নতুন ধরণের ক্যারিয়ার বেছে নিতে বেশি ভালোবাসে। তারা তোষামোদের চেয়ে কাজের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

একইভাবে রাজনীতির ক্ষেত্রেও তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের অন্ধ অনুসারী নয়, বরং সঠিক বিষয় ও নীতিভিত্তিক রাজনীতির সমর্থক। কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এদের ভুলিয়ে রাখা অসম্ভব। জলবায়ু সংকট, মানবাধিকার, শিক্ষার অধিকার বা অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বাস্তব বিষয়ে যে কাজ করে, তরুণদের আস্থা কেবল সেখানেই থাকে। নির্বাচনের রাজনীতিতে এই বাস্তববাদী ও নিরপেক্ষ মানসিকতা এক বড় পরিবর্তন এনেছে।

প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সমাজ

প্রযুক্তি ও পারিবারিক পরিবেশের পরিবর্তনও এদের মানসিকতা গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তথ্য মুখস্থ করার পুরোনো পড়াশোনাকে পেছনে ফেলে জেন-জি ও আলফা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিখে দ্রুত যেকোনো সমস্যার সমাধান করে ফেলছে। কেবল কাগজের সার্টিফিকেটের ওপর ভরসা না করে তারা দক্ষতা ও কাজের বাস্তব প্রয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে।

এর পাশাপাশি, যৌথ পরিবারের বদলে মূলত একক পরিবারে (Nuclear Family) বড় হওয়ার কারণে এদের মধ্যে যেমন স্বাধীন চিন্তাভাবনা, আত্মনির্ভরশীলতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দ্রুত গড়ে উঠেছে, তেমনই অন্যদিকে এদের মধ্যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বোধও বেশ প্রখর। পরিবারের অন্ধ সামাজিক চাপ মেনে না নিয়ে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার এই সাহস তাদের অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

সীমাবদ্ধতা ও সংকট

তবে প্রযুক্তিনির্ভরতা এবং অতিরিক্ত স্পষ্ট কথা বলার ভেতরেই নতুন প্রজন্মের কিছু গভীর মানসিক ও সামাজিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ইন্টারনেট ও সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল পাওয়ার যুগে বড় হওয়ার ফলে এদের মধ্যে ধৈর্যের মারাত্মক অভাব (Instant Gratification) দেখা যায়। যেকোনো কাজে দেরি হলে বা সঙ্গে সঙ্গে সাফল্য না পেলে এরা খুব দ্রুত অধৈর্য হয়ে পড়ে। এমনকি হতাশাও এদের সহজে গ্রাস করে ফেলে।

একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় শত শত বন্ধুর উপস্থিতি বা ভার্চুয়াল লাইক-কমেন্টের আড়ালে বাস্তব জীবনের যোগাযোগ দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। সামনাসামনি আবেগের আদান-প্রদান কমে যাওয়ায় এই প্রজন্মের ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো অনেক বেশি ক্ষণস্থায়ী ও ভঙ্গুর, যা তাদের মধ্যে একাকীত্ব ও বিষণ্নতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এছাড়া ছোট ভিডিও (Reels/Shorts) এবং দ্রুত বদলে যাওয়া কন্টেন্টে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে তাদের মনোযোগের মারাত্মক ঘাটতি (Short Attention Span) দেখা যাচ্ছে। জটিল কোনো বিষয় গভীরভাবে বোঝা বা দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিয়ে কাজ করার ক্ষমতা এদের আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে।

একইসাথে, নিজেদের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে সোচ্চার হলেও, অন্যের মতামত বা সমালোচনা মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে এদের মধ্যে অধৈর্য ভাব স্পষ্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় গড়ে ওঠা ‘ক্যান্সেল কালচার’ (Cancel Culture) বা বয়কট করার প্রবণতা এদের এই সামাজিক অসহিষ্ণুতারই একটি উদাহরণ।

পূর্বসূরিদের শক্তি

যেসব জায়গায় নতুন প্রজন্ম কিছু সমস্যার মুখে পড়েছে, সেখানে তাদের আগের প্রজন্মগুলো—বিশেষ করে জেন এক্স ও মিলেনিয়ালরা—অনেক বেশি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। প্রযুক্তি বা সোশ্যাল মিডিয়ার সুবিধা ছাড়া বড় হওয়ার কারণে আগের প্রজন্মগুলোকে কঠিন সামাজিক ও আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বাস্তব জীবনের সেই দীর্ঘ লড়াই তাদের মধ্যে কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার এক দারুণ ক্ষমতা (Resilience) গড়ে তুলেছিল।

অনলাইন বন্ধুত্বের চেয়ে বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পাড়া-প্রতিবেশীর সুখে-দুঃখের অংশ হওয়া এবং যৌথ পরিবারের মেলবন্ধন ধরে রাখার ক্ষেত্রে আগের প্রজন্ম ছিল অনেক বেশি সংবেদনশীল। কোনো গভীর লেখাপড়া, গবেষণা বা ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে বছরের পর বছর নিষ্ঠা ধরে রাখার যে ক্ষমতা আগের প্রজন্ম দেখিয়েছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়। পুরোনো অ্যানালগ দুনিয়া থেকে আজকের ডিজিটাল যুগে আসার প্রতিটি ধাপ স্বচক্ষে দেখার কারণে বাস্তব জীবন এবং অনলাইন জগতের ব্যবহারের মধ্যে এক ধরণের সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখতে তারা নতুনদের চেয়ে অনেক বেশি পটু।

উপসংহার

তাই জেন-জি ও জেন-আলফাকে যেমন অন্ধভাবে শুধু প্রশংসায় ভাসানো ঠিক নয়, তেমনই তাদের সীমাবদ্ধতার জন্য একপেশে সমালোচনা করাও অনুচিত। আসলে প্রতিটি প্রজন্মের ভালো-মন্দ দিকগুলো তৈরি হয় তাদের সময়ের সামাজিক ও বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্য দিয়েই। আজকের দ্রুত বদলে যাওয়া সময়ে নতুন প্রজন্মের এই স্পষ্ট কথা বলার সাহস, সততা এবং প্রথা ভাঙার ইচ্ছা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে একটি সুন্দর ও পরিপক্ব সমাজ গড়ে তুলতে হলে প্রবীণ ও নবীনের সুষম মেলবন্ধন প্রয়োজন। নতুনদের উদ্ভাবনী শক্তি ও ডিজিটাল দক্ষতার সঙ্গে যদি আগের প্রজন্মের অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা হাত মেলায়, তবেই প্রজন্মগত এই তফাৎ সংঘাত না হয়ে এক সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের শক্তিতে পরিণত হবে।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[লেখকের পূর্ব রচনা]

[পরম্পরা ওয়েবজিন, সেপ্টেম্বর ২৬, সূচিপত্র – এখানে ক্লিক করুন]

0 0 ভোট
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
পংক্তির ভেতর মন্তব্য
সব মন্তব্য