
যদি এমন হত
একদিন দেখব মা সারদা এবং শ্রীরামকৃষ্ণের বাণী ফুল হয়ে ফুটে আছে বাগানে বাগানে। গাছ ও পাখি হয়ে উঠছে বহু ভাষাবিদ। ওদের কাছেই প্রথম পাঠ নিচ্ছে মায়াময় সকাল। মৃত্যুর সন্তাপে জেগে থাকছে পাখির কূজন। ঘূর্ণি হাওয়া মনে রাখছে বেদনার উদযাপন। মুখর তখন আয়নায় আসা মুখ। ঘাতকই বানিয়ে ফেলছে প্রাণের প্রতিমা। আজগুবি স্বপ্ন নেভাচ্ছে মনের আগুন। বিফলতাকে সম্পূর্ণ ঢেকে দিচ্ছে মুষলধারে বৃষ্টি। ঘুমিয়ে পড়া হাতছানিকে জাগিয়ে রাখছে পথের ধুলো। হস্তারককে সবাই দেখছে ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো….
সবই সম্ভব
যদি পোকায় কাটে সম্পর্ক, মুখের লালায় জোড়া দেব। যদি কপর্দকশূন্য হয় পকেট ভরবো ছায়া ও ছন্দে। দারিদ্র্য রেখাকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলব হলদি নদীর খাদে । পাথুরে শহরে রাখব স্তরীভূত ভাবনা। কুঅভ্যাসকে পাঠাবো রাতের জিজ্ঞাসায়। ভাষাবৃষ্টিতে ভাসাবো বিমূর্ত কারণ। দূরন্ত জলে ডোবাবো লৌকিক শঙ্খ। দুপুর যদি সুখবর বয়ে না আনেও অবশই আনবে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত। ঘুম ও জাগরণের মাঝে থাকবে অনড় শুক্লপক্ষ….
#
ভুলভুলাইয়া দিয়ে তৈরি হবে মোরাম রাস্তা। ধুলোর জীবন এবং ঘাসের জীবন নিয়ে হবে কোলাহলহীন উপাখ্যান। সবশেষে করুণা ও কল্পনাজ্বর মেশানো সাগর থেকে বিষাদ ছেঁচে এক জোড়া রাজহাঁস ভাসাবো ছলাৎভরা খেলাঘরে….
পুলকিত প্লাবন
বরাবরের বাসনা এমন একটি রাজ্য গড়ি যেখানে আকাঙ্ক্ষা বিছিয়ে বিছিয়ে তৈরি হয় প্রধান সড়ক। তৃষাচূর্ণ দিয়ে হয় ঘরবাড়ি। স্নানপুকুর ভরে থাকে তাতাথৈথৈ। জ্ঞানবৃক্ষরা ছেলেদের ডাকে বড় খোকা ছোট খোকা এবং ঘুমশূন্য দুপুর মেয়েদের হাঁকে ‘ও বড় খুকি ও ছোট খুকি’। প্রলাপ এবং বিলাপ ভেঙে দেয় ঘুঘুর বাসা। ঘোর শ্রাবণ ভাসিয়ে দেয় বিষাদ উপত্যকা। অলিগলিতে উপচে পড়ে স্বপ্ন-স্রোত। একমাত্র অতীত-ই পায় ভদ্রাসন। যখন গাছে গাছে ফলে থাকে মেঘলা জীবন এবং পাতিহাঁস ফেরি করে আলেয়ার আলো…
#
আর কুহক যেখানে কার্পেট পাতে কায়মনোবাক্যে। পকেটে পকেটে ভরা থাকে পুলকিত প্লাবন। অন্যমনস্ক হাওয়ায় কাঁপে সাঁকোর ওপর সাঁতার। জনপদ জাগে বিন্দু বিসর্গের স্পর্শে। শিস দিয়ে দিয়ে ষড়রিপু দূর করে চর্বিত চর্বন। তখন জ্যোৎস্নায় ভাসে ঝাঁকের কই এবং পয়ার ছন্দে দোলে মনকেমনের পালকি….
ছড়িয়ে পড়ার মন্ত্র
অনেকদিন পর আলতো করে মনের দরজা খুলি। ছোট ছোট আলো আসে কথা আসে, ছোট ছোট স্মৃতি আসে ছোট ছোট গল্প। সঙ্গে আবার বাঘের গন্ধ, হরিণের গন্ধ। অর্থাৎ জঙ্গলও সঙ্গে আছে…
#
অনেক দিনের পর হৃদয়ের দরজাও খুলি। দুঃখের নদী বেরিয়ে যায়, কষ্টের হৃদ উঁকি মারে, হাঁপানির টানে ভোগে সাফল্যের সূচিমুখ। টান মারি হৃদয়ে। ঝুর ঝুর ঝরে পড়ে শুকিয়ে যাওয়া মুখ, শুকিয়ে থাকা আহ্লাদ….
#
তারপর গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ গেল, শীতও যায় যায় কিন্তু কোনো প্রস্তাব এল না,প্রসঙ্গ এল না, স্বপ্নও না। ততক্ষণে ভেতরের পাখি ডানা ঝাপটিয়ে আমাকে নিয়ে গেল আকাশে। খুব ইচ্ছে ফেটে চৌচির হই, ছড়িয়ে পড়ি আবিশ্ব..
হেমন্তের ফসল
হেমন্ত এলে আমি সেই মানুষ নৈঃশব্দ্য বিছিয়ে শুরু হয় যার যাপনচিত্র। অনন্তের ভাষা অঙ্কুরিত হয় ডানার ক্লান্তি ভেঙে। জল শেখে চিৎসাঁতার, আকাশে ফোটে ব্যথার ফুল। ঝুরি মূল থেকে নামে অর্ধেক জীবন। পিপাসা সামলায় বাঘের হালুম। দিনের কোলাহল বিছানা পাতে কুয়াশারাতের সংলাপে। শূন্য থেকে নামে মগ্নপথ। উপকূলে উপকূলে পাওয়া যায় পেয়ালা পিরিচের সংস্কৃতি, কাঁকড়া জীবনের বারোমাস্যা। পরজন্ম শুরু করে ভাঙা পাঁজরের গান….

উঠোন ভরা কলতান
যে লম্বা লাইনটি অবিরাম ছটফট করতো মনের মধ্যে, ময়ূর হয়ে নামল উঠোনের মাঝে। যে নিরীহ শব্দটি জলখাই মাছের মতো ভুট দিত, হলদে শালিক হয়ে বসল খড়ের গাদায়। শান্ত মনকে প্রায়ই ওঠ্ বোস্ করাত যে ডাহুক কল্পনা, দাঁড়কাক হয়ে উড়ে এল শিউলি তলায়। যে স্বপ্ন এসেই চলে যেত আজ শঙ্খচিল হয়ে উড়ছে বাড়ির মাথায়। যে সব নরম কথা ভেজাত মন, হাঁসের দল হয়ে নামল সামনের ডোবায়। সর্বদা অস্থির করে তুলত যে সব কর্কশ শব্দ কোঁকর কোঁ ডাকে ভাঙাল ঘুম….
#
তখন দেখি সবুজ জন্মদিনের উচ্ছ্বাস হল দূরবীন, আগামীর ভাবনা হল লাউমাচার সঙ্কল্প, মৃত্যু নিয়ে গভীর চিন্তা হল পিচ্ছিল পাবক, আজন্মের আকাঙক্ষা তখন মুচমুচে রোদ এবং প্রবল আশাবাদ সুজাতার পায়েস….
আগামির জন্য
আলাপ হোক্ বা প্রলাপ তার ভেতর এমন ইচ্ছে শক্তি ভরব যাতে তারা পাখি পড়া মন্ত্র আওড়াতে পারে। ঈশ্বর ভাব কাঁধে নিয়ে যাব গঙ্গাস্নানে। যতবার মাথা ডোবাব, ভিজে ‘ভাব’ হবে নরম ও মোলায়েম। নির্মীয়মাণ বন্দরে আমাকে নিয়ে যাবে একমাত্র আস্থাবান যাকে সস্নেহে পুষেছে আমার ছায়াজন্ম। হাতের চেটোয় বসিয়ে শির:পীড়াকে শাসাব ‘চুপ রহো’। অতীত ও বর্তমানকে চুরচুর ভেঙে সুখস্মৃতির সঙ্গে গুলে দেব ভবিষ্যতের হাতে, হজম হওয়ার পর যেন বাড়ে তার সহ্য শক্তি..
#
হরিণ-শাবক হয়ে আমার কান্ডজ্ঞান লাফাবে আর লাফাবে। বাচ্চারা পাবে কিঞ্চিত আনন্দ। জল ফড়িংয়ের লেজে বাঁধব আস্তিক্যবাদের সঙ্গে নাস্তিক্যবাদ। উড়তে গিয়ে যদি সে জলাশয়ে ডুবে যায় তো যাক্। নীরবতাকে আর ধুসর থাকতে দেব না, ঐশী ভাব নিয়ে সে জ্বলে উঠবে মহাজাগতিক মায়ায়। দুর্ভাগ্যকে বসিয়ে রাখব ছায়াপথে, মিটিমিটি দেখুক কী ঘটছে তারপর। বস্তুজগৎ এবং প্রাণীজগতের মধ্যে এমন কাঁপন ধরাব যে আদিম বিশ্বকে ডেকে আনতে হবে আশু মীমাংসার। কিন্তু কোনো প্রলয়কে কাছ ঘেঁষতে দেব না, উদ্দেশ্য প্রত্যেকটা লগ্ন যেন হয় গোধূলিলগ্ন…
চৈতন্যপ্রবাহ
বাইরে নাচনী হাওয়ার উতরোল, গুনগুন গাইছে উন্মুক্ত প্রান্তর। চৈতন্য প্রবাহে স্নান সারছে নৈরাজ্য। খেলাচ্ছলে দিগন্তে সাঁতার কাটছে মহাব্যোম। ভেসে আসা অশ্রুকে শিস দিয়ে ডাকে মেধারঙের শালপিয়াল। অলস বীজভান্ডারকে আলোর ছ্যাঁকা দিয়ে জাগাতে চায় বিমূর্ত হিয়া। মাতাল হতে চেয়ে উপুড় হয়ে পড়ে আছে তিন আঙুল স্পর্শ। সাঁকো দুলছে নিসর্গ ও পরিণামহীনতার মাঝ বরাবর। ক্রমশ ক্ষয় হওয়া ধৈর্যশীলকে প্রাণময়ের ব্যবস্থা করে ফুটফুটে রঙমশাল। ঘুর পথে উঁকি দেয় মায়াময় অনিশ্চয়তা। কেবল ঠোঁট ঘষে প্রহেলিকা ঘুম পাড়িয়ে রাখে কালবেলাকে যখন লেবুপাতার নিচে একটুখানি জিরিয়ে নিচ্ছে নির্দোষ প্রশ্নমালা…
হাঁসের পিঠে আছাড় খায় মহাকাল
বরাবরের বাসনা এমন একটি রাজ্য গড়ি যেখানে ছ্যাঁকা শিল্প থেকে বেরিয়ে পড়ে চিরজহরিৎ বনভূমি । শীৎকার খুঁড়ে পাওয়া যায় বহু আকাঙ্ক্ষিত পান্ডুলিপি। দেশলাই কাঠি জ্বেলে দেখা সম্ভব অদূর ভবিষ্যৎ। মাকড়সার জাল কেটে পাওয়া যায় চোখসওয়া রণভূমি। ফকিরের ঠিকানায় ঘুমোয় শহুরে ডাহুক। পানের বরোজ ছুড়ে দেয় সবুজ চুম্বন। পিচ্ছিল অন্ধকার তাড়িয়ে দেখা যায় বিপুল রহস্য। শূন্য শূন্য তিন শূন্য থেকে জন্ম নেয় অরূপসমগ্র। অল্প জ্বরে ভিজিয়ে নিলে লকলক করে অঙ্কুরিত বীজ….
#
এবং যেখানে মউচাকে ভরা থাকে স্বপ্নজল। হাঁসের পিঠে আছাড় খায় মহাকাল। অশ্রুমোচনে প্রাপ্তি হয় মুক্ত গোধূলি। সেলাইমেশিনের গল্পে থাকে নৌকোডুবি। মেঘে ঢাকা মনখারাপ প্রকৃতপক্ষে বিষন্ন পাঁজরের মায়ালোক। হামাগুড়ি একপ্রকার বালিয়াড়ির সূচিশিল্প। নিয়তি আসলে বেঁচে থাকার কালশিটে দাগ এবং ভাগ্য ঝরাপাতাসমৃদ্ধ এক মহা শ্বাসাঘাত…..
স্বপ্নে মধুমাস
বরাবরের বাসনা এমন একটি রাজ্য গড়ি যেখানে গর্জন দিয়ে ঘেরা হয় প্রান্তসীমা। লৌকিক এবং অলৌকিকের মাঝে থাকে ধুলিমেঘ। ছাঁকনিজালে উঠে আসে জলের কোলাহল। দংশন পাঠিয়ে পাওয়া যায় চৈত্র সেল। মৌমাছি বিতরণ করে আয়ুষ্কাল। বিভ্রমের বিপরীতে থাকে মাছরাঙা। জ্যোৎস্না পান করলে হয় স্মৃতিভ্রংশের উপশম। ইশারা বিছিয়ে বিছিয়ে তৈরি হয় নক্ষত্রলোক…
#
সেখানে আর্তনাদ এবং অহঙ্কার জমিয়ে তৈরি হয় সবুজসার। ঘুমকাতরতা ভাঙিয়ে পাওয়া যায় হিরণ্যজল। মরাকোটাল আর ভরাকোটাল প্রস্তুত করে গিঁট বাঁধা গতর। উদাসীনতার অপর নাম ভগবান। শঙ্খনাদ মুছে দেয় অলক্তলেখা যেখানে উল্কাপিণ্ড আসলে আধফোটা ঝিঁঝিদের গোরস্থান….

